সরিষাবাড়ীতে বিসিডিএসের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনসাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ১৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনজামালপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও সদস্যবান্ধব করার লক্ষ্যে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি রমজান আলী রনজু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মশিউর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।নবগঠিত কমিটিতে রবিউল কবির উজ্জ্বলকে আহ্বায়ক এবং জাকির হোসেনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। একই সঙ্গে ওষুধ ব্যবসায়ীদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ, নীতিমালা বাস্তবায়ন, সদস্যদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিসিডিএসের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তধ্বনি
এনজিওর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে গরু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম বদিউজ্জামাল বদি'র ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি এনজিওর মাধ্যমে কম খরচে গরু দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন। অনেক গ্রাহক লাভজনক প্রকল্পের আশায় নিজেদের সঞ্চয়, এমনকি ধারদেনা করে টাকা জমা দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গরু কিংবা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা আইনের আশ্রয় নেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে তারা তার ওপর আস্থা রেখেই টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তারা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরিষাবাড়িতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আমন বীজ ও সার বিতরণ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) রোপা আমন ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষি পুনর্বাসন ও সহায়তা খাত থেকে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো রোপা আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করা।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত কৃষকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। তিনি বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকরা যেন যথাযথভাবে এসব উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের এই সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। এ ধরনের কৃষি প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।কৃষি বিভাগ জানায়, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেরপুরে জাতীয় ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত শেরপুরে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্রীড়াসেবীদের জন্য ‘জাতীয় ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি’ ২০২৫-২৬ (BEFTN)-এর মাধ্যমে প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের উন্নয়ন ও ক্রীড়াসেবীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত ক্রীড়াসেবীদের মাঝে‘জাতীয় ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান করা হয়।এ সময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিঙ্ মিডিয়ার সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান। কর্মসূচিতে, উপজেলা কৃষি অফিসার নীপা বিশ্বাস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আলী আসগর, বন কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক, ওসি শাকের আহমেদ, পৌর বিএনপি‘র সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেছ গনি, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচীর উদ্ধোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে এ কর্মসুচীর উেেদ্বাধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত বলেন, সরকারের এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। এ সময়, উপজেলা কৃষি অফিসার নীপা বিশ্বাস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আলী আসগর, বন কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক, ওসি শাকের আহমেদ, পৌর বিএনপি‘র সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেছ গনি, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচীর উদ্ধোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে এ কর্মসুচীর উেেদ্বাধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত বলেন, সরকারের এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। এ সময়, উপজেলা কৃষি অফিসার নীপা বিশ্বাস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আলী আসগর, বন কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক, ওসি শাকের আহমেদ, পৌর বিএনপি‘র সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেছ গনি, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর সীমান্তে উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে জামালপুরের সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি ছষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। তাঁর পিতার নাম বাবু চন্দ্র বর্মন। তাঁর বাড়ি চান্দলাই গ্রামে, গোদাগাড়ী উপজেলায়, রাজশাহী জেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বর্তমানে তিনি বকশীগঞ্জ থানা-এর হেফাজতে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে প্রয়োজনীয় পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবারো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা - ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ০৯ (জুন) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব চত্বরে দলীয় ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতে