আন্তর্জাতিক

হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদি আরামকো শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড
হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদি আরামকো শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড

সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, রোববার একটি ড্রোন দিয়ে জিজানের শোধনাগারটিকে ‘নির্ভুল ও সফলভাবে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব উত্তর ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমায় গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন উড়িয়েছে। এসব ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে তেল শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় ভোরবেলা লাগা আগুন দমকলকর্মীরা নিভিয়ে ফেলেছেন। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলেও জানানো হয়।

আগস্ট ৯, ২০২৬ 0
শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা: কী ঘটতে পারে পৃথিবীতে?

শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা: কী ঘটতে পারে পৃথিবীতে? জাতিসংঘের World Meteorological Organization (WMO) সম্প্রতি বিশ্ববাসীকে সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট সময়কালে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়া ঘটনাটি যুক্ত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এল নিনো কী?এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয় এবং কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচল ও বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হয়। এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের আবহাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে। কেন উদ্বিগ্ন বিশ্ব?বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে এল নিনো যুক্ত হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।এর ফলে দেখা দিতে পারে—দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ,খরা ও পানির সংকট,দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধিঅতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যাশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ো আবহাওয়াকৃষি উৎপাদনে ক্ষতিখাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রভাবএশিয়াদক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি ও পানিসম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। কিছু অঞ্চলে আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।আফ্রিকাপূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাদক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা হতে পারে। অন্যদিকে মধ্য আমেরিকা ও কিছু উত্তরাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।অস্ট্রেলিয়া দেশটির অনেক অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে—গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে পারে।বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে।কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।কী প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা।পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা। কৃষিতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করা। তাপপ্রবাহের সময় পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া।বন্যা ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা।এল নিনো কোনো নতুন ঘটনা নয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে, আগামী কয়েক মাস বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জুন ৫, ২০২৬ 0
উপসাগরীয় দেশের প্রস্তাবে ভেটো, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্যোগ ব্যর্থ
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব ভেস্তে দিল রাশিয়া–চীনের ভেটো

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত এ প্রস্তাবটি পর্যাপ্ত সমর্থন পেলেও স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে শেষ পর্যন্ত তা পাস হয়নি। খবর বিবিসির। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি কার্যকর হতে পারেনি। জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবটির খসড়া একাধিকবার সংশোধন করা হয়। প্রথমে এটি ‘চ্যাপ্টার সেভেন’-এর আওতায় ছিল, যেখানে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সেই অংশটি বাদ দেওয়া হয়। এমনকি ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ’-সংক্রান্ত ধারাও চূড়ান্ত প্রস্তাব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবে শুধু প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করার কথা রাখা হয়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি। ভোটের আগে তিনি বলেন, এই প্রস্তাব নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করছে না; বরং এটি ইরানের ধারাবাহিক বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বন্ধ করা জরুরি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়ার যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে পরিষদের যেকোনো প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননে আংশিক পিছু হটেছে ইসরায়েলি বাহিনী, সংঘাত আরও তীব্র

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই কিছু কৌশলগত অবস্থান থেকে পিছু হটেছে ইসরায়েলি সেনারা। স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার অঞ্চল থেকে প্রতিবেদক ওবায়দা হিত্তো জানান, সোমবার বিকেলজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। আকাশে যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী বিয়াদা শহরের প্রান্তসীমা পর্যন্ত অগ্রসর হলেও, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তারা শুধু লেবাননের ভেতরেই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিন্ট জেবেইল দখলের চেষ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। গত কয়েক দিনে তারা যে কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ করেছিল, সেখান থেকে আংশিকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইসরায়েল নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা যেন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে, অন্যথায় চলমান হামলার ঝুঁকি বহন করতে হবে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি “বাফার জোন” তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই বাফার জোনের পরিসর কতটা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হরমুজ প্রণালি অচল উৎপাদন কমিয়েছে ইরাক বিকল্প রুট খুঁজছে দেশগুলো ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় সূচকেই ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি দাম বৃদ্ধি পায়।বার্তাসংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে—যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।ইরানে হামলা অবকাঠামোতে ক্ষতি মঙ্গলবার Israel ও United States-এর বাহিনী Iran-এর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্ব তেল উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়; ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। উৎপাদন কমিয়েছে ইরাক কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায় পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক Iraq রফতানি রুট বন্ধ ও মজুদের সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে যা দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন আরও কমে ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসতে পারে।হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর টানা চতুর্থ দিনের মতো প্রণালিটি কার্যত অচল রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে সামরিক এসকর্ট দিতে পারে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প রুটের চেষ্টা সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি Saudi Aramco হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে কিছু রফতানি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে।অন্যদিকে American Petroleum Institute-এর তথ্য অনুযায়ী গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। সরকারি তথ্য প্রকাশের পর বাজারের পরবর্তী গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকিইরান চাইলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেবে পিয়ংইয়ং

