৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও উন্নয়ন তদারকিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
কোন জেলার দায়িত্বে কে
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলামকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি, হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ, আহম্মদ সোহেল মনজুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলহাজ্ব মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তদারকি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি করবেন।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও নজরদারি
আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজর থাকবে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ দায়িত্ব বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
Tags:
জেলায়
আইনশৃঙ্খলা
দুর্নীতি
উন্নয়ন
তদারকিতে
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
হুইপদের
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সরকারি উন...
আগস্ট ২৮, ২০২৬
মির্জাপুরে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদক, ইভটিজিং,কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতা তৈরির...
আগস্ট ২৭, ২০২৬

