টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের নিশিনধারা গ্রামের প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাটি যেন এক কাদাজল আর মরণফাঁদে পরিণত হয়। বর্তমানে এই বেহাল সড়কের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা।নিচে নিশিনধারা গ্রামের এই রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি ও জনগণের দুর্ভোগ রাস্তাটির বর্তমান চিত্র ও জনদুর্ভোগকাদামাটির মরণফাঁদ: ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুরো রাস্তাটি গভীর কাদা ও গর্তে ছেয়ে গেছে। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের উপায়ও নেই। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় অটোরিকশা, ভ্যান বা মোটরসাইকেল আটকে যাচ্ছে। অনেক সময় চালক ও যাত্রীদের কাদার মধ্যে নেমে গাড়ি ঠেলে পার করতে হচ্ছে।রাস্তা খারাপ হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল হাটে-বাজারে সময়মতো নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে তারা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত: কাদার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।স্থানীয়দের দাবি ও ক্ষোভগ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই করুণ দশা চললেও এটি সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো সত্ত্বেও শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবিলম্বে এই সড়কটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্টাফ রিপোর্টার রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন আর চলাচলের উপযোগী নেই। বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ, কাদাপানি ও ধুলাবালির কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি পাড়া-মহল্লার রাস্তা নয়; বরং হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার চান্দাইকোনার গরুর হাটে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাই প্রধান যোগাযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাটের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পরিবহন শ্রমিকসহ অসংখ্য মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া প্রায় ৫০০টিরও বেশি পরিবারের একমাত্র নিয়মিত যাতায়াতের পথ এটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তায় পানি জমে কাদা হয়ে যায়, ফলে অনেক সময় হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে পরিবেশ দূষিত হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে কিংবা কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে গিয়েও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়দের জোর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করুক। একটি উন্নত ও নিরাপদ সড়ক শুধু মানুষের চলাচল সহজ করবে না, বরং শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন সময় এসেছে জনগণের দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার। হাজারো মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ লাঘবে চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া সড়কের দ্রুত সংস্কারই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
গোপালপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও চারা বিতরণ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিরউদ্বোধনকরেনটাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোরশেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার।এ সময় উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ফলজ ও বনজ গাছের চারা গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ মরিচের বীজ এবং রোপা আমন ধানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোস্তফা মাসুদ: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব-এর ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আলোচনা সভা, কেক কাটা, প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন-২৬) বিকেল ৫টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইনকিলাবের কালিগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা এম. হাফিজুর রহমান শিমুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মাইনুল ইসলাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, দৈনিক ইনকিলাবের সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. মমতাজ হোসেন মন্টু, অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম, সাংবাদিক আহম্মাদ উল্লাহ বাচ্চু, ইশারাত আলী,জাহাঙ্গীর আলম, ফজলুল হক, শিমুল হোসেন, তাপস কুমার ঘোষ, আলমগীর হোসেন, শাহাদত হোসেন, আবুল কালাম, শেখ আল নুর আহমেদ ঈমন, বৈশাখী পারভীন ও প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ।আলোচনা সভায় বক্তারা দৈনিক ইনকিলাব এর চার দশকের পথচলা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে পত্রিকাটির অবদান এবং দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইনকিলাব দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি একই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে ৪০তম বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সাংবাদিক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। সর্বশেষে খুলনা বেতার ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
কালিগঞ্জ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের ঘুষুড়ি গ্রামে শিশু নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় অভিজিৎ নামে স্থানীয় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানার চোমরখালী এলাকার প্রদীপ কুমার ঘোষ দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর ধরে চাম্পাফুল ইউনিয়নের ঘুষুড়ি গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তিনি তার স্ত্রী তন্দ্রা রানী ঘোষ (৪২), ছেলে প্রত্যয় (১৮) ও মেয়ে প্রত্যাশা (৫) কে নিয়ে স্থানীয় বিশ্বনাথ দে’র বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিএনপির নেতারা। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী জানান, তিনিসহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, রওশন কাগুজিসহ ১২ জন অফিসে বসা ছিলেন। রাত ১০টার দিকে তারা অফিস তালা দিয়ে মহিউদ্দিনের চায়ের দোকানে চাবি রেখে সামনে মোটরসাইকেলের গ্যারেজে বসেছিলেন। এমন সময় বোমার শব্দ পেয়ে দ্রুত অফিসের দরজা খুলে দেখা যায় অফিসের এক কোনায় আগুন জ্বলছে। ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের লোকজন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই কালিগঞ্জ থানার পুলিশসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা অফিস পরিদর্শন করেন। রাতেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কৃষ্ণনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর বাজার সংলগ্ন টিসিবি ডিলার পয়েন্টে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে মোট ৭০৩টি পরিবারের মাঝে নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিতরণ করা হয়। জানা গেছে, বিক্রয়যোগ্য পণ্যের তালিকায় ছিল—৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের একটি মেরিল সাবান।প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৮৫ টাকা,যা বাজারদরের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।