আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় দেশের প্রস্তাবে ভেটো, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্যোগ ব্যর্থ
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব ভেস্তে দিল রাশিয়া–চীনের ভেটো

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত এ প্রস্তাবটি পর্যাপ্ত সমর্থন পেলেও স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে শেষ পর্যন্ত তা পাস হয়নি। খবর বিবিসির। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি কার্যকর হতে পারেনি। জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবটির খসড়া একাধিকবার সংশোধন করা হয়। প্রথমে এটি ‘চ্যাপ্টার সেভেন’-এর আওতায় ছিল, যেখানে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সেই অংশটি বাদ দেওয়া হয়। এমনকি ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ’-সংক্রান্ত ধারাও চূড়ান্ত প্রস্তাব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবে শুধু প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করার কথা রাখা হয়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি। ভোটের আগে তিনি বলেন, এই প্রস্তাব নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করছে না; বরং এটি ইরানের ধারাবাহিক বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বন্ধ করা জরুরি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়ার যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে পরিষদের যেকোনো প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননে আংশিক পিছু হটেছে ইসরায়েলি বাহিনী, সংঘাত আরও তীব্র

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই কিছু কৌশলগত অবস্থান থেকে পিছু হটেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার অঞ্চল থেকে প্রতিবেদক ওবায়দা হিত্তো জানান, সোমবার বিকেলজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী বিয়াদা শহরের প্রান্তসীমা পর্যন্ত অগ্রসর হলেও, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তারা শুধু লেবাননের ভেতরেই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিন্ট জেবেইল দখলের চেষ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। গত কয়েক দিনে তারা যে কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ করেছিল, সেখান থেকে আংশিকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইসরায়েল নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা যেন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে, অন্যথায় চলমান হামলার ঝুঁকি বহন করতে হবে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি “বাফার জোন” তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই বাফার জোনের পরিসর কতটা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হরমুজ প্রণালি অচল উৎপাদন কমিয়েছে ইরাক বিকল্প রুট খুঁজছে দেশগুলো ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় সূচকেই ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি দাম বৃদ্ধি পায়।বার্তাসংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে—যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।ইরানে হামলা অবকাঠামোতে ক্ষতি মঙ্গলবার Israel ও United States-এর বাহিনী Iran-এর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্ব তেল উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়; ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। উৎপাদন কমিয়েছে ইরাক কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায় পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক Iraq রফতানি রুট বন্ধ ও মজুদের সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে যা দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন আরও কমে ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসতে পারে।হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর টানা চতুর্থ দিনের মতো প্রণালিটি কার্যত অচল রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে সামরিক এসকর্ট দিতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প রুটের চেষ্টা সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি Saudi Aramco হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে কিছু রফতানি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে।অন্যদিকে American Petroleum Institute-এর তথ্য অনুযায়ী গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। সরকারি তথ্য প্রকাশের পর বাজারের পরবর্তী গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকিইরান চাইলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেবে পিয়ংইয়ং

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ইরান চাইলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেবে পিয়ংইয়ং — কিম জং উনের বিস্ফোরক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong Un এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন ইরান যদি অনুরোধ করে তাহলে আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবো। একটি ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলকে মুছে ফেলার জন্য যথেষ্ট।পিয়ংইয়ংয়ের এই বক্তব্য সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের প্রতি, যা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মুখে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এ অবস্থান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu একাধিকবার ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে তেহরানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছে।এমন প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার ইঙ্গিত আঞ্চলিক সংঘাতকে বহুজাতিক রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব উত্তর কোরিয়ার এই বক্তব্যকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিশেষজ্ঞদের মতে পিয়ংইয়ং যদি বাস্তবেই তেহরানকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বা অস্ত্র সরবরাহ করে তবে তা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, “একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই ইসরায়েলকে মুছে ফেলা সম্ভব”—এমন মন্তব্য বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক বার্তাই বেশি বহন করে। ইসরায়েল নিজেও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতার জন্য পরিচিত। ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন সমীকরণ উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মধ্যে অতীতেও সামরিক সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরস্পর সংযুক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশ্ব সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে—এ বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক হুঁশিয়ারি, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের পূর্বাভাস। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি?আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় তেহরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পদ সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনি-এর নাম ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর পর উত্তরসূরি হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনির নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এলেও এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।তেহরানের রাজনৈতিক অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী সংস্থা Assembly of Experts নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বৈঠক করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।অস্থায়ী নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্যবিশ্লেষকদের মতে সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে দেশ পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো সক্রিয় থাকে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।মোজতবা খামেনি কে? মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত এই আলেম সরাসরি কোনো নির্বাচিত পদে না থাকলেও দেশটির রক্ষণশীল মহলে তার প্রভাবের কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কাঠামোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ামধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী দেশগুলো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নতুন নেতৃত্ব এলে পারমাণবিক চুক্তি আঞ্চলিক কূটনীতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নীতিগত অবস্থান দেখা যেতে পারে।আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাতবে সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—সরকারিভাবে কি মোজতবা খামেনিকেই সুপ্রিম লিডার ঘোষণা করা হবে? নাকি অন্য কোনো আলেমের নাম সামনে আসবে? তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ও ধর্মীয় পরিষদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; নতুন যে কোনো সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
এক ঘণ্টায় আট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

