ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিপি ইমরান গ্রেপ্তার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. ইমরান ওরফে বিপি ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ মার্চ) আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) রুবেল হাওলাদার। তিনি জানান শনিবার গভীর রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায় এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জুনায়েত ও সোমাইয়া নামের আরও দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আসামি করা হয়েছে।অভিযুক্ত মো. ইমরান ওরফে বিপি ইমরান আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করতেন বলে জানা গেছে।মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ইমরান তাকে দিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন। বিভিন্ন কারণে ওই নারী টিকটক ভিডিও তৈরিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে গত ১২ মার্চ দুপুরে ইমরান তাকে ধর্ষণ করেন। পরে অপর দুই আসামির সহযোগিতায় তাকে মারধরও করা হয়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইমরানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রোববার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর অন্তর্গত কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গ্রামকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সচেতন মানুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দোকানপাট, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে মাদকবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাবারিয়াবাড়ী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তির কারণে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানান, আগে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামটি শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতার কারণে গ্রামের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে করে গ্রামের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে গ্রামের ছোট-বড় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই কাবারিয়াবাড়ী গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির সময় গ্রামবাসীরা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। লিফলেটে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকাবাসীকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুধু সচেতনতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। প্রয়োজনে গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদিকে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রামটিকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবে। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতা, জনগণের ঐক্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে খুব শিগগিরই কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে করে আবারও গ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
টাঙ্গাইলে ‘ব্লোমিং বিউটি বাই মুন’-এ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান নকল পণ্য ও অনিয়মের অভিযোগে জরিমানাটাঙ্গাইল শহরের রেজিস্ট্রিপাড়া এলাকায় অবস্থিত অনলাইনভিত্তিক কসমেটিকস প্রতিষ্ঠান ব্লোমিং বিউটি বাই মুন-এ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নকল ও অনিয়মিত কসমেটিকস পণ্য বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু দেশীয় পণ্যের গায়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া বেশ কিছু পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অভিযানের সময় দেখা যায়, কয়েকটি কসমেটিকস পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ধরনের অনিয়ম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। এ সময় তিনি বলেন বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোক্তা অধিদপ্তর আরও জানায় বাজারে নকল বা অনিয়মিত পণ্য বিক্রির তথ্য পেলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ২৬ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা সূত্রে জানা যায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা মাদক ব্যবসাওপরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২০ পিস ইয়াবা ৪৯০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ২৪ টাঙ্গাইল জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানানো হয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল।পুলিশের ওই নির্দেশনার আলোকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৬ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো অপরাধ কিংবা অপরাধীর তথ্য দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলে দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে বন্ড, টপটেন ও মেঘামার্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেশ কিছু নকল পারফিউম ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা সদর সড়কের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান দেশি তৈরি পণ্যকে বিদেশি পণ্য হিসেবে বিক্রি করছে এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পারফিউম ও কসমেটিকস প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। এ সময় চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও অন্যান্য পোশাক বিক্রিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ডকে ৫০ হাজার টাকা, টপটেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেঘামার্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল। তিনি বলেন, “দেশি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কৃষিজমিতে গাঁজা চাষের অভিযোগ: পুলিশি তদন্তে সত্যতা আতঙ্কে এলাকাবাসী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার (বলি ভদ্র)ইউনিয়নের চর কেরামজানি গ্রামে একটি কৃষিজমিতে অবৈধভাবে গাঁজা চাষের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় চর কেরামজানি গ্রামের একটি জমিতে সম্প্রতি কিছু অজানা গাছ রোপণ করা হয়। প্রথমদিকে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে কয়েকদিন পর গাছগুলোর আকার-আকৃতি দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে কেউ কেউ ধারণা করেন এগুলো গাঁজা গাছ হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধনবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশেরসাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ বজলুর রহমান সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে সেখানে গাঁজা গাছ রোপণের বিষয়টি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয়রা জানান চর কেরামজানি গ্রামটি টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত এলাকা। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হওয়ায় অনেক সময় এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। মাদক সেবন ও ব্যবসা জুয়া এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে এ এলাকায়।গ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নিরীহ হওয়ায় তারা অনেক সময় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেন না। ফলে অপরাধীরা প্রায়ই এলাকাটিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে,যে জমিতে গাঁজা চাষের চেষ্টা করা হয়েছে সেটি স্থানীয় বাসিন্দা মো.আমজাদ হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তি। পারিবারিক জটিলতার কারণে তিনি জমিটি নিজের তত্ত্বাবধানে রাখতে পারছিলেন না। স্থানীয় এলাকাবাসি হতে জানা যায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ সুজালের কাছে এই জমিটি বন্ধক রাখেন। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে জমিটি বন্ধক নেওয়ার পর সুজাল সেখানে চাষাবাদের নামে গাঁজা গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক আমজাদ হোসেন এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। বরং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর জোরপূর্বক ওই জমিতে গাঁজা গাছ রোপণ করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন তাদের গ্রামকে যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। তারা চান দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।এলাকাবাসীর মতে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এই গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।গ্রামের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—মাদকসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে এলাকাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