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ইরান চাইলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেবে পিয়ংইয়ং — কিম জং উনের বিস্ফোরক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong Un এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন ইরান যদি অনুরোধ করে তাহলে আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবো। একটি ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলকে মুছে ফেলার জন্য যথেষ্ট।পিয়ংইয়ংয়ের এই বক্তব্য সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের প্রতি, যা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মুখে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এ অবস্থান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu একাধিকবার ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে তেহরানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছে।এমন প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার ইঙ্গিত আঞ্চলিক সংঘাতকে বহুজাতিক রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব উত্তর কোরিয়ার এই বক্তব্যকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিশেষজ্ঞদের মতে পিয়ংইয়ং যদি বাস্তবেই তেহরানকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বা অস্ত্র সরবরাহ করে তবে তা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, “একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই ইসরায়েলকে মুছে ফেলা সম্ভব”—এমন মন্তব্য বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক বার্তাই বেশি বহন করে। ইসরায়েল নিজেও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতার জন্য পরিচিত। ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন সমীকরণ উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মধ্যে অতীতেও সামরিক সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরস্পর সংযুক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশ্ব সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে—এ বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক হুঁশিয়ারি, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের পূর্বাভাস। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি?আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় তেহরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পদ সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনি-এর নাম ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর পর উত্তরসূরি হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনির নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এলেও এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।তেহরানের রাজনৈতিক অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী সংস্থা Assembly of Experts নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বৈঠক করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।অস্থায়ী নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্যবিশ্লেষকদের মতে সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে দেশ পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো সক্রিয় থাকে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।মোজতবা খামেনি কে? মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত এই আলেম সরাসরি কোনো নির্বাচিত পদে না থাকলেও দেশটির রক্ষণশীল মহলে তার প্রভাবের কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কাঠামোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ামধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী দেশগুলো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নতুন নেতৃত্ব এলে পারমাণবিক চুক্তি আঞ্চলিক কূটনীতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নীতিগত অবস্থান দেখা যেতে পারে।আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাতবে সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—সরকারিভাবে কি মোজতবা খামেনিকেই সুপ্রিম লিডার ঘোষণা করা হবে? নাকি অন্য কোনো আলেমের নাম সামনে আসবে? তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ও ধর্মীয় পরিষদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; নতুন যে কোনো সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
এক ঘণ্টায় আট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

এক ঘণ্টায় আট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল যুক্তরাষ্ট্র হাওয়াই-টেক্সাসে বেশি অনুভূত কম্পন বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই এক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে United States। দেশটির অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্য ও একটি সংলগ্ন অঞ্চলে পৃথক আটটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল নিম্নস্তরের, তবুও হঠাৎ ঘনঘন কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ অঙ্গরাজ্য Hawaii-এর পাহালা ও নালেহু এলাকায় যথাক্রমে ২.০ ও ২.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে নালেহুর কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। আগ্নেয়গিরি অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় হাওয়াইয়ে এ ধরনের মৃদু কম্পন প্রায়ই ঘটে থাকে।একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য Texas-এর পেকোস মেন্টোন ও ফোর্ট স্টকটন এলাকায় ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ফোর্ট স্টকটনের ভূমিকম্পটি ছিল মাত্র ৪ কিলোমিটার গভীরে, যা অগভীর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বেশি অনুভূত হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করে।এ তালিকায় বাদ যায়নি ভূমিকম্পপ্রবণ অঙ্গরাজ্য Alaska। রাজ্যের বিগ লেক ও উইলো অঞ্চলে যথাক্রমে ২.২ ও ১.৬ মাত্রার দুটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের মার্কিন ভূখণ্ড Puerto Rico-এর গুয়ানিকা এলাকাতেও ১.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন রিখটার স্কেলে ২.৫-এর নিচের ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং অনেক সময় মানুষ তা অনুভবও করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত ভৌগোলিক অবস্থান ও বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে থাকে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কম্পনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি

মার্চ ৪, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের আহ্বানে ইরানে হামলা?, আগাম বৈঠক শনাক্তের পর খামেনি নিহত

ওয়াই নেট নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছিল। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানের একটি সুরক্ষিত স্থানে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে আলী লারিজানি ও আলী শামখানি উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, শনিবার ভোরের হামলায় শামখানি নিহত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে খামেনিও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। একটি মার্কিন সূত্র জানায়, বৈঠকটি মূলত সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালেই বৈঠক শুরুর তথ্য পেয়ে যায়। ফলে হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে তেহরানে খামেনির সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্স প্রথম দফার হামলার লক্ষ্য ছিল। ট্রাম্প বলেন, উন্নত নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার কারণে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে যেতে পারেননি। ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দেন। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে যুবরাজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেন যে সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল এক ধরনের দ্বৈত কৌশল—একদিকে প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতা, অন্যদিকে আড়ালে কৌশলগত চাপ। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হামলার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কট্টরপন্থী অংশ থেকে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই এই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন সবার নজর—ইরানের ভেতরে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।