এক ঘণ্টায় আট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র হাওয়াই-টেক্সাসে বেশি অনুভূত কম্পন বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই এক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে United States। দেশটির অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্য ও একটি সংলগ্ন অঞ্চলে পৃথক আটটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল নিম্নস্তরের, তবুও হঠাৎ ঘনঘন কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ অঙ্গরাজ্য Hawaii-এর পাহালা ও নালেহু এলাকায় যথাক্রমে ২.০ ও ২.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে নালেহুর কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। আগ্নেয়গিরি অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় হাওয়াইয়ে এ ধরনের মৃদু কম্পন প্রায়ই ঘটে থাকে।একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য Texas-এর পেকোস মেন্টোন ও ফোর্ট স্টকটন এলাকায় ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ফোর্ট স্টকটনের ভূমিকম্পটি ছিল মাত্র ৪ কিলোমিটার গভীরে, যা অগভীর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বেশি অনুভূত হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করে।এ তালিকায় বাদ যায়নি ভূমিকম্পপ্রবণ অঙ্গরাজ্য Alaska। রাজ্যের বিগ লেক ও উইলো অঞ্চলে যথাক্রমে ২.২ ও ১.৬ মাত্রার দুটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের মার্কিন ভূখণ্ড Puerto Rico-এর গুয়ানিকা এলাকাতেও ১.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন রিখটার স্কেলে ২.৫-এর নিচের ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং অনেক সময় মানুষ তা অনুভবও করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত ভৌগোলিক অবস্থান ও বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে থাকে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কম্পনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের আহ্বানে ইরানে হামলা?, আগাম বৈঠক শনাক্তের পর খামেনি নিহত

ওয়াই নেট নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছিল। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানের একটি সুরক্ষিত স্থানে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে আলী লারিজানি ও আলী শামখানি উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, শনিবার ভোরের হামলায় শামখানি নিহত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে খামেনিও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। একটি মার্কিন সূত্র জানায়, বৈঠকটি মূলত সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালেই বৈঠক শুরুর তথ্য পেয়ে যায়। ফলে হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে তেহরানে খামেনির সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্স প্রথম দফার হামলার লক্ষ্য ছিল। ট্রাম্প বলেন, উন্নত নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার কারণে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে যেতে পারেননি। ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দেন। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে যুবরাজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেন যে সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল এক ধরনের দ্বৈত কৌশল—একদিকে প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতা, অন্যদিকে আড়ালে কৌশলগত চাপ। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হামলার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কট্টরপন্থী অংশ থেকে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই এই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন সবার নজর—ইরানের ভেতরে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।

মার্চ ১, ২০২৬ 0
মার্কিন-ইরান সংঘাত: আঞ্চলিক মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক সংঘাত কেবল এই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ সম্প্রতি এমন এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের পথ প্রশস্ত করবে। মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় আলী ভায়েজ উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্ররা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে—তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন: "মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখনও নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিমান প্রতিরক্ষা অভিযানে সক্রিয়। সংঘাত যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তবে ইরানের পক্ষে এই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকা কঠিন হবে।" ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ ভায়েজের মতে, ইরানের হাতে থাকা স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাদের নৌবাহিনী এমন সক্ষমতা রাখে যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সেখানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ঠিক এই কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করে আসছে। ৯২ মিলিয়নের 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' হওয়ার ঝুঁকি ভায়েজ যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি আমেরিকা এমন কোনো যুদ্ধ শুরু করে যা শেষ পর্যন্ত ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে, তবে তার ফল হবে আরও ভয়াবহ। এর ফলে যা হতে পারে: বিশাল শরণার্থী সংকট: ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের ইরান একটি 'ব্যর্থ রাষ্ট্রে' পরিণত হতে পারে। মৌলবাদের বিস্তার: অস্থিতিশীলতার সুযোগে ওই অঞ্চলে চরমপন্থা ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা: এই অস্থিতিশীলতা সরাসরি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলী ভায়েজের এই বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দেয় যে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ মানেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া।

জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে KOICA–কুমুদিনীর যৌথ উদ্যোগে ডায়াবেটিস–হাইপারটেনশন প্রকল্প পর্যালোচনা সভা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে KOICA–কুমুদিনীর যৌথ উদ্যোগে ডায়াবেটিস–হাইপারটেনশন প্রকল্প পর্যালোচনা সভা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কর্মক্ষমতা তুলে ধরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA), গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিডিসি’র সাবেক লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে অ-সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত বাড়ছে। এমন সময়ে মাঠপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুরের এই প্রকল্প অন্য জেলাগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) মির্জাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিয়মিত ফলোআপ এবং রোগীদের জীবনযাপনগত পরিবর্তনে সহায়তা নিয়ে যে প্রকল্প চালাচ্ছে—সভায় এর কার্যক্রম, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তৃতা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. আব্বাস ইবনে করিম, গ্লোবাল কেয়ার বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. সেওনাঙ লিম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার, ডা. পার্ক, ডা. নিপা কর্মকার, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ফিল্ড ম্যানেজার লিপুস মৃসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, মির্জাপুরে দীর্ঘমেয়াদি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সভায় ভবিষ্যতে ইউনিয়ন-স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, হেলথ ক্যাম্প বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে মির্জাপুরসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫ 0
দিল্লির পর এবার জম্মু–কাশ্মীরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৯

জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে নওগ্রাম পুলিশ স্টেশনে জব্দ করা বিস্ফোরকের বিশাল স্তুপ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন পুলিশ ও ফরেন্সিক কর্মীরা—তখনই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহতদের সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতাল এবং শেরি কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। সম্প্রতি নওগ্রাম এলাকায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর ঘটনার তদন্তে যে নেটওয়ার্ক ধরা পড়ে, সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিপুল বিস্ফোরক। এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের একজন আদিল আহমেদ রাথের—সিসিটিভিতে পোস্টার লাগাতে দেখা যায় তাকে। তার তথ্যের ভিত্তিতেই ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল ও শাহিন সাঈদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। এই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেই দিল্লির লালকেলার কাছে আই২০ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় তদন্তকারীরা। সেই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ২০ জনের বেশি। জাতীয় তদন্ত সংস্থার ধারণা, আতঙ্কে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভুলভাবে আইইডি তৈরি করেছিল, যার ফলেই দুই জায়গার বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো নেটওয়ার্ক পুনরায় পর্যালোচনা করছে তারা।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের গন্ধ? | সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় উত্তেজনা চরমে

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনেছে। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে টানাপোড়েন আরও তীব্র হচ্ছে। ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঘটে যাওয়া একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মুখর, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও অচল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা কেবল দুই দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে এটি একটি “ফুটন্ত পাত্রের” মতো বিস্ফোরিত হয়ে পড়বে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে আফগানিস্তানসহ পুরো অঞ্চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের জনগণ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাও চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদের পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ না হলে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে আগুন, মৃত্যু ১৩, আহত ৬

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়ে যায় এবং আশপাশের যানবাহনের কাচ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে একটি ভ্যানের দরজা উড়ে গেছে, একটি গাড়ি সম্পূর্ণ বিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে, এবং এক আহত ব্যক্তিকে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ২০টি দমকল যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ ছাড়া আহতদের দ্রুত লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী এনডিটিভিকে বলেন, “আমি আমার বাড়ির ছাদে ছিলাম, হঠাৎ বিশাল এক আগুনের গোলা দেখি। ভয়ঙ্কর শব্দ হয়, সঙ্গে সঙ্গে নিচে দৌড়ে যাই দেখতে কী হয়েছে। আমার বাড়ি গুরুদুয়ারার কাছেই।” লালকেল্লা, যা লাল কিলা নামেও পরিচিত, দিল্লির পুরনো এলাকায় অবস্থিত এবং এটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

নভেম্বর ১১, ২০২৫ 0
ভারতে “I ❤️ Muhammad” বলায় শত শত মুসলমানদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর শহরের সাইয়্যেদ নগর এলাকায় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে মুসলমানরা “I ❤️ Muhammad” লেখা একটি আলোকিত সাইনবোর্ড টানান। কিন্তু এ নিরীহ ধর্মীয় ভালোবাসার প্রকাশই এখন অনেক মুসলমানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাইনবোর্ডটি লাগানোর পরপরই স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু যুবক আপত্তি জানিয়ে পুলিশের সহায়তায় তা খুলে ফেলে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ নয়জন মুসলমানের বিরুদ্ধে মামলা করে, অভিযোগ করে তারা “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা” করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২৬ সেপ্টেম্বর বেরেলি শহরে মুসলিম সংগঠন ইত্তেহাদে মিল্লাত কাউন্সিলের (IMC) পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি না দিলে শুক্রবার নামাজের পর হাজারো মানুষ “I love Muhammad” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামে। প্রশাসনের দাবি—বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও মাওলানা তৌকির রাজা খানসহ বহুজনকে গ্রেপ্তার করে। শহরের ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ রাখা হয়। মাওলানা তৌকির রাজা খান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি দমন করা হচ্ছে। কিন্তু এই দমননীতি উল্টো প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।”   উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনাকে “সমাজে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র” বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের পরই অভিযুক্তদের একজনের মালিকানাধীন একটি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মুসলমানদের সম্পত্তি ধ্বংস এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘অঘোষিত শাস্তি’। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি এমন ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি ঘোষণা করলেও এ প্রক্রিয়া চলছে প্রকাশ্যে। সুমাইয়া রানা, বিখ্যাত কবি মুন্নাওয়ার রানা’র কন্যা, বলেন — “সরকার মুসলমানদের ভয় দেখাতে চায় যাতে তারা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কথা না বলে।” অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (APCR) জানিয়েছে, “I love Muhammad” ক্যাম্পেইন নিয়ে অন্তত ২২টি মামলা হয়েছে, যেখানে ২,৫০০ মুসলমানের নাম এসেছে এবং শুধু বেরেলিতেই ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। APCR সচিব নাদিম খান বলেন, “নবীপ্রেমকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এতে মুসলিম সমাজ মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।” অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য সিকিউআর ইলিয়াসি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে নবীপ্রেম প্রকাশ করা মুসলমানদের অধিকার। এটি কোনো অপরাধ নয়।” বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি অভিযোগ করেছে, সরকার গণতন্ত্রের নামে দমননীতি চালাচ্ছে। দলটির নেতা মাতাপ্রসাদ পাণ্ডে বলেন, “সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু আচরণে তা একনায়কতন্ত্র।” আইনজীবী জিয়া জিল্লানি জানান, “অধিকাংশ অভিযুক্ত দরিদ্র দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। তাদের পক্ষে এমন মামলা চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘৃণার রাজনীতি দরিদ্র মুসলমানদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, যাতে তারা সহজেই নিপীড়নের শিকার হয়।” সূত্র: আল জাজিরা |

