জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ। ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ১-০ গোলে গোপালপুর উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফুল হক এমপি টাঙ্গাইল-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ লুৎফর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রবিউল আওয়াল।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শরীফা হক।রোমাঞ্চকর এ ফাইনালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। নির্ধারিত সময়ে একমাত্র গোলের সুবাদে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের করে নেয়। অপরদিকে গোপালপুর উপজেলা দুর্দান্ত লড়াই করেও রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সম্মানিত দর্শক খেলোয়াড় স্বেচ্ছাসেবক ক্লাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাঁদের সুশৃঙ্খল উপস্থিতি সহযোগিতা ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি সফল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হয়েছে।
ফাইনালে গোপালপুর ম্যাচসেরা রবিউল ইসলাম! জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রতিবেশী ভূঞাপুর উপজেলাকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে গোপালপুর উপজেলা ফুটবল দল।জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার রফিকুলের উপস্থিতি সত্ত্বেও ছন্দময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় গোপালপুর। দলের হয়ে মিশু প্রথম গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এরপর রবিউল ইসলামের অসাধারণ ফ্রি-কিক এবং নাইজেরিয়ান ফুটবলার সিবির দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত হয়। পুরো ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রবিউল ইসলাম।এবার শিরোপার লড়াই। আগামী শনিবার (১ আগস্ট) ফাইনালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দলের মুখোমুখি হবে গোপালপুর উপজেলা।
গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করা এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘আশালতা’। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সোনামুই গ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি আশালতার সোনামুই শাখা অফিসের ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মো. শিমুল পারভেজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ফুটবল তুলে দিয়ে মো. শিমুল পারভেজ বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অতিব্যবহার শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, অপ্রয়োজনে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার পরিবর্তে খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেওয়া প্রয়োজন। এতে তারা মুঠোফোনের আসক্তি ও মাদকের মতো সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হতে পারবে। তিনি আরও বলেন, সুস্থ, সবল ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাঠের খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আশালতার কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করবে। এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা বলেন, ফুটবল পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন পর গ্রামের মাঠগুলো আবারও শিশু-কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কিশোর-যুবসমাজকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলামুখী সমাজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশালতার এ প্রশংসনীয় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সেমিফাইনাল। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, ফিফা এবং আটলান্টা পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা মূল্যায়নে ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের এযাবৎকালের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচের উত্তেজনা কেবল ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এসব কারণে ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের আবেগও তুঙ্গে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই দলের সমর্থকদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও আলাদা ফ্যান জোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এফবিআইও সরাসরি নিরাপত্তা সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি বিশ্বকাপের একটি বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল হলেও, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল ও সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ।
