সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরে ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল হামলায় মো:মোশারফ হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ৩ নং গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তন খোলা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।নিহত মোশারফ হোসেন একই গ্রামের মো:সুরজত আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে আল-খারিজ শহরে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ওই এলাকায় ইরানের ছোড়া মিসাইল হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হন বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।এদিকে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম নেমে আসে। গ্রামের মানুষজনও তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন মোশারফ হোসেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।পবিত্র মাহে রমজানে তার এ মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেনস্থানীয়জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ইরানের মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর নাম মো: মোশারফ হোসেন। তিনি সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা মধ্যপাড়া, ৩ নং গজারিয়া ইউনিয়ননের বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো: সুরজত আলী। পরিবারের সচ্ছলতা ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আকস্মিক এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অ্যাপে পরিচয় ভালোবাসার টানে চীন থেকে ঘাটাইলে যুবক — অবশেষে বিয়েতে পূর্ণতা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ি গ্রামে এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্প এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে গড়িয়েছে গভীর সম্পর্কের দিকে আর সেই ভালোবাসার টানেই হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ চীন থেকে এক যুবক চলে এসেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ি গ্রামে। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই সম্পর্ক পূর্ণতা পেয়েছে বিয়ের মাধ্যমে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কিছুদিন আগে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওই চীনা যুবকের সঙ্গে পাঁচটিকড়ি গ্রামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ কথোপকথন দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়। দূরত্ব, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্য—কিছুই যেন তাদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ভা লোবাসার টানে অবশেষে ওই যুবক সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে উপস্থিত হন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ি গ্রামে। পরিবারের সম্মতি ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ ঘটনা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয়দের চোখের সামনেই, কিন্তু অনেকেই আগে থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। গ্রামের আশেপাশে এত বড় একটি ঘটনা ঘটলেও অনেকেই পরে বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান প্রযুক্তির এই যুগে পৃথিবী যেন অনেক ছোট হয়ে গেছে। এখন একটি মোবাইল ফোন বা ছোট্ট একটি অ্যাপ থেকেই শুরু হতে পারে জীবনের বড় কোনো গল্প। দূরের মানুষ মুহূর্তেই হয়ে উঠতে পারে আপনজন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছে ভালোবাসা সত্যিই কোনো সীমান্ত মানে না। ভাষা দেশ বা দূরত্ব—সব বাধা পেরিয়ে মানুষ যদি সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলে তাহলে সেই সম্পর্ক একসময় বাস্তবতাতেও রূপ নেয়।প্রযুক্তির এই যুগে ঘাটাইলের পাঁচটিকড়ি গ্রামের এই ভালোবাসার গল্প যেন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকল। এখন এলাকাজুড়ে চলছে সেই ভিন্নধর্মী প্রেম ও বিয়ের গল্প নিয়ে নানা আলোচনা।
শীতের সকাল এলেই কুয়াশায় ঢাকা গ্রামবাংলা, শিশিরভেজা মাঠ আর নরম রোদের আবেশে নতুন প্রাণ পায় দেশ। কিন্তু শীতের এই মনোরম মৌসুমে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের সদস্যরা এ সময় গভীরভাবে মাতৃভূমিকে স্মরণ করছেন। প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীতের সকালে দেশের পরিবেশ, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, মায়ের হাতের গরম ভাত ও পিঠা-পুলির স্বাদ—সবকিছুই আজ স্মৃতির পাতায় বন্দি। সৌদি আরবের কর্মব্যস্ত জীবনে ভোরের নামাজ শেষে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেও মন পড়ে থাকে দেশের বাড়িতে, বাবা–মা, স্ত্রী–সন্তান ও প্রিয়জনদের কাছে। সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের একাধিক সদস্য জানান, তারা দূরে থাকলেও দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, একই সঙ্গে অসংখ্য পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে। তারা আরও বলেন, প্রবাসজীবনের কষ্ট, একাকীত্ব ও ত্যাগের মধ্যেও দেশের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমে না। বরং শীতের সকালগুলো সেই অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তোলে। প্রবাসীরা আশা প্রকাশ করেন, একদিন তারা নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনে দেশে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে শীতের সকাল উপভোগ করতে পারবেন। এদিকে দেশের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহল প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামের প্রবাসী আমিনুল সিদ্দিকীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গু লি করে হ- ত্যা করেছে দু/র্বৃ/ত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমিনুল সিদ্দিকীর মৃত্যুর খবরে গোড়াইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা বিলাপ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলা-নিপীড়নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রবাসী কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পোস্টাল ভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় লিসবনের একটি হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন— “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের প্রকৃত তাৎপর্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।” তিনি পর্তুগাল বিএনপির সফল আয়োজনের প্রশংসা করে আরও জানান, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অসাংগঠনিক কার্যক্রম করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে আহবায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার বলেন— “পর্তুগালে বসবাসরত যোগ্য ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। পদ-পদবীর লোভে যারা অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার সকল নিয়ম-কানুন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন— “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়মে পোস্টাল ভোট দিলে দেশ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।” তিনি ৫ আগস্ট বেগম জিয়ার সাথে ফিরোজায় সাক্ষাতের সময় পর্তুগাল বিএনপি ও প্রবাসীদের বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়েছিল—সেগুলোর কথাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান, মিজানুর রহমান শাহ জামাল, এম কে নাসির, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ফাহিম, পর্তুগাল বিএনপির সদস্য বদরুল আলম, শাহাব উদ্দীন, রুবেল চৌধুরী, জুবেল আহমদ, জায়েদ আহমদ, বেজা বিএনপির সভাপতি মইনুল ইসলাম, সান্তারাইম বিএনপির আহবায়ক সোহেল চৌধুরী, আলগ্রাভ বিএনপি নেতা এম তাহের, সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আজীম চৌধুরী গিলমান, বিএনপি নেতা আলী আকবর জুয়েল, কাজী জুয়েল, শাহান উমর, সোহেল মিয়া, জাসাস সদস্য সচিব কাজী মইনুর, যুবদল নেতা মাজেদ আহমদ সামী, এস এম কাওসার আলম, মর্তুজ আলী, যুবনেতা আব্দুল ওয়াদুদ মোহন প্রমুখ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— আব্দুল আজিজ, মহদ আজাদ, মন্জুর এলাহী, মাহাদী মুন্না, আব্দুল ওয়াদুদ অনিক, দেলোয়ার খান, আরাফাত, আদনান ওলি, নাইম, তারেক, শুভ, ইকবাল, রাফিউজ্জামান খান, সায়েম তালুকদার, মসতফা কামাল, আলমগির হোসেন, মোহাম্মদ সৈইকত, আহমদ লিমন, রিয়াদ আহমদ, রাশেদ মাহমুদ, আবু নাইম, পাপ্পু হাসান, রাহিদ মিয়া, এস কে মুহিব, সামাদ রাজিবসহ আরও অনেকে। এছাড়া ভেজা বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু বকর, শফিক মিয়া, জদর আলী, আতিকুর রহমান, মাহবুব আলম, আলাল আহমদ, জামিল আহমেদ, শাওন মিয়া, শামসুল হক। আল্গ্রাভ বিএনপি থেকে উপস্থিত ছিলেন—আবু সাইদ, মো. নুরুজ্জামান, মো. তাহির হোসেন, মো. দেলওয়ার হোসাইন, মো. ইমরান প্রমুখ। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পন্নতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন লিসবন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা কায়েস আহমেদ আব্দুল্লাহ।
পর্তুগাল বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে পর্তুগাল প্রবাসীদের মধ্যে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে আলোচনা সভা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ৩০ শে নভেম্বর পর্তুগালের টেস্টি অব লিসবনে পর্তুগাল সময় রাত ৮:৩০ ঘটিকায় এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জনাব, আনোয়ার হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করবেন পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সঞ্চালনায় থাকবেন পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব ছায়েফ আহেমদ সুইট সহ পর্তুগাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নিয়ে পর্তুগাল বিএনপির আহব্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার ও সদস্য সচিব ছায়েফ আহমেদ সুইট জানান, "আজকের এই আলোচনা সভায় প্রবাসীদের মধ্যে পোস্টাল ভোটিং সম্পর্কে জনসচেতনা কে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে এবং তারা পর্তুগাল বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান"।
মালদ্বীপের হুলহুমালে’ সমুদ্রবন্দর থেকে চোরাচালানকৃত সিগারেটের দুটি কন্টেইনার চুরির ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক মো: আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আজ ১৬ নভেম্বর, রবিবার এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া সিগারেটের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পিস, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। ঘটনাটিকে বড় ধরনের সংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি মো: আল আমিনকে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে
কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো দেশের নতুন জরুরি কল সিস্টেম Next Generation Emergency Services (NG999)। রোববার (১৬ নভেম্বর) থেকে এটি পূর্বের Malaysian Emergency Responses 999 (MERS999) সিস্টেমের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে জনসাধারণকে পাঠানো এসএমএস বার্তায় NG999 ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, দ্রুত ও সঠিকভাবে জরুরি তথ্য প্রেরণের জন্য অ্যাপস্টোর বা গুগল প্লে থেকে “SaveME999” অ্যাপটি ডাউনলোড করতে। বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, জরুরি লাইনের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য। NG999 একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম, যা জরুরি কল সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য ও সম্পদ ভাগাভাগি আরও উন্নত করে। ফলে জরুরি সেবার কার্যক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বাড়বে। গত বছরের ১ জুলাই, ডেপুটি কমিউনিকেশনস মন্ত্রী তেও নি চিং জানান, নতুন এই সিস্টেমে ওয়েব-ভিত্তিক ডিজিটাল ম্যাপিং, কলার আইডি, জিওলোকেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্মার্ট মোবাইল অ্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের যেকোনো স্থানে আরও কার্যকর জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, MERS999-এর তুলনায় NG999-এর কভারেজ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন সারাদেশে ৮০০–রও বেশি স্থানে সম্প্রসারিত হয়েছে। — বারনামা
