সাভারে ইটভাটার শ্রমিক হত্যাকাণ্ড : প্রধান আসামি শামীম গ্রেফতার ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন একটি ইটভাটায় বেলচা দিয়ে গুরুতর আঘাত করে এক শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ শামীম (২২),বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।র্যাব সূত্রে জানা যায়,নিহত মোঃ শফিক ও অভিযুক্ত শামীমসহ অন্যান্য আসামিরা সাভার থানার মেসার্স রশিদ ব্রিকস নামক ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৪টার দিকে শফিকের সঙ্গে শামীমের তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শামীম ও তার সহযোগীরা বেলচা দিয়ে শফিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।ঘটনার সময় আহত শফিক অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন অন্যান্য শ্রমিকরা। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। শ্রমিকরা অন্যান্য অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হলেও প্রধান আসামি শামীম কৌশলে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় নিহতের ভাই নিজাম উদ্দিন (৫৩) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-৭০, তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি ১৮৬০।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে তৎপর হয় র্যাব-১৪,সিপিসি-৩,টাঙ্গাইল ক্যাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১২ সদর কোম্পানি, সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের সহায়তায় ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
টাঙ্গাইলে অটোচালক মইজুদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর অটোচালক মইজুদ্দিন (৪৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রবিউল (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প এবংর্যাব-০৩,সিপিসি-১,শাহজাহানপুর (ঢাকা) ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।র্যাব সূত্রে জানা যায় নিহত মইজুদ্দিন টাঙ্গাইল সদর থানার কচুয়াডাঙ্গা এলাকার একজন অটোচালক ছিলেন। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পশ্চিম গেটের সামনে এয়ারপোর্টগামী সড়কে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত রবিউলের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রবিউলসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মইজুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫৮ মিনিটে মইজুদ্দিন মারা যান।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হয় (মামলা নং-২৩(০৪)২৫ তারিখ-১৬ এপ্রিল ২০২৫, ধারা-৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি)।মামলা দায়েরের পর আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রবিউলের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাসাইলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিজ ঘরেই শ্বাসরোধে নিহত বৃদ্ধ দম্পতি। দিনমজুর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ লুট স্বর্ণ ও নগদ অর্থ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখেটাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ঘটে গেছে এক লোমহর্ষক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। রাতের আঁধারে নিজ বসতঘরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। হত্যার পর ঘর থেকে লুট করা হয়েছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার।এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া আতঙ্ক এবং তীব্র ক্ষোভ।নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গোসাখালী গ্রামের বাসিন্দা ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)। বুধবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় জমিতে কাজ করানোর জন্য করটিয়া এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন দিনমজুর শ্রমিককে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠান্ডু মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেই শ্রমিকরাই গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে পালিয়ে গেছে।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান ঘটনার রাতে শ্রমিকরা ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ঠান্ডু মিয়া পেটে ব্যথার কথা জানালে তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। সকালে দম্পতি ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে ঘরে ঢুকে দেখা যায় দু’জনই বিছানায় নিথর পড়ে আছেন এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নাতির চোখে রাতের বিভীষিকা নিহত দম্পতির নাতি জানান ঘটনার রাতে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।তিনি বলেন,রাতে দেখি শ্রমিকরা বারবার ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঢুকছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি। তারা বলে, দাদার পেটে ব্যথা। আমি বিশ্বাস করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি বাড়িতে মানুষের ভিড়। ঘরে ঢুকে দেখি দাদু-দাদির গলায় দাগ—উড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেনওরা ঠান্ডা মাথায় আমার দাদা-দাদিকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। লুটের অভিযোগ এলাকায় আতঙ্ক স্থানীয়দের অভিযোগ হত্যার পর ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত শ্রমিকরা। যে ঘর ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক সেই ঘরেই এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন দিনমজুর শ্রমিকের হাতে মালিক দম্পতির এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। পুলিশি অভিযান অব্যাহত ।পুলিশ জানায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের টানা অভিযানে মাদকসহ ১৯ জন গ্রেপ্তারআইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কঠোর নির্দেশনা ২৪ ঘণ্টায় সফল অভিযান। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত এবং নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র জানায় আসন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টা জুড়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মাদকদ্রব্যবিরোধী কার্যক্রমে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় অপরাধী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমাল রক্ষা মাদকের বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের টানা অভিযানে মাদকসহ ১৯ জন গ্রেপ্তারআইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কঠোর নির্দেশনা ২৪ ঘণ্টায় সফল অভিযান। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত এবং নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র জানায় আসন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টা জুড়ে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মাদকদ্রব্যবিরোধী কার্যক্রমে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় অপরাধী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমাল রক্ষা মাদকের বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার নির্বাচন অফিসের স্টাফ ফখরুল ইসলামের চুরি হয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ। এ সময় মোটরসাইকেলসহ দুইজন চোরকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসের স্টাফ ফখরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং এর সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় সরিষাবাড়ী থানা পুলিশের প্রশংসা করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদকের বিস্তার রোধ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ, নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দিন ও রাতব্যাপী বিশেষ তল্লাশি, চেকপোস্ট এবং টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী বিশেষ তল্লাশিকালে পুলিশ ০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া অভিযানে বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত নিয়মিত মামলা, প্রিভেন্টিভ মামলা এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এই তৎপরতায় স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা পুলিশ আরও জানায়, সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টাঙ্গাইল জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। মাদক,চুরি,ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর হাতে ৫৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঢাকা জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক ও সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়-এর সার্বিক নির্দেশনায় এবং জনাব জাহিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি), ঢাকা জেলা-এর তত্ত্বাবধানে জনাব সফিকুল ইসলাম সুমন, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ), ঢাকা জেলা-এর নেতৃত্বে জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর একটি চৌকস টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ২২.০০ ঘটিকা হতে ২২.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চরকুতুব এলাকা ও এর আশপাশে অভিযান পরিচালনাকালে এসআই (নিরস্ত্র) জনাব এস.এম. এনামুল হক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো— ১। শেখ মোঃ মুরাদ হোসেন (৩৯), পিতা- শেখ আওলাদ হোসেন, মাতা- মমতাজ বেগম, ঠিকানা- বাহার বেপারী র বাড়ির ভাড়াটিয়া, জলিল মহাজন রোড, পূর্ব আগানগর, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। তার হেফাজত হতে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ২। মোঃ সাজ্জাদুল আমিন সুমন (৩২), পিতা- রুহুল আমিন, মাতা- শামীমা বেগম, ঠিকানা- সাজেদা ভিলা, ইকুরিয়া বেপারী পাড়া, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা। তার নিকট হতে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং-৪৩, তারিখ-২৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১০(ক), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীনে নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা শাখার এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে ৩৮ জন গ্রেপ্তারমাদক উদ্ধারসহ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ মাদক সংক্রান্ত, পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র জানায় সম্মানিত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে নিয়মিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতব্যাপী তল্লাশি ও অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্যবিরোধী অভিযানে পুলিশ ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে প্রিভেন্টিভ মামলার আসামি মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন পলাতক পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলার অভিযুক্তরা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টহল চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ ৩২ জন গ্রেপ্তার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত টানা অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।পুলিশ সূত্র জানায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সরাসরি মাঠে থেকে অভিযান পরিচালনার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়। তার দিকনির্দেশনায় জেলার সর্বত্র একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া গেছে। অভিযানে ২২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৭ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এছাড়া প্রিভেন্টিভ ও নিয়মিত মামলায় অভিযুক্ত এবং বিভিন্ন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা একাধিক আসামিকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। জেলা পুলিশ জানায় অপরাধী যেই হোক—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাদক সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের জোরালো অভিযানে ২৮ জন গ্রেপ্তার ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ইং,টাঙ্গাইল জেলায় মাদক সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে কঠোর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন। তারই আলোকে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার করে। অভিযান চলাকালে প্রিভেন্টিভ আইনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিয়মিত মামলার আসামি আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়। এর অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় ১ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ আরও জানায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় অপরাধী ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।কোনো অপরাধ বা অপরাধীর বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ অথবা জেলা পুলিশের নির্ধারিত মাধ্যমে তথ্য প্রদান করার জন্য।
বাসাইলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ দাবি মামলার আসামি গ্রেফতার সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের অভিযানে ধরা পড়ল মোঃ রাসেল মিয়াটাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় দায়েরকৃত আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ দাবির একটি মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইলের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোঃ রাসেল মিয়া (২১) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।র্যাব সূত্রে জানা যায় মামলার এজাহার অনুযায়ী গত ৯ আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামিরা কৌশলে এক ভিকটিমের (৩০) গোসল করার সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে ভিকটিম দ্রুত ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ করেন এবং তার অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করেন। সে সময় অভিযুক্তরা ভিডিও মুছে ফেলার আশ্বাস দিয়ে ভুল স্বীকার করলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ভিকটিম ও তার পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।পরবর্তীতে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা ভিকটিমের ব্যবহৃত ইমু নাম্বারে যোগাযোগ করে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ভিকটিমের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় যা ভিকটিমের দৃষ্টিগোচর হয়।এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় মামলা নং-১৫ রুজু হয়। মামলায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৫)(খ) ও ৮(৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।মামলা রুজুর পর থেকেই সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ছায়াতদন্তের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। এরধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানায় সাইবার অপরাধ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্বাক্ষরিতসিনিয়র সহকারী পরিচালক মিডিয়া অফিসার অধিনায়কের পক্ষে