মার্চ ১, ২০২৬ 0
মার্কিন-ইরান সংঘাত: আঞ্চলিক মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক সংঘাত কেবল এই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ সম্প্রতি এমন এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের পথ প্রশস্ত করবে। মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় আলী ভায়েজ উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্ররা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে—তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন: "মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখনও নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিমান প্রতিরক্ষা অভিযানে সক্রিয়। সংঘাত যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তবে ইরানের পক্ষে এই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকা কঠিন হবে।" ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ ভায়েজের মতে, ইরানের হাতে থাকা স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাদের নৌবাহিনী এমন সক্ষমতা রাখে যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সেখানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ঠিক এই কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করে আসছে। ৯২ মিলিয়নের 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' হওয়ার ঝুঁকি ভায়েজ যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি আমেরিকা এমন কোনো যুদ্ধ শুরু করে যা শেষ পর্যন্ত ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে, তবে তার ফল হবে আরও ভয়াবহ। এর ফলে যা হতে পারে: বিশাল শরণার্থী সংকট: ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের ইরান একটি 'ব্যর্থ রাষ্ট্রে' পরিণত হতে পারে। মৌলবাদের বিস্তার: অস্থিতিশীলতার সুযোগে ওই অঞ্চলে চরমপন্থা ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা: এই অস্থিতিশীলতা সরাসরি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলী ভায়েজের এই বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দেয় যে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ মানেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া।

জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে KOICA–কুমুদিনীর যৌথ উদ্যোগে ডায়াবেটিস–হাইপারটেনশন প্রকল্প পর্যালোচনা সভা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে KOICA–কুমুদিনীর যৌথ উদ্যোগে ডায়াবেটিস–হাইপারটেনশন প্রকল্প পর্যালোচনা সভা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও কর্মক্ষমতা তুলে ধরে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA), গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিডিসি’র সাবেক লাইন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “দেশে অ-সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত বাড়ছে। এমন সময়ে মাঠপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুরের এই প্রকল্প অন্য জেলাগুলোর জন্য রোল মডেল হতে পারে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) মির্জাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, নিয়মিত ফলোআপ এবং রোগীদের জীবনযাপনগত পরিবর্তনে সহায়তা নিয়ে যে প্রকল্প চালাচ্ছে—সভায় এর কার্যক্রম, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তৃতা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. আব্বাস ইবনে করিম, গ্লোবাল কেয়ার বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. সেওনাঙ লিম, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার, ডা. পার্ক, ডা. নিপা কর্মকার, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ফিল্ড ম্যানেজার লিপুস মৃসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, মির্জাপুরে দীর্ঘমেয়াদি রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সভায় ভবিষ্যতে ইউনিয়ন-স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, হেলথ ক্যাম্প বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে মির্জাপুরসহ পুরো টাঙ্গাইল জেলায় দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫ 0
দিল্লির পর এবার জম্মু–কাশ্মীরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৯

জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে নওগ্রাম পুলিশ স্টেশনে জব্দ করা বিস্ফোরকের বিশাল স্তুপ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন পুলিশ ও ফরেন্সিক কর্মীরা—তখনই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহতদের সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতাল এবং শেরি কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। সম্প্রতি নওগ্রাম এলাকায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর ঘটনার তদন্তে যে নেটওয়ার্ক ধরা পড়ে, সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিপুল বিস্ফোরক। এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের একজন আদিল আহমেদ রাথের—সিসিটিভিতে পোস্টার লাগাতে দেখা যায় তাকে। তার তথ্যের ভিত্তিতেই ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল ও শাহিন সাঈদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। এই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেই দিল্লির লালকেলার কাছে আই২০ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় তদন্তকারীরা। সেই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ২০ জনের বেশি। জাতীয় তদন্ত সংস্থার ধারণা, আতঙ্কে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভুলভাবে আইইডি তৈরি করেছিল, যার ফলেই দুই জায়গার বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো নেটওয়ার্ক পুনরায় পর্যালোচনা করছে তারা।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের গন্ধ? | সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় উত্তেজনা চরমে

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনেছে। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে টানাপোড়েন আরও তীব্র হচ্ছে। ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঘটে যাওয়া একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মুখর, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও অচল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা কেবল দুই দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে এটি একটি “ফুটন্ত পাত্রের” মতো বিস্ফোরিত হয়ে পড়বে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে আফগানিস্তানসহ পুরো অঞ্চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের জনগণ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাও চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদের পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ না হলে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে আগুন, মৃত্যু ১৩, আহত ৬

