টাঙ্গাইলে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে শহিদদের প্রতি পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদনটাঙ্গাইল, ৫ আগস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫ উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল হেলিপ্যাড সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম-সেবা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, জুলাই-২০২৪-এর আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়; এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি— ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরও কখনো ভুলবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ হামলা, নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরছাড়া ছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়েও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছে। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা সভ্য পৃথিবীতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের এই দুঃশাসনের তুলনা কেবল স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনের সঙ্গে করা যায়। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে যেমন তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস তুলে ধরবে, তেমনি বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের প্রকৃত চেহারাও উন্মোচন করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাদুঘরটি শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হয়ে থাকবে না; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্কও তুলে ধরবে। একই সঙ্গে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও সেখানে সংরক্ষিত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি। তাদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাসও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিও চিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যারা ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম জাদুঘরে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাদুঘরের তথ্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপন করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার বিচার পর্যায়ক্রমে হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়; আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার জরুরি বলে সরকার মনে করে। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও সরকার শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের জনগণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সংগ্রাহক, কারিগর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না’— এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বিশাল গণসমাবেশ করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এর আগেই নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশ শুরুর আগেই অনেক নেতা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, দেশের সব স্তরের মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী কাঠামোকেও তারা পরিবর্তন করতে সক্ষম। বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৩৬ দিনের এই দীর্ঘ মাসে জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসাধারণ শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। অধ্যাপক ইউনূস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই সব শহীদকে, যাঁরা এই অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের প্রতি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল। শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী—সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন। রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের কণ্ঠ ও সৃজনশীলতা দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাইয়ে নারীদের অসীম সাহসিকতা আগামী প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ভবিষ্যতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, তা অব্যাহত রাখতে আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান পদে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) নির্ধারণ করা হবে কি না—সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ২৬ নম্বর ধারায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।তবে এটি কোনো চূড়ান্ত রায় নয়। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানতে রুল জারি করেছেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস ২০২৬ পালিত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধানের ওপর জোর মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) জেলা প্রশাসন টাঙ্গাইল এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,জেলা কার্যালয়,টাঙ্গাইলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—World Drug Problem: Persisting Issues, New Challenges, Innovative Responses . অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, মাদকের দীর্ঘদিনের সমস্যার পাশাপাশি বর্তমানে নতুন ধরনের মাদক ও পাচারের অভিনব কৌশল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব মোকাবিলায় প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভিভাবক এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জেলার সর্বত্র মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয় একটি পরিবার এবং সমাজের স্বাভাবিক কাঠামোকেও ধ্বংস করে। তাই মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি সময়ের দাবি।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শিক্ষক সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন (রবিবার) সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। এ উপলক্ষে দেশের সব অভিভাবকের প্রতি ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে,৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী কোনো শিশুই যেন এই কার্যক্রমের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখে নিকটস্থ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের ধারাবর্ষা পূর্ব দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে পায়খানা ও প্রস্রাবখানা (গণশৌচাগার) নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটিতে কোনো শৌচাগার ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লি ও স্থানীয় গ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের জন্য বিষয়টি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রামবাসীর এই যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে এগিয়ে আসেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ও কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উজ্জ্বল সরকার। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে গণশৌচাগার নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী উজ্জ্বল সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, মসজিদে একটি আধুনিক শৌচাগার নির্মিত হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং ধর্মীয় পরিবেশ আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তধ্বনি
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ১৩ জুন ২০২৬ (শনিবার)পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।এর ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।উপজেলা পর্যায়ের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন। বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।তাঁরা বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।উল্লেখ্য সরকারের এই বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে অংশ নেন তিনি।ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেন। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।এদিকে ঈদকে ঘিরে টাঙ্গাইল শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে ২০২৬) বাংলাদেশ Reporters Club Trust কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জনাব রফিকুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো (হ্যাটট্রিক) সভাপতি এবং দৈনিক ঢাকার স্টাফ রিপোর্টার জনাব মোঃ রাশেদুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো (হ্যাটট্রিক) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনাব মফিজুর রহমান সোহেল। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন। এদিকে সংগঠনের সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদুল ইসলামকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকল সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানানো হয়েছে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। সাংবাদিক মহলের প্রত্যাশা, নবগঠিত এই কমিটি সরিষাবাড়ীতে সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, মাননীয় সংসদ সদস্য, জামালপুর-০৪ (সরিষাবাড়ী)। তিনি তার বক্তব্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আফরোজা আফসানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরিষাবাড়ী, জামালপুর। তিনি বলেন, ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে জনগণ এক ছাদের নিচে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। মেলাটির আয়োজন করে উপজেলা ভূমি প্রশাসন, সরিষাবাড়ী, জামালপুর এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন ভূমি সেবা ও বিভিন্ন পরামর্শমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠনের ঘোষণা জুলাই-আগস্টের মধ্যে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিক মালিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী—সকল পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে একটি যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন এবং একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।