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৩৩ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান কঠোর অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ প্রিভেন্টিভ মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ সর্বমোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ ডিবি ও অন্যান্য ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ তল্লাশি ও চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে প্রিভেন্টিভ মামলায় নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত মামলা এবং আদালতের জারিকৃত পরোয়ানামূলে মোট ৩৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি পৃথক অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক নির্মূল সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে এবং জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ২ নম্বর হাদিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের করিয়াটা গ্রামে জমি সংক্রান্ত চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২ নম্বর হাদিরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুমন (৩৫), পিতা সুজাত আলী এবং তার খালাতো ভাই সোহেল (৩০), পিতা তুতা মিয়া, মিলে গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ বাদশার বড় মেয়ের জামাতা ও ২ নম্বর হাদিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম খালেক ভুঁইয়ার ভাগিনা দুদু মিয়া (৬০), তার ভাই মোঃ হাফিজ (৫০) এবং তাদের ভাগিনা, মোঃ সেলিম রেজা (২৮)-এর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পর এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে মোঃ হাফিজের মাথায় একাধিক আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ও মোঃ সেলিম রেজাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে মোঃ হাফিজের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার মামা রিপনের সঙ্গে মিলে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত সুরুজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কীভাবে এসব অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
লৌহজংয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লৌহজং থানার একটি আভিযানিক দল উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন এক যুবককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো মোট ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তৈয়ব মিয়া (২৭)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম নুরুল হক মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে গ্রেপ্তারকৃত তৈয়ব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
নবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হেরোইন ও ইয়াবাসহ একাধিক মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে যা এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস ও প্রশিক্ষিত দল এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ বিল্পব হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গ্রেপ্তারের সময় আসামির হেফাজত থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ বিল্পব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সে পলাতক অবস্থায় মাদক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঢাকা জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের ব্যাপক অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ২৫ ও নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে তিন আসামি আটক ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন মাদক নির্মূল এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক ব্যবসায়ী পরোয়ানাভুক্ত নিয়মিত মামলা ও প্রিভেন্টিভ মামলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্র জানায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মানিত পুলিশ সুপার (এসপি) টাঙ্গাইল মহোদয় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের মাঠে থেকে সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জনবহুল এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়।অভিযানকালে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে নাগরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাগরপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ আরও জানায় গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি নিয়মিত মামলার আসামি এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ব্যক্তিরাও রয়েছে। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং রাতভর টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়। জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তারা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাসের চালক, হেলপার ও সহযোগীসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২৬ বছর বয়সী ওই নারী ঢাকার সাভার রেডিও কলোনী এলাকা থেকে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। ওই সময় বাসটিতে মাত্র দুইজন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে অভিযুক্তরা ওই নারীকে জোরপূর্বক বাসে আটকে রাখে। এরপর বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং রাতভর তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া ইউনিয়ন আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশ সেটি আটক করে। পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ সময় বাসের চালক, হেলপার ও চালকের সহযোগীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাসের চালক আলতাফ (২৫) বাসের হেলপার সাগর (২৪) চালকের সহযোগী রাব্বি (২১) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার র্যাব-১৪ ও র্যাব-০৪-এর যৌথ অভিযানে আশুলিয়া থেকে আটক । টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ সম্রাট (২৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের মা পশ্চিম আকুর টাকুরপাড়া হাউজিং মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্ত সম্রাট একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ভিকটিম শিশু নিজ বাসার গোসলখানায় গোসল করতে গেলে অভিযুক্ত সম্রাট সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।