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬ এর ফাইনাল খেলা, সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬ খ্রি.) জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জামালপুর-এর আয়োজনে জেলা স্কুল মাঠে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জামালপুর জনাব মুহাম্মদ ইউসুপ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, জামালপুর জনাব মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন এবং সিভিল সার্জন জনাব ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুল হক।পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করছে এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে। তিনি খেলোয়াড়দের সুন্দর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফাইনাল খেলাটি ছিল অত্যন্ত উপভোগ্য এবং সুন্দর আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভালো খেলোয়াড় ও ভালো ছাত্র—উভয় ক্ষেত্রেই সফল হতে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার বিকল্প নেই। পাশাপাশি খেলাধুলা সমাজকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষকবৃন্দকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।এ সময় জেলা প্রশাসক সকল খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর টাঙ্গাইল জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৯ মে ২০২৬) টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের ৮টি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা শেষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে মেধাবী ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য বয়ে আনবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রশিক্ষক, অভিভাবক এবং ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ক্ষুদে খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। পুরো মাঠজুড়ে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম)। তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজা আফসানা। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং দলগত চেতনা গড়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। খেলা দেখতে মাঠে ভিড় জমায় সর্বস্তরের মানুষ। দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ক্ষুদে খেলোয়াড়দের চমৎকার পারফরম্যান্স উপস্থিত সকলের মন জয় করে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামান্য অবদান রাখা পেসার রুবেল হোসেন এবার পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে এই সম্মাননা প্রদান করে। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে রুবেলের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিসিবি। কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার কারণে সরাসরি মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেননি তিনি। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই বিসিবি এই সম্মাননা আয়োজন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুবেলকে শুভকামনা জানিয়েছেন বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর রুবেল হোসেন বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৯টি, টেস্টে ৩৬টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক—দুই ধরনেই রয়েছে তার একটি করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও, রুবেল হোসেন জানিয়েছেন যে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে চান।
ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়: এক লক্ষ টাকা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন নারী কাবাডি খেলোয়াড়রা দেশের জাতীয় খেলা কাবাডির উন্নয়নে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ‘ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।এ ঐতিহাসিক ঘোষণার ফলে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকে এখন থেকে প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া ভাতা পাবেন। ক্রীড়াবান্ধব এ উদ্যোগে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় খেলা হিসেবে কাবাডির মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শুধু ভাতা ঘোষণাই করেননি বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা নারী কাবাডি দলের সদস্যদের হাতে বিশেষ পুরস্কারও তুলে দেন। নারী কাবাডি দল দু'টি টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের জন্য প্রত্যেক নারী খেলোয়াড় এককালীন দুই লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন।পুরস্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ও কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট টায়ার ওয়ান টুর্নামেন্টে নারায়নগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দল টাঙ্গাইল জেলা দলকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে। জামালপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নারায়নগঞ্জ দল টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাঙ্গাইল জেলা দল। প্রথম দিকে ব্যাটিং যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেও ধীরে ধীরে ইনিংসে ধস নামে। ৫ ওভারে উইকেট হারানো ছাড়াই ৩৫ রান তুলে তারা আশার আলো দেখিয়েছে। তবে ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ একে একে ধসে পড়ে এবং ২৩.৫ ওভারে পুরো দল মাত্র ৮২ রানে অলআউট হয়। দলের সর্বোচ্চ রান আসে লিমনের ২২ এবং দেবাশীষ সরকার অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। রিফাত বেগ ৯, রুবেল ১, জয়রাজ ৮, ইমতিয়াজ ৩, মেহেদী মারুফ ০, রাকিব ৩, জহিরুল ২, রনি ০ ও রাদিল ০ রান করেন। নারায়নগঞ্জের রনি ফয়সাল মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট নেন। জবাবে ৮৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে নারায়নগঞ্জ। শুরুতে ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ১৫.