তথ্য-প্রযুক্তি

প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল: স্বস্তিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল: স্বস্তিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এই চার্জ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মিটার ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল— মিটারের মূল্য পরিশোধের পরও কেন বছরের পর বছর এই অতিরিক্ত চার্জ বহাল রাখা হচ্ছে।এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক মহলে সমালোচনা ও দাবি জানানো হচ্ছিল।নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় কিছুটা কমবে এবং এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
কোডিংয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে গুগলের এআই টুলস
কোডিংয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে গুগলের এআই টুলস

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এক বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা কোডিংয়ের ক্ষেত্রে। একসময় যে কোডিংকে কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির একচেটিয়া ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের অত্যাধুনিক এআই টুলস সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। জেমিনি (Gemini) এবং ডুয়েট এআই (Duet AI)-এর মতো শক্তিশালী এআই মডেলগুলি কোড লেখা থেকে শুরু করে ডিবাগিং, কোড পর্যালোচনা এবং এমনকি জটিল সিস্টেম ডিজাইন পর্যন্ত সবকিছুতেই ডেভেলপারদের সহায়তা করছে। এই টুলসগুলি কেবল কোডিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও ত্রুটিমুক্ত করছে না, বরং কোডিংয়ের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিকে পরিচালিত করছে, যেখানে মানুষ ও এআইয়ের সহযোগিতা হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে ডেভেলপারদের ওপর চাপ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোড লেখা সময়সাপেক্ষ এবং এতে মানবীয় ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। গুগল, তার গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে, কোডিংয়ের এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের এআই টুলসগুলি বিশাল ডেটাসেট থেকে শিখে, প্যাটার্ন চিনতে পেরে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে ডেভেলভারদের কাজকে সহজ করে তুলছে। গুগল ডিপমাইন্ডের আলফাকোড (AlphaCode) এর মতো গবেষণা প্রকল্পগুলি দেখিয়েছে যে এআই এমনকি জটিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাতেও মানুষের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম, যা কোডিংয়ে এআইয়ের সম্ভাবনার এক ঝলক প্রদর্শন করে। গুগলের এআই টুলসের মধ্যে জেমিনি এবং ডুয়েট এআই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেমিনি, গুগলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মাল্টিমোডাল এআই মডেল হিসেবে, কেবল টেক্সট নয়, কোড, ছবি এবং ভিডিওর মতো বিভিন্ন তথ্য বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম। কোডিংয়ের ক্ষেত্রে, জেমিনি ডেভেলপারদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি করতে পারে, বিদ্যমান কোডে ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে, কোডের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং এমনকি এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কোড অনুবাদও করতে পারে। অন্যদিকে, ডুয়েট এআই হল ওয়ার্কস্পেস (Workspace) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর জন্য তৈরি গুগলের এআই-চালিত সহযোগী। এটি বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টে (যেমন, VS Code, JetBrains IDEs) সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে কাজ করে। ডুয়েট এআই ডেভেলপারদের জন্য কোড সাজেশন, স্বয়ংক্রিয় কোড সম্পন্নকরণ, ডিবাগিং সহায়তা এবং কোড রিফ্যাক্টরিংয়ের মতো কাজগুলি করে। এর মাধ্যমে ডেভেলপাররা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি থেকে মুক্তি পেয়ে আরও সৃজনশীল এবং উচ্চ-স্তরের সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করতে পারেন। কোড জেনারেশন, কোড ব্যাখ্যা এবং কোড সংশোধনের মতো ক্ষমতাগুলি ডেভেলপারদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গুগলের এআই টুলস ডেভেলপারদের জন্য অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে: ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: স্বয়ংক্রিয় কোড জেনারেশন এবং ত্রুটি শনাক্তকরণের মাধ্যমে ডেভেলপাররা অনেক দ্রুত কাজ সম্পন্ন সম্পন্ন করতে পারেন, যা তাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।

মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম আনছে বিটিসিএল

বাংলাদেশে প্রথম সরকারি MVNO সিম আনছে বিটিসিএল টেলিকম খাতে নতুন যুগের সূচনা কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সরকারি Mobile Virtual Network Operator (MVNO) সিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি যা গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও বহুমুখী ডিজিটাল সেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।MVNO হলো এমন একটি মোবাইল অপারেটর ব্যবস্থা যেখানে নিজস্ব টাওয়ার বা অবকাঠামো না থাকলেও বিদ্যমান মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের (যেমন টেলিটক) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। বিটিসিএল এই মডেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে চায়।কম দামে ইন্টারনেট ও কল সুবিধা বিটিসিএল MVNO সিমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য কাঠামো। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে দেশের টেলিকম বাজারে অন্যতম সর্বনিম্ন মূল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।ট্রিপল-প্লে ও কোয়াড-প্লে সেবার পরিকল্পনাএকটি মাত্র সিমের মাধ্যমেই গ্রাহকদের জন্য একাধিক সেবা একত্রে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিটিসিএল। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে— ভয়েস কল সুবিধা উচ্চগতির মোবাইল ডেটা আলাপ অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক ও সাধারণ কলের সমন্বিত সুবিধা বিভিন্ন OTT প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশনএতে করে গ্রাহকরা একই সঙ্গে যোগাযোগ ইন্টারনেট ও বিনোদনের সুবিধা পেতে পারবেন।আনলিমিটেড কল ও ডেটা প্যাকেজ বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আনলিমিটেড ভয়েস কল ও ডেটা প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সার ও পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে এসব প্যাকেজ ডিজাইন করা হচ্ছে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকারি উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিসিএল MVNO সিমের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুলভ মূল্যে স্মার্ট কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিতে চায়। এতে করে ডিজিটাল ডিভাইড কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।অবকাঠামো ছাড়াই আধুনিক সেবানিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো না থাকায় বিশাল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়বে না। ফলে বিদ্যমান অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কম খরচে উন্নত সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিটিসিএল জানিয়েছে খুব শিগগিরই MVNO সিমের প্যাকেজ শর্তাবলি ও প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রেগণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরেন যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।তিনি আরও বলেন সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। এ সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।পরিচিতি সভায় টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অতিথিবৃন্দ নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভকামনা জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ভিও-ওয়াই-ফাই চালু করলেও টেলিটক এখনও পিছিয়ে

ভিও-ওয়াই-ফাই চালু করলেও টেলিটক এখনও পিছিয়ে আধুনিক কলিং সেবা থেকে বঞ্চিত রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটরের গ্রাহকেরা দেশজুড়ে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (VoWiFi) বা ভিও-ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। নতুন এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা নিজেদের বাসা বা অফিসের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এইচডি ভয়েস কোয়ালিটিতে নিরবচ্ছিন্ন কল করতে পারছেন। নেটওয়ার্ক দুর্বল এলাকা, উঁচু ভবন, ঘনবসতিপূর্ণ স্থাপনা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা গ্রাহকেরা এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে বেসরকারি অপারেটররা যখন একের পর এক আধুনিক কলিং সেবা চালু করছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এখনও এসব সুবিধা চালু করতে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ।সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের প্রথম ফাইভজি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগ পেলেও টেলিটক আজও সেই প্রযুক্তি সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ দুর্বল হওয়ায় নিয়মিত কল ড্রপ ও কল সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গ্রাহকদের অভিযোগ নেটওয়ার্ক শেয়ারিং চুক্তির আওতায় টেলিটকের অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি অপারেটর রবি সুবিধা পেলেও টেলিটকের গ্রাহকেরা বিনিময়ে রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না। একসময় পরীক্ষামূলকভাবে রোমিং চিহ্ন দিয়ে অন্য নেটওয়ার্কে সংযোগ মিললেও বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে।এদিকে দেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর ধাপে ধাপে ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE) সেবা চালু করলেও টেলিটক এখনও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে উন্নত মানের ভয়েস কল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষাধিক গ্রাহক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন টেলিটকের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা কাটাতে দ্রুত ওয়াই-ফাই কলিং (VoWiFi) চালু করা গেলে অন্তত ঘরের ভেতর কিংবা অফিসে নিরবচ্ছিন্ন কলিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই অপারেটরের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরত।গ্রাহকদের মতে টেলিটক কেবল একটি মোবাইল কোম্পানি নয়—এটি জনগণের টাকায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই এর কাছে প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত VoLTE ও VoWiFi সেবা চালু না হলে ভবিষ্যতে টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে টেলিটক কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জানতে চান গ্রাহকেরা।

জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
সিমের অপব্যবহার রোধে কঠোর সরকার: একজনের নামে ৫টির বেশি সিম নয়

মোবাইল সিমের অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১ জানুয়ারি (২০২৬) থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচটি মোবাইল সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন। বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে যাদের নামে ৬ থেকে ১০টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সিমের সংখ্যা কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। মূলত সিমের অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, তবে বিটিআরসি বলছে—দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী। বিটিআরসির তথ্যমতে, মোবাইল সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো উন্নত দেশগুলো। বিটিআরসির সর্বশেষ (অক্টোবর ২০২৫) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়। অপারেটরভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো: অপারেটরের নাম গ্রাহক সংখ্যা গ্রামীণফোন ৮ কোটি ৫৯ লাখ রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৭৫ লাখ বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৯ লাখ টেলিটক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার এর আগে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিমগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি। ওই সময় প্রায় ৬৭ লাখ সিম নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী: গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। এখনো ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম অতিরিক্ত রয়ে গেছে যা বাতিল হয়নি। বিটিআরসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সিমগুলো বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই সংযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জানুয়ারী ১, ২০২৬ 0
বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকদের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ। বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবীরের বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থানীয় সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সৎ সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি বলেন,সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকারের পক্ষে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভীকভাবে কাজ করলে সমাজ উপকৃত হবে। সাক্ষাৎকালে কমিটির সদস্যরা বঙ্গবীরের শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দিকনির্দেশনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ 0
সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ: ব্যবসায়ীদের ঘোষিত আল্টিমেটাম

সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ: ব্যবসায়ীদের ঘোষিত আল্টিমেটাম ৩০ নভেম্বর ২০২৫—হঠাৎ করেই সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরের মোবাইল মার্কেটগুলোতে ঝাঁপ ফেলা দেখা যায়। এতে ভোক্তাদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত নতুন ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন নীতিমালার প্রতিবাদে আজ সারাদিন প্রতীকীভাবে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ—নতুন নিয়মে মোবাইল সেট আমদানি, রেজিস্ট্রেশন ও বিক্রি আরও ব্যয়বহুল এবং জটিল হয়ে পড়ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। ঢাকার মৌলভী বাজার, বসুন্ধরা সিটি, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, রাজশাহীর সাহেববাজারসহ সব প্রধান মার্কেটে দোকানদাররা জানান, “আমরা ব্যবসা চালাতে চাই। কিন্তু বর্তমান নীতিতে তা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে।” এদিকে মোবাইল কেনা-বেচা, রিপেয়ার, সিম রিপ্লেসমেন্ট, ফ্ল্যাশিং ও সার্ভিসিংয়ের জন্য দোকানে আসা গ্রাহকরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক ক্রেতা জানান, “আগে থেকে কোনো ঘোষণা না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি। জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল কিনতে এসে বন্ধ দেখতে হলো।” সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে— দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। দিনের শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না—এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নভেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
মানুষের নাকে যখন পরজীবীর বাস- দেখুন বিজ্ঞান কী বলে!