সৌদি আরবের যাকাত, ট্যাক্স ও কাস্টমস অথরিটি দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক চোরা–চালানের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। আলদুরা এবং এমটি কোয়ার্টার—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংয়ে অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩৫৪টি ক্যাপটাগন পিল এবং ২১ কেজির বেশি মেথামফিটামিন (সাবু) জব্দ করা হয়। অথরিটির মুখপাত্র হামুদ আল হারবি জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে আলদুরা ক্রসিংয়ে। সেখানে একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাংকের ভেতরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লুকানো অবস্থায় ক্যাপটাগন পিলগুলো পাওয়া যায়। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় এমটি কোয়ার্টার ক্রসিংয়ে, যেখানে রাজ্যে প্রবেশকারী একটি ট্রাক থেকে জব্দ করা হয় ২১ কেজিরও বেশি সাবু। তিনি বলেন, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থের প্রবেশ ঠেকাতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ সতর্ক আছে এবং কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। চোরা–চালান দমন ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় জনসাধারণের সহযোগিতাও কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। যে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিরাপত্তা হটলাইন বা ইমেইলে জানানো হলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। সঠিক তথ্য প্রমাণিত হলে দেওয়া হবে আর্থিক পুরস্কারও।
মালয়েশিয়ায় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৮ বছর নিখোঁজ ছিলেন নরসিংদীর জাহাঙ্গীর আলম। অবশেষে তিনি দেশে ফিরেছেন ৭ নভেম্বর। কিন্তু ঘরে ফিরে তাকে অপেক্ষা করছিল নির্মম বাস্তবতা—বাবা-মা আর জীবিত নেই, আর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী এখন অন্যের সংসারে। নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদি ইউনিয়নের জিতুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর পেশায় ছিলেন জেলে। ১৮ বছর আগে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যান। শুরুতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারও ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। আসলে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে বছরের পর বছর কারাগারের কঠোর জীবন কাটাতে হয় তাকে। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে পরিচয় শনাক্ত হয়। পরে নরসিংদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি খরচে তাকে দেশে আনা হয়। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং প্রতিবন্ধী ভাতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এটাই প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা—স্বপ্ন দেখতে দেখতে কখন যে জীবন বদলে যায়, কেউ জানে না।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA) টার্মিনাল–১ এ আজ বিকেলে ভারী বৃষ্টির পর সিলিং ফুটো হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডিপার্চার হলে ছাদের একটি অংশ থেকে দ্রুতগতিতে পানি পড়ছে, আর যাত্রীরা পাশে সরে গিয়ে নিরাপদে থাকতে চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস বেরহাদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, টার্মিনালের কয়েকটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশল, অপারেশন এবং নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ফ্লাইট অপারেশন বিঘ্নিত হয়নি। তবে টার্মিনালের ভেতরে চলাচলের সময় যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে মালয়েশিয়ার নিলাইয়ের মেডিসিসেরাম এসডিএন. বিহাদ কারখানায় কর্মরত ১৭২ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের চাকরি চুতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ হাই কমিশন কোম্পানির সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা চালাচ্ছে। শ্রমিকরা ২০২৫ সালে ছয়বার ধর্মঘট করেন, যার সর্বশেষটির পর কোম্পানি ১৭২ জনকে বরখাস্ত করে। এর মধ্যে ১৬ জনকে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং ১৮৪ জনকে ক্ষতিপূরণও দিয়েছে কোম্পানি। পুনর্বহালের বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন। অন্যদিকে, বিদেশী শিল্পী, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে ‘কালচারাল ভিসা’ নামে নতুন একটি প্রকল্প চালু করেছে ওমান। এক বছর, পাঁচ বছর ও দশ বছর মেয়াদী তিন শ্রেণির ভিসা দেওয়া হবে। ভিসাধারীরা ওমানে প্রবেশের সময় তাদের জীবনসঙ্গী ও প্রথম শ্রেণির আত্মীয়দের সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে ভিসা ইস্যুর তিন মাসের মধ্যে দেশে প্রবেশ না করলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ওমান রয়্যাল পুলিশ।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। নিজেদের ইমিগ্রেশন অফিসার পরিচয় দিয়ে এই চক্র আটক বিদেশী কর্মীদের মুক্তির নামে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ রিঙ্গিত হাতিয়ে নিচ্ছে। সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রতিটি এনফোর্সমেন্ট অপারেশনের পরই এই সিন্ডিকেট নিয়োগকর্তাদের টার্গেট করে। তারা সরাসরি ফোন করে দাবি করে যে তাদের কর্মী আটক রয়েছে এবং দ্রুত মুক্তির জন্য ১০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত টাচ অ্যান্ড গো ই–ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ দিতে হবে। অনেক নিয়োগকর্তা দ্রুত কর্মী ফেরত পাওয়ার আশায় যাচাই–বাছাই না করেই টাকা পাঠাচ্ছেন। পরে ইমিগ্রেশন অফিসে গেলে দেখা যায় ব্যবহৃত নম্বর ইতোমধ্যে বন্ধ। শুধু গত এক মাসেই এই চক্রের প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭,০০০ রিঙ্গিত। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, প্রতারকরা আসল অফিসারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রোফাইল তৈরি করায় অনেকে সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন। পরিচালক খাইরুল আমিনুস কঠোর সতর্কবার্তায় বলেন, “অপারেশনের সময় যদি কোন কর্মী আটক হয়, মুক্তির জন্য কোনো ফোনকল বা এসএমএসে বিশ্বাস করবেন না। সন্দেহ হলে সরাসরি ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করুন।” তিনি আরও জানান, বৈধ নথি থাকলে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই আসল কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি ইমিগ্রেশন অফিসে এসে যাচাই করতে হবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার এবং প্রতারক চক্র থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মালেতে, ২৩ অক্টোবর ২০২৫: বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ সরকার। দেশটির সিটিজ, লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস মন্ত্রী আদম শরীফ উমারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এমন আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মালদ্বীপের মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার মালেতে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম ও মন্ত্রী আদম শরীফ উমারের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনখাত উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। মন্ত্রী আদম শরীফ উমার বলেন, বাংলাদেশ মালদ্বীপের নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ। দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি। মালদ্বীপ সরকারের বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং দ্বীপ কাউন্সিলগুলোর ক্ষমতায়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ ও মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে মালদ্বীপের আগ্রহের কথা জানান। সেই সঙ্গে তিনি মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন, যারা দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রত্যুত্তরে হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ সরকারের প্রতি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রদত্ত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ নিকট ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এতে দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় সরকার উন্নয়ন ও মানবসম্পদ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ করার পাশাপাশি পারস্পরিক শিক্ষা বিনিময় এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস পেইডেন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ মালদ্বীপের স্বাস্থ্য খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। বিশেষভাবে, প্রবাসী সম্প্রদায়ের—এর মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের—স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়া মালদ্বীপে ডব্লিউএইচও পরিচালিত চলমান স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় হয়। দুই পক্ষই সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ (NCDs) প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় যৌথ প্রচেষ্টা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা “হেলথ ডিপ্লোমেসি ডায়ালগ” এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক যৌথ কর্মসূচি—যেমন সেমিনার, প্রদর্শনী ও বিশেষ অনুষ্ঠান—আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে একমত হন, যা বাংলাদেশ হাইকমিশন, ডব্লিউএইচও এবং মালদ্বীপ সরকার যৌথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ স্বাস্থ্য কূটনীতির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ডব্লিউএইচও কান্ট্রি অফিসের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে এক অনন্য সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরাম ইউএনএ’র (United NRB Association – UNA) আয়োজনে গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার, নিউইয়র্কের জুইস সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস প্রাঙ্গণে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথি ছিলেন ড. এনামুল হক ভূঁইয়া, সভাপতি—প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরাম ইউএনএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ শওকত আলী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউএনএ; নাজমুল আহসান, সম্পাদক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক; এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাগর। প্রধান অতিথি ড. এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, > “মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী শুধু একজন শিক্ষানুরাগী নন, তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর ত্যাগ, পরিশ্রম ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ শিক্ষা ও নারী শিক্ষার প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। আজ প্রবাসে তাঁকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।” সংবর্ধিত অতিথি মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, > “প্রবাসে থেকেও আপনারা দেশের শিক্ষা ও উন্নয়নের কথা ভাবেন—এটাই বাংলাদেশের শক্তি। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যেতে।” তিনি আরও বলেন, > “যে কোনো উন্নয়নের মূলভিত্তি হলো শিক্ষা। প্রবাসী প্রজন্মকে মাতৃভূমির শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।” অনুষ্ঠানে তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইউএনএ’র সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন চৌধুরী, এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। শেষে প্রবাসী অতিথিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রমাণ করে যে, মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর কর্ম, দৃষ্টি ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমাদৃত
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।