শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা: কী ঘটতে পারে পৃথিবীতে?
শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা: কী ঘটতে পারে পৃথিবীতে?
জাতিসংঘের World Meteorological Organization (WMO) সম্প্রতি বিশ্ববাসীকে সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট সময়কালে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়া ঘটনাটি যুক্ত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
এল নিনো কী?এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয় এবং কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচল ও বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হয়। এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের আবহাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে।
কেন উদ্বিগ্ন বিশ্ব?বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে এল নিনো যুক্ত হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।এর ফলে দেখা দিতে পারে—দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ,খরা ও পানির সংকট,দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধিঅতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যাশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ো আবহাওয়াকৃষি উৎপাদনে ক্ষতিখাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাবএশিয়াদক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি ও পানিসম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। কিছু অঞ্চলে আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।আফ্রিকাপূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাদক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা হতে পারে। অন্যদিকে মধ্য আমেরিকা ও কিছু উত্তরাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।অস্ট্রেলিয়া দেশটির অনেক অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে—গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে পারে।বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে।কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।কী প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা।পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা।
কৃষিতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
তাপপ্রবাহের সময় পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া।বন্যা ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা।এল নিনো কোনো নতুন ঘটনা নয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে, আগামী কয়েক মাস বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
Tags:
শক্তিশালী
‘এল
নিনো’
নিয়ে
বিশ্বজুড়ে
সতর্কতা:
ঘটতে
পারে
ভূমিকম্পের পর আকস্মিক বন্যা ও ধস: নেপালে ২৯১ বিদেশি সহ প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া...
আগস্ট ২৭, ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই কিছু কৌশলগত অবস্থান থেকে পিছু হটেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের প্...
এপ্রিল ৭, ২০২৬