অক্টোবর ২১, ২০২৫ 0
বাংলাদেশ–সৌদি–মালদ্বীপ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক বৈঠক।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম, দেশটিতে অবস্থিত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াহিয়া হাসান আলকাহতানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দুই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও মালদ্বীপের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্য, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনকূটনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ ও সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সততার প্রশংসা করে বলেন, “তারা বাংলাদেশের গর্ব।” জবাবে রাষ্ট্রদূত আলকাহতানি সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশের অবদান এবং প্রবাসীদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আলোচনার শেষে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও মজবুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন

অক্টোবর ১৬, ২০২৫ 0
নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে ট্রাম্পের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সোমবারই বিজয়ী নির্ধারণ করেছে নোবেল কমিটি

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই চূড়ান্ত হয়েছে সিদ্ধান্ত; বিশেষজ্ঞ বলছেন—“১০০ শতাংশ নিশ্চিত, ট্রাম্প এ বছরের বিজয়ী নন” ওসলো, নরওয়ে (এএফপি/টাইমস অব ইসরায়েল): নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবারই নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার আগেই বিজয়ীর নাম নির্ধারিত হয়েছে। নোবেল ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র এরিক আসহেইম বলেন, “নোবেল কমিটির শেষ সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়।” তিনি জানান, সাধারণত কমিটি পুরস্কার ঘোষণার আগে কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, “শেষ প্রস্তুতি সোমবার নেওয়া হয়েছে, তবে আমরা কখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা কখনও প্রকাশ করি না।” এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষিত হবে শুক্রবার দুপুর ১২টায় (ইসরায়েল সময়), যা বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়। এর ফলে স্পষ্ট যে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির (যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়) কোনো প্রভাব এই সিদ্ধান্তে পড়েনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, “আমার এই পুরস্কার না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অপমান হবে।” তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ ও বিরোধী নেতা ইয়ায়ার লাপিদ সবাই ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে নোবেল বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদ আসলে সভেন (Asle Sveen) বলেন, “এই বছর ট্রাম্প কোনোভাবেই পুরস্কার পাচ্ছেন না—আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।” তিনি বলেন, “ট্রাম্প অনেক আগেই নেতানিয়াহুকে গাজার ওপর অবাধ বোমাবর্ষণের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়েছেন।” এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩৩৮ জন ব্যক্তি ও সংস্থা মনোনীত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিল জাপানের ‘নিহোন হিদানকিয়ো’ (Nihon Hidankyo)—হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি সংগঠন, যারা পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে কাজ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। আরও ২৫১ জনকে গাজায় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, যা আজও চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান ও বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

অক্টোবর ১০, ২০২৫ 0
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিল পশ্চিমা শক্তিগুলো

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন এবং বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকার পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ধ্বংস করছে। এ স্বীকৃতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাওয়া শক্তিগুলোকে ক্ষমতায়ন করবে এবং হামাসকে নয়। একইসঙ্গে এটি সন্ত্রাসবাদের বৈধতা দিচ্ছে না বা কোনো পুরস্কারও নয়। কার্নি জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কানাডাকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন আয়োজন ও রাষ্ট্রকে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে। তবে এতে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একইসময়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, এ সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের নতুন গতি সঞ্চার করবে। এর সূচনা হবে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও আটককৃতদের মুক্তির মধ্য দিয়ে। তবে তাদেরও শর্ত, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এ ঘোষণার পরপরই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তির আশা পুনরুজ্জীবিত করবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ খুলে দেবে।” আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের মিত্র পশ্চিমা শক্তিগুলোর এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য অভিযোগ করছে, এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা। তবে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এর মধ্যে ফ্রান্সের নামও রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ 0
ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ১১ সেনা শহীদ, ৭৮ জন আহত: আইএসপিআর
ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ১১ সেনা শহীদ, ৭৮ জন আহত: আইএসপিআর