শ্রীপুর বাজারে মেসার্স আলহাজ্ব ট্রেডার্স মার্কেট সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত এ কর্মসূচি স্মার্ট টিসিবির অনুমোদিত ডিলার আবুবকর সিদ্দীকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। নির্ধারিত তারিখে কার্ডধারী উপকারভোগীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রাপ্য পণ্য সংগ্রহ করেন। বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শ্মশান কুমার মন্ডল বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। স্মার্ট কার্ডভিত্তিক এই ব্যবস্থার ফলে অনিয়ম অনেকাংশে কমে এসেছে এবং জনগণ সহজেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে টিসিবির এমন কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। তারা এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত ও বিস্তৃত পরিসরে চালু রাখার দাবি জানান।সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে এবং বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার গোড়াডুবা হাওরে ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাউয়া বাড়ির খালের বাঁধ পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এই বাঁধ শুধু হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত জনসচেতন উদ্যোগ, যেখানে কৃষকরা নিজেদের পরিশ্রমে হাওরের ফসল রক্ষা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি কমানো যাচ্ছে। কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবং কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, কাজের বিভিন্ন সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং দ্রুততম সময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের ফসল রক্ষা করা শুধুমাত্র সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।” ডেপুটি স্পিকারের এই সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা আরও একযোগে কাজ করার তাগিদ পেয়েছেন এবং সম্মিলিত উদ্যোগের শক্তি আরও দৃঢ় হয়েছে। কৃষকরা জানান, তাঁর আগমন তাদের জন্য প্রেরণার উৎস এবং বাঁধের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার শক্তি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এই বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম শুধু হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নয়, বরং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একতা, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা দিচ্ছে। ডেপুটি স্পিকারের সরেজমিন উপস্থিতি এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক বিকাশ এজেন্টের ওপর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।দুর্বৃত্তরা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মৃত মো. ওলি আহম্মেদের ছেলে মো. মোকলেছুর রহমান (৩৫) পেশায় একজন বিকাশ এজেন্ট। রোববার দুপুরে তিনি মোটরসাইকেলযোগে কৃষ্ণনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে তার কাছে থাকা নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঘটনার পর কৃষ্ণনগরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোস্তফা মাসুদ: মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। সভায় আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি সরকারি খাস খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী সরদারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন এলাকাবাসীর পক্ষে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাড়াশিমলা ও নারায়ণপুর মৌজার একটি সরকারি খাস খাল দিয়ে এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে জবরদখল করে নেন। পরে তারা নিজেদের সুবিধামতো পানি উত্তোলন ও বন্ধ করে রাখার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।লিখিত অভিযোগে বিবাদী হিসেবে ভাড়াশিমলা গ্রামের শেখ নূর আহম্মদের ছেলে শেখ জামিরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম, মৃত শেখ শাহাজানের ছেলে শেখ খায়রুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলামের ছেলে রানা এবং সাবিরুল ইসলামের ছেলে শেখ রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ-২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে। এ সময় ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মৃত মাহমুদ সরদারের ছেলে মহসিন আলী, জবেদ আলী সরদারের ছেলে জয়নাল আবেদীন, জাকির হোসেন, হাফিজুর রহমান, খান মাহবুবুর রহমান হাসু, ইউসুফ রাব্বি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বহুবার প্রতিবাদ ও উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের কারণে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।গ্রামবাসীরা আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি মাপজরিপ করে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না এবং জবরদখল বজায় রেখেছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস খালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোস্তফা মাসুদ: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রমজানের ২০তম দিনে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দক্ষিণ শ্রীপুর বাজার চত্বরে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ নূরুজ্জামান পাড়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা শেখ নুরুজ্জামান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম হাফিজুর রহমান শিমুল,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হুকুম।এসময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন,পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ইফতার মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শীতের বিদায়ে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী বার্তা আমের মুকুলে মাতোয়ারা গ্রামবাংলা শীতের শেষ প্রহর পেরিয়ে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা। চারদিকে যেন এক নতুন সাজে সেজে উঠছে প্রকৃতি। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে পড়ে মাটিকে ঢেকে দিচ্ছে, আর সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে নতুন সবুজ কুঁড়ি। প্রকৃতির এই রূপান্তর গ্রামবাংলার পরিবেশে এনে দিয়েছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে এ সময় আমগাছগুলোতে দেখা যাচ্ছে মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। সকাল কিংবা বিকেলের মৃদু বাতাসে সেই গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে এক অনন্য অনুভূতির জন্ম দেয়। অনেকেই বলছে এই সময়টিই গ্রামবাংলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের শ্রেষ্ঠ সময়।গ্রামের পথঘাট ক্ষেত-খামার এবং গাছপালার দিকে তাকালেই দেখা যায় প্রকৃতির নতুন রূপ। কোথাও নতুন পাতার সবুজ আভা কোথাও ফুলের কুঁড়ি আবার কোথাও পাখিদের কোলাহলে মুখর পরিবেশ। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি। কৃষকরাও এ সময় তাদের বাগান ও ক্ষেতের দিকে নতুন আশায় তাকিয়ে থাকেন।বিশেষ করে আমবাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। ভালো ফলনের আশায় তারা গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। কারণ এই মুকুলই পরবর্তীতে রূপ নেবে সুস্বাদু আমে যা দেশের অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতিবিদদের মতে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টিতে প্রকৃতির ভারসাম্য নতুন করে গড়ে ওঠে। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে গিয়ে নতুন পাতার জন্ম হয় যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন আরও বেশি করে ধরা দেয় মানুষের চোখে। সবুজের সমারোহ আমের মুকুলের গন্ধ পাখির কলতান এবং নির্মল বাতাস—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলা যেন রূপ নেয় এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। এই সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখা নয় বরং মানুষের মনেও জাগিয়ে তোলে নতুন প্রাণ নতুন আশা ও নতুন স্বপ্নের সঞ্চার।