সারা দেশ

এক টিনের ঘরে ছয় শ্রেণির পাঠদান, ঠিকাদার লাপাত্তা—খালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া স্কুলে চরম ভবন সংকট

আল আমিন হাওলাদার
আল আমিন হাওলাদার জেলা প্রতিনিধি,নেত্রকোনা
আগস্ট ২৯, ২০২৬
এক টিনের ঘরে ছয় শ্রেণির পাঠদান, ঠিকাদার লাপাত্তা—খালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া স্কুলে চরম ভবন সংকট
এক টিনের ঘরে ছয় শ্রেণির পাঠদান, ঠিকাদার লাপাত্তা—খালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া স্কুলে চরম ভবন সংকট
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ভবন সংকট দেখা দিয়েছে। একটি মাত্র ছোট টিনের দোচালা ঘরে গাদাগাদি করে চলছে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অনেক সময় এক শ্রেণির পাঠদান চলাকালে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে আশার আলো দেখিয়েছিল নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ। পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও সরকার পতনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পাইলিং ও কলামের সামান্য কিছু কাজ ছাড়া নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে আছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটিতে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ থাকার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি টিনের দোচালা ঘরের মধ্যেই গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান। একই সময়ে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো একটি শ্রেণির ক্লাস চললে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলে, “স্কুলে কিতা আইতাম, বইতে পারি না, পড়তে পারি না, স্যারেরাও বইতে পারে না। এক ক্লাস করতে গেলে অন্য ক্লাসের ছাত্ররা বাইরে খাড়ইয়া থাকি। পরে আরেক ক্লাস শুরু অইলে আমরাও বাইরে খাড়ইয়া থাকি বা খেলা-ধুলা করতা থাহি। পরে স্যারেরা ডাইক্কা ডাইক্কা আনে, কয় আয় ক্লাসে আয়।” স্থানীয় সমাজসেবক মানিক তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ঠেলা-ধাক্কার মধ্য দিয়ে চলছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনতলা ভবনের অনুমোদন হয় এবং কাজও শুরু হয়। প্রায় দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। মাঝে পাইলিং করে কলামের জন্য লোহার খাঁচা তৈরি করা হলেও পরে দেখছি আর কোনো কাজ নেই।” তিনি আরও বলেন, একটি ছোট টিনের ঘরে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতে শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষকদেরও বসার জায়গা নেই। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামচরণ সরকার বলেন, “২০১৮ সালে আমি স্কুলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি দোচালা টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দুই শিফটেও ছোট টিনশেড ঘরে ছয়টি শ্রেণির ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। না পারি শিক্ষকদের বসতে দিতে, না পারি ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করাতে।” তিনি জানান, প্রায় দেড় কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাত্র ৫ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে তার ধারণা। ঠিকাদারকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি শুনেছেন, পিডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। খালিয়াজুরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিমেল কদর বলেন, “বিদ্যালয়টি যে কোনো রকমে চলছে, তা আমি অবগত আছি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলামের কাজ শুরুর পর তা আর এগোয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন এমন করছে তা জানা নেই। তাছাড়া পিডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, পাঁচগাছিয়া ও নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রকল্প শুরু হলে হয়তো এ উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হতে পারে। সার্বিক বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল আজম বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবনের কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেই লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।” স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর এভাবে শ্রেণিকক্ষ সংকট চলতে পারে না। দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়া নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে আধুনিক ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Tags: টিনের ঘরে শ্রেণির পাঠদান ঠিকাদার লাপাত্তাখালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া

সারা দেশ

এক টিনের ঘরে ছয় শ্রেণির পাঠদান, ঠিকাদার লাপাত্তা—খালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া স্কুলে চরম ভবন সংকট এক টিনের ঘরে ছয় শ্রেণির পাঠদান, ঠিকাদার লাপাত্তা—খালিয়াজুরীর পাঁচগাছিয়া স্কুলে চরম ভবন সংকট

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ভবন সংকট দেখা দিয়েছে। একটি মাত্র ছোট টিনের দোচালা ঘরে গা...

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সখীপুরে কলেজছাত্রী সাদিয়ার অকাল মৃত্যু, পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া সখীপুরে কলেজছাত্রী সাদিয়ার অকাল মৃত্যু, পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া

সখীপুরে কলেজছাত্রী সাদিয়ার অকাল মৃত্যু, পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া ​চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিয়া আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর অকাল মৃত...

আগস্ট ২৯, ২০২৬

0 মন্তব্য