নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ, শিগগিরই চার্জশিট
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর সঙ্গে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে অভিযুক্ত শিক্ষকের নমুনার সঙ্গে নবজাতকের নমুনার ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর ভুক্তভোগী ১১ বছরের শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল।
একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।
র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার
মামলার পর তদন্তে নামে র্যাব-১৪। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সেফ হোমে জন্ম নেওয়া নবজাতক ও ভুক্তভোগী শিশুরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
সেফ হোমে কন্যাসন্তানের জন্ম
গত ২ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে শিশুটি তার নবজাতক সন্তানসহ সেফ হোমে আশ্রয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর কারাগারে রয়েছেন।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসার পর মামলার তদন্তে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করা হচ্ছে।
শিগগিরই আদালতে চার্জশিট
নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর জানান, চার্জশিট দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
১১ বছরের শিশুর সঙ্গে সংঘটিত এই গুরুতর অপরাধের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।
Tags:
নেত্রকোনায়
বছরের
শিশুকে
ধর্ষণ:
ডিএনএ
পরীক্ষায়
মাদ্রাসা
শিক্ষকের
পিবিআইয়ের তদন্তে গ্রেপ্তার কালু, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রায় দেড় বছর আগে সংঘটিত রাসেল মিয়া (৩৮)...
আগস্ট ২৫, ২০২৬
ময়মনসিংহে নিরাপদ খাদ্য ও অবৈধ সার মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধভাবে সার মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে ময়ম...
আগস্ট ২৪, ২০২৬

