ভিডিও সংবাদ

কাবারিয়াবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেল সরিষাবাড়ি উপজেলার কাবারিয়াবাড়িয়া ফুটবল মাঠ। গত ১৭ এপ্রিল মরহুম গাজী গোলাম মোস্তা ও মরহুম জুলহাস উদ্দিন জামালী স্মরণে আয়োজিত ১৩৮তম ঐতিহ্যবাহী ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল একাদশ ও হেমনগর ফুটবল একাদশ। খেলাটি উদ্বোধন করেন সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সদস্য লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম খান বাবু (জজ কোর্ট, ঢাকা), বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হবি স্যার (অবসরপ্রাপ্ত শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক ও সভাপতি, কাবারিয়াবাড়ি যুব উন্নয়ন সংস্থা) এবং সুরুজ উদ্দিন সুরুজ মেম্বার (সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৪ আওনা ইউনিয়নের সভাপতি)। খেলা শুরুর পর থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। মাঠের চারপাশে জড়ো হওয়া হাজারো ফুটবলপ্রেমী করতালিতে উৎসাহ দেন খেলোয়াড়দের। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে মাঠের লড়াই। তবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে হেমনগর ফুটবল একাদশ ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল একাদশ কোনো গোল করতে পারেনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন খেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এক সময় কাবারিয়াবাড়িয়া ফুটবল মাঠ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এখানে নিয়মিত বড় বড় খেলা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এলাকার তরুণরা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়েছিল। এখন আবার খেলা শুরু হওয়ায় তারা মাঠমুখী হবে এবং এসব আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এলাকার সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে বলে তারা মনে করছেন। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতা এলাকার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

132 View এপ্রিল ১৮, ২০২৬
গোপালপুরে বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠক | নেতাদের ভোটার সংযোগ

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ৩ নং ঝাওয়াইল ইউনিয়নের পাকুটিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির উত্সবমুখর উঠান বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ জাকির হাসান লেলিন এবং মোঃ মাসুদ হাসান মনি। উঠান বৈঠকের সঞ্চালক ছিলেন খন্দকার মাহবুবুর রহমান টুটুল। নেতারা আসন্ন নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি, এলাকায় উন্নয়ন এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠক এলাকায় রাজনৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

1.02K View ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
গোপালপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিশাল জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল | Jamaat Rally

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল জনসমাবেশ ও আখেরি মিছিল। গোহাট ময়দানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। বক্তব্য শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণমিছিল গোপালপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। আরও রাজনৈতিক ও নির্বাচনী খবর পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

1.03K View ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন | Rally & Meeting

শুক্রবার সকালে সংগঠনটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্ক থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে বাতেন খাঁ মোড়, শান্তি মোড় ও শিবতলা মোড় প্রদক্ষিণ করে রেহাইচর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল— “মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ।” র‌্যালি শেষে রেহাইচর মোড়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, দেশের ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে ইসলামী ছাত্রশিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সাবেক সভাপতি ও পৌর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিক এনায়েতুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী, ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ আল গালিবসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্রশিবিরের কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

1.02K View ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬
সরিষাবাড়ীতে ধানের শীষের পথসভা জনসমাবেশে পরিণত | শামীম তালুকদার

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) ১৪১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের নির্বাচনী পথসভা সরিষাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরিষাবাড়ী ও আওনা ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পথসভা একপর্যায়ে বৃহৎ জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে শামীম তালুকদার বলেন, নির্বাচিত হলে ফ্যামেলী কার্ড, কৃষিকার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতাকর্মীরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক দিন, কমেন্ট করুন এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

1.11K View ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬
ভূঞাপুরে মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা | শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ইমাম আলী বাইতুল কুরআন বালক বালিকা মাদ্রাসা (মাদারিয়া)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে মাদ্রাসার বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রীরা আলাদা আলাদাভাবে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম আজাদ, মাদ্রাসার পরিচালক শেখ মাহদী হাসান শিবলী, প্রধান শিক্ষক মুফতি রবিউল ইসলামসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কোরআনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে এই আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন এবং এমন আরও শিক্ষামূলক ও স্থানীয় খবর পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

