সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন সিরাজগঞ্জ, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ – “সেবার ব্রতে চাকরি” প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের দ্বিতীয় দিন আজ সিরাজগঞ্জে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো।সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাঠে ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এর নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম দিনের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য দ্বিতীয় দিনের ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০০ মিটার দৌড়, পুশআপ, লং জাম্প এবং হাই জাম্প পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ এক মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল প্রার্থীর সহযোগিতা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ডের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক মনোনীত পুলিশ সুপার, সিআইডি ঢাকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), বগুড়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্),পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ সংক্রান্ত ব্রিফিং প্যারেড সিরাজগঞ্জ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং সেবার ব্রতে চাকরি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্সে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ সংক্রান্ত ব্রিফিং প্যারেড।ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম (বার) মহোদয়। পুলিশ সুপার প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নিয়োগ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্সদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করেন।তিনি নির্দেশ দেন যোগ্য প্রার্থীকে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাই করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল পুলিশ সদস্য সততা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সিরাজগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ নিয়োগ কার্যক্রমে নিয়োজিত সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স। অনুষ্ঠানটি প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ফোর্সদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলায় রাজশাহী রেঞ্জের অপরাধ পর্যালোচনা সভা – মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত ১৩ মার্চ ২০২৬ খ্রি রাজশাহী রেঞ্জের মার্চ-২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা আজ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় রাজশাহী রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার) পিএইচডি মহোদয়ের সভাপতিত্বে রেঞ্জভুক্ত সকল জেলার পুলিশ সুপারগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মার্চ মাসের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তি এবং চলমান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হয়।এ সময় ডিআইজি মহোদয় অপরাধ দমনে পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র টাঙ্গাইল জেলা সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের আয়োজনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিফিংটি জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল। পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সফরস্থলসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তিনি আরও বলেন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাদা পোশাকে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া ডিউটিতে নিয়োজিত সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) টাঙ্গাইলসহ সকল সার্কেল কর্মকর্তাগণ এবং ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ।পুলিশ সুপার মহোদয় নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী’র সফরের সময় জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), সিরাজগঞ্জ-এঁর বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২৬) জেলা পুলিশ সুপারেরকার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আসাদুজ্জামান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারবৃন্দ এবং ডিএসবি’র ডিআইও-১ ও ডিআইও-২। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা জনাব মাহবুবুর রহমানের কর্মদক্ষতা সততা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কাজ করার নানা স্মৃতিচারণ করেন সহকর্মীরা যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।উল্লেখ্য, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম-সেবা সিরাজগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালনকালে সততা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি জানানো হয় আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কনস্টেবল আলাউদ্দিন ড্রিলশেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। কল্যাণ সভায় জেলার সকল থানা, কোর্ট, ফাঁড়ি, ক্যাম্প, ট্রাফিক ও পুলিশ লাইন্সের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে অর্থ পুরস্কার, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।সভায় পুলিশ সুপার বলেন, জেলার পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি পুলিশের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।কল্যাণ সভা শেষে উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান শাকিলের পদোন্নতিজনিত বিদায় উপলক্ষে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আসাদুজ্জামান।পরবর্তীতে পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রুজুকৃত মামলাসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং তদন্তের মানোন্নয়ন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ সার্বিক পুলিশি সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ, সহকারী পুলিশ সুপারগণ এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ ইউনিট ইনচার্জবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে জোরালো নির্দেশনাটাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্চ ২০২৬ মাসের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনাসভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, স্পর্শকাতর মামলার অগ্রগতি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।এছাড়াও সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ দমনে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। জনবান্ধব পুলিশিংয়ে নির্দেশনাসভায় পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,দেশপ্রেম পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা দ্রুত তামিলের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। উপস্থিত ছিলেনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রবিউল ইসলামঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আদিবুল ইসলামঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজএছাড়াও জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সভা ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিবের সাথে টাংগাইল জেলা কমিটির মতবিনিময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব এর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ শে মার্চ জেলা কমিটি এলেঙ্গা অফিসে এ আয়োজন করে। জাতীয়সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির আহবায়ক মাছুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মোঃ আলমগীর গনি।প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতি নির্ধারক পরিষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মনজুর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উপদেষ্টা ও আমেরিকার প্রবাসী নাসিম এম খান রুনু, এলেঙ্গা ইউনিটের উপদেষ্টা ও প্রাক্তন এএসপি আখতারুজ্জামান বাবুল, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম হোসাইন আহমেদ,তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো: নুর নবী সোহেল। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলাইউনিটের যুগ্ন আহবায়ক বোরহান তালুকদার, শহিদুল ইসলাম খান রুমি, কালিহাতি উপজেলা ইউনিটের সভাপতি সৈয়দ মহসিন হাবিব সবুজ, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সভাপতি ইয়ামিন হাসান, মধুপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি আব্দুল হামিদ, মির্জাপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি মিজানুর রহমান, সখিপুর উপজেলা ইউনিটির আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন, বাসাইল উপজেলা ইউনিটের আব্বায়কশহিদুল ইসলাম,এলেঙ্গা ইউনিটের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, নাগরপুর ইউনিটের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, দেলদুয়ার উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান খান, কালিহাতী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার সরকার, মধুপুর উপজেলা ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, ভূয়াপুর উপজেলা ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার, মির্জাপুর উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন,গোপালপুর উপজেলা ইউনিটের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন খান, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটির আহবায় ইমাম হাসান সোহান,এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ।
জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) বেলা ১২:০০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের ফেব্রুয়ারি/২০২৬ খ্রি. মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন। সভায় আলোচনা করা হয় পূর্ববর্তী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন, জেলার খাতভিত্তিক এবং থানা ভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান, থানা ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক রুজুকৃত মামলা সংক্রান্ত অগ্রগতি, অপরাধ পরিসংখ্যান, মামলা নিষ্পত্তি, মুলতবী মামলার অবস্থা, অপমৃত্যু মামলার পরিসংখ্যান, মুলতবী গ্রেফতারী পরোয়ানা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম এবং জেলার গোয়েন্দা কার্যক্রম। এছাড়া স্পর্শকাতর মামলা ও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়।পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিকভাবে রক্ষা করার জন্য সকল কর্মকর্তাকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোরশেদা খাতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা। এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি, ডিআইও, তদন্ত কর্মকর্তা ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জবৃন্দ ট্রাফিক এবং কোর্ট ইন্সপেক্টররা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়।
টাঙ্গাইলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।১৭ ই মার্চ বিকেল পাঁচটার সময় জেলা ইউনিটের অস্থায়ী কার্যালয় এ আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা দোয়া ও ইফতার মাহফিল।জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটেরআহ্বায়ক মাছুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উপদেষ্টা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম এম খান রুনু। অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা ইউনিটের যুগ্ন আহবায়ক বোরহান তালুকদার,আবুল কালাম সিদ্দিকী নিপু, খায়রুজ্জামান মিলটন,মাসুম খান শহিদুল ইসলাম খান রুমি আবু তাহের, একদিন হোসেন,কামাল হোসেন মাহিরুল ইসলাম, শোয়েব হাসান, এ এম ইকবাল সাইদুর রহমান পলাশ কেরামত আলী, ফজলুল হক,মির্জাপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, নাগরপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বাবু দেলদুয়ার উপজেলা ইউনিটের সভাপতি বাবলু মিয়া সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান কালিহাতী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি সৈয়দ মহসিন হাবিব সবুজ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার সরকার ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সভাপতি ইয়ামিন হাসান সাধারণ সম্পাদকের রিপন মিয়া, মধুপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক,ভয়াপুর উপজেলা ইউনিটের সভাপতি আল-আমিন শোভন,সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার গোপালপুর উপজেলা ইউনিটের আহ্বায়ক ইকবাল খান, সদস্যসঢিব বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ধনবাড়ি উপজেলা ইউনিটের আহ্বায়ক কবি সোহান হাসান বাসাইল উপজেলা ইউনিটের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, সখিপুর উপজেলা ইউনিটের আহ্বায়ক আলতাব হোসেন, এলেঙ্গা আঞ্চলিক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ। উল্লেখ্য যে,ইফতারের পূর্বে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান,সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা ইউনিটের সাবেক সভাপতি কবি আক্তার হানিফ সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক দিনা,মধুপুর উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বাবুলরানা,ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জীবন মাহমুদ শক্তি কালিহাতী উপজেলা ইউনিটের সাবেক সভাপতি স্বপন সিদ্দিকীসহ যে সকল সদস্য প্রয়াত হয়েছেন তাদের সকলের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর টাঙ্গাইল আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ১৫ ই মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টাঙ্গাইল জেলায় আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা।সভায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যানবাহন চলাচল অনুষ্ঠানস্থলের ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল। এছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীরপ্রতিনিধিবৃন্দরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্সে কিট প্যারেড: শৃঙ্খলা পেশাদারিত্ব ও জনসেবায় জোর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে অফিসার ওফোর্সদের অংশগ্রহণে কিট প্যারেড। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)টাঙ্গাইল। প্যারেড চলাকালে তিনি সদস্যদের কিট পোশাক-পরিচ্ছদ সরঞ্জামাদি ও সামগ্রিক শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেন।প্যারেড শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন একজন পুলিশ সদস্যের পেশাদারিত্ব পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেসরুলস মেনে চলা বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।পাশাপাশি তিনি সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন থাকার এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভদ্র ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।তিনি আরও উল্লেখ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কিট প্যারেড ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ের ওপর আরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিতছিলেন।পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরাও প্যারেডে অংশ নেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের অনুকূলে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে জেলা পুলিশ টাঙ্গাইলের আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির মহোদয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী শহীদ পুলিশ সদস্যদের উত্তরাধিকারীদের হাতে তুলে দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।এ সময় তিনি কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা।
সখীপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে সখীপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আহমেদ আযম খান।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ মহড়া ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মির্জাপুরে শিল্প মালিকদের সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ০৯ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন কল-কারখানার মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ সভার আয়োজন করা হয়।মির্জাপুর থানা টাঙ্গাইলের উদ্যোগে থানা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এতে করে শ্রমিকদের মাঝে কোনো ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হবে না এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। তিনি শিল্প মালিকদের শ্রমিকদের প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) টাঙ্গাইল জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়াও মির্জাপুর থানা এলাকার বিভিন্ন তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য কল-কারখানার মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।মতবিনিময় সভায় ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ কারখানায় নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্প এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও শিল্প মালিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আমাদের লক্ষ্য— প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে এবং আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সের মধ্যে রাখার নীতি এই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।শনিবার (০৭ মার্চ) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহায় ব্যুরো ইনস্টিটিউট কনফারেন্স রুমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির আয়োজনে বিভাগীয় সম্মেলন ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি বলেন“সরকারের যাত্রা যদিও নতুন, তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় দেশের অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়লেও সোনালী ব্যাংক তার অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখতে পেরেছে। এর পেছনে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার বড় ভূমিকা রয়েছে।”সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই দেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি উল্লেখ করেন সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে এবং সেই আস্থার মর্যাদা রেখে সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অফিস করা ও সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা দেশের মানুষের কাছে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।সোনালী ব্যাংকের বিভাগীয় সম্মেলনে জামালপুর জেনারেল ম্যানেজার অফিসের জেনারেল ম্যানেজার গোপাল চন্দ্র গোলদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো.শওকত আলী খান। ডেপুটি ম্যানেজার ইকবাল হোসেন ও রফিকুল ইসলামও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের ১০১টি শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ০২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আজ সোমবার মিলব্যারাক পুলিশ লাইন্সে এক বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান। সভায় পুলিশ সুপার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের ব্যক্তিগত পারিবারিক ও পেশাগত নানা সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বলেন সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো নির্ভয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কল্যাণমূলক বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে শৃঙ্খলা দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে তিনি উপস্থিত সদস্যদের স্বাস্থ্য সচেতন থাকার পরামর্শ দেন এবং দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার প্রতি যত্নবান হওয়ার তাগিদ দেন।সভায় সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ খায়রুল আলম। এ সময় ঢাকা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
ইউনিফর্ম বিষয়ে মতামত প্রদান সংক্রান্ত বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশ টাঙ্গাইলের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে ইউনিফর্ম বিষয়ে মতামত প্রদান সংক্রান্ত এক বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত কার্যক্রমে আরও দক্ষতা স্বাচ্ছন্দ্য ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।সভায় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা অংশগ্রহণ করে বর্তমান ইউনিফর্মের গুণগত মান কাপড়ের মানদণ্ড আবহাওয়াজনিত উপযোগিতা ব্যবহারিক সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরামদায়ক, টেকসই ও আবহাওয়া উপযোগী ইউনিফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। তিনি বক্তব্যে বলেন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও পেশাগত মানোন্নয়ন জেলা পুলিশের অগ্রাধিকার। ইউনিফর্ম শুধুমাত্র পোশাক নয়, এটি শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক। তাই সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাপ্ত মতামত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম-সেবা টাঙ্গাইল জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তাগণসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।সভা শেষে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতবিনিময় সভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয়ের সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় কৃষি মৎস্য প্রাণিসম্পদ খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থল ছিল টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ।সভায় উপজেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে কৃষক জেলে ও খামারিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি বলেন তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষিকে লাভজনক ও আধুনিক খাতে রূপান্তর করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাশাপাশি কৃষকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সরকারি সহায়তা সঠিক উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা জানান এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।উপজেলা পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টাঙ্গাইল জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইল জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শরীফা হক।সভায় জেলার সার্বিক সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে করণীয় পদক্ষেপ যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জনাব শরীফা হক বলেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।সভায় পুলিশ বিভাগ বিআরটিএ সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফায়ার সার্ভিস পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভা শেষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি তারিখে মিডিয়া সেল জেলা পুলিশ কিশোরগঞ্জ পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।অদ্য ২৪/০২/২০২৬ খ্রি.বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ড. এস. এম ফরহাদ হোসেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল)সহ কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সকল সিনিয়র কর্মকর্তা।সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন রমজান মাস আত্মশুদ্ধি সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো পুলিশ বাহিনীর নৈতিক দায়িত্বের অংশ। তিনি এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা পুলিশের এ উদ্যোগকে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না; মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত, সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল। তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা। যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য। ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।