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়ে যায় এবং আশপাশের যানবাহনের কাচ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে একটি ভ্যানের দরজা উড়ে গেছে, একটি গাড়ি সম্পূর্ণ বিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে, এবং এক আহত ব্যক্তিকে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ২০টি দমকল যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ ছাড়া আহতদের দ্রুত লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী এনডিটিভিকে বলেন, “আমি আমার বাড়ির ছাদে ছিলাম, হঠাৎ বিশাল এক আগুনের গোলা দেখি। ভয়ঙ্কর শব্দ হয়, সঙ্গে সঙ্গে নিচে দৌড়ে যাই দেখতে কী হয়েছে। আমার বাড়ি গুরুদুয়ারার কাছেই।” লালকেল্লা, যা লাল কিলা নামেও পরিচিত, দিল্লির পুরনো এলাকায় অবস্থিত এবং এটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

নভেম্বর ১১, ২০২৫ 0
ভারতে “I ❤️ Muhammad” বলায় শত শত মুসলমানদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর শহরের সাইয়্যেদ নগর এলাকায় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে মুসলমানরা “I ❤️ Muhammad” লেখা একটি আলোকিত সাইনবোর্ড টানান। কিন্তু এ নিরীহ ধর্মীয় ভালোবাসার প্রকাশই এখন অনেক মুসলমানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাইনবোর্ডটি লাগানোর পরপরই স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু যুবক আপত্তি জানিয়ে পুলিশের সহায়তায় তা খুলে ফেলে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ নয়জন মুসলমানের বিরুদ্ধে মামলা করে, অভিযোগ করে তারা “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা” করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ২৬ সেপ্টেম্বর বেরেলি শহরে মুসলিম সংগঠন ইত্তেহাদে মিল্লাত কাউন্সিলের (IMC) পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি না দিলে শুক্রবার নামাজের পর হাজারো মানুষ “I love Muhammad” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামে। প্রশাসনের দাবি—বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও মাওলানা তৌকির রাজা খানসহ বহুজনকে গ্রেপ্তার করে। শহরের ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ রাখা হয়। মাওলানা তৌকির রাজা খান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি দমন করা হচ্ছে। কিন্তু এই দমননীতি উল্টো প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।”   উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনাকে “সমাজে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র” বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের পরই অভিযুক্তদের একজনের মালিকানাধীন একটি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মুসলমানদের সম্পত্তি ধ্বংস এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘অঘোষিত শাস্তি’। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি এমন ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি ঘোষণা করলেও এ প্রক্রিয়া চলছে প্রকাশ্যে। সুমাইয়া রানা, বিখ্যাত কবি মুন্নাওয়ার রানা’র কন্যা, বলেন — “সরকার মুসলমানদের ভয় দেখাতে চায় যাতে তারা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কথা না বলে।” অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (APCR) জানিয়েছে, “I love Muhammad” ক্যাম্পেইন নিয়ে অন্তত ২২টি মামলা হয়েছে, যেখানে ২,৫০০ মুসলমানের নাম এসেছে এবং শুধু বেরেলিতেই ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। APCR সচিব নাদিম খান বলেন, “নবীপ্রেমকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এতে মুসলিম সমাজ মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।” অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য সিকিউআর ইলিয়াসি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে নবীপ্রেম প্রকাশ করা মুসলমানদের অধিকার। এটি কোনো অপরাধ নয়।” বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি অভিযোগ করেছে, সরকার গণতন্ত্রের নামে দমননীতি চালাচ্ছে। দলটির নেতা মাতাপ্রসাদ পাণ্ডে বলেন, “সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু আচরণে তা একনায়কতন্ত্র।” আইনজীবী জিয়া জিল্লানি জানান, “অধিকাংশ অভিযুক্ত দরিদ্র দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। তাদের পক্ষে এমন মামলা চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘৃণার রাজনীতি দরিদ্র মুসলমানদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, যাতে তারা সহজেই নিপীড়নের শিকার হয়।” সূত্র: আল জাজিরা |

অক্টোবর ২১, ২০২৫ 0
বাংলাদেশ–সৌদি–মালদ্বীপ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক বৈঠক।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম, দেশটিতে অবস্থিত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াহিয়া হাসান আলকাহতানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দুই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও মালদ্বীপের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্য, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনকূটনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ ও সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সততার প্রশংসা করে বলেন, “তারা বাংলাদেশের গর্ব।” জবাবে রাষ্ট্রদূত আলকাহতানি সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশের অবদান এবং প্রবাসীদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আলোচনার শেষে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও মজবুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন

অক্টোবর ১৬, ২০২৫ 0
নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে ট্রাম্পের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সোমবারই বিজয়ী নির্ধারণ করেছে নোবেল কমিটি