701 View ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
টাঙ্গাইল-জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু | সত্য প্রকাশে অবিচল

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল টাঙ্গাইল-জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাব। ‘সত্য প্রকাশে অবিচল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত এই নতুন সাংবাদিক সংগঠন টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে সত্যনিষ্ঠ, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করবে। প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মশিউর রহমান সজিব-এর দিকনির্দেশনায় সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম আব্দুর রাজ্জাক। নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণ ও সংগঠনের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

746 View ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের ধানের শীষ নির্বাচনী পথসভা | পিংনা, জামালপুর

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ নং পিংনা ইউনিয়নের বড়ইপটল নূরানী মাদরাসা প্রাঙ্গণে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম, জামালপুর জেলা বিএনপির তিনবারের সভাপতি এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে উপস্থিত ছিলেন। পথসভাটি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে বিশাল জনসভায় পরিণত হয়। ▶ এই ভিডিওতে দেখুন ধানের শীষের নির্বাচনী পথসভা এবং জনসমাগমের দৃশ্য। #জামালপুর #পিংনা #ধানের_শীষ #ফরিদুল_শামিম #নির্বাচন #BNP #নির্বাচনী_পথসভা #জনসভা #BangladeshPolitics #Election2026

756 View জানুয়ারী ৩০, ২০২৬
খালেদা জিয়ার স্মরণে সরিষাবাড়ীতে গণভোজ ও দোয়া মাহফিল

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোজ ও দোয়া মাহফিল। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করা এই প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে দল-মত নির্বিশেষে আওনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়ায় শরিক হন। পুরো এলাকাজুড়ে ছিল নীরবতা ও শোকের আবহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সদস্য লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আপসহীন নেত্রী। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ৪ নম্বর আওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের একজন সাহসী নারী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। গণভোজের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় আলেমদের মাধ্যমে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ধৈর্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে প্রয়াত নেত্রীর জন্য দোয়া করেন। সব মিলিয়ে আওনা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এই গণভোজ ও দোয়া মাহফিল ছিল এক শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক স্মরণানুষ্ঠান।

838 View জানুয়ারী ৫, ২০২৬
মুফতি আবদুল মালেক সাহেবের ইমামতিতে শেষ হলো বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাযা

মুফতি আবদুল মালেক সাহেবের ইমামতিতে শেষ হলো বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাযা

1.45K View ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
সুনামগঞ্জে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র দাখিল | সুনামগঞ্জ ৪ ও ৫ আসন

​আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সুনামগঞ্জ-৪(সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) এবং সুনামগঞ্জ-৫( ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে দলীয় ও সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত দুইজন প্রার্থী।  আজ রোববার  দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার নিকট তারা এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ​মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা হলেন সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল এবং সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম। ​মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে সুনামগঞ্জ-৪ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ভোটাররা লাঙ্গল প্রতীকে বিপুল ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করবেন। উল্লেখ্য আজকে পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার মোট ৫ টি আসনে বিএনপি,জামায়াত, স্বতন্ত্র এবং  জাতীয়পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ​অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল ও মো. জাহাঙ্গীর আলম তাদের বক্তব্যে আরও বলেন “জাতীয় পার্টি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে। আমরা নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পল্লীবন্ধু এরশাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, যা কেবল লাঙ্গল প্রতীকের মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখবে যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ​মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জেলা জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে প্রস্তুত। ​সুনামগঞ্জের এই দুটি আসনেই জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

1.40K View ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
নেত্রকোনা-১ আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদক কারবারি ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্টার: আল আমিন হাওলাদার, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি।

665 View ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
সোনামুই উত্তরপাড়ায় নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন | উদ্বোধন করলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু

টাঙ্গাইলের সোনামুই উত্তরপাড়া এলাকায় নবনির্মিত জামে মসজিদের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। এই ভিডিওতে দেখুন উদ্বোধনের সম্পূর্ণ মুহূর্ত, বক্তব্য এবং এলাকাবাসীর অনুভূতি। নতুন এই মসজিদটি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন।

825 View ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল উদযাপন, দুর্গাপুরে বিশাল জনসমাগম

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনে বিএনপির বিশাল স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গাপুর শহর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শহরকে উৎসবমুখর করে তোলে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, উপস্থিত ছিলেন আতাউর রহমান ফরিদ, হারেজ গনি, রিয়াজুল করিম, এস এম কাইয়ুম, আবু সিদ্দিক রুক্কু এবং আল ইমরান সম্রাট গনি। দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হাজারো জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মিছিলজুড়ে ভেসে ওঠে স্লোগান: পরিবর্তনের ডাক, ধানের শীষের পক্ষ!