মানুষের নাকের ভেতরে আমরা যা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি অদেখা জীব বাস করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জি বা হাঁপানি (asthma) আছে, তাদের নাসারন্ধ্রে অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি ধরনের ছত্রাক (fungi) পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, এই গোপন ছত্রাকগুলো নাকের মাইক্রোবায়োমকে বদলে দেয়। গবেষণালের একটি ইমিউনোলজি ক্লিনিকের ২০০ জনেরও বেশি শিশু ও তরুণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকেরই একই সাথে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও হাঁপানি ছিল। নাক থেকে নেওয়া নমুনার জিন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণত যেসব ছত্রাক অ্যালার্জি বাড়ায়, সেগুলো সবার নাকেই থাকে৷ তবে যাদের অ্যালার্জি বা হাঁপানি আছে, তাদের ক্ষেত্রে সেই ছত্রাকের পরিমাণ অনেক বেশি৷ একই সাথে AIR নামের একটি যৌগের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে যাদের দুই সমস্যাই আছে গবেষকদের মতে, এই AIR যৌগটি ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা গেলে অ্যালার্জির জ্বালা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে৷ ফলাফল থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়৷ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এবং হাঁপানি আসলে একই রোগ প্রক্রিয়ার দুটি প্রকাশ হতে পারে। ছত্রাকগুলো হয়তো সরাসরি অ্যালার্জি সৃষ্টি করে না, কিন্তু তাদের উপস্থিতি শরীরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

নভেম্বর ২৩, ২০২৫ 0
সঞ্চয়পত্র–প্রাইজবন্ড বিক্রি ও নোট বিনিময় চলবে ২০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত

সকলের সদয় অবগতির জন্য।বাংলাদেশ ব্যাংকের সেবা কার্যক্রম স্থগিত। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র–প্রাইজবন্ড বিক্রি ও নোট বিনিময় চলবে২০ নভেম্বর ২০২৫: সকলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রয়, ছেঁড়া–ফাটা নোট বিনিময় এবং এ-চালানসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেবা কার্যক্রম আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ জনগণ এসব সেবা দেশের সকল তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পূর্বের মতোই গ্রহণ করতে পারবেন। এতে জনগণের আর্থিক লেনদেন ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে এসব সেবা দিতে পারে, সে লক্ষ্যে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রয়, ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় এবং এ-চালানসহ তৎসংশ্লিষ্ট সেবা বন্ধ থাকবে। তবে, জনসাধারণ উল্লিখিত সেবাসমূহ তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেনো নির্বিঘ্নে জনসাধারণকে এসব সেবা দেয় তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়াবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নভেম্বর ১৯, ২০২৫ 0
অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধ: ব্যবহৃত সব ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের ঘোষণা বিটিআরসির
অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধ: ব্যবহৃত সব ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের ঘোষণা বিটিআরসির