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ভারতের "অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় কাপুরুষোচিত হামলায়" পাকিস্তানের অন্তত ১১ জন সেনা শহীদ হয়েছেন এবং আরও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দপ্তর (ISPR)। এই সামরিক উত্তেজনা শুরু হয় যখন ভারত, জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগাম হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। ৬-৭ মে রাতে ভারত “অপারেশন সিনদূর”-এর আওতায় পাকিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায়, যেখানে অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পরবর্তীতে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলায় জড়িয়ে পড়ে যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আইএসপিআর এর বিবরণ অনুযায়ী: ভারতের এই আগ্রাসনে ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১৫ জন শিশু রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২১ জন। শহীদ সেনাদের পরিচয়: পাকিস্তান আর্মি থেকে: নায়েক আব্দুর রহমান ল্যান্স নায়েক দিলাওয়ার খান ল্যান্স নায়েক ইকরামুল্লাহ নায়েক ওয়াকার খালিদ সিপাহি মোহাম্মদ আদিল আকবর সিপাহি নিসার পাকিস্তান বিমানবাহিনী থেকে: স্কোয়াড্রন লিডার উসমান ইউসুফ চিফ টেকনিশিয়ান আওরঙ্গজেব সিনিয়র টেকনিশিয়ান নাজিব করপোরাল টেকনিশিয়ান ফারুক সিনিয়র টেকনিশিয়ান মোবাশির আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী “মারকা-ই-হক”-এর অধীনে “অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস”-এর মাধ্যমে নিখুঁত এবং প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "শহীদদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতির চেতনায় চিরস্মরণীয় সাহস, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা চ্যালেঞ্জ করার যে কোনো চেষ্টা ভবিষ্যতে পূর্ণমাত্রার, ত্বরিত এবং চূড়ান্ত জবাবে পরিণত হবে।" প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঘোষণা করেন: প্রতি বছর ১০ মে "ইয়াওম-ই-মারকা-ই-হক" পালন করা হবে। আগামী শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫-এ সশস্ত্র বাহিনীর এই মহান সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে উদযাপন করা হবে।

মে ১৩, ২০২৫ 0
ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে ফেরা নবজাতকের বর্তমান অবস্থা কি
ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে ফেরা নবজাতকের বর্তমান অবস্থা কি