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা বিপর্যয়ে পড়লেও অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান পারভেজ ও সালাউদ্দিন সৌরভ ধীর ও সংযত ব্যাটিং করে দলকে জয় এনে দেন। তাইবুর পারভেজ অপরাজিত থাকেন ১৭ এবং সৌরভ অপরাজিত থাকেন ২২ রানে। নারায়নগঞ্জ ২৬.৩ ওভারে ৮৪ রানে জয় নিশ্চিত করে। টাঙ্গাইলের ইমতিয়াজ ও রনি চৌধুরী দুইজন করে উইকেট নেন। টাঙ্গাইল জেলা দলের সহকারী কোচ ইসলাম খান এবং ম্যানেজার দেওয়ান সাইফুল ইসলাম লিটন ম্যাচ পর্যালোচনায় জানান, “চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরাজয় হয়েছে। বোলাররা ভালো বোলিং করলেও রান কম হওয়ায় জয় সম্ভব হয়নি। যদি দলের রান ১৫০ হতো, প্রতিযোগিতা সম্ভব হতো।” টাঙ্গাইল জেলা দলের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জ জেলার সঙ্গে।
৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত জয় দিয়ে শুভ সূচনা করেছে টাঙ্গাইল জেলা দল। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত প্রতিযোগিতার জামালপুর ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাগুরা জেলাকে ৬১ রানে পরাজিত করে তারা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় জামালপুর স্টেডিয়াম মাঠে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাঙ্গাইল জেলা দল। উদ্বোধনী জুটিতে জিম্বাবুয়ের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রিফাত বেগ ও লিমন দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। তাদের জুটিতে আসে ৫৫ রান। পরে লিমন ও জয়রাজ শেখ ইমনের জুটি দলীয় স্কোরকে ৮৭ রানে পৌঁছে দেয়। অধিনায়ক মেহেদী মারুফকে সঙ্গে নিয়ে লিমন স্কোরকে ১৩৩ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও মধ্যক্রমে হঠাৎ ধস নামে। রুবেল মিয়া, প্রিতম ও রাকিব দ্রুত ফিরে গেলে ৭ উইকেটে দলীয় রান দাঁড়ায় ১৪৬। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের স্ট্যান্ডবাই অলরাউন্ডার দেবাশীষ সরকার দেবা দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। মাত্র ৩৬ বলে ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারে অপরাজিত ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। লোয়ার অর্ডারে ইমতিয়াজ আহমেদ, জহিরুল ও আলী ওমর আবিরের কার্যকর ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে টাঙ্গাইলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫২ রান। প্রতিপক্ষ মাগুরা জেলার হয়ে মিনহাজুল ইমন ৪১ রানে ৬টি উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মাগুরা জেলা দল। টাঙ্গাইলের স্পিনার জহিরুল, ইমতিয়াজ, রাকিব ও প্রীতমের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৩০ ওভারে ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মাগুরা। তবে মিনহাজুল ইমন (৫১) ও মেহেদী হাসান (৩৩) অষ্টম উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান। শেষ পর্যন্ত ৪৬.২ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হলে টাঙ্গাইল ৬১ রানের জয় নিশ্চিত করে। বোলিংয়ে টাঙ্গাইলের জহিরুল ৪২ রানে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া প্রীতম ও রাকিব দুটি করে উইকেট শিকার করেন। আগামী ২৬ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ জেলা দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাঙ্গাইল জেলা দল। এদিকে একই দিনে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচে ফরিদপুর জেলা ৭৪ রানে বরিশাল জেলা দলকে হারিয়েছে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ফরিদপুর ৩৮.৪ ওভারে ১৭৫ রানে অলআউট হয়। জবাবে বরিশাল ৩৯.৪ ওভারে ১০১ রানে গুটিয়ে গেলে সহজ জয় পায় ফরিদপুর।
টাঙ্গাইলের টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম ঘরোয়া ক্রিকেট আসর ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ–এর ভেন্যু খেলা। উদ্বোধনী ম্যাচেই জমে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে কুষ্টিয়া জেলা দল ২ উইকেটে বগুড়া জেলা দলকে পরাজিত করে শুভ সূচনা করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)–এর আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল ভেন্যুর খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্চয় কুমার মহন্ত। টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য মমিনুর রশীদ তালকুদার শাইন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ও জেলা ক্রিকেট কোচ ইসলাম খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজ তালুকদার বাপ্পী এবং টাঙ্গাইল স্পোর্টস একাডেমির সহকারী কোচ মেহেদী হাসান রাসেল। খেলার শুরুতেই টস জিতে বগুড়া জেলা দল প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচে তারা ৪২.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে রেদুয়ান ৩৪ ও রিফাত ২৯ রান করেন। কুষ্টিয়া দলের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে মুহিত মাত্র ২২ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুষ্টিয়া জেলা দলও চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৪১.৩ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। দলের পক্ষে উৎস ৫২ ও জীবন ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। বগুড়া দলের আবির ৩টি উইকেট দখল করেন। টাঙ্গাইল ভেন্যুতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—কুষ্টিয়া, বগুড়া, ফরিদপুর ও বরিশাল জেলা। প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, টাঙ্গাইল ভেন্যুর খেলাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করবেন দর্শকরা। উদ্বোধনী ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন একরামুল হক ডিউক ও তমাল বিহারী দাস এবং স্কোরার হিসেবে ছিলেন উত্তম গৌড়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
