মুসলিম বিশ্ব

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে আলেম ওলামাদের সম্মানে ইফতার মাহফিল

reporter-icon
আল আমিন হাওলাদার: নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
মার্চ ৪, ২০২৬ | 0

পবিত্র মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস এ উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের ৬নং ওয়ার্ডে দশাল আকবরিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে স্থানীয় আলেম ওলামা, শিক্ষক, ছাত্র, যুবসমাজ ও এলাকার মুরুব্বীদের সম্মানে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র মাদরাসার সভাপতি আলহাজ¦ জামাল উদ্দিন মাস্টারের আয়োজনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে মুফতি জামাল উদ্দীন কারিমীর সঞ্চালনায়, উক্ত মাহফিলে রমজান মাসের তাৎপর্য, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, পৌর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ¦ মাওলানা আব্দুল জলিল, হাফেজ নাজমুল হক, দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আব্দুস সামাদ। আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, মাহে রমযানের বন্ধনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা শেষে, দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

মুসলিম বিশ্ব

আরও পড়ুন
নেত্রকোনা দুর্গাপুরে আলেম ওলামাদের সম্মানে ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস এ উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের ৬নং ওয়ার্ডে দশাল আকবরিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে স্থানীয় আলেম ওলামা, শিক্ষক, ছাত্র, যুবসমাজ ও এলাকার মুরুব্বীদের সম্মানে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র মাদরাসার সভাপতি আলহাজ¦ জামাল উদ্দিন মাস্টারের আয়োজনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে মুফতি জামাল উদ্দীন কারিমীর সঞ্চালনায়, উক্ত মাহফিলে রমজান মাসের তাৎপর্য, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, পৌর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ¦ মাওলানা আব্দুল জলিল, হাফেজ নাজমুল হক, দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আব্দুস সামাদ। আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, মাহে রমযানের বন্ধনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা শেষে, দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0

পাকিস্তানের সমালোচনায় আফগান তালেবান: মানবাধিকার ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা

নিরবেই গাজার শাসন ও নিয়ন্ত্রণ এসেছে হামাসের হাতে

বিরতি চুক্তির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯৭ ফিলিস্তিনি

আফগানিস্তানের সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পাকিস্তানের

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (FO) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ বিকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য পাকিস্তান সরকার এবং আফগান তালেবান প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, যা তালেবান পক্ষের অনুরোধে গৃহীত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে জটিল কিন্তু সমাধানযোগ্য এই সমস্যার ইতিবাচক সমাধান খুঁজে বের করার আন্তরিক চেষ্টা করবে।” এর আগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভি নিউজ জানায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ ও রাজধানী কাবুলে “নির্ভুল হামলা (precision strikes)” চালিয়েছে। পিটিভির প্রকাশিত এক ভিডিওতে দাবি করা হয় — “আফগান তালেবান আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। কান্দাহারে পরিচালিত নির্ভুল হামলায় আফগান তালেবানের চতুর্থ ব্যাটালিয়ন ও ষষ্ঠ বর্ডার ব্রিগেড সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এতে বহু আফগান ও বিদেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।” সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে যে কোনো বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।” পরে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পিটিভি জানায়, পাকিস্তান কাবুলেও আঘাত হেনেছে। “কাবুলে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর কেন্দ্র ও নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে,” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের দেওয়া নাম, যা তারা বেলুচিস্তানের সশস্ত্র সংগঠনগুলো বোঝাতে ব্যবহার করে। পিটিভির পোস্টে আরও বলা হয়, পাকিস্তানি বাহিনী কান্দাহারে তালেবান ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর নং ৪, ৮ ও সীমান্ত ব্রিগেড নং ৫ ধ্বংস করেছে। সব লক্ষ্যবস্তু “নাগরিক এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে যথাযথভাবে ধ্বংস করা হয়েছে” বলেও উল্লেখ করা হয়। এর আগে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র আইএসপিআর জানায়, বুধবার ভোরে বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবানদের চার দিক থেকে হামলা পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিহত করেছে। আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, “আফগান তালেবান কাপুরুষোচিতভাবে স্পিন বোল্ডাক এলাকায় চারটি স্থানে হামলা চালায়, যা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।” গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় বড় সংঘর্ষ, এর আগে কুররমে মঙ্গলবার রাতে ও শনিবার রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রবিবার সকাল পর্যন্ত চলে। আইএসপিআর জানিয়েছে, এসব ঘটনায় ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও তাদের সহযোগী যোদ্ধা নিহত হয়েছে, আহতের সংখ্যা আরও বেশি।” অন্যদিকে, আফগানিস্তান দাবি করেছে, এই হামলা তারা “প্রতিশোধমূলক” পদক্ষেপ হিসেবে চালিয়েছে, কারণ গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ তাদের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। যদিও পাকিস্তান সেই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে বলেছে যে দেশটির “আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।” সাম্প্রতিক সহিংসতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে। ইসলামাবাদ বারবার কাবুলকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম আফগান ভূমি থেকে বন্ধ করে। কিন্তু কাবুল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, “আফগান মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না।” পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ সোমবার জিও নিউজের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বর্তমানে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে কোনো সম্পর্কই নেই। এখন পরিস্থিতি স্থবির অবস্থায় আছে—সক্রিয় সংঘর্ষ না থাকলেও পরিবেশটি শত্রুতাপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।” এই সংঘর্ষ এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত করবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে। সূত্র: ডন ডটকম

অক্টোবর ১৫, ২০২৫ 0

সীমান্ত উত্তেজনার পর পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীদের ওপর নিপীড়ন ও গ্রেফতার বৃদ্ধি

পাকিস্তান জানালো সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত, উত্তেজনা বেড়েছে আফগান সীমান্তে

কান্দাহারের স্পিন বোলদাকে পাকিস্তানি হামলা প্রতিহত করার দাবি তালেবানের

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত, আহত ৮০ জনেরও বেশি

দ্য কাবুল ট্রিবিউন (KT) জানিয়েছে, আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক-চামান সীমান্ত এলাকায় তালেবান বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্র জানায়, নিহত ও আহত সকলেই আফগান বেসামরিক নাগরিক। বুধবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং কিছু সময় পর তা থেমে যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ভারী ও হালকা অস্ত্রের গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে সীমান্ত এলাকার বাণিজ্যিক বাজার ও কাস্টমস অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিন বোলদাক সীমান্তের মাজেল গুলি নামের একটি গেট বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের উদ্ধারকাজে জরুরি কর্মীদের বেগ পেতে হয়। এদিকে, তালেবান প্রশাসন জানায়, তারা সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। কিছু সূত্রের দাবি, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের চামান সীমান্তে বিস্ফোরক হামলা চালিয়েছে। স্পিন বোলদাকের তালেবান পুলিশ কমিশনার হাফিজ সাঈদ দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীও মানবিক ও উপকরণগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি জানান, যদিও বর্তমানে সংঘর্ষ থেমে আছে, তবুও সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র: দ্য কাবুল ট্রিবিউন

অক্টোবর ১৫, ২০২৫ 0

ট্রাম্প ও আঞ্চলিক নেতারা শার্মুশ শেইখে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর; বন্দি-হোস্টেজ বিনিময় বাস্তবায়িত

গাজা সিটিতে হামাস বাহিনী ও সশস্ত্র দঘমুশ গোত্রের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২৭ জন

কাতার ও সৌদি মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘর্ষ স্থগিত

0 মন্তব্য