যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ভূমিকার জন্য সমালোচনার মধ্যেই কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্যালান্টির আয় হয়েছে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটি বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮.১৫ বিলিয়ন থেকে ৮.১৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বাণিজ্যিক গ্রাহক ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এই আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প বলেছেন, “এই প্রান্তিকটি ছিল অভূতপূর্ব। আমাদের মার্কিন বাণিজ্যিক আয় বছরে ১৪৯ শতাংশ এবং সামগ্রিক আয় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্বের চাহিদা এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।” শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে কার্প লিখেছেন, “আমাদের ব্যবসা এমন হারে ও পরিসরে বাড়ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।” মার্কিন সেনাবাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্যালান্টির বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। মার্কিন সরকারি ব্যবসা থেকে আয় বছরে ৯০ শতাংশ বেড়ে ৮০৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযানে কোম্পানিটির ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ রয়েছে। ২০০৩ সালে অ্যালেক্স কার্প ও পিটার থিয়েলসহ উদ্যোক্তারা প্যালান্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালে ইসরায়েলে প্রথম অফিস খোলে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ পর গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় প্যালান্টি। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধে কোম্পানির সম্পৃক্ততা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ওপেন ইন্টেলের তথ্য অনুযায়ী, প্যালান্টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের সফটওয়্যার যোগাযোগ, স্যাটেলাইট চিত্র ও অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য লক্ষ্য তালিকা তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩২৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৩ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার (এনএইচএস) সঙ্গে ৪৪৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে প্যালান্টি। এনএইচএস চুক্তিতে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্যালান্টির দর্শন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কার্প ও কোম্পানির কর্পোরেট বিষয়ক প্রধান নিকোলাস জামিস্কা সম্প্রতি ‘দ্য টেকনোলজিক্যাল রিপাবলিক’ বইয়ে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। সমালোচকরা এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিজম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে প্যালান্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি পর্যালোচনা জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ ২৯ জুলাই ২০২৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্ত তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি বিষয়ে জেলা কমিটির সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান।সভায় ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নির্ভুল ও সুচারুভাবে সংগ্রহের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।সভায় জানানো হয় সরকারি সেবাসমূহ আরও স্বচ্ছ কার্যকর ও সহজভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন ময়মনসিংহ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
ধনবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য ভান্ডার’ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড ‘তথ্য ভান্ডার’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আয়োজিত এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা, যোগ্যতা দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যসম্পাদনের উপযোগিতা মূল্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষ, যোগ্য ও উপযুক্ত জনবল নির্বাচন করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য সুষ্ঠু ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, দক্ষ জনবল নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড ‘তথ্য ভান্ডার’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ আরও গতিশীল, নির্ভুল ও কার্যকর হবে, যা ভবিষ্যতে সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ড চালু করল গ্রামীণফোন ঢাকা ১৫ জুন দেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ (MHz) লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম ব্যবহার করে সেবা চালু করেছে গ্রামীণফোন। টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এই ব্যান্ডের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চল উপকূলীয় এলাকা এবং ভবনের অভ্যন্তরে মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। গ্রামীণফোন জানিয়েছে ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ দূরত্বে সিগন্যাল পৌঁছানোর ক্ষমতা এবং শক্তিশালী ইনডোর কভারেজ। ফলে টিনের ঘর পুরু দেয়াল কিংবা ভবনের ভেতরেও মোবাইল ইন্টারনেট ও ভয়েস সেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তুলনায় ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের সিগন্যাল অধিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং সহজে বিভিন্ন বাধা ভেদ করতে সক্ষম। এতে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় কম সংখ্যক টাওয়ার ব্যবহার করেই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম বরাদ্দ পায় গ্রামীণফোন সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিআনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যান্ডের দেশব্যাপী রোলআউট শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন নতুন এই প্রযুক্তি দেশের ৪জি নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৫জি সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী । বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচেতনা উদ্ভাবনী মনোভাব এবং গবেষণার আগ্রহ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।