আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার এবং ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে আরও অংশ নেন এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সরিষাবাড়ীতে বিএনপির বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। "জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় সংসদের ১৪১ জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।র্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন বহন করে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় দিবসটির তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল আয়োজন কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজয় র্যালি ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যময় করে তোলে।প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট, সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা, জামালপুর।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬: সরিষাবাড়ীতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননানিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা।অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এ আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অসীম সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বক্তারা আরও বলেন, ইতিহাসকে বিকৃত না করে নতুন প্রজন্মের কাছে সত্যনিষ্ঠভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাঁদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জাতির নৈতিক দায়িত্ব। তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন ও স্মরণীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও সভাপতি। পরে শহীদদের স্মরণে দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের এ আয়োজন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা। সভাপতি, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট, সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা, জামালপুর।
রায়গঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত আব্দুল মান্নান তালুকদারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রায়গঞ্জে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আব্দুল মান্নান তালুকদার ছিলেন একজন ত্যাগী, সৎ ও জনমুখী রাজনীতিবিদ। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আজীবন জনগণ ও দলের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গার মানুষের হৃদয়ে আব্দুল মান্নান তালুকদার আজও অম্লান। এলাকার উন্নয়ন, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের কল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দলের প্রতিটি দুঃসময়ে তিনি সাহস, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর অবদান নেতাকর্মীদের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও প্রয়াত নেতার ছেলে রাহিদ মান্নান লেনিন বলেন, আমার বাবা রাজনীতিকে কখনো ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি; তিনি মানুষের সেবাকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য মনে করতেন। তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন খান এবং রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মিরন। স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত আব্দুল মান্নান তালুকদারের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দলের প্রতি তাঁর নিবেদিত ভূমিকা এবং রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, জননেতা আব্দুল মান্নান তালুকদারের আদর্শ, সততা ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ইসি ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গণে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দল-মতের প্রার্থীদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা করে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছেন। দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু পৌর প্রশাসনের নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়; বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্গাপুর পৌরসভায় এখন উন্নয়ন, সুশাসন, জবাবদিহিতা, নাগরিক সেবা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মূল্যায়নেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেবেন ভোটাররা। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির দুর্গাপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টারকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে তিনি সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। জামাল উদ্দিন মাস্টার এর আগে ২০১৫ ও ২০২২ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেন। স্থানীয় নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাকে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এছাড়া রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ড তিনি নিয়মিতভাবে করে আসছেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি নির্যাতন ভোগ করেছেন। কারাগারে দিনের পর দিন কেটেছে তার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে তাকে দমিয়ে দিয়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের সময় তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্থানীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, জামাল উদ্দিন মাস্টারের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত। তার বাবা আলহাজ্ব ইমাম হাসান আবুচান চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপুরের স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন একজনকে তারা আগামীর মেয়র হিসেবে দেখতে চান, যিনি সড়ক, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পৌর ব্যবস্থাপনা, আলোকিত নগর এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তাদের মতে, কর্মনিষ্ঠা, সততা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নের সুষ্ঠু পরিকল্পনাই হবে ভোটের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। দুর্গাপুর পৌরসভার নাগরিকদের চাওয়া, বিদ্যমান সকল অচলায়তন ভেঙে একটি নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে ভোটের লড়াইয়ে সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিই মেয়র হবেন, এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
টাঙ্গাইল শহর শাখার ৩ ও ৫ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমীর আহসান হাবীব মাসুদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি হাসান আল মামুন ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি ডা. আব্দুর রউফ ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহীন মিঞা, ৫ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মকবুল হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কাউন্সিলর মীর ওয়াজেদ আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঈদ পুনর্মিলনীর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংগঠনের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের ৬৬৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহফুজ উর রহমান লিপকনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক লিপকনকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর উত্তর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ফলেই এ নেতৃত্ব এসেছে। নেতাকর্মীরা আরও আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চার হবে এবং ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
সাইফুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে সভাপতি এবং ড. কে এম আই মন্টিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আসাদ পারভেজ-কে দপ্তর সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংগঠনকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ২৪/১১/২০২৫ ইং তারিখে ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে সভাপতি ও ড. কে এম আই মন্টিকে সাধারণ সম্পাদক এবং লেখক আসাদ পারভেজ (গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক)-কে দপ্তর সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হলো। লেখক আসাদ পারভেজ ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক এবং 'চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের' আজীবন সদস্য। নোয়াখালীর কৃতি সন্তান লেখক আসাদ পারভেজ জাতীয় একাধিক পত্রিকায় (যুগান্তর, নয়া দিগন্ত, জনকণ্ঠ, দিনকাল, ইনকিলাব ও সংগ্রাম'সহ) উপসম্পাদকীয় কলাম লিখে থাকেন। তিনি দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি বইয়ের রচয়িতা। একই সাথে ভূরাজনীতির এই গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক কেন্দ্রীয় কাব্যকথা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক ‘জাতীয় সাহিত্য সম্মাননা’ ২০২৫ পুরস্কারপ্রাপ্ত। তিনি ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি কর্তৃক গবেষণামূলক প্রতিযোগিতায় জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির উপরে গবেষণাপত্র জমা দিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত হন। তাঁর লেখা 'খালেদা জিয়া' চিকিৎসা, গণতন্ত্র ও আগামীর বাংলাদেশ নামক বইটি ২০২৪ সালের জুলাই-য়ে প্রকাশিত হলে শাহবাগ থেকে কয়েকহাজার কপি ফ্যাসিস্ট সরকার জব্দ করে নিয়ে যায়। সে সময় বইটি অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ ছিল। উক্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহেদুল হক শামীম। এছাড়াও, আরও ২০ জনকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ১৩ জন।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার বিষয়ে ছাত্রদল ও শিবির একে অপরকে দায়ী করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে গুপ্ত লেখা কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন সহ অনান্য নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ মিছিলটি সকাল ১১টা নাগাদ শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়। বনানী স্টার কাবাবের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১১ নম্বর সড়কে আরং-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় জনগণের মধ্যে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক শামীমকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সাংবাদিক শামীম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করার জন্য তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুণীজন—কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, প্রভাষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিক মহলেও তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান রয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার সুসম্পর্ক বিদ্যমান। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, এমন একজন অভিজ্ঞ ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে কালিগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সাংবাদিক শামীম ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলে তিনি ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করবেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “আমরা এমন একজন মানুষকে নেতৃত্বে দেখতে চাই, যিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন। সাংবাদিক শামীম সেই যোগ্যতা রাখেন। তাকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক শামীমের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সমর্থকরা আশা করছেন, জনগণের এই প্রত্যাশাকে তিনি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু চিকিৎসাধীন আরও ১৩ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।একই উপসর্গে বর্তমানে হাসপাতালটিতে আরও ১৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় গত কয়েকদিন ধরে জ্বর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও কাশি-সর্দি নিয়ে একাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৮ মাস বয়সী শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা গেলেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটি হামজনিত সংক্রমণ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩ শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণ রোধে আলাদা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ে ইফতার বিতরণ টাঙ্গাইল শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর জেলা কার্যালয়ে ইফতার বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলটির কিছু নেতাকর্মী গোপনে একত্রিত হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে সরকারিভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এ অবস্থায় টাঙ্গাইলে এমন কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বেও জেলার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীদের ইফতার আয়োজন বা সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন দাবি করেছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজমা পারভীন। দলের জন্য তার ত্যাগের মূল্যায়ন করে মনোনয়ন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টায় গোপালপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। সুযোগ পেলে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নাজমা পারভীন। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিকবার বিগত সরকার কর্তৃক নির্যাতিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুকে বিজয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নাজমা পারভীন আরও বলেন, দলের জন্য তার যে ত্যাগ স্বীকার, সেটার মূল্যায়ন অবশ্যই দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন। ইতিমধ্যেই টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা দলের সম্পাদক মমতাজ, সহ-সভাপতি ফরিদা বেগম, পৌর মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ বেগম, সহ-সভাপতি লাবনীসহ মহিলা দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অব্যাহত রেখেছেন এড. ফরহাদ ইকবাল। নির্বাচন শেষ হলেও তিনি থেমে থাকেননি; বরং এলাকার জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন নিয়মিতভাবে। ৯ম রমজানে তিনি বাঘিল ইউনিয়নের ধরের বাড়ি হাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানান। তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, চলমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি ছিলাম, আছি, থাকবো আপনাদেরই মাঝে ইনশাআল্লাহ।” ভবিষ্যতেও যে কোনো ধরনের বিপদ-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ধারাবাহিক যোগাযোগ এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানান অনেকেই।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ’র পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপির উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজগর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব। ১১ নং কাতুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান সুমন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি কাতুলী ইউনিয়নের মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক রোজাদার অংশগ্রহণ করেন। ইফতার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা পবিত্র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং দলের চেয়ারপারসনসহ সকল নেতাকর্মীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করা হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যাচ্ছেন । নির্বাচনের পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজানের ৭ম দিনে তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। উপস্থিত এলাকাবাসীও তাদের প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেন। পরে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়নটিতে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন তিনি। ইফতার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, “আমি ছিলাম, আছি, থাকবো আপনাদেরই মাঝে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।” তিনি আরও বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচন শেষ হলেও তিনি নিয়মিত মাঠে থেকে মানুষের পাশে থাকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আগামীতেও এ ধরনের গণসংযোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, সদর আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এডভোকেট আহমেদ আজম খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মন্ত্রিসভায় তাঁকে দেখতে চায় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনের জনগণ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর নেতৃত্বে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আহমেদ আজম খান ইতোমধ্যে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মেধা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন অর রশীদ খান বলেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের নেতা তারেক রহমান অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে আহমেদ আজম খান ভাইয়ের অবদানকে মূল্যায়ন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিলে বাসাইল–সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।” বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ওয়াদুদ হোসেন খান বলেন, “তিনি একজন তৃণমূলের নেতা। মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। আমরা চাই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান, যাতে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।” তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর ইসলাম রিপনের মতে, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে নারী সংগঠক সুমনা ইসলাম রিলি আশা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব পেলে নারীশিক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বলেন, “শত বছরের পুরনো থানা বাসাইল থেকে আজ পর্যন্ত কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পায়নি। দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা আহমেদ আজম খান বাসাইল-সখীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আশা ও ভরসার প্রতীক। তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হলে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।” স্থানীয়দের মতে, সখীপুরসহ পুরো এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। তাদের বিশ্বাস, আহমেদ আজম খান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং টাঙ্গাইলের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহমেদ আজম খান ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর পান ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন, যা এখন তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নকে ঘিরে টাঙ্গাইল জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থকদের মধ্যে জোরালো আলোচনায় উঠে এসেছেন ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও আফরোজা খন্দকার (নিপু)। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। তবে এসব চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের গুণাবলি ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে। সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই নেত্রী রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। নিজ এলাকা মির্জাপুরসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে দলীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণ, নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনসেবামূলক উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষে জনসংযোগ কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বনানী-ভাসানটেক এলাকায় গঠিত জনসংযোগ উপকমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার স্বামী মো. সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত জিএস এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আফরোজা খন্দকার (নিপু)কে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হলে দল উপকৃত হবে। তাদের মতে, তিনি মনোনয়ন পেলে দলীয় রাজনীতি ও জনসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তেজনা: সাবেক বিএনপি নেতা ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পাল্টা অভিযোগটাঙ্গাইলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ দুপুরআনুমানিক ১টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর দোয়া মাহফিল উপলক্ষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দিতে যান আবু নাসের আল আমিন পাপন ও তার সহযোগীরা। এ সময় শান্তিকুঞ্জ রোডস্থ সিএনজি শ্রমিক অফিসের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।এজাহারে উল্লেখ করা হয় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে গুরুতর জখম করার কথা বলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাব্বির আহম্মেদ সাদী ও বিপ্লব আরেফিন খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আরও ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এদিকে মামলা দায়েরের পর অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং এতে টাঙ্গাইল সদরের জনগণ তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়লাভের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং তাদের দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ। শুক্রবার, (১৩ই ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ০৬.০০ ঘটিকায় হারুনুর রশিদ তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লিখিত বার্তায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ যে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান-কে দেশনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তার ভাষ্য মতে, “আমরা একটি আসনের লড়াই হেরেছি, কিন্তু মহাযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে—এটাই আমাদের বড় শক্তি।” উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণায় হারুনুর রশীদ বলেন, তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য না হলেও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় সিনিয়র নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা, যুব কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার দাবি, দল ক্ষমতায় থাকায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ফেসবুক পোস্টের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত, বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই হুমকির বিষয়টি জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের নজরে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো ধরনের হুমকি বা অস্থিরতা বরদাশত করা হবে না। আইনের বাইরে গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কোনো বৈষম্যের শিকার না হন—সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ব্যক্তি ক্ষমতা নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।” একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের অবস্থানকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে প্রাথমিক ফলাফলে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে আমীর ড. কেরামত আলী। পোস্টালসহ তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ২০৬৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১৬২৫১৫ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ড. মিজানুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১৭১২২৭। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১৫৫১১৯ ভোট। এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। পোস্টালসহ ১৭৩টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১৮৯৬৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনত প্রার্থী হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১২৬৯৯৭ ভোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ বলেন, জেলার ৩ টি সংসদীয় আসনেই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল টাঙ্গাইল স্টাফ রিপোর্টার :এস কে শিপন মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমগ্র দেশ যখন তীব্র ক্ষোভ আর আন্দোলনে উত্তাল, তখন সেই জোয়ারে শামিল হতে পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলও। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। আজ দুপুরের দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা সদর রোড, নিরালা মোড়, ভিক্টোরিয়া রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা রোড গোডাউন বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে "শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে করতে হবে", "আমাদের দাবি আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে", "শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না চলবে না", এবং "আমার বোন কবরে খুনি কেন বাইরে" সহ বিভিন্ন ঝাঁঝালো স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেলা আনুমানিক ১:২৫ ঘটিকার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছায় এবং শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ওপর বসে পড়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনটি সম্পূর্ণ অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান শিক্ষা কারিকুলাম ও পরীক্ষা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত সহপাঠীদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আশেকপুর বাইপাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।