বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহে ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট’
বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহে ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট’
বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬’। শনিবার (২৯ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজে তাদের উৎসাহিত করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রতিযোগিতার নির্ধারিত ভেন্যু ছিল প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুল। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিজ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানার্জনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও আগ্রহের বিষয় নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তায় সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে আগ্রহী হতে হবে।তিনি আরও বলেন বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পরিধি বাড়াতে হবে। প্রশ্ন করার অভ্যাস যুক্তি দিয়ে বিষয় বিশ্লেষণ এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা তাদের ভবিষ্যতের জন্য আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।জেলা প্রশাসক বলেন বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নিশ্চিত করে না বরং কুসংস্কার অজ্ঞতা ও অযৌক্তিক চিন্তার বিরুদ্ধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।প্রতিযোগীদের হাতে গাছের চারাএবারের বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।আয়োজকদের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। একটি চারা হাতে তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তাদের মতে, শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধা যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টি এ আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাছ লাগানো ও পরিবেশ সংরক্ষণকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম সচেতন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় একই দিনে একযোগে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুরো জেলায় সৃষ্টি হয় বিজ্ঞানচর্চার এক ভিন্নধর্মী আবহ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞান যুক্তিবোধ বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীল চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রচলিত শিক্ষার গণ্ডির বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬’ শুধু একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা নয় এর সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও যুক্ত হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়ও তুলে ধরা হয়েছে এ আয়োজনের মাধ্যমে।আয়োজকদের প্রত্যাশা এ আয়োজনের মাধ্যমে ময়মনসিংহের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে এবং এখান থেকেই ভবিষ্যতের গবেষক বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক তৈরির পথ সুগম হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো একদিন বড় হয়ে ময়মনসিংহের সবুজায়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
Tags:
বিজ্ঞানমনস্ক
উদ্ভাবনী
প্রজন্ম
গড়ার
প্রত্যয়ে
ময়মনসিংহে
ডিসিস
সায়েন্স
বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহে ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট’ বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম...
আগস্ট ৩০, ২০২৬
টাঙ্গাইল জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য,সংগ্রাম ও সমৃদ্ধির দীর্ঘ পথচলা টাঙ্গাইল বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ,শিক্ষা,...
আগস্ট ২৬, ২০২৬