তিনি বলেন বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে যেমন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেড়েছে, তেমনি গুজব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। কুসংস্কার গুজব ও অযৌক্তিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত থেকে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য যাচাই করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি উন্নত আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান অতিথি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদেরকে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় যা ব্যক্তি ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। কৃষি,স্বাস্থ্য,পরিবেশ যোগাযোগ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষার্থীদের গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মতো আয়োজন তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বক্তব্যের শেষে তিনি শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিজ্ঞানী গবেষক ও উদ্ভাবক হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী । বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচেতনা উদ্ভাবনী মনোভাব এবং গবেষণার আগ্রহ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।তিনি বলেন বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে যেমন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেড়েছে, তেমনি গুজব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। কুসংস্কার গুজব ও অযৌক্তিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত থেকে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য যাচাই করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি উন্নত আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান অতিথি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদেরকে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় যা ব্যক্তি ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। কৃষি,স্বাস্থ্য,পরিবেশ যোগাযোগ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষার্থীদের গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মতো আয়োজন তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বক্তব্যের শেষে তিনি শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিজ্ঞানী গবেষক ও উদ্ভাবক হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।
টাঙ্গাইলে স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল ১৪ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন Secondary Education Development Program (SEDP)-এর আওতায় আয়োজিত “Startup Science Project and Innovation Idea Showcasing Program”টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, স্টার্টআপ উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোতে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো উদ্ভাবন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তা গবেষণামনস্কতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকরা জানান শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গোদাগাড়ীতে ৩ দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ সম্পন্ন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) গোদাগাড়ীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলাটি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মেলার বিভিন্ন সেশন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী মেলায় অংশগ্রহণ করেন।মেলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল কম পানিতে অধিক ফলনশীল ফসলের জাত, ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচ পাম্প মালচিং পদ্ধতি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। কৃষকেরা এসব প্রযুক্তি আগ্রহের সঙ্গে পরিদর্শন করেন এবং মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ধারণা নেন। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐতিহ্যবাহী কৃষির পাশাপাশি ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির সংকট বিবেচনায় কম পানি ব্যবহার করে লাভজনক ফসল উৎপাদনের জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা আরও বলেন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।মেলার শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী সফল কৃষক ও সেরা স্টলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে ৩ দিনের এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পুরো মেলা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও কৃষকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ।
বিশ্বব্যাপী ফেসবুকে কারিগরি ত্রুটি, ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ হঠাৎ করেই কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ সমস্যার শুরু হয় বলে ব্যবহারকারীরা জানান। হঠাৎ করেই অনেকেই নিজেদের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। পাশাপাশি নতুন কোনো কনটেন্ট ছবি বা ভিডিও আপলোড করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন অনেকে।অন্যদিকে নিউজফিড রিফ্রেশ করতে গেলে ত্রুটির বার্তা দেখাচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার পুরোনো পোস্ট ও ছবি বারবার প্রদর্শিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কারিগরি সমস্যার কারণ সম্পর্কে Facebook কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