মামলার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম বাদীর ০৫ বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া হাউজিং মাঠ এলাকায় ভাড়া থেকে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিও একই এলাকায় বাদির পাশের রুমে ভাড়া থাকে। ঘটনার দিন গত ০৬ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. বিকাল অনুমান ০৫:০০ ঘটিকায় বাদীর শিশুকন্যা ভিকটিম তাহাদের ভাড়া বাসার গোসলখানায় গোসল করতে গেলে অভিযুক্ত সম্রাট (২৮) উক্ত গোসলখানায় প্রবেশ করে, তাহার যৌন কামনা চরিতার্থের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ভিকটিম এর মাতা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৬(১০)২৫ তারিখ-০৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি: ধারা- ৯(৪)(খ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী/ ২০০৩। উক্ত মামলা রুজুর পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিপিসি-৩, র্যাব -১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প আসামিকে গ্রেফতারে তৎপর হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প এবং সিপিসি-২, র্যাব-০৪ সাভার ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন দামসোনা ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ি রোড এলাকায় এজিস গেটের সামনে থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
টাঙ্গাইলে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান মাদক উদ্ধারসহ ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টাঙ্গাইল জেলায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় মাদক ব্যবসা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সম্মানিত পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে একযোগে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন এ অভিযানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট টহল ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।অভিযানের অংশ হিসেবে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নিয়মিত মামলা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে জেলা পুলিশ। এ সময় ১২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকসহ ৪ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। মাদক সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এদিকে জেলা পুলিশের এ ধরনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান নিয়মিত অভিযান ও টহল বাড়লে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং জননিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ।
সিনিয়র রিপোর্টার: একাকী কলেজছাত্রীকে রাতভর পাশবিক নির্যাতন। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা গ্রেপ্তার চালক-হেলপারসহ ৩ জন।একাকী এক নারীর জন্য একটি চলন্ত বাস যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তার নির্মম প্রমাণ মিলেছে ঢাকার রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়াগামী এক রাতের যাত্রায়। মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের দর্শন বিভাগের ২৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী সেই রাতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন স্বাভাবিক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনের সেই যাত্রা রূপ নেয় বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে।বাসে যাত্রী কমে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালক হেলপার ও তাদের এক সহযোগী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে আটকে রাখে। প্রথমে ছিনিয়ে নেওয়া হয় তার স্বর্ণালংকার নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন। এরপর শুরু হয় সীমাহীন নিষ্ঠুরতা। রাতভর বিভিন্ন স্থানে বাস ঘুরিয়ে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভয় দেখাতে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করাও হয় মুখ খুললেই তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া যায়।স্বাভাবিক যাত্রা থেকে ভয়াল বন্দিত্বপুলিশ জানায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ছাত্রী সাভার পরিবহনের ‘চন্দ্রা-ঢাকা’ রুটের একটি বাসে ওঠেন। বাসে তখন মাত্র দু’জন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা নেমে গেলে বাসটি একপ্রকার যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে। এই সময়ই চালক ও হেলপার বাস থামিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে জিম্মি করে। চলন্ত বাসে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় অন্ধকারে। মৃত্যু আতঙ্কে কেটেছে পুরো রাতভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা তাকে বারবার হত্যার হুমকি দেয়। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছেআর হয়তো বেঁচে ফেরা হবে না। ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের ভয় দেখানো হয়, যাতে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ না হয়। অন্ধকার ভেদ করে মানবতার উপস্থিতি ভোরের দিকে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটির অস্বাভাবিক অবস্থান নজরে আসে হাইওয়ে পুলিশের। মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার একটি টহল দল সন্দেহ হলে দ্রুত তৎপর হয়। এসআই মাহবুবুর রহমান জানান পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্তরা ভিকটিমকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আচরণে অসঙ্গতি ও এক ব্যক্তিরবাসে ছিনতাই হচ্ছে চিৎকার পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভিকটিম কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা জানায়।গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়াপরে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) ও সহযোগী মো. রাব্বি (২১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ জানান, ভিকটিম, গ্রেপ্তারকৃতরা ও বাসটি টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সমাজের আয়নায় এক ভয়ংকর প্রতিবিম্বএই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তাহীনতাঅপরাধীদের দুঃসাহস এবং সামাজিক নজরদারির ঘাটতির নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে।একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে দায়িত্বশীল ও মানবিক পুলিশি তৎপরতা চাইলে অন্ধকারের মাঝেও জীবনের আলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।এই ঘটনা আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়— আইনের শক্তির সঙ্গে মানবিক বোধ জাগ্রত থাকলেই সমাজ নিরাপদ হয়।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।