অযাচিত কর প্রত্যাহারের দাবিতে বগুড়ায় বাইকারদের মানববন্ধন অযাচিত কর আরোপের প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ বাইকার এবং বিভিন্ন স্থানীয় বাইকিং কমিউনিটির সদস্যরা। বুধবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক বাইকার অংশ নেন।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাইকাররা বলেন মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ যারা দৈনন্দিন যাতায়াত কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।প্রতিবাদকারীদের এক দফা দাবি—বাইকারদের ওপর আরোপিত অযাচিত কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং করনীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।বক্তারা বলেন মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসী পণ্য নয়; বরং এটি দেশের লাখো মানুষের প্রয়োজনীয় যানবাহনে পরিণত হয়েছে। তাই এ খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ জনদুর্ভোগ বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যয় বৃদ্ধি করবে।উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন দেশের চলমান বাইকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ন্যায্য দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আরও বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে।দেশের জনপ্রিয় মোটরসাইকেলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম BikeBD আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, বাইকারদের যৌক্তিক দাবির প্রতি তারা সম্পূর্ণ একাত্মতা পোষণ করে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে উত্তরবঙ্গমুখী জ্বালানি তেল সরবরাহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলো ১০ এপ্রিল ২০২৬ ইং সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ আজ শুক্রবার বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে উত্তরবঙ্গমুখী জ্বালানি তেল সরবরাহের সময় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজশাহী, রংপুর এবং পার্শ্ববর্তী ১৯টি জেলায় বিতরণের জন্য ২২৫টি ট্যাংকলরি (পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল) নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ এসকর্ট প্রদান করা হয়েছে।এদিনের অভিযান ২৪৮টি পয়েন্টে (ফিলিং স্টেশন ও এজেন্সি) জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান,জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা যেমন জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা তাদের অগ্রাধিকার।সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ বলেছে,“আমাদের লক্ষ্য জনগণের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।এমন উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি জেলায় তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনও প্রকার ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।অধিকন্তু, জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যরা ট্যাংকলরি গুলোকে সড়ক পথে সুরক্ষিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত নজরদারি করেছেন। পুলিশ এসকর্টের সময় যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি বা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সর্বদা জনগণের সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর, এবং এই ধরনের নিরাপত্তা উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে “জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নবমবারের মতো সারা দেশের ন্যায় জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ০৫ ফেব্রুয়ারি জেলা শহরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালী শেষে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার,চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ পাঠক, এবং ছাত্র-ছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন , চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাইব্রেরিয়ান, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার সাজিয়া আফরিন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি আলোকিত ও সচেতন জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মোট ২৯ জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে ছিল— চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা (৩টি গ্রুপে ১৪ জন), বইপাঠ প্রতিযোগিতা (উন্মুক্ত গ্রুপে ৬ জন), রচনা প্রতিযোগিতা (নবম–স্নাতকোত্তর গ্রুপে ৩ জন) এবং উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা (২টি গ্রুপে ৬ জন)। দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
আরএমপি’র বিভিন্ন থানার ওসি ও কর্মকর্তাদের সরেজমিনে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)র বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা সরেজমিনে ভোটকেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তারা ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো প্রবেশ ও বহির্গমন পথ আশপাশের পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আরএমপি কর্তৃপক্ষ জানায় ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে পুলিশি টহল নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরএমপি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।