গোপালপুরে ব্র্যাকের খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত খামার পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে গাভী পালন ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১০ জুন) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিক্যাল কলেজের হলরুমে সকাল ১০টা থেকে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের ঢাকা রিজিয়নের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার বাদশা মিয়া আকন্দ টাঙ্গাইলের এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. হাসান তারেক এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া নগদা-শিমলা ও ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ব্র্যাকের এআই টেকনিশিয়ানরাও অংশ নেন। প্রশিক্ষণে গাভীর সঠিক পরিচর্যা, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা রোগ প্রতিরোধ দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃত্রিম প্রজনন এবং আধুনিক খামার পরিচালনার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং সেরা তিনজন খামারিকে পুরস্কৃত করা হয়।আয়োজকদের মতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং লাভজনকতা নিশ্চিত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।এই কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার খামারিরা অংশ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান।BRAC বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে নানা প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে
টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন খামারিদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন দেশের অনেক খামারির প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন রোগব্যাধি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে রোগ শনাক্তকরণ প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খামারিদের জন্য আরও ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগ প্রতিরোধমূলক টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার বিকল্প নেই। এলএসডি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মচারী খামারি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মেধা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ প্রতিমন্ত্রী টুকু মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল সদর-৫ এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং সৃজনশীল ধারণা উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি।এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহা দেশকে বিশ্বের বুকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ব্যবহার তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 700 MHz স্পেকট্রাম প্রযুক্তি চালু করল গ্রামীণফোন দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 700 MHz নেটওয়ার্ক স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে আরও উন্নত ও শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানের যাত্রা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।700 MHz স্পেকট্রামের অন্যতম সুবিধা হলো এর উচ্চ প্রবেশক্ষমতা ও বিস্তৃত কভারেজ। ফলে ভবন, দেয়াল কিংবা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সহজেই অতিক্রম করে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ঘরের ভেতর ও বাইরে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকা, গ্রামীণ জনপদ এবং দুর্গম অঞ্চলের গ্রাহকরা উন্নত সংযোগ সুবিধা পাবেন।প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্পেকট্রাম ব্যবহারের ফলে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে, কল ড্রপের ঝুঁকি কমবে এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
টাঙ্গাইলে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ দেশব্যাপী আয়োজিত ভূমিসেবা মেলা ২০২৬-এর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলাতেও উদ্বোধন করা হয়েছে তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের জনসেবা চত্বরে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রাপ্তি সহজ ও দ্রুততর করা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন। মেলায় ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি, খতিয়ান ও ম্যাপ সংক্রান্ত তথ্যসেবা, অনলাইন ভূমিসেবা কার্যক্রম, ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন দিন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জনসেবা চত্বরে এ মেলা চলবে। সাধারণ মানুষকে মেলায় উপস্থিত হয়ে সরাসরি ভূমিসেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেলা কমিটির পরিচালনায় জেলা পরিষদ সংলগ্ন কালেক্টরেট মাঠে গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন আলহাজ্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল।এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, এইচ.এম.মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল মেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটককে অত্যন্ত মূল্যবান ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে ১০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত যদিও অপারেটরটির স্পেকট্রাম ফি বাবদ প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত স্পেকট্রাম রয়েছে।নথি অনুযায়ী, সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক বৈঠকে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।বিস্তৃত কভারেজ, শক্তিশালী ইনডোর সিগন্যাল, স্বল্প বাস্তবায়ন খরচ এবং ৫জি সহ গ্রামীণ-শহুরে নেটওয়ার্কের জন্য উপযুক্ততার কারণে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী মূল্যবান বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে এই ব্যান্ডের ৪৫ মেগাহার্টজ মোবাইল ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, এবং একটি আইনি বিরোধের কারণে ২০ মেগাহার্টজ অব্যবহৃত রয়েছে। ৮ই ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, অন্তর্বর্তী সরকার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসি-কে টেলিটক-কে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠায়।