763 View ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
শরীফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ | পল্টনে হামলা, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে। সিসিটিভি ফুটেজ।

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। ঘটনা ঘটে শুক্রবার জুমার নামাজের পর, রাজধানীর পল্টন এলাকায়। দুর্বৃত্তরা সরাসরি তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে হাদী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, "যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।" পরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইনকিলাব মঞ্চের সমন্বয়ক এবং জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী, তিনি জানান, হাদীর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বাংলাভিশনকে জানান, হাদী বিজয় নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে হামলার সময় হাদী কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং দুর্বৃত্তরা কিভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

946 View ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
গোপালপুরে নূরানী স্কলারশিপ বৃত্তি পরীক্ষা: ২৫ উপজেলার ৮ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

টাঙ্গাইল, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ—এই চার জেলার ২৫টি উপজেলা থেকে মোট ৮ হাজার শিশু শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে এবারের নূরানী স্কলারশিপ বৃত্তি পরীক্ষায়। টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও ধাপে ধাপে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বৃত্তি পরীক্ষা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) গোপালপুরের দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৭০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এর আগে ভূঞাপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বৃত্তি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। হেরাল মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, “টাঙ্গাইল জেলা নূরানী  শিক্ষক ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ বৃত্তি পরীক্ষা নূরানী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বয়ে আনবে। এটি বাচ্চাদের পড়ার গতি ও মনোযোগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।” গোহাটা মসজিদের ইমাম ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা মুফতি নাজির সিদ্দিকী বলেন, “নূরানী শিক্ষা শিশুদের প্রাথমিক ও ভিত্তিমূলক শিক্ষা। আরবি হরফ ও বাংলা বর্ণের সাথে পরিচয়ের প্রথম ধাপ এটি। তাই শিশুদের চরিত্র গঠন ও নৈতিক শিক্ষায় এর ভূমিকা অনন্য।” ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন উপজেলার জিম্মাদাররাও পরীক্ষা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঘাটাইল উপজেলা জিম্মাদার মুফতি আব্দুর রশিদ বলেন, “এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা শিশুদের মাঝে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে এবং তাদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায়।” মাওলানা জুবায়ের বলেন, “শিশুরা সারা বছর যে পরিশ্রম করে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন হয়। অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ে।” মধুপুর উপজেলা জিম্মাদার মাওলানা ইবরাহিম খলিল জানান, “নূরানী শিক্ষার প্রসারের জন্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ছোট বাচ্চাদের শিক্ষাজীবনে এটি বড় উৎসাহের সৃষ্টি করে।” গোপালপুর উপজেলা জিম্মাদার মাওলানা নোমান আহমেদ বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ছিল প্রশংসনীয়।” অভিভাবকরা জানান, নূরানী স্কলারশিপ পরীক্ষা শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায় এবং সারা বছরের শেখার মূল্যায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাদরাসার শিক্ষকরা বলেন, “এটি শুধু বৃত্তি পরীক্ষা নয়, বরং শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একই সাথে ধর্মীয় শিক্ষায় শিশুদের আগ্রহ বাড়ে।” টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী জানান, “২০১৭ সাল থেকে এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। উত্তীর্ণ মেধাবীদের বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ, সম্মাননা ক্রেস্টসহ নানা পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।” সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, নূরানী শিক্ষার বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের শিক্ষাজীবনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং আলোর পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে

0 View নভেম্বর ৩০, ২০২৫
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতিশ্রুতি: কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে | নেত্রকোনায় কৃষক সমাবেশ