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই চূড়ান্ত হয়েছে সিদ্ধান্ত; বিশেষজ্ঞ বলছেন—“১০০ শতাংশ নিশ্চিত, ট্রাম্প এ বছরের বিজয়ী নন” ওসলো, নরওয়ে (এএফপি/টাইমস অব ইসরায়েল): নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবারই নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার আগেই বিজয়ীর নাম নির্ধারিত হয়েছে। নোবেল ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র এরিক আসহেইম বলেন, “নোবেল কমিটির শেষ সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়।” তিনি জানান, সাধারণত কমিটি পুরস্কার ঘোষণার আগে কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, “শেষ প্রস্তুতি সোমবার নেওয়া হয়েছে, তবে আমরা কখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা কখনও প্রকাশ করি না।” এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষিত হবে শুক্রবার দুপুর ১২টায় (ইসরায়েল সময়), যা বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়। এর ফলে স্পষ্ট যে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির (যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়) কোনো প্রভাব এই সিদ্ধান্তে পড়েনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, “আমার এই পুরস্কার না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অপমান হবে।” তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তার প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ ও বিরোধী নেতা ইয়ায়ার লাপিদ সবাই ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে নোবেল বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদ আসলে সভেন (Asle Sveen) বলেন, “এই বছর ট্রাম্প কোনোভাবেই পুরস্কার পাচ্ছেন না—আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।” তিনি বলেন, “ট্রাম্প অনেক আগেই নেতানিয়াহুকে গাজার ওপর অবাধ বোমাবর্ষণের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়েছেন।” এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩৩৮ জন ব্যক্তি ও সংস্থা মনোনীত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিল জাপানের ‘নিহোন হিদানকিয়ো’ (Nihon Hidankyo)—হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি সংগঠন, যারা পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে কাজ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। আরও ২৫১ জনকে গাজায় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, যা আজও চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অবসান ও বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

অক্টোবর ১০, ২০২৫ 0
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিল পশ্চিমা শক্তিগুলো

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন এবং বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকার পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ধ্বংস করছে। এ স্বীকৃতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাওয়া শক্তিগুলোকে ক্ষমতায়ন করবে এবং হামাসকে নয়। একইসঙ্গে এটি সন্ত্রাসবাদের বৈধতা দিচ্ছে না বা কোনো পুরস্কারও নয়। কার্নি জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কানাডাকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন আয়োজন ও রাষ্ট্রকে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে। তবে এতে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একইসময়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, এ সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের নতুন গতি সঞ্চার করবে। এর সূচনা হবে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও আটককৃতদের মুক্তির মধ্য দিয়ে। তবে তাদেরও শর্ত, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এ ঘোষণার পরপরই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তির আশা পুনরুজ্জীবিত করবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ খুলে দেবে।” আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের মিত্র পশ্চিমা শক্তিগুলোর এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য অভিযোগ করছে, এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা। তবে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এর মধ্যে ফ্রান্সের নামও রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ 0
ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ১১ সেনা শহীদ, ৭৮ জন আহত: আইএসপিআর
ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ১১ সেনা শহীদ, ৭৮ জন আহত: আইএসপিআর

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ভারতের "অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় কাপুরুষোচিত হামলায়" পাকিস্তানের অন্তত ১১ জন সেনা শহীদ হয়েছেন এবং আরও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দপ্তর (ISPR)। এই সামরিক উত্তেজনা শুরু হয় যখন ভারত, জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগাম হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। ৬-৭ মে রাতে ভারত “অপারেশন সিনদূর”-এর আওতায় পাকিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায়, যেখানে অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পরবর্তীতে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলায় জড়িয়ে পড়ে যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আইএসপিআর এর বিবরণ অনুযায়ী: ভারতের এই আগ্রাসনে ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১৫ জন শিশু রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২১ জন। শহীদ সেনাদের পরিচয়: পাকিস্তান আর্মি থেকে: নায়েক আব্দুর রহমান ল্যান্স নায়েক দিলাওয়ার খান ল্যান্স নায়েক ইকরামুল্লাহ নায়েক ওয়াকার খালিদ সিপাহি মোহাম্মদ আদিল আকবর সিপাহি নিসার পাকিস্তান বিমানবাহিনী থেকে: স্কোয়াড্রন লিডার উসমান ইউসুফ চিফ টেকনিশিয়ান আওরঙ্গজেব সিনিয়র টেকনিশিয়ান নাজিব করপোরাল টেকনিশিয়ান ফারুক সিনিয়র টেকনিশিয়ান মোবাশির আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী “মারকা-ই-হক”-এর অধীনে “অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস”-এর মাধ্যমে নিখুঁত এবং প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "শহীদদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতির চেতনায় চিরস্মরণীয় সাহস, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা চ্যালেঞ্জ করার যে কোনো চেষ্টা ভবিষ্যতে পূর্ণমাত্রার, ত্বরিত এবং চূড়ান্ত জবাবে পরিণত হবে।" প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঘোষণা করেন: প্রতি বছর ১০ মে "ইয়াওম-ই-মারকা-ই-হক" পালন করা হবে। আগামী শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫-এ সশস্ত্র বাহিনীর এই মহান সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে উদযাপন করা হবে।

মে ১৩, ২০২৫ 0
ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে ফেরা নবজাতকের বর্তমান অবস্থা কি
ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে ফেরা নবজাতকের বর্তমান অবস্থা কি

