বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সেখানে বর্তমান ও সাবেক নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা যা বলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ৫ আগস্ট বিজয় উৎসবের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, এটি লজ্জাজনক। তিনি ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় ছাত্রদলও ছাত্রলীগের মতো বিএনপির পতন ঘটাবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রদল ও বিএনপি ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে। ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান হামলায় সহযোগিতাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী বিএনপি গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলেছে। দুই বছরেও মাত্র ছয়টি মামলার রায় হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে হল দখল ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদলের সন্ত্রাস বন্ধ না হলে সংগঠনটি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নবীনবরণ বর্ষসেরা শিক্ষার্থী ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল-এর আয়োজনে পুলিশ লাইনস্ মাল্টিপারপাস শেডে নবীনবরণ, বর্ষসেরা শিক্ষার্থী ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল ও সভাপতি, পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), টাঙ্গাইল। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বর্ষসেরা শিক্ষার্থী ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ সময় জনাব কাজী শাহনেওয়াজ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) টাঙ্গাইল জনাব মোঃ নিজাম উদ্দিন শেখ সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) টাঙ্গাইল সহ পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টাঙ্গাইলের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও সকল শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ধোবাউড়ার তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন ময়মনসিংহ’ কর্মসূচির উদ্বোধন পরিচ্ছন্ন ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ক্লিন ময়মনসিংহ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. মোশারফ হোসাইন বলেন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সচেতন হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। বিদ্যালয়ভিত্তিক এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে।তিনি আরও বলেন একটি পরিচ্ছন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান ক্লিন ময়মনসিংহ’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মধুপুরে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত ১৭ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ মেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৭ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিশুদের মেধা,মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো সাইফুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন শোলাকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কেরামত আলী এবং শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকাদ্দেছ আলী।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শোলাকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা মল্লিক।প্রধান শিক্ষক তাহমিনা মল্লিক জানান শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ শিশুমেলার আয়োজন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবক সুধীজন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জুলাই) ইমান আলী বায়তুল কুরআন বালক-বালিকা মাদ্রাসার হলরুমে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মুফতী শেখ মাহদী হাসান শিবলী। সিনিয়র সভাপতি নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা ফজলুল হক (টাঙ্গাইল সদর)। সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন নোমান আমোদ (গোপালপুর) ও হাফেজ মাওলানা শরিফুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ)। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাওলানা নুরুল ইসলাম। সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা আল-আমিন (কালিহাতী), মুফতী সাইফুল ইসলাম (নলিন) এবং হাফেজ মেহেদী হাসান মিরাজ (ভূঞাপুর)। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন মুফতী রবিউল ইসলাম। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান হাফেজ মাওলানা আবু রায়হান (ধনবাড়ী) ও মাওলানা হাবিবুর রহমান (মধুপুর)। অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা আব্দুর রশিদ (ঘাটাইল)। দফতর সম্পাদক মাওলানা জুবাইর (ঘাটাইল) এবং সহ-দফতর সম্পাদক শামীম মিয়া (গোপালপুর)। প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন হাফেজ সাজ্জাদ হোসেন (সরিষাবাড়ী) এবং সহ-প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাসউদ (সরিষাবাড়ী)। এছাড়া সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে হাফেজ মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মুফতী আব্দুর রশিদ (ভূঞাপুর), ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মুফতী আবুজর গিফারী, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মাওলানা এরশাদ আলী, নির্বাহী সদস্য হিসেবে মাওলানা হাফিজুর রহমান (ধনবাড়ী) এবং সদস্য হিসেবে হাফেজ রাকিবুল ইসলাম (কালিহাতী) নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের মানোন্নয়ন, নূরানী শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলার নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে মির্জাপুরে এইচএসসি কেন্দ্রের দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ভুলবশত এক পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের অডিটরিয়াম কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি শনাক্ত করেন ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার।ঘটনা ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ভুল প্রশ্নপত্রটি ফিরিয়ে নিয়ে তাকে ২০২৬ সালের বাংলা প্রথমপত্রের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এতে পরীক্ষার্থী নির্ধারিত প্রশ্নেই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।