নেত্রকোনা–১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঘোষণা দিয়েছেন—তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষিতে আসছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠে হাজারো কৃষকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তম কৃষিকেন্দ্রিক সমাবেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, আর কৃষকের সমস্যা সমাধানই হবে বিএনপির প্রথম কাজ। আধুনিক সেচব্যবস্থা, খাল খনন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ কৃষকের জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় উদ্যোগের ঘোষণা দেন তিনি। সমাবেশে কৃষি বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন বীজমান উন্নয়ন, মাটির স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, বাজারব্যবস্থা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির দিকনির্দেশনা। দুর্গাপুর–কলমাকান্দার কৃষিকে ‘এই এলাকার মানুষের জীবনরেখা’ উল্লেখ করে কৃষকদের উন্নয়নে বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

621 View নভেম্বর ৩০, ২০২৫
দুর্গাপুরে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বিএনপির উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই থেকে আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ ইমাম হাসান আবুঁচানের নেতৃত্বে প্রায় একশ মোটরসাইকেল নিয়ে বিশাল আনন্দ মিছিল বের হয়। পরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে খণ্ড খণ্ড মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম হাসান আবুঁচান বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর শেখ হাসিনা গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েছে। আজকের রায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জয় প্রমাণ করেছে। তাই আমরা আনন্দ মিছিল করেছি এবং মিষ্টি বিতরণ করেছি। একই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, যিনি পরে রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এবং নিজের দায় স্বীকার করেন, তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

722 View নভেম্বর ১৮, ২০২৫
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমানুষের অধিকার ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংগঠনের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি জননেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, "গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প নেই। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে।" সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল রেজা মামুন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়াল মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম বাবলু, জননেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ আব্দুর নুর, মাহমুদুল হাসান পিপলু ও বন্নিশিখা জামালী। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সংগঠনের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। সভায় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য পর্ব শেষে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

719 View নভেম্বর ১৮, ২০২৫
দুর্গাপুরে কায়সার কামালের বিশাল মিছিল, গণসংযোগ, ভোট প্রার্থনা

নেত্রকোণা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষে দুর্গাপুরে বিশাল মিছিল ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝানজাইল এলাকায় উপজেলা ও ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম মুজিবুর রহমান মুজিব ৩১ দফা জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরেন ও ভোট প্রার্থনা করেন।

685 View নভেম্বর ১৬, ২০২৫
কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়নে আজ ছিল এক উৎসবমুখর রাজনৈতিক সমাবেশ।

শনিবার ১৫ নভেম্বর বিকেলে সল্লা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় দেখা যায় কর্মী–সমর্থকদের ব্যাপক সমাগম। ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় পতাকা, ব্যানার আর স্লোগানে মুখর হয়ে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে এসে জড়ো হন। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জননেতা বেনজীর আহমেদ টিটো। তার বক্তব্যে তিনি বলেন— বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, অধিকার আর গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামী শক্তি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে যে আন্দোলন চলছে, সে আন্দোলনের সাহস আসে তৃণমূল থেকে। তিনি বলেন, যেখানে যাই না কেন, কালিহাতীর মানুষের ভালোবাসা তাকে টেনে আনে। তার ভাষায়, কালিহাতী তার প্রাণ—এই এলাকার মানুষের শক্তিই তাকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। তিনি আরো বলেন— যাই বাধা আসুক, জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম থেকে বিএনপি পিছিয়ে যাবে না। চাপ, ভয়, দমন-পীড়ন— কিছুই তাদের পথ থেকে সরাতে পারবে না। তৃণমূলের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি, তাই সবাইকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম শোভা, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম— ভিপি রফিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মজনু মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদুর রহমান বালা ও শামীম প্রামাণিক, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান লেলিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হাসমত আলী রেজা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াদুদ তৌহিদ, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারন অর রশিদ মিনু, পাইকরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার পলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আতোয়ার রহমান তালুকদার লিটনসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী। বক্তারা বলেন— দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে তৃণমূল থেকেই শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বর্ধিত সভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সল্লা ইউনিয়নের এই বর্ধিত সভা ভবিষ্যতের আন্দোলন, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূলকে আরও সুসংহত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

870 View নভেম্বর ১৫, ২০২৫
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

জাতীয়

সরিষাবাড়ীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মুক্তধ্বনি ডেক্স এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?