অসহায় আবুল কাশেমের হাতে ১টি নতুন অটোরিকশার চাবি তুলে দেয়া হয়। অটোরিকশা গ্রহন কালে আবুল কাশেম জানান, দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের শাখাইয়া গ্রামে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। হঠাৎ যেনো আবুল কাশেমের সংসারে নেমে আসে কালো মেঘের ছাঁয়া। হঠাৎ জানতে পারেন ওনার বড় ছেলে জামিরুল ইসলাম (২২) আক্রান্ত হয় দুরারোগ্যব্যাধি ক্যান্সারে। দীর্ঘ ৩ বছর চিকিৎসা করাতে জমানো টাকা শেষ করে ইতোমধ্যে জমি-বাড়িও বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। পরে সর্বশান্ত হয়ে আবুল কাশেম তার ছেলের অসুস্থতা এবং পিতা হিসেবে ছেলের চিকিৎসা না করাতে পারার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে। আবুল কাশেমের কথা শুনে তার ছেলে জামিরুল এর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় পৌর বিএনপি‘র সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, জবিন জবিনের জন্য, এই প্রতিপাদ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও দুর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যেভাবে মানবিক কাজ গুলো করে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখেন। নিজ অর্থায়নে তিনি সমাজের অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, অসহায়দের ঘর বিতরণ করে সামাজিক কর্মকান্ড এবং সাধারণ মানুষের যে আস্থা অর্জন করেছেন তা আর কোন সংসদ সদস্যইা করতে পারেননি। এছাড়া সমাজে মানবিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মাননীয় ডেপুটি স্পীকার এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টার। পরে আবুল কাশেমের পরিবারের হাতে একটি নতুন অটোরিকশার চাবি তুলে দেয়া হয়। এসময় কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে আশিক (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রায় ৩ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে। আশিক দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ঈশ্বরখলা কান্দিয়া গ্রামের খোশ মাহমুদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিক তার বড় ভাই ওমর ফারুকের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ওমর ফারুক তেরি বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ বাজার ঘাটে নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করেন। আশিক অন্যাদের সাথে সোমেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামলে একপর্যায়ে স্রোতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং প্রায় ৩ঘন্টা পর আশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে নদীতে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। পরবর্তিতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরবর্তিতে উদ্ধার অভিযানের পর ডুবুরীদল আশিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের ১৮৬ বছরের পুরোনো কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীর অবস্থান সুসঙ্গ দুর্গাপুরে। সুসঙ্গ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ দুর্গাপুরের মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। পাঠাগারের কার্যক্রম কোন রকমে চললেও কালের বিবর্তনে পাঠাগারের জায়গা গুলো বে-দখল হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগনের আয়োজনে প্রাচীণতম এই পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (০৭ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বে-দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার এবং বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান সহ পাঠাগারটি পুনঃ চালু করার জন্য গত ০৫ এপ্রিল উক্ত লাইব্রেরী পরিদর্শনে আসেন এবং পাঠাগারটিকে পুনরায় চালু করে এখানে স্থানীয় যুবকদের জন্য উদ্দ্যোগ নিয়েছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা- ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে একটি বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। এনিয়ে আদিবাসী নেত্রী বিশাকা রাংসা বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের অনেক আইনজীবী, জ্ঞানীগুনী, সাহিত্যিক সকলেই এই লাইব্রেরীতে আসতেন বই পড়তে। ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটি এখন অযত্ন অবহেলায় পরে থাকার কারনে স্থানীয় ভূমি খেকোরা পাঠাগারের অধিকাংশ জায়গা বে-দখল করে নিয়েছে। বাউন্ডারী দেয়াল না থাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে। আসবাবপত্র, চাহিদা মোতাবেক বইক্রয় সহ পাঠাগারের আয়-বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে পাঠাগারটি। বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধার করতে জোর দাবী জানাচ্ছি। কবি লোকান্ত শাওন বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি যদি আবার সচল হয় তাহলে, স্থানীয় যুবসমাজ উপকৃত হবে। মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে। বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর তথা কলমাকান্দা উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। সাহিত্যপাঠকদের কথা ভেবে নিভু নিভু অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা পাঠারগারটিকে জাগিয়ে তুলতে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যেভাবে এগিয়ে এসেছেন এর জন্য দুর্গাপুরবাসীর পক্ষ থেকে ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মোহন মিয়া বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠাগারের বিকল্প নেই। জ্ঞান অর্জনের উৎস হলো বই। বর্তমান মানুষের চিন্তা, চেতনা, গবেষণা জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়। আর বইয়ের সু-শৃঙ্খল সমাবেশ স্থানই হলো পাঠাগার। দুর্গাপুর উপজেলার ১৮৬বছর পুরনো কুমার পাবলিক দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করে