কেন্দ্র সচিব ও শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণি জানান দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন পরীক্ষা পরিচালনায় যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নজরুল বর্ষ উদযাপনে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন বিদ্রোহ সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সাহিত্য সংগীত ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিকে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা জাতীয় কবির বহুমাত্রিক সাহিত্যকর্ম স্বাধীনতা সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।পরে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলসংগীত কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। মনোমুগ্ধকর এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।আয়োজকদের মতে নজরুল বর্ষ উদযাপনের এ আয়োজন জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেতডোবা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন Kalihati Blood Foundation-এর উদ্যোগে টাঙ্গাইলের বেতডোবা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।আয়োজকরা জানান একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে Kalihati Blood Foundation-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন।গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান”— Kalihati Blood Foundation-এর উদ্যোগে বেতডোবা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। 🌱🌳
টাঙ্গাইলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ৬৬টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৩২ হাজার ৮৭৯ পরীক্ষার্থী নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা ১৬ জুন ২০২৬ আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু স্বচ্ছ শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভায় জানানো হয় চলতি বছর টাঙ্গাইল জেলার ৬৬টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৩২ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীরা এসব কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জেলা পুলিশ শিক্ষা বিভাগ,স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং কেন্দ্র সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা পরীক্ষা চলাকালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।সভায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রশ্নপত্র গ্রহণ সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রমের নিরাপত্তার ওপর। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এ-সংক্রান্ত কোনো গুজব ছড়ানোর চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড়, কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম, অসাধু চক্রের তৎপরতা এবং নকলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক টহল জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।সভায় বলা হয় পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকদের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নকল অসদুপায় অবলম্বন কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় বক্তারা বলেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয় বরং অভিভাবক শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষেরও দায়িত্ব। একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন,টাঙ্গাইল জেলায় আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম নকল বা প্রশ্নফাঁসের সুযোগ দেওয়া হবে না। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয় এবং পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিয়ম-কানুন মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। জেলা প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে সকলের সহযোগিতায় টাঙ্গাইলে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সংশ্লিষ্ট অতিথি। এ সময় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রতিযোগিতার ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবক তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে অংশগ্রহণকারী মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখে। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গোপালপুরে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের গোপালপুরে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশের লক্ষ্যে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।উক্ত প্রদর্শনীতে উপজেলার মোট ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ছিল ৩টি কলেজ ও ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে। বিচারকরা প্রকল্পগুলোর সৃজনশীলতা, কার্যকারিতা উপস্থাপনা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞান শিক্ষকদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।প্রতিযোগিতার ফলাফল: প্রথম স্থান: নন্দনপুর রাধা রানী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান: গোপালপুর সরকারি কলেজ তৃতীয় স্থান: ভেঙ্গোলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে সহায়ক হবে।