আফরিন, সিরিয়া - সেদিনের বিকেলে যখন তুরস্ক এবং সিরিয়ায় ভূমিকম্পের একটি সিরিজ ছিঁড়েছিল, তখন ডাঃ হানি মারুফ, 43, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে আফরিনের জেহান হাসপাতালে তার দায়িত্বে ফিরে এসেছিলেন, নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তার স্ত্রী এবং সাত সন্তান আছে। নিরাপদ ছিল। বিকাল ৩টার দিকে, একজন পুরুষ ও মহিলা দৌড়ে আসেন, লোকটি তার বাহুতে একটি ছোট বান্ডিল ধরে চিৎকার করে বলেছিল যে তাদের একজন শিশু বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। তাদের মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল যা হতাশায় পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল ষষ্ঠ হাসপাতাল যা তারা তাদের মূল্যবান বান্ডিল নিয়ে ছুটে গিয়েছিল - শিশু আয়া, যে সবেমাত্র একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জন্মেছিল একটি মা যে মারা গিয়েছিল। তাদের আশ্বস্ত করে যে তিনি একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মারুফ আলতো করে তাদের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছিলেন কিন্তু তিনি যা দেখেছিলেন তা তাকে "ভয়ঙ্কিত" করেছিল। "আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে সে বেঁচে ছিল - সে ফ্যাকাশে, ঠান্ডা, নীরব ছিল। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নীল ছিল এবং তার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা ছিল,” তিনি স্মরণ করেন। তারপরে একটি ক্ষীণ স্পন্দন আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং তিনি এবং তার দল কাজ শুরু করেছিলেন। তারা শিশুটিকে উষ্ণ কম্বল দিয়ে মুড়ে তাকে একটি ইনকিউবেটরে রেখেছিল, যতক্ষণ না সে যথেষ্ট গরম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেখছিল যাতে তারা তাকে ক্যালসিয়াম এবং গ্লুকোজ সলিউশনের সাথে সংযুক্ত করার জন্য একটি শিরা খুঁজে পেতে সক্ষম হয়। শিশু আয়াকে স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে বেবি আয়া স্টেথোস্কোপের অনুরাগী নন, তবে এটি ডাক্তারদের নির্ধারণ করতে সাহায্য করে যে সে ঠিক আছে যে লোকটি তাকে ভিতরে নিয়ে এসেছিল - তার খালার স্বামী - এবং যে মহিলা তার সাথে ছিল - একজন প্রতিবেশী - স্বস্তি পেয়েছিল যে আয়াকে রক্ষা করা যাচ্ছে, কিন্তু সেদিনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার অর্থ হল তারা আর তার পাশে থাকতে পারবে না। তাদের নিজেদের পরিবার খুঁজে বের করতে হয়েছিল, এবং সম্ভবত তাদের মৃতদের গণনা করে কবর দিতে হয়েছিল। শিশু আয়াকে হাসপাতালের কর্মীদের দ্বারা প্রথম আনার এবং নাম দেওয়ার চার দিন পরে, মারুফ আল জাজিরাকে বলেছেন যে তিনি আরও ভাল করছেন এবং হাসপাতালের দল তার ভাল যত্ন নেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য একত্রিত হয়েছে। যদিও সে এখনও একটি ইনকিউবেটরে দিন কাটায়, শিশু আয়াকে একজন স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা বুকের দুধ খাওয়ানো হয় যিনি দিনে বেশ কয়েকবার আসেন, যা তাকে দেয় মানুষের, ত্বক থেকে ত্বকের সংস্পর্শে থাকা শিশুদের উন্নতির জন্য অ্যান্টিবডি ছাড়াও পুষ্টি যা শুধুমাত্র মানুষের বুকের দুধে পাওয়া যায়। এবং তিনি উন্নতি করেছেন, মারুফ গর্বিতভাবে বলেছেন, তিনি যোগ করেছেন যে তিনি ওজন বাড়াচ্ছেন, সমস্ত ইতিবাচক সূচক দেখাচ্ছে এবং চারপাশে তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভাল করছে। যখন তিনি, সাত সন্তানের বাবা হিসাবে, প্রায়শই নিজেকে তার পাশে খুব বেশি সময় কাটাতে শিশুর দুর্দশার দ্বারা খুব গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন, তখন অনেক নার্সিং স্টাফ তাকে দেখতে আসেন, তার ইনকিউবেটরের পাশে বসে তাকে ঘুমাতে দেখেন এবং তার হাত নেড়ে দেন। . ডাঃ মারুফ ইনকিউবেটরে পৌঁছেছে শিশু আয়াকে পরীক্ষা করার জন্য ডঃ মারুফ আয়া কতটা উন্নতি করেছে তার জন্য গর্বিত কিন্তু, সাত সন্তানের বাবা হিসাবে, তিনি তার দুর্দশার জন্য গভীরভাবে দুঃখিত শিশু আয়ার মায়ের প্রসবের পরিস্থিতি অনির্ধারিত রয়ে গেছে, তবে মারুফ বলেছেন যে একজন মহিলার পক্ষে শকের কারণে প্রসব হওয়া এবং প্রসব নির্বিশেষে তার শেষ পর্যন্ত চলতে থাকা খুব সম্ভব। মারুফ বলেছেন যে উদ্ধারকারীরা সোমবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশু আয়ার কান্না শুনেছিল এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাকে সরিয়ে নিতে এবং তাকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছিল "প্রথম এবং সর্বাগ্রে ঈশ্বরের করুণার কারণে", মারুফ বলেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি যোগ করেছেন, এটি সম্ভব ছিল যে তীব্র ঠান্ডা জটিল উদ্ধার প্রচেষ্টা শিশু আয়াকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করেছিল। ঠাণ্ডার কারণে, তিনি হাইপোথার্মিয়ায় চলে যান, যা আসলে একটি থেরাপি যা নবজাতক হাসপাতালে ব্যবহার করা হয় শিশুদের বাঁচানোর জন্য যাদের মস্তিষ্কে জন্মের সময় অক্সিজেনের অভাব হয়। হাসপাতালের কর্মীরা তাকে গরম করতে এবং তার যত্ন শুরু করতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত এটি তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষা করত। মারুফ যখন শিশু আয়ার আত্মীয়দের আশ্বস্ত করেছিল যে তারা শিশুটির যত্ন নেবে এবং তাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের পরীক্ষা করা উচিত, তখন তিনি আফরিনকে যে ভয়াবহতা আঘাত করেছিল তার সম্পূর্ণ জ্ঞানের সাথে কথা বলছিলেন। এবং গত 12 বছর ধরে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়া কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ তিনি নিজেই 2019 সালে মারেত আল-নামান থেকে আফরিনে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ভূমিকম্পের দিনে তিনি তার স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে গাড়িতে ঘন্টা কাটিয়েছিলেন যতক্ষণ না তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং সেই দিন তাদের সাথে 40 জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল কারণ তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। সেই চিন্তাই তাকে সেদিন কাজে ফিরে যেতে ঠেলে দিয়েছিল, যে কেউ সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। "আমাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা, আমরা এই বিপর্যয়ের নায়ক নই, দীর্ঘ শটের মাধ্যমে নয়," তিনি আল জাজিরাকে বলেছিলেন। “সত্যিকারের নায়করা হলেন সার্জন, সিভিল ডিফেন্সের লোকেরা যারা আক্ষরিক অর্থে প্রতি মিনিটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাচ্ছে। “এই অঞ্চলে আঘাত হানার এটাই প্রথম বিপর্যয় নয়, ঈশ্বর জানেন, আমাদের বহু বছর ধরে বোমাবর্ষণ এবং যুদ্ধ হয়েছে। সেই সময় জুড়ে, আমরা প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় লাইন, আমরা সাধারণত এমন শিশুদের যত্ন নিই যাদের নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন হয়, যাদের পূর্ব-বিদ্যমান অবস্থা রয়েছে, যাদের এখনও দেয়াল পড়ে যাওয়ার পরেও আমাদের যত্নের প্রয়োজন। সেজন্য আমি বলেছিলাম যে আমরা হাসপাতাল বন্ধ করব না, আমরা খোলা থাকব, যাই হোক না কেন।” এমনকি ভূমিকম্পের পর প্রথম দিনগুলিতে এটি কঠিন ছিল, যা আজ পর্যন্ত 21,500 জনেরও বেশি লোককে হত্যা করেছে। “ফার্মেসি বন্ধ, মেডিকেল ডিপো বন্ধ, সবকিছু বন্ধ। আমরা বৃত্তে ঘুরছিলাম কারণ হাসপাতালের ডিসপেনসারিতে আমাদের হাতে অনেক ওষুধ নেই,” মারুফ বলেছিলেন। একজন ডাক্তার শিশু আয়ার ইনকিউবেটরের কাছে এক্স-রে দেখছেন দলটি সমস্ত প্রয়োজনীয় চেক চালিয়েছিল এবং আয়া তার অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে কতটা ভালভাবে এসেছিল তা দেখে অবাক হয়েছিল “একদিন, আমাদের বেবি আয়ার জন্য কিছুটা সূত্রের প্রয়োজন ছিল কারণ স্বেচ্ছাসেবক এখনও তাকে দুধ খাওয়াতে আসেনি। আমি আমার বুদ্ধির শেষের দিকে ছিলাম যতক্ষণ না আমি মনে করি যে আমার অফিসে কোথাও সূত্রের কয়েকটি ছোট নমুনা ছিল, তাই পরিস্থিতিটি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এখন, জিনিসগুলি একটু ভাল, সম্ভবত 50 শতাংশে। "কিন্তু এটি এখনও যথেষ্ট ভাল নয়। আমরা কোন ধরনের সাহায্যের জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করছি তা দেখুন! সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা ও জাতিসংঘ। তাই তারা সবাই এখানে সাহায্যের জন্য একটি হেলিকপ্টার খুঁজে পাচ্ছেন না?" সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশ দেশটির 12 বছরের যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধী বাহিনীর হাতে রয়েছে। এটি মূলত বিচ্ছিন্ন, শুধুমাত্র একটি অনুমোদিত স্থল সীমান্ত ক্রসিং তুরস্কের মাধ্যমে তার চার মিলিয়নেরও বেশি বাসিন্দাকে সহায়তা আনতে ব্যবহৃত হয়, যাদের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। তুরস্কে ব্যাপক রাস্তার ক্ষতির কারণে ভূমিকম্পের পর তিন দিন বাব আল-হাওয়া ক্রসিং অতিক্রম করে কোনো সাহায্য আসেনি, তবে বৃহস্পতিবার কনভয়গুলি আবার আসতে শুরু করেছে। তবে, চাহিদাগুলি প্রচুর রয়ে গেছে, শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সতর্কতার সাথে এটি উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় স্টক ফুরিয়ে গেছে এবং আরও করিডোর খোলার জন্য আবেদন করেছে। পরিস্থিতির উপর রাগ এবং দুঃখ থাকা সত্ত্বেও, অথবা সম্ভবত একটি অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতার কারণে যা এই অঞ্চলের জন্য ক্রমাগত বিপর্যয়ের কয়েক বছর ধরে তৈরি হয়েছে, তিনি একটি অসাধারণ শান্ত কণ্ঠে এবং তার চারপাশের সকলের প্রতি গভীর সহানুভূতির সাথে কথা বলেন। এর মাধ্যমে যাচ্ছে. তার খালার স্বামী তখন থেকে শিশু আয়াকে দেখতে এসেছেন, তবে মনে হচ্ছে না যে পরিবারটি এখনও তাকে নিতে আসতে কোনো অবস্থায় আছে, মারুফ বলেছেন। এবং এটি তার সাথে ঠিক আছে, জেহান হাসপাতালের সমস্ত লোকেরা শিশু আয়াকে যতক্ষণ সময় নেয় ততক্ষণ খুশি।