আফরিন, সিরিয়া - সেদিনের বিকেলে যখন তুরস্ক এবং সিরিয়ায় ভূমিকম্পের একটি সিরিজ ছিঁড়েছিল, তখন ডাঃ হানি মারুফ, 43, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে আফরিনের জেহান হাসপাতালে তার দায়িত্বে ফিরে এসেছিলেন, নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তার স্ত্রী এবং সাত সন্তান আছে। নিরাপদ ছিল। বিকাল ৩টার দিকে, একজন পুরুষ ও মহিলা দৌড়ে আসেন, লোকটি তার বাহুতে একটি ছোট বান্ডিল ধরে চিৎকার করে বলেছিল যে তাদের একজন শিশু বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। তাদের মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল যা হতাশায় পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল ষষ্ঠ হাসপাতাল যা তারা তাদের মূল্যবান বান্ডিল নিয়ে ছুটে গিয়েছিল - শিশু আয়া, যে সবেমাত্র একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জন্মেছিল একটি মা যে মারা গিয়েছিল। তাদের আশ্বস্ত করে যে তিনি একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মারুফ আলতো করে তাদের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছিলেন কিন্তু তিনি যা দেখেছিলেন তা তাকে "ভয়ঙ্কিত" করেছিল। "আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে সে বেঁচে ছিল - সে ফ্যাকাশে, ঠান্ডা, নীরব ছিল। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নীল ছিল এবং তার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা ছিল,” তিনি স্মরণ করেন। তারপরে একটি ক্ষীণ স্পন্দন আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং তিনি এবং তার দল কাজ শুরু করেছিলেন। তারা শিশুটিকে উষ্ণ কম্বল দিয়ে মুড়ে তাকে একটি ইনকিউবেটরে রেখেছিল, যতক্ষণ না সে যথেষ্ট গরম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেখছিল যাতে তারা তাকে ক্যালসিয়াম এবং গ্লুকোজ সলিউশনের সাথে সংযুক্ত করার জন্য একটি শিরা খুঁজে পেতে সক্ষম হয়। শিশু আয়াকে স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে বেবি আয়া স্টেথোস্কোপের অনুরাগী নন, তবে এটি ডাক্তারদের নির্ধারণ করতে সাহায্য করে যে সে ঠিক আছে যে লোকটি তাকে ভিতরে নিয়ে এসেছিল - তার খালার স্বামী - এবং যে মহিলা তার সাথে ছিল - একজন প্রতিবেশী - স্বস্তি পেয়েছিল যে আয়াকে রক্ষা করা যাচ্ছে, কিন্তু সেদিনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার অর্থ হল তারা আর তার পাশে থাকতে পারবে না। তাদের নিজেদের পরিবার খুঁজে বের করতে হয়েছিল, এবং সম্ভবত তাদের মৃতদের গণনা করে কবর দিতে হয়েছিল। শিশু আয়াকে হাসপাতালের কর্মীদের দ্বারা প্রথম আনার এবং নাম দেওয়ার চার দিন পরে, মারুফ আল জাজিরাকে বলেছেন যে তিনি আরও ভাল করছেন এবং হাসপাতালের দল তার ভাল যত্ন নেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য একত্রিত হয়েছে। যদিও সে এখনও একটি ইনকিউবেটরে দিন কাটায়, শিশু আয়াকে একজন স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা বুকের দুধ খাওয়ানো হয় যিনি দিনে বেশ কয়েকবার আসেন, যা তাকে দেয় মানুষের, ত্বক থেকে ত্বকের সংস্পর্শে থাকা শিশুদের উন্নতির জন্য অ্যান্টিবডি ছাড়াও পুষ্টি যা শুধুমাত্র মানুষের বুকের দুধে পাওয়া যায়। এবং তিনি উন্নতি করেছেন, মারুফ গর্বিতভাবে বলেছেন, তিনি যোগ করেছেন যে তিনি ওজন বাড়াচ্ছেন, সমস্ত ইতিবাচক সূচক দেখাচ্ছে এবং চারপাশে তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভাল করছে। যখন তিনি, সাত সন্তানের বাবা হিসাবে, প্রায়শই নিজেকে তার পাশে খুব বেশি সময় কাটাতে শিশুর দুর্দশার দ্বারা খুব গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন, তখন অনেক নার্সিং স্টাফ তাকে দেখতে আসেন, তার ইনকিউবেটরের পাশে বসে তাকে ঘুমাতে দেখেন এবং তার হাত নেড়ে দেন। . ডাঃ মারুফ ইনকিউবেটরে পৌঁছেছে শিশু আয়াকে পরীক্ষা করার জন্য ডঃ মারুফ আয়া কতটা উন্নতি করেছে তার জন্য গর্বিত কিন্তু, সাত সন্তানের বাবা হিসাবে, তিনি তার দুর্দশার জন্য গভীরভাবে দুঃখিত শিশু আয়ার মায়ের প্রসবের পরিস্থিতি অনির্ধারিত রয়ে গেছে, তবে মারুফ বলেছেন যে একজন মহিলার পক্ষে শকের কারণে প্রসব হওয়া এবং প্রসব নির্বিশেষে তার শেষ পর্যন্ত চলতে থাকা খুব সম্ভব। মারুফ বলেছেন যে উদ্ধারকারীরা সোমবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশু আয়ার কান্না শুনেছিল এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাকে সরিয়ে নিতে এবং তাকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছিল "প্রথম এবং সর্বাগ্রে ঈশ্বরের করুণার কারণে", মারুফ বলেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি যোগ করেছেন, এটি সম্ভব ছিল যে তীব্র ঠান্ডা জটিল উদ্ধার প্রচেষ্টা শিশু আয়াকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করেছিল। ঠাণ্ডার কারণে, তিনি হাইপোথার্মিয়ায় চলে যান, যা আসলে একটি থেরাপি যা নবজাতক হাসপাতালে ব্যবহার করা হয় শিশুদের বাঁচানোর জন্য যাদের মস্তিষ্কে জন্মের