১৬ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধ: ব্যবহৃত সব ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের ঘোষণা বিটিআরসির দেশের বাজারে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিষ্ঠানটি আগেই জানিয়েছিল, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত ও অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট আর নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না। তবে ইতোমধ্যে ব্যবহৃত অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের জন্য এলো গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন রবিবার (১৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানায়, ১৬ ডিসেম্বরের আগে দেশের যেকোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত সব ধরনের হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন (Auto Registration) করা হবে। এর ফলে গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো তথ্য পাঠানো বা নিবন্ধন করতে হবে না। যেসব ফোন ইতোমধ্যে নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে, সেগুলোই এই সুযোগের আওতায় আসবে। কোন কোন মোবাইল বন্ধ হয়ে যাবে? বিটিআরসি জানায়, যে মোবাইল হ্যান্ডসেট কখনোই দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়নি, অবৈধভাবে আনা এবং এনআইআইআর (NEIR) সিস্টেমে যাদের কোন তথ্য নেই, এবং ১৬ ডিসেম্বরের পর নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা করা অনিবন্ধিত ডিভাইস— এগুলো আর কোনোভাবেই নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না। ব্যবহারকারীর স্বার্থে স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন বিটিআরসি বলেছে, গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ও দেশে বৈধ মোবাইল আমদানি নিশ্চিত করতে এই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানায়, চলমান নিবন্ধনযোগ্য কোনো মোবাইল হঠাৎ বন্ধ হবে না। স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকা ডিভাইসগুলোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে। কেন এই উদ্যোগ? টিআরসির ভাষ্য অনুযায়ী— অবৈধ ও চোরাই মোবাইল আমদানি প্রতিরোধ, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি কমানো, গ্রাহকের নিরাপত্তা ও ডিভাইস ট্র্যাকিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা প্রদানের অংশ হিসেবেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম কী? বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রতিটি ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর রেকর্ড করে বৈধতা যাচাইয়ের জন্য বিটিআরসি এনইআইআর—ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার—সিস্টেম চালু করেছে। এ সিস্টেমের মাধ্যমে: কোন ডিভাইস বৈধ, কোনটি আমদানি করা হয়েছে, কোনগুলো চুরি বা হারানো, এবং কোনগুলো অবৈধভাবে নেটওয়ার্কে আছে—সব তথ্য রাখা হয়। গ্রাহকদের জন্য বিটিআরসির পরামর্শ বিটিআরসি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে— কোনো ফোন ১৬ ডিসেম্বরের আগে অন্তত একবার যেকোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে ব্যবহার করতে, নতুন ফোন কেনার সময় অবশ্যই বৈধ আমদানি নথিপত্র পরীক্ষা করতে, এবং * *#06# ডায়াল করে আইএমইআই মিলিয়ে দেখতে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে বন্ধ হয়ে যাবে সব ধরনের অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল হ্যান্ডসেট—এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে চলমান প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ব্যবহৃত অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার (১৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানায়, ১৬ ডিসেম্বরের আগে দেশের যেসব মোবাইল হ্যান্ডসেট মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে আমদানি করা ও নেটওয়ার্কে আগে কখনো যুক্ত হয়নি—এমন হ্যান্ডসেটগুলো ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে না। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত অনিবন্ধিত ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকায় তা স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। বিটিআরসি জানায়, দেশে বৈধভাবে আমদানি নিশ্চিত করা, কর ফাঁকি রোধ করা এবং নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানায়, বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য কোনো মোবাইল ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে না, বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নিজে থেকেই নিবন্ধিত হবে। দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধ আমদানি উৎসাহিত করা এবং কালোবাজারি প্রতিরোধে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালুর অংশ হিসেবে কয়েক মাস ধরেই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিটিআরসি।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
বিশ্বব্যাপী সার্ভার বিপর্যয়: Canva, Venmo, Amazon সহ জনপ্রিয় অ্যাপ ডাউন

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) হঠাৎ করে লগইন সমস্যায় পড়েছেন, যখন একযোগে Canva, Venmo, Amazon, Snapchat, Roblox, ChatGPT, Fortnite, Duolingo, PayPal, এমনকি McDonald’s অ্যাপসহ অসংখ্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের সার্ভার বিভ্রাট দেখা দেয়। জনপ্রিয় ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট Down Detector জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে Amazon-এর ক্লাউড সার্ভিস “AWS” (Amazon Web Services)-এর প্রযুক্তিগত ত্রুটি। Perplexity-এর সিইও আরাভিন্দ শ্রীনিবাস এক্স (X)-এ এক পোস্টে জানান, “আমাদের সার্ভিস বর্তমানে ডাউন রয়েছে। এর মূল কারণ AWS-এর ত্রুটি। আমরা সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছি।” AWS-এর স্ট্যাটাস ড্যাশবোর্ডে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের US-EAST-1 রিজিয়নে বর্তমানে বাড়তি ত্রুটি হার (error rate) ও বিলম্ব (latency) দেখা যাচ্ছে। যদিও সমস্যা দ্রুতই অন্যান্য অঞ্চলকেও প্রভাবিত করছে। AWS প্রথম এই সমস্যার খবর দেয় স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ১১ মিনিটে (ET) এবং জানায়, তারা সমস্যার মূল কারণ অনুসন্ধান ও সমাধানে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণ পুনরুদ্ধারের (full restoration) কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, AWS-এর এই অঞ্চলে পূর্বেও ২০২০, ২০২১ এবং ২০২৩ সালে অনুরূপ বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল, যা তখনও বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অ্যাপ ও সাইটকে প্রভাবিত করেছিল।