জুলাই ৩১, ২০২৫ 0
মোদি বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে, আতঙ্কে শুভেন্দু অধিকারী
মোদি বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে, আতঙ্কে শুভেন্দু অধিকারী

ভারতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। “বিজেপি হটাও, সংবিধান বাঁচাও” স্লোগানে রাজপথ কাঁপছে, বিশেষ করে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মোদি সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশে ভয়াবহ বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে, ব্যবসায়ী সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরমভাবে টালমাটাল হয়ে পড়েছে। সরকার যেখানে জনগণের দুঃখ-কষ্টের প্রতি উদাসীন, সেখানে মোদি সরকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিন্দু-মুসলিম ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করে সরকার জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীরা বলছে, পাকিস্তানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করে ভারত ৮৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আন্দোলনের উত্তাপ থেকে রক্ষা পাননি বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তার উগ্র সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে দেশটির হিন্দু জনগণের মধ্যেও প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় জনরোষের মুখে পড়েন তিনি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পালাতে বাধ্য হন। এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা গাড়ির ভিতরে ছিলাম, বাইরে থাকলে মেরে ফেলত।” শুভেন্দুর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক হিন্দু নাগরিক বলছেন, "যেখানেই শুভেন্দুকে পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দেওয়া হবে।" শুভেন্দুর বক্তব্যে তিনি বলেন, “দাড়িওয়ালা টুপিওয়ালাদের গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব।” তার এই বক্তব্যে দেশটির হিন্দু সমাজ এবং ব্যবসায়ী মহল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে শুধু মুসলিমরাই নয়, হিন্দু ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভারতের এক হিন্দু নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুভেন্দুর মতো মূর্খ নেতা শুধু ধর্মবিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে। ও বলছে বাংলাদেশিরা যেন করাচি বা লাহোরে গিয়ে চিকিৎসা করায়। অথচ ওর কথায় হিন্দু-মুসলিম উভয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে।” এই অবস্থায় ভারতের সংবাদমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রিয় এক বিজেপি ঘনিষ্ঠ টিভি চ্যানেল রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক ময়ুক রঞ্জন ঘোষকে নিয়েও উঠেছে বিতর্ক। কলকাতার মানুষ তাকে সাংবাদিক হিসেবে মানতে নারাজ। তারা বলেন, "সে তো মাছ বিক্রেতা, সাংবাদিক না!" সবমিলিয়ে আন্দোলনের এই ঢেউ যেন থামছেই না। বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা ভারতে। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, মোদি সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই জনগণের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তাতেও আন্দোলনের আগুন নিভছে না।