তিনি বলেনঅপসাংবাদিকতার মাধ্যমে যেসব সময়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বও এই কমিশন পালন করবে।আজ সকালে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ওয়েজবোর্ড ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রসঙ্গ সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মন্ত্রী বলেনসাংবাদিকদের যথাসময়ে বেতন প্রদান ও অপেশাদার আচরণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছেআগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যেই সকল পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা ও কমিশন গঠন সম্পন্ন হবে। অপসাংবাদিকতা ও আইনি কাঠামো মন্ত্রী আরও বলেন সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে মিথ্যা মামলা অপসাংবাদিকতা এবং এর মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। প্রচলিত আইনে এসব কর্মকাণ্ডকে আলাদাভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার স্পষ্ট ধারা না থাকায় অনেক সময় ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হয়।তিনি আশা প্রকাশ করেনপ্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পর এ ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে গণমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালিত হবে।পরিবেশবান্ধব বাস আমদানিতে নীতিগত সিদ্ধান্তমন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জানান পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে সরকার সর্বোচ্চ উৎসাহ দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব বাস আমদানি করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস চালু হলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে নাএতে যানজট ও পরিবেশ দূষণ উভয়ই কমবে।পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কত সিটের বাস শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যাবে সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে বা পাকিস্তানের পক্ষে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছিলসেই কর্মকাণ্ডকে কি আজ পর্যন্ত গণমাধ্যম আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন এসব বিষয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজন রয়েছে।তিনি আরও বলেন কমিশন গঠনের মাধ্যমে অতীত ও বর্তমানের অপসাংবাদিকতা ও অনিয়মকে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
কালিহাতীতে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা’ গড়তে আধুনিক সেবার প্রতিশ্রুতি জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত ভূমি—সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা-২০২৬”। মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে শুরু হওয়া এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন ১৩৩-টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ সহজ ওপ্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে পারেন সে লক্ষ্যেই ভূমি সেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় নামজারি খতিয়ান ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা সম্পর্কে জনগণকে সরাসরি তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলমান এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাপ্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা টাঙ্গাইলের মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধনী পর্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা ভূমি অফিস চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, সাব-রেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিউজ্জামান মনি।বক্তারা বলেন, ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ভূমিসেবা মেলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
গোপালপুরে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে ভূমি দিবস উদযাপন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভূমি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মঙ্গলবার এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লাতুল হোসেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবাব আলী।বক্তারা বলেন জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক সহজ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে রেলসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। ঈদকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে “জামালপুর এক্সপ্রেস” ট্রেনকে আগের রুটে ফিরিয়ে আনার দাবি। স্থানীয়দের মতে, ট্রেনটির রুট পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এটি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে “অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস” ও “যমুনা এক্সপ্রেস” ট্রেনের বর্তমান সময়সূচি ও রেক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান টাইম টেবিল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সময়মতো ট্রেন চলাচল না করা, পুরাতন কোচ এবং অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বাড়ছে। তাই আধুনিক ও পর্যাপ্ত রেক সংযোজন এবং যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা “ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস” পুনরায় চালুর দাবিও জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই ট্রেনটি ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম। ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সড়কপথে অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট ও অনিরাপদ যাত্রার কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সর্বসাধারণের প্রধান দাবিগুলো হলো— - জামালপুর এক্সপ্রেস পূর্বের রুটে পুনরায় চালু করতে হবে।উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি: রেলসেবায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে
পুনাক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছে ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা ১১ মে ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) কর্তৃক গৃহীত সমাজসেবামূলক সুপরিকল্পনাগুলো একটি সুন্দর, সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। পুনাকের নারীরা নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।সোমবার (১১ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাকের বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যেন ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এগিয়ে যেতে হবে।সম্মানিত অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যঅনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিণী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদ স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণঅনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব প্রদর্শনকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।মেলায় জেলাভিত্তিক সাফল্যপুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলগুলোর মধ্যে শীর্ষ তিনটি জেলা পুরস্কৃত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা জেলা পুনাক, দ্বিতীয় হয় রাজশাহী জেলা পুনাক এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে লালমনিরহাট জেলা পুনাক। প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী ও বিজয়ী পুনাক স্টলগুলোর হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।পুরস্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কাড়ে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একই দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়। সোমবার (১১ মে ২০২৬) সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সরিষাবাড়ী ঔষধ প্রতিনিধি সংস্থা “ফারিয়া”। কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিভিন্ন সময় অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার একটি বড় সরকারি হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের “দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানি ও হেনস্থার ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ তাদের প্রতি এ ধরনের আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং অমানবিক। স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য অধিকার এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম খোকন, নির্বাহী সদস্য এস এম খুররম আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল টাঙ্গাইল স্টাফ রিপোর্টার :এস কে শিপন মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমগ্র দেশ যখন তীব্র ক্ষোভ আর আন্দোলনে উত্তাল, তখন সেই জোয়ারে শামিল হতে পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলও। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। আজ দুপুরের দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা সদর রোড, নিরালা মোড়, ভিক্টোরিয়া রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা রোড গোডাউন বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে "শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে করতে হবে", "আমাদের দাবি আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে", "শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না চলবে না", এবং "আমার বোন কবরে খুনি কেন বাইরে" সহ বিভিন্ন ঝাঁঝালো স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেলা আনুমানিক ১:২৫ ঘটিকার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছায় এবং শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ওপর বসে পড়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনটি সম্পূর্ণ অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান শিক্ষা কারিকুলাম ও পরীক্ষা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত সহপাঠীদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।