এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে, শীর্ষস্থান যশোরের দখলেপ্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার সবকটি বোর্ড মিলিয়ে সার্বিক পাসের হার ও পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা—উভয় সূচকেই অবনতি ঘটেছে।চলতি বছর সব বোর্ড মিলিয়ে গড়ে ৬২.২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা আগের বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট। ফলাফলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মেধা সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানেও গড় পাসের হার কমেছে। সাধারণ বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। ৯টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে ৬৮.১৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার মাত্র ৫৯.৭৮ শতাংশ।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক পাসের হারযশোর: ৬৮.১৪% (শীর্ষ স্থান)রাজশাহী: ৬৬.৭৫%সিলেট: ৬৫.৯৫%চট্টগ্রাম: ৬৫.২৮%বরিশাল: ৬৪.৬৯%দিনাজপুর: ৬৪.৫০%ঢাকা: ৬৪.২২%ময়মনসিংহ: ৬১.৮৭%কুমিল্লা: ৫৯.৭৮%শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কঠোরতা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় এই প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহ দ্রুতই বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নগদা শিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় গোপালপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে রংপুর কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গোপালপুর থানাতেই দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানাতেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এসব মামলায় তিনি এতদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আসাদুজ্জামান সোহেলকে গ্রেফতারের পর গোপালপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাকে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে থানা পুলিশ।এদিকে, একজন প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সম্পাদকের গ্রেফতারের সংবাদে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোপালপুর থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদক সেবন ও নিজ বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য মজুদ করে বিক্রয়ের অপরাধে বাবা ও ছেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পৌরসভার একটি আবাসিক এলাকায় যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার পর তাৎক্ষণিকভাবে এই দণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার আভুঙ্গী মহল্লায় এ মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবনের পাশাপাশি নিজেদের বসতবাড়িতে সিন্থেটিক পেইনকিলার হিসেবে ব্যবহৃত কিন্তু মাদকের বিকল্প হিসেবে নিষিদ্ধ ‘ট্যাপেনটাডল’ (Tapentadol) জাতীয় বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট সংরক্ষণ ও বেচাকেনা করে আসছিলেন। স্থানীয় একাধিক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।অভিযান পরিচালনাকালে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বাবা আব্দুস সামাদ (৭১)-কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অন্যদিকে একই সঙ্গে মাদক সেবন ও নিজের হেফাজতে অবৈধ মাদকদ্রব্য মজুদ রাখার দায়ে তার ছেলে সালমান (২৫)-কে ১ বছর ১১ মাস ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নবাব আলী। সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইলের পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান এবং উপ-পরিদর্শক মো. রাশিদুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সাজাপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ীতে বিসিডিএসের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনসাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ১৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনজামালপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও সদস্যবান্ধব করার লক্ষ্যে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি রমজান আলী রনজু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মশিউর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।নবগঠিত কমিটিতে রবিউল কবির উজ্জ্বলকে আহ্বায়ক এবং জাকির হোসেনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। একই সঙ্গে ওষুধ ব্যবসায়ীদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ, নীতিমালা বাস্তবায়ন, সদস্যদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিসিডিএসের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তধ্বনি
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ স্মরণে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং সুসংগঠিত পরিবেশে এক বিশাল বিজয় র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গোপালপুর উপজেলা শাখা ও শহর শাখার যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো গোপালপুর পৌর শহর এক নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।বুধবার বিকেল ৪টায় গোপালপুর উপজেলা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বর্ণাঢ্য এই বিজয় র্যালিটি শুরু হয়। এতে কৃষক দল, বিএনপি এবং এর সকল সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। হাতে সুসজ্জিত ব্যানার, রঙ-বেরঙের ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। র্যালি চলাকালে নেতাকর্মীরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে লালন করে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও উৎসবমুখর স্লোগান দেন। বিশাল এই শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করে। র্যালি চলাকালীন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাত নেড়ে সংহতি প্রকাশ করেন।র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপজেলা ও শহর কৃষক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, "ছাত্র ও জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ এবং বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল, সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে গোপালপুরের প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে দিনটির কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
টাঙ্গাইলে ৪ ক্লিনিক-হাসপাতালে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান: দেড় লাখ টাকা জরিমানা, সিলগালা ১ মোঃরুবেল মিয়া মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি টাংগাইল। টাঙ্গাইল পৌর শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শহরের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চারটি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে মারাত্মক অনিয়মের দায়ে ‘পাইলট হাসপাতাল’-এর প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে বেশ কিছু ক্লিনিকে প্যাথলজিস্ট ছাড়াই অপেশাদার ব্যক্তিসদ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ না করা এবং এমনকি নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্ত সংরক্ষণের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। জনস্বার্থবিরোধী এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে: পাইলট হাসপাতাল: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা জনতা ক্লিনিক: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অ্যাপল হাসপাতাল: ২৫ হাজার টাকা জরিমানা সেনা কম্বাইন্ড হাসপাতাল: ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেকোনো ধরনের প্রতারণা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে ও স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল, ৩১ জুলাই টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী ডিসি লেককে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।