পাঠাগারের প্রাণ সঞ্চার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, আমি অত্র উপজেলায় সদ্য যোগ্যদান করেছি। এই পাঠাগারটি খুবই প্রাচীণতম, ইতোমধ্যে পাঠাগার পরিদর্শন করেছি এবং পরিচালনা কমিটির সদস্য, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেছি। পাঠাগারের জায়গাও পুনরায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এনিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জেলা প্রশাসক ও মাননীয় ডেপুটি স্পীকার স্যারের সাথে কথা বলে জরুরী ভিত্তিতে বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করে লাইব্রেরী সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নেত্রকোণার দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের সময় কথিত পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পাচারের শিকার হওয়া ওই কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়। শনিবার (৬ জুন) সকালে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের বিভিন্ন প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের সময় নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের ভবানীপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের মেইন পিলার ১১৫৬/৮-এস এর নিকটবর্তী ফারংপাড়া গ্রামের বটতলা এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত ব্যাক্তি বাংলাদেশ থেকে এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন। আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম সিলভার চাকমা (পিতা- মৃত এনফন্ট নকরেট), নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নাম রাত্রি সরকার (১৪)। তার বাড়িও দুর্গাপুর উপজেলার বরইগঞ্জ এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাত্রি সরকারের অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন ভারতে বসবাস করেন। তাদের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সিলভার চাকমার সহায়তা নেন। এ সময় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ব্যাপক কর্তৃক পুশ-ইনের চেষ্টার খবরের মধ্যেই নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে গত ৪ জুন জেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে পুশ-ইনের যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘সঠিক নয়’ বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) কর্তৃক এক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন করানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট (বিওপি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে এ ধরনের কোনো পুশ-ইন যেন না ঘটে, সেজন্য বিজিবির সকল বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তের সম্ভাব্য পুশ-ইনের স্থানগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে সেখানে সার্বক্ষণিক টহল ও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বিএসএফকে বিজিবির জোরালো উপস্থিতির কথা জানান দেওয়ার জন্য মেগাফোন, সার্চলাইট এবং বাঁশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর সহায়তায় সীমান্তে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিজস্ব সোর্সের (উৎস) মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। এনিয়ে গত ৪ জুন বেশ কিছু পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে বিএসএফ পুশ-ইন করার চেষ্টা করেছিল এবং বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাঁধায় তা ব্যর্থ হয়েছে। এ খবরের সত্যতা নাকচ করে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই তথ্যটা সঠিক নয়। আমাদের টহলের অংশ হিসেবে বিজিবি ও গ্রামবাসীসহ সীমান্তে যৌথ টহল কার্যক্রম করেছিলো মাত্র। তবে ভবিষ্যতে পুশ-ইন সংক্রান্ত কোনো বাস্তব তথ্য বা ঘটনা ঘটলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
জামালপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের কামালখান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১২টি দোকান পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল আসবাবপত্র এবং ব্যবসার মূলধন সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মালামাল রক্ষা করার সুযোগ পাননি। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরুরি আর্থিক অনুদান সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং দোকান পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের বিনীত আহ্বান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা নতুন করে তাদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় বেকার যুবক, নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিভিন্ন ট্রেডে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান সহ তারা যাতে খুব সহজে চাকরি পেতে পারে বা নিজেরাই একজন উদ্যোক্তা হতে পারে সে আলোকে এই পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির আশায় না থেকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য এ উদ্দ্যেগ হাতে নিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (০১ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিভিন্ন কোডে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহনের নিমিত্তে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের আধুনিক কৃষি, মৎস্য চাষ ও গবাদিপশু পালনে সরকারি প্রকল্পের আওতায় সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালসমূহে স্থানীয় জনসাধারণ সরকারি সুবিধা সহজতর এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ গ্রহনে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাচীর নির্মান, ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভবন মেরামত এবং আয়রণমুক্ত পানির পাম্প স্থাপনের