সময় অক্সিজেনের অভাব হয়। হাসপাতালের কর্মীরা তাকে গরম করতে এবং তার যত্ন শুরু করতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত এটি তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষা করত। মারুফ যখন শিশু আয়ার আত্মীয়দের আশ্বস্ত করেছিল যে তারা শিশুটির যত্ন নেবে এবং তাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের পরীক্ষা করা উচিত, তখন তিনি আফরিনকে যে ভয়াবহতা আঘাত করেছিল তার সম্পূর্ণ জ্ঞানের সাথে কথা বলছিলেন। এবং গত 12 বছর ধরে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়া কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ তিনি নিজেই 2019 সালে মারেত আল-নামান থেকে আফরিনে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ভূমিকম্পের দিনে তিনি তার স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে গাড়িতে ঘন্টা কাটিয়েছিলেন যতক্ষণ না তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং সেই দিন তাদের সাথে 40 জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল কারণ তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। সেই চিন্তাই তাকে সেদিন কাজে ফিরে যেতে ঠেলে দিয়েছিল, যে কেউ সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। "আমাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা, আমরা এই বিপর্যয়ের নায়ক নই, দীর্ঘ শটের মাধ্যমে নয়," তিনি আল জাজিরাকে বলেছিলেন। “সত্যিকারের নায়করা হলেন সার্জন, সিভিল ডিফেন্সের লোকেরা যারা আক্ষরিক অর্থে প্রতি মিনিটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাচ্ছে। “এই অঞ্চলে আঘাত হানার এটাই প্রথম বিপর্যয় নয়, ঈশ্বর জানেন, আমাদের বহু বছর ধরে বোমাবর্ষণ এবং যুদ্ধ হয়েছে। সেই সময় জুড়ে, আমরা প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় লাইন, আমরা সাধারণত এমন শিশুদের যত্ন নিই যাদের নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন হয়, যাদের পূর্ব-বিদ্যমান অবস্থা রয়েছে, যাদের এখনও দেয়াল পড়ে যাওয়ার পরেও আমাদের যত্নের প্রয়োজন। সেজন্য আমি বলেছিলাম যে আমরা হাসপাতাল বন্ধ করব না, আমরা খোলা থাকব, যাই হোক না কেন।” এমনকি ভূমিকম্পের পর প্রথম দিনগুলিতে এটি কঠিন ছিল, যা আজ পর্যন্ত 21,500 জনেরও বেশি লোককে হত্যা করেছে। “ফার্মেসি বন্ধ, মেডিকেল ডিপো বন্ধ, সবকিছু বন্ধ। আমরা বৃত্তে ঘুরছিলাম কারণ হাসপাতালের ডিসপেনসারিতে আমাদের হাতে অনেক ওষুধ নেই,” মারুফ বলেছিলেন। একজন ডাক্তার শিশু আয়ার ইনকিউবেটরের কাছে এক্স-রে দেখছেন দলটি সমস্ত প্রয়োজনীয় চেক চালিয়েছিল এবং আয়া তার অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে কতটা ভালভাবে এসেছিল তা দেখে অবাক হয়েছিল “একদিন, আমাদের বেবি আয়ার জন্য কিছুটা সূত্রের প্রয়োজন ছিল কারণ স্বেচ্ছাসেবক এখনও তাকে দুধ খাওয়াতে আসেনি। আমি আমার বুদ্ধির শেষের দিকে ছিলাম যতক্ষণ না আমি মনে করি যে আমার অফিসে কোথাও সূত্রের কয়েকটি ছোট নমুনা ছিল, তাই পরিস্থিতিটি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এখন, জিনিসগুলি একটু ভাল, সম্ভবত 50 শতাংশে। "কিন্তু এটি এখনও যথেষ্ট ভাল নয়। আমরা কোন ধরনের সাহায্যের জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করছি তা দেখুন! সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা ও জাতিসংঘ। তাই তারা সবাই এখানে সাহায্যের জন্য একটি হেলিকপ্টার খুঁজে পাচ্ছেন না?" সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাংশ দেশটির 12 বছরের যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধী বাহিনীর হাতে রয়েছে। এটি মূলত বিচ্ছিন্ন, শুধুমাত্র একটি অনুমোদিত স্থল সীমান্ত ক্রসিং তুরস্কের মাধ্যমে তার চার মিলিয়নেরও বেশি বাসিন্দাকে সহায়তা আনতে ব্যবহৃত হয়, যাদের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। তুরস্কে ব্যাপক রাস্তার ক্ষতির কারণে ভূমিকম্পের পর তিন দিন বাব আল-হাওয়া ক্রসিং অতিক্রম করে কোনো সাহায্য আসেনি, তবে বৃহস্পতিবার কনভয়গুলি আবার আসতে শুরু করেছে। তবে, চাহিদাগুলি প্রচুর রয়ে গেছে, শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সতর্কতার সাথে এটি উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় স্টক ফুরিয়ে গেছে এবং আরও করিডোর খোলার জন্য আবেদন করেছে। পরিস্থিতির উপর রাগ এবং দুঃখ থাকা সত্ত্বেও, অথবা সম্ভবত একটি অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতার কারণে যা এই অঞ্চলের জন্য ক্রমাগত বিপর্যয়ের কয়েক বছর ধরে তৈরি হয়েছে, তিনি একটি অসাধারণ শান্ত কণ্ঠে এবং তার চারপাশের সকলের প্রতি গভীর সহানুভূতির সাথে কথা বলেন। এর মাধ্যমে যাচ্ছে. তার খালার স্বামী তখন থেকে শিশু আয়াকে দেখতে এসেছেন, তবে মনে হচ্ছে না যে পরিবারটি এখনও তাকে নিতে আসতে কোনো অবস্থায় আছে, মারুফ বলেছেন। এবং এটি তার সাথে ঠিক আছে, জেহান হাসপাতালের সমস্ত লোকেরা শিশু আয়াকে যতক্ষণ সময় নেয় ততক্ষণ খুশি।