মির্জাপুরে চেতনানাশক খাইয়ে অটোচালক হত্যা: প্রধান আসামি র্যাবের জালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোচালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কু (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) রাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অটোচালক আলকাজ মিয়া প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বের হন। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে চুরির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করায়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জুই-যুথি সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে তার ব্যবহৃত অটোটি ছিনিয়ে নেয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক আলকাজ মিয়ার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ২ মার্চ মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা ও অটোচুরির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩২৮/৩৭৯/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কুকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প সহায়তা করে।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
ডিউটিরত পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অস্ত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার গ্রেফতার ১ নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সরকারি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত এক দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ জানায় গত ৯ মার্চ সকাল ৬টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) এসএম লুৎফর রহমান নগর ভবনের সামনে ডিউটিরত ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুষ্কৃতকারী চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং আঘাত করে তার সরকারি ইস্যুকৃত একটি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এএসআই এসএম লুৎফর রহমানের এজাহারের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাছিনুজ্জামানসহ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো.ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম যৌথভাবে অভিযান চালায়। এসময় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।অভিযানের এক পর্যায়ে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০) নামে এক দুষ্কৃতকারীকে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।তিনিনারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। এসময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত মিশাল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তার সহযোগী জিয়াম ওরফে রাফি (৩৪) ডাকু জুয়েল (২৬) ও আরহাম (৩২) মিলে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এদের বিরুদ্ধে The Arms Act1878 আইনে সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।পরে মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বন্দর থানাধীন রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উইলসন রোডে একটি বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর লাল কাপড়ের শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাইকৃত একটি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে এর আগে একটি ধর্ষণ মামলাও রয়েছে।এ ঘটনায় পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মধুপুরে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন, তেলের মজুদ স্বাভাবিক — সরবরাহ না দেওয়ায় কয়েকটি পাম্পকে সতর্ক টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।অভিযানের সময় উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায় কিছু পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল না। এ ধরনের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের সতর্ক করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে।অভিযান পরিচালনা করেন মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব নঈম উদ্দিন। তিনি জানান জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা ভোক্তাদের হয়রানি রোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলের সাবালিয়ায় আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু চাঞ্চল্য টাঙ্গাইলের সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত শহীদ ক্যাডেট একাডেমিক আবাসিকে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক ভবনের একটি বেডের নিচ থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। এতে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।স্থানীয়রা জানান কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘাটাইলে প্রাইভেটকার চুরি মামলার সন্দেহভাজন গ্রেফতার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় দায়ের করা একটি প্রাইভেটকার চুরি মামলার সন্দেহভাজন মোঃ সেন্টু (২৬)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। র্যাব সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ঝুনকাইল এলাকার বাসিন্দা মোঃ হুমায়ুন কবির (৫৮) গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-০১৭৭) দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের ঝুনকাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় সাখাওয়াত ডাক্তারের বাড়ির মোড় সংলগ্ন আজমান আলীর বাড়ির সামনে পার্কিং করে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য যান। নামাজ শেষে ফিরে এসে তিনি দেখেন অজ্ঞাতনামা চোরেরা তার প্রাইভেটকারটি চুরি করে নিয়ে গেছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘাটাইল থানার মামলা নং-১৭ তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ এবং পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্তসহ চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাইভেটকার চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মোঃ সেন্টু (২৬)কে গ্রেফতার করা হয়।র্যাব আরও জানায় একই ঘটনায় এর আগে গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আব্দুল কাদের (২৭) জেলা লালমনিরহাট এবং মামুন আহমেদ (৪২) জেলাব্রাহ্মণবাড়িয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সেন্টুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
পূর্ব শত্রুতার জেরে গোপালপুরে হত্যা মামলার আসামি লাভলু মিয়া গ্রেফতার পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার আলোচিত আঃ বাছেদ (৬০) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোঃ লাভলু মিয়া ওরফে লাভু (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব।র্যাব-১৪ এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সিপিসি-৩ এর একটি আভিযানিক দল র্যাব-১৩ এর নীলফামারী ক্যাম্পের সহায়তায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।র্যাব জানায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিহত আঃ বাছেদ স্থানীয় আলমনগর বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোপালপুর উপজেলার যুগিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে লাভলু মিয়া ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। পরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। নিহত বাছেদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোছা. লিমা খাতুন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৩)। মামলায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬/১১৪ ধারার সঙ্গে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। র্যাব সূত্রে জানা যায়, মামলার পর থেকে র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়া তদন্ত চালিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর আগে গত ৫ মার্চ একই মামলার আরেক এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ সালমান (৩০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।গ্রেফতারকৃত আসামি লাভলু মিয়াকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (০৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের কেট্রা মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এ জরিমানা আদায় করা হয়। স্থানীয়সুত্রে জানাগেছে, বালুভর্তি একটি ট্রলি ও কয়েকটি ইজিবাইক করে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু নিয়ে যাচ্ছে এমন খবরে তাদের আটক করা হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। পরবর্তিতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ (১) ধারায় অভিযুক্ত দলনেতাকে ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। আটককৃত বালু স্থানীয় কয়েকটি মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য বিলিবন্দেজ করে দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান জানান, জনস্বার্থে এবং নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকবে। অভিযানে স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী সহায়তা প্রদান করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