অক্টোবর ২০, ২০২৫ 0
মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”–এ প্রথম রানার্সআপ আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া
মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”–এ প্রথম রানার্সআপ আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া

“মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”–এ প্রথম রানার্সআপ আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া দেশের আয়োজিত বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা “মিস এন্ড মিসেস এলিগেন্স বাংলাদেশ সিজন ওয়ান”-এ প্রথম রানার্সআপের মুকুট জয় করলেন তরুণ ফ্যাশন মডেল আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া। ফ্যাশন জগতে ইতিমধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। শুধু মডেলিং নয়, সিনথিয়া অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন বুকে লালন করছেন। ইতোমধ্যে তিনি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায় “দেনা পাওনা” সিনেমায় অভিনয় করছেন। রানার্সআপের মুকুট মাথায় পরার পর আবেগে আপ্লুত সিনথিয়া জানান—ঢালিউড কুইন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস আমাকে মুকুট পড়িয়ে দিয়েছেন এই আনন্দ আমি বুঝাতে পারবো না। “এই সাফল্য আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। তবে আমি শুধু এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আমি চাই নিজেকে মিডিয়া অঙ্গনে আরও দূর, বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে। দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই।” আজকের এই অর্জন আমি আবার মা বাবা পরিবার এবং আমাকে যারা সাপোর্ট করেছেন তাদেরকে উৎসর্গ করতে চাই। বহু বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন সিনথিয়া। তাঁর অদম্য চেষ্টা, আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাশন থেকে চলচ্চিত্র—সব জায়গাতেই আলো ছড়ানোর ইচ্ছে তার। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে সিনথিয়া এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর কথায়— “এই মুকুট আমার স্বপ্নযাত্রার প্রথম ধাপ মাত্র। সামনে আরও অনেক পথ, আরও অনেক লড়াই।”

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

জানুয়ারী ৩১, ২০২৫ 0
ফেসবুক পেজ হ্যাক থেকে আপনার পেজ কিভাবে রক্ষা করবেন?

ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়া বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবসায়ী, নিউজ পোর্টাল, কিংবা জনপ্রিয় পেজ মালিকদের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে কিছু কার্যকরী পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার ফেসবুক পেজকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আসুন জেনে নেই, কিভাবে আপনার পেজ হ্যাকিং থেকে রক্ষা করবেন। ১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড শক্তিশালী এবং জটিল হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন: পাসওয়ার্ডে বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন। সহজে অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড (যেমন: 123456, password, abcdefg) ব্যবহার করবেন না। নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ২. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অতিরিক্ত সুরক্ষা পায়। এটি চালু করতে: ফেসবুক সেটিংসে যান। "Security and Login" অপশন নির্বাচন করুন। "Two-Factor Authentication" অপশনে গিয়ে এটি সক্রিয় করুন। কোড জেনারেটর বা এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবহার করুন। ৩. অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না ফিশিং অ্যাটাকের মাধ্যমে অনেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে থাকে। অপরিচিত ইমেল বা মেসেজের লিংকে ক্লিক করবেন না। ফেসবুকের লগইন পেজ নিশ্চিত হয়ে ব্রাউজারে টাইপ করে প্রবেশ করুন। ৪. ট্রাস্টেড কন্ট্যাক্টস যুক্ত করুন ফেসবুকের "Trusted Contacts" ফিচার ব্যবহার করে নির্ভরযোগ্য বন্ধুদের যোগ করুন। আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। ৫. পেজ রোল ও পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করুন আপনার ফেসবুক পেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অ্যাডমিন বা এডিটর হিসেবে যুক্ত করুন। নিয়মিত পেজের অ্যাডমিন ও এডিটর লিস্ট চেক করুন। অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অ্যাডমিনকে সরিয়ে দিন। ৬. অজানা অ্যাপ এবং প্লাগইন থেকে সাবধান থাকুন ফেসবুকের সাথে সংযুক্ত থার্ড-পার্টি অ্যাপ এবং প্লাগইনগুলো চেক করুন। অনির্ভরযোগ্য বা সন্দেহজনক অ্যাপগুলো রিমুভ করুন। ৭. সন্দেহজনক লগইন চেক করুন ফেসবুক আপনাকে কোথা থেকে লগইন হয়েছে তা দেখার সুযোগ দেয়। "Where You're Logged In" অপশন থেকে অজানা ডিভাইস ও লোকেশন চেক করুন। যদি সন্দেহজনক কিছু পান, তাহলে "Log Out of All Sessions" অপশন ব্যবহার করুন। ৮. নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন আপনার গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট, ছবি ও তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন। যদি কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। ৯. ফেসবুকের অফিসিয়াল সাপোর্ট ব্যবহার করুন যদি আপনার পেজ হ্যাক হয়ে যায় বা হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ফেসবুকের অফিসিয়াল হেল্প সেন্টার থেকে সাহায্য নিন। উপসংহার আপনার ফেসবুক পেজ হ্যাক থেকে রক্ষা পেতে এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখলে আপনার পেজ সুরক্ষিত থাকবে এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমে যাবে।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ 0
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল স্টারলিংক ইন্টারনেট

স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশে তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০ মে তারিখে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ মে বিকেলে স্টারলিংক থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। একইসাথে স্টারলিংক তাদের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মেও এই ঘোষণা দিয়েছে। ফয়েজ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করা হয়েছে— Starlink Residence এবং Residence Lite। প্রথমটির মাসিক খরচ ৬,০০০ টাকা এবং দ্বিতীয়টির খরচ ৪,২০০ টাকা। তবে উভয় প্যাকেজের জন্য এককালীন সেটআপ যন্ত্রপাতির খরচ প্রায় ৪৭,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্যাকেজগুলোর কোন স্পিড বা ডেটা লিমিট নেই। গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতিতে আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ফয়েজ আহমেদ বলেন, যদিও এটি কিছুটা ব্যয়বহুল, তবে এটি প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য একটি উচ্চমান ও উচ্চগতির টেকসই ইন্টারনেট সেবার বিকল্প তৈরি করেছে। পাশাপাশি যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো ফাইবার অপটিক বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছেনি, সেখানে স্টারলিংক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে। এনজিও, ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তারা বছরব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পেয়ে উপকৃত হবেন। উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবং সেটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তার বিশেষ সহকারী জানিয়েছেন।

মে ২০, ২০২৫ 0
স্টারশিপ মিশনে বড় ধাক্কা, স্টারলিংক স্যাটেলাইটও স্থাপন করতে পারল না স্পেসএক্স