জুলাই ৩১, ২০২৫ 0
মোদি বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে, আতঙ্কে শুভেন্দু অধিকারী
মোদি বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে, আতঙ্কে শুভেন্দু অধিকারী

ভারতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। “বিজেপি হটাও, সংবিধান বাঁচাও” স্লোগানে রাজপথ কাঁপছে, বিশেষ করে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মোদি সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশে ভয়াবহ বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে, ব্যবসায়ী সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরমভাবে টালমাটাল হয়ে পড়েছে। সরকার যেখানে জনগণের দুঃখ-কষ্টের প্রতি উদাসীন, সেখানে মোদি সরকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিন্দু-মুসলিম ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করে সরকার জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীরা বলছে, পাকিস্তানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করে ভারত ৮৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আন্দোলনের উত্তাপ থেকে রক্ষা পাননি বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তার উগ্র সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে দেশটির হিন্দু জনগণের মধ্যেও প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় জনরোষের মুখে পড়েন তিনি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পালাতে বাধ্য হন। এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা গাড়ির ভিতরে ছিলাম, বাইরে থাকলে মেরে ফেলত।” শুভেন্দুর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক হিন্দু নাগরিক বলছেন, "যেখানেই শুভেন্দুকে পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দেওয়া হবে।" শুভেন্দুর বক্তব্যে তিনি বলেন, “দাড়িওয়ালা টুপিওয়ালাদের গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব।” তার এই বক্তব্যে দেশটির হিন্দু সমাজ এবং ব্যবসায়ী মহল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে শুধু মুসলিমরাই নয়, হিন্দু ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভারতের এক হিন্দু নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুভেন্দুর মতো মূর্খ নেতা শুধু ধর্মবিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে। ও বলছে বাংলাদেশিরা যেন করাচি বা লাহোরে গিয়ে চিকিৎসা করায়। অথচ ওর কথায় হিন্দু-মুসলিম উভয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে।” এই অবস্থায় ভারতের সংবাদমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রিয় এক বিজেপি ঘনিষ্ঠ টিভি চ্যানেল রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক ময়ুক রঞ্জন ঘোষকে নিয়েও উঠেছে বিতর্ক। কলকাতার মানুষ তাকে সাংবাদিক হিসেবে মানতে নারাজ। তারা বলেন, "সে তো মাছ বিক্রেতা, সাংবাদিক না!" সবমিলিয়ে আন্দোলনের এই ঢেউ যেন থামছেই না। বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা ভারতে। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, মোদি সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই জনগণের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তাতেও আন্দোলনের আগুন নিভছে না।

জুলাই ৩১, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
ধনবাড়ীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে ঘটেছে নিশ্বংস ধর্ষনের ঘটনা

স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।

বিশ্বনাথে শাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ।

সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।

কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্তে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মাদকসহ ২ কারবারি ও ২ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

শীর্ষ সপ্তাহ

গোপালপুরে সড়কের বেহাল দশা, রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ।
গ্রাম বাংলার খবর

গোপালপুরে সড়কের বেহাল দশা, রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ

রুবেল রানা আগস্ট ৯, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

আপনি কি আমাদের নিউজ কন্টেন্ট পছন্দ করেন?