শুক্রবার (৩১ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টাঙ্গাইলকে একটি সবুজ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জেলায় পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ সময় তিনি ডিসি লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এনজিওর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে গরু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম বদিউজ্জামাল বদি'র ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি এনজিওর মাধ্যমে কম খরচে গরু দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন। অনেক গ্রাহক লাভজনক প্রকল্পের আশায় নিজেদের সঞ্চয়, এমনকি ধারদেনা করে টাকা জমা দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গরু কিংবা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা আইনের আশ্রয় নেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে তারা তার ওপর আস্থা রেখেই টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তারা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ প্রতিনিধি, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের দিকনির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। নদীভাঙনের কারণে যেসব পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় নদীভাঙন কবলিত মানুষের হাতে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এমন কঠিন সময়ে সরকারি এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এদিকে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে নলসন্ধ্যা গ্রামের নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়িয়ে তোলে এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।
গোপালপুরে মদিনা মডেল মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠত টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মদিনা মডেল মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দঘন ও তাযকিয়াপূর্ণ পরিবেশে রূপ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদিনা মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. আহমদ আলী আকন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিতি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল। এছাড়াও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা অটো রিকশা, অটো ও ভ্যান শ্রমিক সংগঠন (২৬০৬)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী ইউসুব। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ধর্মীয় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবকমণ্ডলী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। আয়োজনের মূল পর্বে হিফজ বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সবক প্রদান করা হয়। সবক প্রদান শেষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুশিক্ষা অর্জন এবং দ্বীনি শিক্ষা ও কুরআনের খেদমতে নিবেদিত হওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। আয়োজকবৃন্দ জানান, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, দোয়া ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে মোনাজাত করা হয়। দোয়ায় হিফজ বিভাগের সকল শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের প্রকৃত ধারক-বাহক হিসেবে কবুল করা, তাদের ইলম ও আমলে বরকত দান করা এবং মদিনা মডেল মাদ্রাসার দ্বীনি খিদমতকে কবুল করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়।
শেরপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতিতে দপ্তর প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আজ (২৮ জুলাই ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব এম. ইকবাল হোসেইন এমপি মহোদয়ের সাথে জেলার সকল দপ্তর প্রধানগণের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল মাননীয় সংসদ সদস্য ( শেরপুর-৩),মিজ্ সানসিলা জেবরিন মাননীয় সংসদ সদস্য ( সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৫)।এছাড়া অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনাব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ,প্রশাসক জেলা পরিষদ শেরপুর, জনাব দীপংকর রায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ শেরপুর, মিজ নাসরিন আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,শেরপুর সদর সার্কেল, মিজ আরিফা সিদ্দিকা উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার শেরপুর জনাব মোঃ শাকিল আহমেদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক),শেরপুর এবং বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগন।সভায় জেলার সাম্প্রতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের সেবা কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত দপ্তর প্রধানগণকে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।প্রচারে: মিডিয়া সেল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শেরপুর।
টাঙ্গাইলে ৬৭ সংস্কৃতিসেবী ও ২৭ সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বেগবান করতে টাঙ্গাইলে অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জেলার মোট ৬৭ জন অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবী এবং ২৭টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে সর্বমোট ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের এ ধরনের সহায়তা সংস্কৃতিচর্চাকে আরও গতিশীল করবে এবং অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি সংস্কৃতিসেবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাসাইল থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্বের নির্দেশনা টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানা পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পরিদর্শনকালে বাসাইল থানা প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি চৌকস দল পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন।এ সময় পুলিশ সুপার থানায় কর্মরত সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা প্রয়োজনীয় চাহিদা ও সার্বিক বিষয় মনোযোগসহকারে শোনেন এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি থানার মালখানা হাজতখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম তদন্তের অগ্রগতি সেবার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেনপরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার (সখিপুর সার্কেল) জনাব এ. কে. এম. মামুনুর রশীদ, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং থানায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলুর আড়ালে চলত ক্যানাবিস ব্যবসা গোপালপুরে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আলু পরিবহনের আড়ালে অভিনব কায়দায় বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের একটি চক্র ধরা পড়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই বস্তা ভর্তি আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৪। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা আলুভর্তি একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের খবর পেয়ে র্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক (এডি) শামসুল আলমের নেতৃত্বে একদল সদস্য অভিযান পরিচালনা করেন। গাড়িটি নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এর গতিপথ রোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে আলুর বস্তার নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মিলে আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজা। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে চালক, হেলপার ও স্থানীয় এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— গোপালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সামসুল হক (৩২) এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা পিকআপ চালক মোহাম্মদ জয় (৩০) ও তার হেলপার ইয়াসির আরাফাত (৩৩)। অভিযানে আটক চালক ও হেলপারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগী সামসুল হককে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা কুমিল্লা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানটি স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। অভিযান প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, র্যাব কর্তৃক মাদকসহ ৩ জনকে আটকের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযানের পর র্যাব সাধারণত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আটককৃতদের এবং জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে থাকে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আলু পরিবহনের আড়ালে অভিনব কায়দায় বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের একটি চক্র ধরা পড়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই বস্তা ভর্তি আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৪। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা আলুভর্তি একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের খবর পেয়ে র্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক (এডি) শামসুল আলমের নেতৃত্বে একদল সদস্য অভিযান পরিচালনা করেন। গাড়িটি নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এর গতিপথ রোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে আলুর বস্তার নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মিলে আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজা। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে চালক, হেলপার ও স্থানীয় এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— গোপালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সামসুল হক (৩২) এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা পিকআপ চালক মোহাম্মদ জয় (৩০) ও তার হেলপার ইয়াসির আরাফাত (৩৩)। অভিযানে আটক চালক ও হেলপারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগী সামসুল হককে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা কুমিল্লা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানটি স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। অভিযান প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, র্যাব কর্তৃক মাদকসহ ৩ জনকে আটকের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযানের পর র্যাব সাধারণত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আটককৃতদের এবং জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে থাকে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
যমুনা নদী রক্ষা ও মানিকগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ভাঙন প্রতিরোধে যমুনা নদী থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত একটি স্থায়ী শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। সরকারি এক সফরে যমুনা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। এই সফর ও ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে তাঁর ভাই, স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নদী ভাঙনের কারণে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন এবং নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষা ও স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরিদর্শন কর্মসূচির পাশাপাশি এমপি ও মন্ত্রী দুই ভাই নিজ এলাকায় অবস্থানকালে তাদের বাবা-মার কবর জিয়ারত করেন। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও নিজ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত কবর জিয়ারতের পর তাঁরা স্থানীয় সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর ফলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়। জানানো হয়, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে বা স্পিকারের পদ সাময়িকভাবে শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের প্রীতিভোজ (বড়খানা) অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মেসে জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজ (বড়খানা) অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য শৃঙ্খলা ঐক্য এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে পুলিশ লাইন্সে এ ধরনের প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আদিবুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকীসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।প্রীতিভোজে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও সুসংহত করে।
বাংলাদেশ স্কাউটস টাঙ্গাইল জেলা ভবন পরিদর্শন করলেন প্রধান জাতীয় কমিশনার বাংলাদেশ স্কাউটস টাঙ্গাইল জেলা ভবন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জনাব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।পরিদর্শনকালে তিনি জেলা স্কাউট ভবনের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং স্কাউটিং কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্কাউটিংয়ের মানোন্নয়ন, দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শরীফা হক এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মো. আদিবুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ স্কাউটস টাঙ্গাইল জেলার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।বক্তারা বলেন স্কাউটিং তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনা স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে এবং সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় ভূঞাপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি দপ্তর ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সালাম পিন্টু।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার আহ্বান জানান।এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বেড়িবাঁধে ভাঙন পরিস্থিতির উন্নতি, স্বস্তি ফিরছে এলাকাবাসীর মাঝে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বেড়িবাঁধের শাখারিয়া স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশে ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ এবং অব্যাহত ভাঙনরোধ কার্যক্রমের ফলে ভাঙনের তীব্রতা কমে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে বেড়িবাঁধের ওই অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ে। তবে টাংগাইল গোপালপুর ভূঞাপুর আসনের এমপি এবং জনগণের মধ্যে বিপদের বন্ধু নামে পরিচিত (আব্দুস সালাম পিন্টু) সাহেবের জরুরী নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা ও ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ জোরদার করায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।এলাকাবাসী জানান ভাঙনের ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। তবে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবংদীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।সংশ্লিষ্টরা জানান ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করেছে দলটি। একই সঙ্গে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জামায়াত আরও জানায়, গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি দ্রুতই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।তবে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা সাংগঠনিক তদন্তে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।