সখিপুরে বেশি দামে তেল বিক্রি: দুই দোকানিকে জরিমানা টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বোয়ালী বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করার অভিযোগে দুইটি দোকানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার বোয়ালী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে দেখা যায় বাজারের কয়েকটি দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় লাভলী মাজম স্টোরকে ২ হাজার টাকা এবং দাদীর দোয়া স্টোরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সখিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা। অভিযান চলাকালে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।এ সময় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।স্থানীয় ক্রেতারা জানান রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের এমন অভিযান বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
যশোরে খাদ্যে ভেজাল: র্যাবের অভিযানে ৪ লাখ টাকা জরিমানা ৪ জনের কারাদণ্ড খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য মেশানোর অপরাধে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মনোহরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালত।একইসঙ্গে তিনজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং একজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযানকালে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভেজাল খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয় এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।র্যাব-৬ জানায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে খাদ্যে ভেজাল মেশানো কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৮ বছরের শিশু কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, আটক ১ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (তারিখ) বিকেলে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের পোষ্টকামারী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশু কন্যার নাম আয়শা আক্তার (৮)। সে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের পোষ্টকামারী গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসেম মিয়ার মেয়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে আয়শা বাড়ির পাশেই প্রতিবেশী বাহাদুর মিয়ার বাড়ির পেছনে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বিকেলের দিকে শিশুটির চাচা মো.ফজলু মিয়া মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলের কাছে আয়শাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।নিহত আয়শার মা জানান ঘটনার সময় তার মেয়ের পায়ে একটি নুপুর ছিল। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেই নুপুরটি আর পাওয়া যায়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন নেশার টাকার জন্য প্রতিবেশী মাদকাসক্ত আজমির হোসেন (১৬) তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নুপুরটি নিয়ে যেতে পারে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজমির হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করে।নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মুরাদ হাসান জানান নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইলে পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ ৩০ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক ও পরোয়ানামূলে সর্বমোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার সকল থানা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে থেকে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।অভিযানে মাদকবিরোধী বিশেষ তল্লাশির সময় সর্বমোট ১২০৫ পিস ইয়াবা ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এছাড়া মধুপুর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে একটি ইজিবাইক (অটো) চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়। এ ঘটনায় চুরিকৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত ১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন মিনি পেট্রোল পাম্প বন্ধ জরিমানা ৩৫ হাজার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাসাখানপুর বাজারে অনুমোদনহীন একটি মিনি পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় পাম্পের মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।অভিযান সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইল শহরের বাসাখানপুর বাজারে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি এআর ট্রেডাসনামে একটি মিনি পেট্রোল পাম্প দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে পাম্পটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এছাড়া চলমান জ্বালানি সংকটের সুযোগে সেখানে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভেজাল প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাখানপুর বাজারে অনুমোদন ছাড়াই এআর ট্রেডার্স নামে মিনি পেট্রোল পাম্প পরিচালনা করে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় মালিক আব্দুর রাজ্জাককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পাম্পটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।অভিযানে টাঙ্গাইলের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তার এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জ্বলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
র্যাবের পৃথক দুই অভিযানে হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামি গ্রেফতার র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পৃথক দুই অভিযানে দুটি হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।র্যাব জানায় প্রথম অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. নজরুল ইসলাম (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিরাজগঞ্জের কাশিনাথপুর গ্রামে একটি সালিশ বসে। সালিশ চলাকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদী জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার (৫৫)তার ভাই শাহ আলমসহ বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে শাহ আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১ মার্চ সলঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এবং র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের যৌথ অভিযানে শনিবার বিকেল প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর বাজার এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।অপরদিকে দ্বিতীয় অভিযানে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোছা. হাজেরা খাতুন (৬০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায় শান্তা আক্তার তন্নী (২৭) এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয় এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলে পুনরায় তন্নীকে বিয়ে করেন। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।গত ৮ জানুয়ারি আলমগীরের বাড়িতে তন্নীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নিহতের পিতা সবুজ মিয়া লাশ শনাক্ত করে দেখেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও বাম হাতের কব্জির রগ কাটা। এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় ।মামলা দায়েরের পর র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মধুপুর উপজেলার আমলিতলা আরোনখোলা এলাকা থেকে হাজেরা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
ধনবাড়ী বাজারে কুকুর জবাইয়ের ঘটনায় মামলা তদন্তে প্রশাসন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাজারে কুকুর জবাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানার পরপরই ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।জানা গেছে পবিত্র রমজান মাসে সংঘটিত এই নিন্দনীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ধনবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ ঘটনায় কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।