টাঙ্গাইলে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ ক্রীড়াযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, “তারুণ্যকে সুস্থ ও উদ্দীপনাময় পথে এগিয়ে নিতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ফুটবল জেলা টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য—এ টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দলীয় মনোভাব ও ক্রীড়া নৈতিকতা শেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও জানান, নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতে জেলা প্রশাসন সবসময়ই ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে জেলার কলেজগুলোতে চলছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। দলগুলো নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উৎসাহ; গ্যালারিতেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিযোগিতার উত্তাপ। এবারের আয়োজনে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, নাগরপুর, সখীপুর, দেলদুয়ার, মধুপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কলেজগুলো অংশগ্রহণ করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন দলের মধ্যকার নকআউট ও লিগ ভিত্তিক খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের আশা, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে জেলাজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামবে। আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ফুটবল টাঙ্গাইলের প্রাণের খেলা। এই টুর্নামেন্ট তরুণদের মাঝে ক্রীড়া চেতনা, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সমৃদ্ধ ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দলীয় বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আগামী এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধাপে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বিকভাবে টুর্নামেন্ট সফল করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইলে ক্রীড়া প্রাণের স্রোত এনে দেওয়া এ আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ এবারও নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে ফুটবলপাগল তরুণদের মাঝে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্পোর্টস লাভারস্ অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ কিলোমিটার ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে সরকারি ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন মাঠে এ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাড়ে তিন শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। এসময় ধনবাড়ী নওয়াব এস্টেটের মোতাওয়াল্লী আফিফ উদ্দিন আহমাদ স্মারক উন্মোচন করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহফুজ বিন ইউসুফ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রতিটি মানুষের শরীর সুস্থ রাখতে অধ্যাবসায়ের বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে মুঠোফোন, অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহার, মাদকসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, এমন আয়োজনে তরুণরা মাদক দূরে থেকে খেলাধুলার প্রতি প্রতিযোগী হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া আশরাফুল আলম কাশেম বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সিলেট এসেছি। প্রথম হয়ে খুব ভালো লাগছে। নিজেকে সুস্থ রাখতে সুশৃঙ্খল সমাজ গড়তে ম্যারাথনসহ খেলাধুলার বিকল্প নেই। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়া পাবনার ইমরান হোসেন বলেন, বর্তমানে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ বেড়েই চলেছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ম্যারাথনে অংশ নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রানারদের যে পরিমাণ প্রাইজমানি দেওয়া হয়, তা যথেষ্ট নয়। এটি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে চার শহীদের স্মরণে এক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিরিশিরি জিবিসি মাঠে এ খেলা উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন মাস্টার। কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচের মুখোমুখি হয় দুর্গাপুর ইউনিয়ন একাদশ বনাম বাকলজোড়া ইউনিয়ন একাদশ। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জয় লাভ করে বাকলজোড়া ইউনিয়ন একাদশ। এ সময় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজারো ফুটবল প্রেমীদর্শক উপস্থিত ছিলেন। নকআউট সিষ্টেম অংশগ্রহনমুলক এই খেলা চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তিতে সেমিফাইনাল এবং পরবর্তিতে ফাইনাল খেলার মধ্যদিয়ে এ খেলা শেষ হবে। বিএনপি‘র নেতাকর্মীরা জানান, দুর্গাপুরের ৪ শহীদ উমর ফারুক, জাকির হোসেন, সাইফুল ইসলাম সেকুল ও মাসুম বিল্লাহর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং সমাজ থেকে মাদক কে চিরতরে বিতারিত করতে, তরুণ প্রজন্মের মাঝে খেলাধুলার চেতনা জাগিয়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মঠে একতা যুবসংঘ বনাম সুফিয়ান একাডেমির মধ্যে প্রথম সেমিফাইনাল ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে এই ম্যাচটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর,মধ্যনগর,ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুল। ফুটবল সেমিফাইনালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ানরম্যান মোঃ জুনাব আলী,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান উজ্জল,জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন,উপজেলা বিএনপির আহবায়তক কমিটির সদস্য চাঁন মিয়া মাষ্টার,মোঃ সাখাওয়াত হোসেন,আমির শাহ,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সবুজ আলম,বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মনজুর আলী,সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম শিকদার,বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির হারুনুর অর রশিদসহ তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা খেলার মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-১(তাহিরপুর,মধ্যনগর,ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুল বলেছেন, দেশের বিশাল যুব সমাজকে লেখাড়ার পাশাপাশি খেলাধূলায় মনোনিবেশ করতে পারলে লেখাপড়ায় মনন ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে সুস্থ সবল ও শারীরিক গঠনে খেলাধূলার বিকল্প নাই। বর্তমান প্রজন্মের যুবকরা যেমন মেধা ও মননে আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে যেমন আগামীতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিবে তেমনি মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজে রক্ষা করা সম্ভব তেমনি একজন যুবক লেখাপড়া অর্জন করে সাবলম্বী হলে তার পরিবারকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি আরো বলেন,আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান,দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বিশাল এই নতুন প্রজন্মের যুবককে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলায় মনোনিবেশের জন্য সব সময় দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদান করে আসছেন। একটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষ যুবসমাজ গঠনের কোন বিকল্প নেই। তাই আসুন সবাই মিলে যুবসমাজকে মাদকাশক্ত থেকে দূরে রেখে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলায় উজ্জীবিত করে দেশ গঠনে সকল অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন কতৃক আয়োজিত ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়ন মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬নং নটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত ফাইনালে বিজয়ী দলের হাতে নগদ অর্থ ও ট্রফি তুলে দেয় অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্ল্যা বুলু। মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম এ হাই (ভুট্টো) এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও বরকত উল্ল্যা বুলুর স্ত্রী শামীমা বরকত লাকী। বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস। সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক দিদার হোসেন, সদস্য সচিব কুতুবউদ্দিন সানি। মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেন রনি এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জহির উদ্দিন হারুন। নাটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাখায়েত হোসেন সাকু সহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের আর্মি রেডিও সোমবার স্বীকার করেছে যে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির ১,১৫২ সৈন্য নিহত হয়েছেন। কঠোর সামরিক সেন্সরশিপের মধ্যেও এই সংখ্যা সামনে এসেছে, যা ইসরায়েলি সমাজে শোকের মাত্রা ও সংঘাতের মানবিক মূল্য আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রেডিওর তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশই ২১ বছরের কম বয়সী তরুণ, যাঁরা ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অধিকাংশই অবিবাহিত। এ সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের রেজিস্ট্রিতে ৬,৫০০-এর বেশি নতুন স্বজন যুক্ত হয়েছে—যার মধ্যে ১,৯৭৩ জন বাবা-মা, ৩৫১ জন বিধবা, ৮৮৫ জন অনাথ ও ৩,৪৮১ জন ভাইবোন রয়েছেন। গত এক বছরে নতুন করে তালিকাভুক্ত ২৬২ সৈন্যের মৃত্যুর খবরে বলা হয়, নিহতদের বড় অংশই সামনের সারির লড়াইয়ে থাকা তরুণ সেনা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন কঠোর সামরিক সেন্সরশিপের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণচিত্র এখনো অজানা রয়ে গেছে। এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি জেনারেল ইয়িত্ঝাক ব্রিক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর ভাষায়, হামাসের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি না হয়ে সংঘাত লম্বা করায় ইসরায়েল “সবচেয়ে বড় পরাজিত” হয়েছে। গাজা থেকে বন্দিদের জীবিত ফেরানো ও প্রতিরোধ সংগঠন ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ফলপ্রসূ হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাসনিমের ভাষ্য, ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েকজন বন্দির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে, আর গাজায় প্রতিরোধও মাঠে টিকে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই বছর পর এই হিসাব প্রকাশ—এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনার সুর—ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গাজার অভিযানের রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরেই প্রশ্ন বাড়ছে।