স্পেসএক্সের স্টারশিপ মঙ্গলবার টেক্সাস থেকে মহাকাশে ছুটে গেলেও প্রায় মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরপাক খেতে থাকে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে এলন মাস্কের মঙ্গলগ্রহে মানব পাঠানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির সামনে আবারও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিল। ৪০০ ফুট (১২২ মিটার) লম্বা এই স্টারশিপ রকেট সিস্টেম মাস্কের ‘মাল্টিপ্লানেটারি লাইফ’ স্বপ্নের মূল ভিত্তি। এটি স্পেসএক্সের স্টারবেস, টেক্সাস লঞ্চ সাইট থেকে উৎক্ষেপণ করে এবং এর আগের দুইটি ধ্বংসাত্মক ব্যর্থতা যেটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের উপর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দেয় এবং বহু বিমানকে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল – সেই সীমা অতিক্রম করে। এই উৎক্ষেপণ ছিল স্টারশিপের নবম পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, এবং এই প্রথম একটি পুনঃব্যবহৃত বুস্টার রকেট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফেরার পথে ২৩২ ফুট লম্বা নিচের বুস্টার রকেটটির সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এটি পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রিত জলপতনের পরিবর্তে সাগরে আছড়ে পড়ে। উপরের স্টারশিপ অংশটি উপ-কক্ষপথ পর্যন্ত পৌঁছালেও প্রায় ৩০ মিনিট পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরপাক খেতে শুরু করে। এর আগে, কৃত্রিম উপগ্রহ স্টারলিংকের আটটি মক স্যাটেলাইট স্থাপন করার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়, কারণ সেগুলি ছাড়ার ‘পেজ ক্যান্ডি ডিসপেন্সার’-সদৃশ যন্ত্রটি ঠিকমতো কাজ করেনি। স্পেসএক্সের সরাসরি সম্প্রচারে ড্যান হুয়েট বলেন, "আজকের মিশনের কক্ষপথ সংক্রান্ত অনেক লক্ষ্যই পূরণ হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।" উৎক্ষেপণের পর এলন মাস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল, যার শিরোনাম ছিল "The Road to Making Life Multiplanetary", কিন্তু ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তিনি উপস্থিত হননি বা ভাষণ দেননি। পরবর্তীতে এক্স (X)-এ মাস্ক জানান, স্টারশিপের প্রধান জ্বালানি ট্যাঙ্কে একটি লিক ছিল, যা এর নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ। তিনি আরও বলেন, "বিশ্লেষণের জন্য অনেক ভালো ডেটা পাওয়া গেছে। আগামী তিনটি উৎক্ষেপণের গতি আরও বাড়বে – প্রতি ৩-৪ সপ্তাহে একটি করে উৎক্ষেপণ হবে।" স্পেসএক্স জানায়, এ বছরের স্টারশিপগুলিতে আগের মডেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ডিজাইন পরিবর্তন আনা হয়েছে। হাজার হাজার কর্মী কাজ করছে এই রকেটটিকে এমনভাবে উন্নয়ন করতে যাতে এটি বিশাল সংখ্যক স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে দিতে পারে, মানুষকে আবার চাঁদে নিয়ে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মঙ্গলে পাঠাতে পারে।

মে ১৮, ২০২৫ 0
ডিজিটাল নিরাপত্তায় এগিয়ে আসা এক তরুণ: মোঃ মিনহাজুল ইসলাম
ডিজিটাল নিরাপত্তায় এগিয়ে আসা এক তরুণ: মোঃ মিনহাজুল ইসলাম

বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এক তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমী—মোঃ মিনহাজুল ইসলাম। তিনি একজন উদ্যমী আইটি উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি সচেতনতাবিষয়ক কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সাইবার সিকিউরিটি ও অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তরুণ বয়স থেকেই প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী মিনহাজুল ইসলাম অনলাইন মাধ্যমে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, হ্যাকিং ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করে থাকেন। তার নেতৃত্বে অনেকে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি, মিনহাজুল নিয়মিত অনলাইন সেমিনার, কর্মশালা ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন, যাতে তরুণ প্রজন্ম নিরাপদ ডিজিটাল আচরণে উৎসাহিত হয়। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও কার্যকর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতে তিনি তরুণদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরাপত্তা কৌশল শেখানো এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে আগ্রহী।  

আগস্ট ৪, ২০২৫ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

জাতীয়

সরিষাবাড়ীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মুক্তধ্বনি ডেক্স এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?