লক্ষ্যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তিনি। এনিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান বলেন, এই উদ্যোগ শুধু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, দারিদ্র্য কমানো এবং শহরমুখী অভিবাসন হ্রাসের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলেও আশা করা করছি। উপজেলা পর্যায়ে স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য স্থানীয় বেকার যুবক, নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারীগদের হাতকে কাজে লাগাতে পারলে বদলে যাবে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা। ধন্যবাদ জানাই আমাদের অভিভাবক, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে এই উদ্দ্যেগ গ্রহনের জন্য। বিশিষ্ট সমাজসেবক এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্ বলেন, মাননীয় ডেপুটি স্পীকার এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিনমাসে ওনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে যে প্রকল্প গুলো হাতে নিয়েছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর কোন সংসদ সদস্যই তা করতে পারেননি। ইতোমধ্যে এলাকার বেকার যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও যুবকদের স্বনির্ভর করে তুলতে যে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এতে ওনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অমিত দত্ত বলেন, মাননীয় ডেপুটি স্পীকার স্যার স্থানীয় যুবকদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় অনেক আদিবাসী শিক্ষিত তরুন-তরুনী রয়েছে, যাদের নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে, সেইসাথে মাদক ও নানাবিধ অপকর্ম থেকে দুরে থাকবে যুব সমাজ।
যে কোন কাজে সততা থাকলে ঐকাজে মহান আল্লাহ্ বরকত দেন। আমার কাছে সততাই হলো মুলচাবিকাঠি। সেই সততার পথ দেখিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক বা সেনাপ্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘জন্মগত নেতা’। সততা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ শনিবার ( ৩০ মে) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তহীনতার সময়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আজকের গার্মেন্টস শিল্প ও কৃষি বিপ্লব তার দূরদর্শী চিন্তারই ফসল। রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও জিয়ার সাদামাটা জীবনযাপন ও সততাকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি নেতাকর্মীদের শুধু আবেগে বা ‘হুযুগে’ রাজনীতি না করে, জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদক এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে আমি মা ও বোনেদের বুকফাটা আর্তনাদ শুনেছি, যাদের সন্তান কিংবা স্বামী মাদকের নেশায় পরিবারকে ধ্বংস করছে। এই আর্তনাদ আর শুনতে চাইনা। মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। অপরাধীদের যারা শেল্টার দেবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদান ও দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৯জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিশেষ ‘সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে দুর্গাপুরের গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন প্রবীণ শিক্ষকদের যেমন আবেগাপ্লুত করেছে, তেমনি শিক্ষক সমাজ ও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন আশা ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুরুতে নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, আমার ঐতিহ্য, আমার ইতিহাস, আমার ব্যাকবোন হচ্ছেন আমার বাবা; যিনি একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। আমি কৃষকের সন্তান বলতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি। ডেপুটি স্পিকার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার এবং কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের বঞ্চনার ইতিহাস টেনে বলেন, “এলাকায় কিষাণ কলেজ, পশু হাসপাতালসহ ঐতিহ্যবাহী অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল, যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। আমরা দেশের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো যতটুকু বেসিক প্রয়োজন, তাও এই জনপদে পাইনি”। তিনি আশ্বাস দেন রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে এই অঞ্চলে আরও উন্নত মানের স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা এসে আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি দেয়, আর জনগণ হাততালি দেয়। জনগণ যদি এসে বলে ‘এমপি সাহেব আকাশে চাঁদ লাগবে’, তবে অনেক নেতা বলবে ‘ঐটাও এনে দেব’। আমি প্রথাগত ধারার রাজনৈতিক কর্মী নই। আমি যা করতে পারব, ততটুকুই বলব, আর যা বলব তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” মাদক নির্মূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ জারি করেন। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আমি রাজনীতি করব, সমাজের নেতৃত্ব দেব, আর মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেব- তা হতে পারে না। অপরাধীদের যারা শেল্টার দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে নিজের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে পারব না।” মাদকাসক্ত যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তিনি অতীতে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধর্মীয় ও সামাজিক মোটিভেশনের (চিল্লায় পাঠানো) উদাহরণও তুলে ধরেন। সবশেষে তিনি নাগরিকদের দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বাড়ির সামনের রাস্তাটি সরকার করে দেওয়ার পর আমরা কয়জন তার পাশে দুটি গাছ লাগাই? রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাজ পুনর্গঠনে এগিয়ে না