প্যালান্টির রেকর্ড আয়, গাজা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ‘অভূতপূর্ব’ প্রবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ভূমিকার জন্য সমালোচনার মধ্যেই কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্যালান্টির আয় হয়েছে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটি বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮.১৫ বিলিয়ন থেকে ৮.১৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বাণিজ্যিক গ্রাহক ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এই আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প বলেছেন, “এই প্রান্তিকটি ছিল অভূতপূর্ব। আমাদের মার্কিন বাণিজ্যিক আয় বছরে ১৪৯ শতাংশ এবং সামগ্রিক আয় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্বের চাহিদা এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।” শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে কার্প লিখেছেন, “আমাদের ব্যবসা এমন হারে ও পরিসরে বাড়ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।”
মার্কিন সেনাবাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্যালান্টির বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। মার্কিন সরকারি ব্যবসা থেকে আয় বছরে ৯০ শতাংশ বেড়ে ৮০৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযানে কোম্পানিটির ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ রয়েছে।
২০০৩ সালে অ্যালেক্স কার্প ও পিটার থিয়েলসহ উদ্যোক্তারা প্যালান্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালে ইসরায়েলে প্রথম অফিস খোলে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ পর গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় প্যালান্টি।
গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধে কোম্পানির সম্পৃক্ততা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ওপেন ইন্টেলের তথ্য অনুযায়ী, প্যালান্টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের সফটওয়্যার যোগাযোগ, স্যাটেলাইট চিত্র ও অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য লক্ষ্য তালিকা তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩২৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৩ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার (এনএইচএস) সঙ্গে ৪৪৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে প্যালান্টি। এনএইচএস চুক্তিতে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্যালান্টির দর্শন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কার্প ও কোম্পানির কর্পোরেট বিষয়ক প্রধান নিকোলাস জামিস্কা সম্প্রতি ‘দ্য টেকনোলজিক্যাল রিপাবলিক’ বইয়ে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। সমালোচকরা এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিজম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ বিষয়ে প্যালান্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দাম ১৪ শতাং...
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী । বক্তব্য প্রদানকালে ত...