এক দিন পর টেলিটক স্পেকট্রামের জন্য আবেদন করে।১৬ই ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় যে টেলিটক তার লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম ফি সহ বকেয়া অর্থ সরকারি ইক্যুইটিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে অর্থ বিভাগের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।৯ই এপ্রিল, টেলিটক কীভাবে এই বরাদ্দের অর্থ পরিশোধ করবে, সে বিষয়ে বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চেয়েছিল। ২৪শে এপ্রিল, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গ্রাহকদের অসুবিধা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।প্রতি মেগাহার্টজের দাম ২৩৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জানুয়ারিতে নিলামে একমাত্র দরদাতা হিসেবে গ্রামীণফোনের দেওয়া ১০ মেগাহার্টজের দরের সমান। এই পদক্ষেপের ফলে সরকার স্বল্পমেয়াদে অন্তত ২,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে। এই ব্যান্ডে উপলব্ধ স্পেকট্রামের মাত্র ৫ মেগাহার্টজ বাংলালিংক ও রবির জন্য থাকবে, যাদের উভয়েরই বিশাল গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে। দাম বেশি হওয়ার অজুহাতে এই দুই অপারেটর সর্বশেষ নিলামে অংশ নেয়নি।স্পেকট্রাম একটি সীমিত ও মূল্যবান সম্পদ যা দেশগুলো সতর্কতার সাথে পরিচালনা করে, কারণ এটি টেলিযোগাযোগ পরিষেবার উন্নয়ন এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে, বিশেষ করে টেলিটককে ঘিরে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল: স্বস্তিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এই চার্জ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মিটার ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল— মিটারের মূল্য পরিশোধের পরও কেন বছরের পর বছর এই অতিরিক্ত চার্জ বহাল রাখা হচ্ছে।এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক মহলে সমালোচনা ও দাবি জানানো হচ্ছিল।নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় কিছুটা কমবে এবং এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এক বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা কোডিংয়ের ক্ষেত্রে। একসময় যে কোডিংকে কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির একচেটিয়া ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের অত্যাধুনিক এআই টুলস সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। জেমিনি (Gemini) এবং ডুয়েট এআই (Duet AI)-এর মতো শক্তিশালী এআই মডেলগুলি কোড লেখা থেকে শুরু করে ডিবাগিং, কোড পর্যালোচনা এবং এমনকি জটিল সিস্টেম ডিজাইন পর্যন্ত সবকিছুতেই ডেভেলপারদের সহায়তা করছে। এই টুলসগুলি কেবল কোডিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও ত্রুটিমুক্ত করছে না, বরং কোডিংয়ের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিকে পরিচালিত করছে, যেখানে মানুষ ও এআইয়ের সহযোগিতা হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে ডেভেলপারদের ওপর চাপ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোড লেখা সময়সাপেক্ষ এবং এতে মানবীয় ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। গুগল, তার গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে, কোডিংয়ের এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের এআই টুলসগুলি বিশাল ডেটাসেট থেকে শিখে, প্যাটার্ন চিনতে পেরে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে ডেভেলভারদের কাজকে সহজ করে তুলছে। গুগল ডিপমাইন্ডের আলফাকোড (AlphaCode) এর মতো গবেষণা প্রকল্পগুলি দেখিয়েছে যে এআই এমনকি জটিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাতেও মানুষের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম, যা কোডিংয়ে এআইয়ের সম্ভাবনার এক ঝলক প্রদর্শন করে। গুগলের এআই টুলসের মধ্যে জেমিনি এবং ডুয়েট এআই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেমিনি, গুগলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মাল্টিমোডাল এআই মডেল হিসেবে, কেবল টেক্সট নয়, কোড, ছবি এবং ভিডিওর মতো বিভিন্ন তথ্য বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম। কোডিংয়ের ক্ষেত্রে, জেমিনি ডেভেলপারদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি করতে পারে, বিদ্যমান কোডে ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে, কোডের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং এমনকি এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কোড অনুবাদও করতে পারে। অন্যদিকে, ডুয়েট এআই হল ওয়ার্কস্পেস (Workspace) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর জন্য তৈরি গুগলের এআই-চালিত সহযোগী। এটি বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টে (যেমন, VS Code, JetBrains IDEs) সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে কাজ করে। ডুয়েট এআই ডেভেলপারদের জন্য কোড সাজেশন, স্বয়ংক্রিয় কোড সম্পন্নকরণ, ডিবাগিং সহায়তা এবং কোড রিফ্যাক্টরিংয়ের মতো কাজগুলি করে। এর মাধ্যমে ডেভেলপাররা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি থেকে মুক্তি পেয়ে আরও সৃজনশীল এবং উচ্চ-স্তরের সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করতে পারেন। কোড জেনারেশন, কোড ব্যাখ্যা এবং কোড সংশোধনের মতো ক্ষমতাগুলি ডেভেলপারদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গুগলের এআই টুলস ডেভেলপারদের জন্য অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে: ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: স্বয়ংক্রিয় কোড জেনারেশন এবং ত্রুটি শনাক্তকরণের মাধ্যমে ডেভেলপাররা অনেক দ্রুত কাজ সম্পন্ন সম্পন্ন করতে পারেন, যা তাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম আনছে বিটিসিএল টেলিকম খাতে নতুন যুগের সূচনা কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সরকারি Mobile Virtual Network Operator (MVNO) সিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি যা গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও বহুমুখী ডিজিটাল সেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।