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ সুপার ফোরের উদ্বোধনী ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। শেষ ওভারের টানটান উত্তেজনায় এক বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ৬১ রান, তৌহিদ হৃদয়ের সুনিয়ন্ত্রিত ৫৮ রান এবং মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিং (৩ উইকেটে ২০ রান) ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠেন। শ্রীলঙ্কার ইনিংস প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা তোলে ৭ উইকেটে ১৬৮ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন দাসুন শানাকা। ৩৭ বলে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস লঙ্কানদের ভরসা জোগায়। কুশল মেন্ডিস করেন ৩৪ রান এবং পাথুম নিসাঙ্কা ২২ রান। তবে বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন। মাহেদী হাসান ২টি উইকেট নেন, আর মুস্তাফিজ শেষদিকে অসাধারণ বোলিং করে শ্রীলঙ্কার রান আটকে দেন। বাংলাদেশের ইনিংস ১৬৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা শুরুতে বিপাকে পড়লেও সাইফ হাসান ও লিটন দাস (২৩) দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে স্থিতি দেন। পরে সাইফ ও হৃদয় মিলে আরও ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে জয়ের ভিত তৈরি করেন। শেষদিকে উত্তেজনা তৈরি হয় যখন দুশমন্থা চামিরা হৃদয়কে আউট করেন এবং শানাকা শেষ ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন। তবে বাংলাদেশ ঠাণ্ডা মাথায় খেলেই শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয়। ম্যাচের সেরা পারফর্মার ব্যাটে: সাইফ হাসান – ৬১ রান সহায়তা: তৌহিদ হৃদয় – ৫৮ রান বলে: মুস্তাফিজুর রহমান – ৩/২০ এই জয়ে শ্রীলঙ্কার অপরাজিত ধারা ভাঙল এবং সুপার ফোরে মূল্যবান ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করল বাংলাদেশ।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত এশিয়া কাপে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ওমানকে ২১ রানে হারিয়ে অপরাজিত থাকল। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত তোলে ১৮৮ রান ৮ উইকেটে। ওমান, যারা বিশ্ব টি–টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম স্থানে রয়েছে, ব্যাট হাতে দুর্দান্ত লড়াই করে। আমির কালিমের ৬৪ এবং হাম্মাদ মির্জার ৫১ রানের উপর ভর করে দলটি ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৬৭ রান। কালিম ও মির্জার জুটি দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয়। তবে হার্দিক পান্ডিয়া প্রথমে হার্শিত রানা’র বলে কালিমকে দারুণ এক ক্যাচে ফিরিয়ে দেন, এরপর নিজের গতির ঝড় তুলেই মির্জাকে আউট করেন। বাঁ-হাতি পেসার অর্শদীপ সিং তুলে নেন ইনিংসের চতুর্থ উইকেট এবং একইসাথে টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন। এর আগে ভারতের ইনিংসে উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। তার সাথে উদ্বোধনী ব্যাটার অভিষেক শর্মা ১৪ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দ্রুত রান তোলে দেন। ওমানের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিলেও ভারতের ব্যাটিং শক্তিকে পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি। শাহ ফয়সাল, বাঁ-হাতি পেসার জিতেন রমানন্দি ও স্পিনার আমির কালিম নেন দুটি করে উইকেট। এই জয়ের ফলে ভারত ও পাকিস্তান গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার ফোরে উঠেছে। রবিবার আবারও মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান, যেখানে আগের ম্যাচ শেষে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলোচনায় ছিল। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সুপার ফোরে জায়গা করে নিয়েছে। শনিবার শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে সুপার ফোর পর্ব শুরু হবে।
আজ ১৮ই সেপ্টেম্বর, রোজ বৃহস্পতিবার বিকেল চার ঘটিকায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন ২০২৫ সালের বার্ষিক ইন্টার স্কুল ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে কাবারিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাটিকামারি উচ্চ বিদ্যালয়। খেলার আয়োজন করে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— সরিষাবাড়ি উপজেলার ৪ নং আওনা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুরুজ্জামান সুরুজ মিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, হেডমাস্টার, বাটিকামারি উচ্চ বিদ্যালয় আওনা ইউনিয়ন বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হোসেন খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচটি রোমাঞ্চকর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।