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই, কালিগঞ্জ থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজীর ওপর মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে হামলা চালানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে নারীসহ সবাইকে মারধর করা হয়। হামলায় মোসলেম সরদার গুরুতর আহত হন। আয়েশা খাতুন ও শাকিলা খাতুন আহত হন। শাকিলা খাতুনের বাম হাত ভেঙে যাওয়া, শ্লীলতাহানি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহতদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তফা মাসুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি,২০২৬) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী সোহাল হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আখতার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা–০৩ (কালিগঞ্জ– আশাশুনি) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পদপ্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রাজীব,কালিগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাইনুল ইসলাম খান এবং কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল ওহাব ও সেক্রেটারি মোঃ আব্দুর রউফ। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুর রহমান। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. হাফিজুর রহমান শিমুল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মারুফ হাসান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোস্তফা মাসুদ: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেতৃত্বদানকারী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম এবং কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রহমান যৌথ সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ. এম. রহমাতুল্লাহ পলাশ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা.শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান বাপ্পি এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি. এম. রবিউল্লাহ বাহার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসানুর রহমান,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদাউস রনি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মজিদ।পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফারুক হোসেন।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন,যৌতুক দাবি ও অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।পেশাগতভাবে একজন শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা,নিজেকে প্রভাবশালী মনে করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তার আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।এসব অভিযোগে শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সামাজিক মর্যাদা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি- ২০২৬) বেলা ১২টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এছাড়া আরো জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র, সেলাই মেশিন, ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় বাদীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। অভিযোগে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। সে সময় প্রভাব ও নানা কারণে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। নতুন করে মামলা দায়ের হওয়ায় পুরনো অভিযোগগুলোও সামনে আসছে, যা এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।আরও অভিযোগ রয়েছে, একজন শিক্ষক হয়েও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে নিজেকে বড় কর্মকর্তা ভাবার ভঙ্গিতে চলাফেরা করতেন এবং নানা অজুহাতে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতেন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মনিরুল আলম তিন দিনের ছুটির আবেদন করেন। ছুটি শেষে ফোনে যোগাযোগ করে তিনি আরও কয়েকদিন ছুটি বাড়ানোর অনুরোধ জানান।অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন,“বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাদিজা খাতুন (৪৩) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।নিহত খাদিজা খাতুন ওই গ্রামের আশারাফ হোসেন মোড়লের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে রান্নার প্রস্তুতির জন্য বৈদ্যুতিক ব্লেন্ডারে জিরা ও মরিচ গুঁড়া করছিলেন। মসলা গুঁড়া শেষ হওয়ার পর অসাবধানতাবশত ব্লেন্ডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই ভেতর থেকে মসলা বের করতে গেলে হঠাৎ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় ব্লেন্ডারের ভেতরে হাত ঢোকানোর ফলে তার ডান হাতের চারটি আঙুল মারাত্মকভাবে কেটে দুই খণ্ড হয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও স্ট্রোকজনিত কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম এবং পুরো এলাকায় বিরাজ করছে গভীর শোকের ছায়া।
মোস্তফা মাসুদ: সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ‘মহান বিজয় গোল্ডেন পিস অ্যাওয়ার্ড -২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় চেয়ারম্যানের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মাননা ও সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যানের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলমের ধারাবাহিক ও আন্তরিক অবদান প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে এ সম্মাননা আমি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি।উল্লেখ্য,বিজয় ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে আসছে।
মোস্তফা মাসুদ: সাতক্ষীরায় অনিবন্ধিত "আপন বাংলার" মিথ্যা ও বানোয়াট প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারী -২০২৬ বিকাল সাড়ে ৩টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার এর মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম ওই অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিৰ্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানেরশীষের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, "আপন বাংলা" নামক একটি নিউজ পোর্টালে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে ক্ষতিসাধন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও একটি রাজনীতিক দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকের একাধিক ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ধানেরশীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ রূপে নিৰ্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের অপপ্রচার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নিৰ্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্য যাচাই না করে অসত্য এবং প্রার্থীর সম্মান ও ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি করছে। ধানেরশীষের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দীন এই জনপদের সাবেক সফল সংসদ সদস্য হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও নিৰ্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী উক্ত ফেসবুক পেজ/ আইডির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপপ্রচার বন্ধে নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে দ্রুত পদক্ষেপ একটি সুষ্ঠু নিৰ্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।