MVNO হলো এমন একটি মোবাইল অপারেটর ব্যবস্থা যেখানে নিজস্ব টাওয়ার বা অবকাঠামো না থাকলেও বিদ্যমান মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের (যেমন টেলিটক) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। বিটিসিএল এই মডেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে চায়।কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধা বিটিসিএল MVNO সিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য কাঠামো। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে দেশের টেলিকম বাজারে অন্যতম সর্বনিম্ন মূল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।ট্রিপল-প্লে ও কোয়াড-প্লে সেবার পরিকল্পনাএকটি মাত্র সিমের মাধ্যমেই গ্রাহকদের জন্য একাধিক সেবা একত্রে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিটিসিএল। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে— ভয়েস কল সুবিধা উচ্চগতির মোবাইল ডেটা আলাপ অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক ও সাধারণ কলের সমন্বিত সুবিধা বিভিন্ন OTT প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশনএতে করে গ্রাহকরা একই সঙ্গে যোগাযোগ ইন্টারনেট ও বিনোদনের সুবিধা পেতে পারবেন।আনলিমিটেড কল ও ডেটা প্যাকেজ বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আনলিমিটেড ভয়েস কল ও ডেটা প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সার ও পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে এসব প্যাকেজ ডিজাইন করা হচ্ছে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকারি উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিসিএল MVNO সিমের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুলভ মূল্যে স্মার্ট কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিতে চায়। এতে করে ডিজিটাল ডিভাইড কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।অবকাঠামো ছাড়াই আধুনিক সেবানিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো না থাকায় বিশাল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়বে না। ফলে বিদ্যমান অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কম খরচে উন্নত সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিটিসিএল জানিয়েছে খুব শিগগিরই MVNO সিমের প্যাকেজ শর্তাবলি ও প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রেগণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরেন যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।তিনি আরও বলেন সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। এ সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।পরিচিতি সভায় টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অতিথিবৃন্দ নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ভিও-ওয়াই-ফাই চালু করলেও টেলিটক এখনও পিছিয়ে আধুনিক কলিং সেবা থেকে বঞ্চিত রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটরের গ্রাহকেরা দেশজুড়ে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (VoWiFi) বা ভিও-ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। নতুন এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা নিজেদের বাসা বা অফিসের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এইচডি ভয়েস কোয়ালিটিতে নিরবচ্ছিন্ন কল করতে পারছেন। নেটওয়ার্ক দুর্বল এলাকা, উঁচু ভবন, ঘনবসতিপূর্ণ স্থাপনা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা গ্রাহকেরা এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে বেসরকারি অপারেটররা যখন একের পর এক আধুনিক কলিং সেবা চালু করছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এখনও এসব সুবিধা চালু করতে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ।সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের প্রথম ফাইভজি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগ পেলেও টেলিটক আজও সেই প্রযুক্তি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত কল ড্রপ ও কল সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাহকদের অভিযোগ নেটওয়ার্ক শেয়ারিং চুক্তির আওতায় টেলিটকের অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি অপারেটর রবি সুবিধা পেলেও টেলিটকের গ্রাহকেরা বিনিময়ে রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না। একসময় পরীক্ষামূলকভাবে রোমিং চিহ্ন দিয়ে অন্য নেটওয়ার্কে সংযোগ মিললেও বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে।এদিকে দেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর ধাপে ধাপে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সেবা চালু করলেও টেলিটক এখনও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে উন্নত মানের ভয়েস কল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষাধিক গ্রাহক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন টেলিটকের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত ওয়াই-ফাই কলিং (VoWiFi) চালু করা গেলে অন্তত ঘরের ভেতর কিংবা অফিসে নিরবচ্ছিন্ন কলিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই অপারেটরের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরত।গ্রাহকদের মতে টেলিটক কেবল একটি মোবাইল কোম্পানি নয়—এটি জনগণের টাকায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই এর কাছে প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত VoLTE ও VoWiFi সেবা চালু না হলে ভবিষ্যতে টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে টেলিটক কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জানতে চান গ্রাহকেরা।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।