জুলাই ৩১, ২০২৫ 0
ভারতের ছয়স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে পাঁচ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল পাকিস্তান
ভারতের ছয়স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে পাঁচ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল পাকিস্তান

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ছয়টি আলাদা স্থানে একযোগে হামলা চালানোর পর যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ভারতের এই অভিযানকে “অপারেশন সিঁদুর” নাম দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি পাকিস্তানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, ভারতের মিসাইল হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর জানিয়েছে, পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরের বিভিন্ন শহরে হামলার পর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কড়া জবাব দিয়েছে। পাঁচটি ভারতীয় ফাইটার জেটে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে একটি ড্রোন ও একটি ব্রিগেড সদর দপ্তরও। পাকিস্তান দাবি করেছে, অভিযানে অংশ নেওয়া তাদের সমস্ত যুদ্ধবিমান নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। ভূপাতিত ভারতীয় জেটগুলোর মধ্যে রয়েছে—তিনটি ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল, একটি রাশিয়ান এসইউ-৩০ এমকেআই এবং একটি মিগ-২৯। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার করে পাকিস্তানে ঢোকা হয়নি; বরং তারা কাশ্মীরে অবস্থানরত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র ভারতের এই পদক্ষেপকে “লজ্জাজনক ও কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করলে ভারতের আরও বড় ক্ষতি হবে। আমরা সব ধরনের হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত।” সর্বশেষ পরিস্থিতি: ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তীব্র কূটনৈতিক বিবৃতি আদান-প্রদান চলছে। জাতিসংঘ এবং ওআইসি (OIC) উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধেও রূপ নিতে পারে। পাকিস্তানে উচ্চ পর্যায়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে; স্কুল, সরকারি দপ্তর এবং বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের জনগণ চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মে ৭, ২০২৫ 0
কাশ্মীরে আকাশযুদ্ধ: পাকিস্তানের J-10 দিয়ে ভূপাতিত ৫ ভারতীয় জেট!
কাশ্মীরে আকাশযুদ্ধ: পাকিস্তানের J-10 দিয়ে ভূপাতিত ৫ ভারতীয় জেট!

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের একবার তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের চীনা-নির্মিত J-10 যুদ্ধবিমান অন্তত দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও এখন পর্যন্ত ভারত সরকার বা দেশটির বিমান বাহিনী এই ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন জানান, পাকিস্তানের J-10 যুদ্ধবিমানগুলো এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে ভারতের যুদ্ধবিমানগুলোকে টার্গেট করে এবং সাফল্যের সঙ্গে ভূপাতিত করে। আরও উল্লেখ করা হয় যে, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ছিল ফ্রান্স থেকে সদ্য কেনা ভারতের উন্নতমানের রাফাল জেট, যা ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষার আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। এই প্রথমবারের মতো পশ্চিমা কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হলো যে পাকিস্তান তাদের চীনা J-10 যুদ্ধবিমান দিয়ে সরাসরি আকাশযুদ্ধে ভারতের যুদ্ধবিমান নামিয়েছে। এর আগে স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ফুটেজ ও রিপোর্টে দাবি করা হয়, তিনটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী তাদের চীনা জেট ব্যবহার করে তিনটি রাফালসহ মোট পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, মার্কিন নির্মিত F-16 যুদ্ধবিমানগুলো এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া—তিনটি বিশ্বশক্তি—দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পরমাণু শক্তিধর দেশ, এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই দীর্ঘদিনের কাশ্মীর সংঘাত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের একটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর ফ্ল্যাশপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আধুনিক যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। চীনের PL-15 মিসাইল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের Meteor ক্ষেপণাস্ত্র—এই দুটি উন্নত এয়ার-টু-এয়ার অস্ত্র প্রথমবারের মতো সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ভারতীয় রাফাল বিমানগুলোতে ওই মুহূর্তে Meteor ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা ছিল কিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশ্মীরের জম্মু অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা ভারতীয় সামরিক সূত্রগুলো পাকিস্তানি ড্রোন হামলা বলে সন্দেহ করছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা রাতারাতি ভারতের ২৫টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সফল হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমান সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। চীনের তৈরি J-10 এবং ইউরোপীয় রাফাল—উভয়ই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এসব যন্ত্রের কার্যকারিতা, কৌশল ও প্রযুক্তি নিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ইউরোপের সামরিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। এই ঘটনায় সামরিক বিশ্লেষকরা একমত যে, এখনো অনেক তথ্য প্রকাশ পায়নি এবং নির্ভুল মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে দক্ষিণ এশিয়ার এই সংঘর্ষ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব এখন উত্তেজনা প্রশমন করা।

মে ৯, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

গোপালপুরে বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে বোরো ফসল হুমকিতে
জাতীয়

গোপালপুরে বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে বোরো ফসল হুমকিতে

মুক্তধ্বনি ডেক্স এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?