এলে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হতে পারে না। আজকে যারা শিক্ষার্থী, তোমাদেরও মনে রাখতে হবে তোমরাই দেশের নেতৃত্বে আসবে। সঠিকভাবে পড়াশোনাই হচ্ছে ছাত্রদের একমাত্র লক্ষ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন বিশিষ্ট তরুণ সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ রেজুওয়ান সরকার। তিনি দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফান্দা এলাকার কৃতি সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দুর্গাপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় নিজের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ রেজুওয়ান সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহযোগিতা, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ফলে দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন তিনি। এলাকাবাসীর অনেকে মনে করেন, ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই জায়গা থেকে মোঃ রেজুওয়ান সরকার একজন সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোঃ রেজুওয়ান সরকারের প্রার্থিতা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাকে একজন শক্তিশালী ও জনপ্রিয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে মোঃ রেজুওয়ান সরকার আগামী দিনে ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তায় মোঃ রেজুওয়ান সরকার বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে ত্যাগের শিক্ষা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। আমি ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন সবার কোরবানি কবুল করেন এবং আমাদের সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন নিয়েই আমি ২ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।”
কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে ততই গবাদি পশুর আমদানি বাড়ছে। তবে কৃতিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু ও ভারতীয় গরুর প্রভাব না থাকায় ছোট জাতের দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি সল্প দামে দেশি গরু কিনতে ও বিক্রি করতে দেখা গেছে হাটে। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে খামারিদের পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও। তাদের প্রত্যাশা, এবার কুরবানির বাজারে গরুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় ছোট বড় খামারিরা দুঃশ্চিন্তাতেও রয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তা মুক্ত বিক্রেতারা। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকায় এবার লোকসান গুনতে হতে পারে। তাই খামারিদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। এনিয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের এমকেসিএম স্কুল মাঠ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের দেবথৈইল খেলার মাঠ ও চন্ডিগড় ইউনিয়নের চন্ডিগড় বাজার মাঠে পশুর হাটে গবাদি পশু আসতে শুরু করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে ছোট বড় খামার থেকে গবাদি পশু নিয়ে আসছেন খামারিরা। তবে এখনও কেনা-বেচার হিড়িক পড়েনি, ক্রেতার তুলনায় পশু বেশি লক্ষণীয়। অনেকেই হাটে এসেছেন, পছন্দের পশুটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর দর দাম হাকছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন। সদর ইউনিয়নের চকলেঙ্গুরা এলাকার আজিজুল হকের খামারে রয়েছে ১৩টি গরু। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের দুই সহযোগী। খামারের কর্মী রাশেদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনেই সময় দিচ্ছি। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানোসহ সব ধরনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার গরুগুলোর ভালো দাম পাবো। বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘গুজিরকোনা পশুর হাটে ক্রেতার থেকে গরুর বেশি। এখনও আমি লসে আছি ৩টি গরু এখনো বিক্রি করতে পারিনি। কিছুদিন আগে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে অত্র এলাকায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও পশু কিনতে পারছেনা অনেকেই। শেষ সময় বেচা বিক্রি ভালো হবে এমন প্রত্যাশা করছি। গরু ক্রেতা তানভির হোসেন তাইফ বলেন, বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে পশু দেখছি, আর দর-দামও করছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবো। তবে কোরবানির পশুর হাটে বড়ো গরুর চেয়ে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ করছি। পশুর হাটে গরু উঠেছে অনেক, কিন্ত ক্রেতা তুলনামুলক কম। দুর্গাপুর উপজেলায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭ শতাধিক ছোট বড় খামারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু এবং প্রায় ৪ হাজার ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পশুর একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমিত দত্ত বলেন, খামারিদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে যেন ভোক্তারা নিরাপদ পশু পান, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে। ইতোমধ্যে পশু জবাই ও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ বিষয়ে উপজেলার সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবছরই বন্যহাতির দল ভারতের মেঘালয় রাজ্যর বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তোলে। সময় ও সুযোগ বুঝে বিকেল বা সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই নেমে আসে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার ফসলি মাঠে। ওই এলাকার ফসল রক্ষায় রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে, পটকা ফুটিয়ে ও ঘণ্টা বাজিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে পাহারা দেয় চাষিরা। ওই সময় হাতি অবস্থানের একটু দুরে বিকট শব্দ বা বড় করে আলো জ্বালাতে পারলে ওই এলাকা থেকে পিছু হটে হাতিরদল। ওই ইউনিয়ন গুলোর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও ধান খেতে প্রতিবছরই ব্যাপক ক্ষতি করে বন্যহাতির দল। খেতের ফসল নষ্টের পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরত আদিবাসীদের বাড়ী-ঘরেও ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায়। প্রায় প্রতিবছরই হাতির পায়ে পৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন স্থানীয় কৃষকরা। সীমান্তে বসবাসরত আদিবাসী, বাঙ্গালী কৃষক ও খেতের ফসলের কথা ভেবে বন্যহাতি তাড়াতে, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ অর্থায়নে, দুই ইউনিয়নের ত্রিশটি পরিবারে ইতোমধ্যে টর্চলাইট ও হ্যান্ডমাইক বিতরণ করেছেন। ফসল ও সীমান্তে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরই লক্ষ্যে গত ২৪ ও ২৫ মে দুইদিনব্যাপি ২নং দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর, বাদামবাড়ি, দাহাপাড়া, ফান্দা, উত্তর বারোমারি ও গোপালপুর গ্রাম এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর, আড়াপাড়া, মাধুপাড়া ও জগৎকুড়া গ্রাম ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বাজার ও চায়ের দোকান গুলোতে চলছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বন্যহাতির আক্রমন সহ্য করছি। প্রতিবছরই নষ্ট হচ্ছে শত শত মন ধান। হাতি তাড়াতে ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন উনার প্রতি আমরা কৃতঞ্জ। তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। দুর্গাপুরের উন্নয়নের তিনি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সত্যিই আমরা তার কাছে ঋণি হয়ে থাকবো। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেনো ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কে দীর্ঘজীবী করেন। আদিবাসীনেতা ড. অঞ্জন চিচাম বলেন, প্রায় প্রতিবছরই বন্যহাতির দল সীমান্ত এলাকায় তান্ডব চালিয়ে কৃষকের ফসল ও বাড়ীঘর বিনষ্ট করে। ওই এলাকার ফসল ও কৃষকদের কথা ভেবে সীমান্তে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। উনার নির্দেশেই ইতোমধ্যে দুর্গাপুর উপজেলার ১নং কুল্লাগড়া ও ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করা হয়েছে। স্ট্রিট লাইট স্থাপনে যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি, এতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সীমান্তে বসবাসকারী আদিবাসী ও বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী।
রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটি। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রামিসার দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে ঘন্টাব্যাপি এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি দায় স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে। কিন্ত আমরা চাই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হউক। রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় আমরা সংহতি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য খুনি বা ধর্ষনকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিভাবকগণ তাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশে এর আগেও একাধিক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। আমরা এই হত্যা কান্ডের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। বক্তারা বলেন, বিচার দীর্ঘায়িত হলে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে এবং অনেকেই সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাবেন। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ ঘটনার নিষ্পত্তির দাবি জানাই। দেশের ৬৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ঘটনার বিচার দাবি করছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কামিটি সভাপতি আলকাছ উদ্দীন মীর, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, সিপিবি নেতা নজরুল ইসলাম, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি শামছুল আলম খান, হাজং নেতা অবনি কান্ত হাজং, নারীনেত্রী তাসলিমা বেগম, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি আহাদ মিয়া প্রমুখ।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল টাঙ্গাইল স্টাফ রিপোর্টার :এস কে শিপন মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমগ্র দেশ যখন তীব্র ক্ষোভ আর আন্দোলনে উত্তাল, তখন সেই জোয়ারে শামিল হতে পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলও। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। আজ দুপুরের দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা সদর রোড, নিরালা মোড়, ভিক্টোরিয়া রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা রোড গোডাউন বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে "শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে করতে হবে", "আমাদের দাবি আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে", "শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না চলবে না", এবং "আমার বোন কবরে খুনি কেন বাইরে" সহ বিভিন্ন ঝাঁঝালো স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেলা আনুমানিক ১:২৫ ঘটিকার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছায় এবং শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ওপর বসে পড়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনটি সম্পূর্ণ অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান শিক্ষা কারিকুলাম ও পরীক্ষা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত সহপাঠীদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।