টাঙ্গাইল মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হাসানুজ্জামিল শাহিন টাঙ্গাইলের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হাসানুজ্জামিল শাহিন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কলেজের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক,শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।এ সময় কলেজের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নবনিযুক্ত সভাপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন তাঁর নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।নবনিযুক্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কলেজের উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান টাঙ্গাইলে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও উৎসাহিত করতে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি। বুধবার জেলা পুলিশ, টাঙ্গাইল এবং বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি, টাঙ্গাইল শাখার আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। তিনি পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল-এর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অধ্যবসায়, সততা ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ রবিউল ইসলাম এবং কাজী শাহনেওয়াজ। এছাড়াও পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যের ধারক সরকারি সা’দত কলেজ ইতিহাস বিকাশ ও অবদান টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত সরকারি সা’দত কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় এক শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই বিদ্যাপীঠ উত্তরবঙ্গ ও মধ্যাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম নির্ভরতার কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করে আসছে। এর প্রতিষ্ঠা, বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদান—সব মিলিয়ে সা’দত কলেজ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর মধ্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও জমিদার পন্নী পরিবারের অবদানব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে জমিদার ও অভিজাত পরিবারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষানুরাগী জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ১৯২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর পিতামহ সা’দত আলী খান পন্নী-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে করটিয়ায় এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন সময়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল। ঢাকায় গিয়ে পড়াশোনা করা অধিকাংশ সাধারণ পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সা’দত কলেজের জন্ম হয়। কলেজটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে প্রায় ২৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সে সময়ের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত ছিল। শুরুতে মাত্র ১০৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ইবরাহীম খাঁর নেতৃত্ব কলেজটির বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ ইবরাহীম খাঁ। তিনি ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইবরাহীম খাঁ ছিলেন একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল শিক্ষাচিন্তার ধারক। তাঁর নেতৃত্বে কলেজটিতে শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নয়, সাহিত্য সংস্কৃতি, বিতর্ক ও সামাজিক চেতনার বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনিশিক্ষার্থীদের নৈতিকতা নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষ মনোযোগ দেন।অনেক বিশ্লেষকের মতে সা’দত কলেজের প্রাথমিক শক্ত ভিত নির্মাণে ইবরাহীম খাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বই ছিল মূল চালিকাশক্তি। একাডেমিক বিকাশ: সাধারণ কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানসা’দত কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ধারাবাহিকভাবে এর একাডেমিক পরিধি বৃদ্ধি পেতে থাকে।ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ (১৯৩৮)প্রতিষ্ঠার মাত্র এক যুগের মধ্যেই কলেজটি শিক্ষাগত মান ও শিক্ষার্থী সংখ্যার কারণে ১৯৩৮ সালে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। এটি ছিল কলেজটির জন্য প্রথম বড় একাডেমিক স্বীকৃতি।অনার্স কোর্স চালু (১৯৬৬) পাকিস্তান আমলে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১৯৬৬ সালে কলেজটিতে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। এর ফলে টাঙ্গাইল অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পর্যায়েই উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। মাস্টার্স কোর্স চালু (১৯৭৪)স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে মাস্টার্স কোর্স চালুর মাধ্যমে কলেজটি পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর কলেজে রূপ নেয়। এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে আরেকটি বড় মাইলফলক। বর্তমানে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।ঐতিহাসিক মূল ভবন ও স্থাপত্য ঐতিহ্য কলেজটির মূল ভবন শুধু একটি প্রশাসনিক বা একাডেমিক ভবন নয় এটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যেরও অংশ। বাংলার প্রখ্যাত নেতা এ কে ফজলুল হক এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।১৯৩৯ সালে নির্মিত ভবনটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটি এখনো কলেজের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির নির্মাণশৈলীতে উপমহাদেশীয় ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।সরকারিকরণ ও প্রশাসনিক পরিবর্তন১৯৭৯ সালের ৭ জুলাই কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারিকরণের ফলে কলেজটির প্রশাসনিক কাঠামোশিক্ষক নিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হয়।সরকারি কলেজে রূপান্তরের পর শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং কলেজটি জাতীয় পর্যায়ে আরও পরিচিতি লাভ করে।রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভূমিকা সা’দত কলেজ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভাষা আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ কলেজের ছাত্রসমাজ অংশগ্রহণ করেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।সাংস্কৃতিক চর্চা কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাহিত্যচর্চ নাটক বিতর্ক, সংগীত ও ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান বহু নেতৃত্ব তৈরি করেছে।বর্তমান অবস্থান ও গুরুত্ব বর্তমানে সরকারি সা’দত কলেজ টাঙ্গাইল অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কলেজ। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। হাজারো শিক্ষার্থী প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস একাডেমিক সুনাম, ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ও সামাজিক অবদান একে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর কাতারে স্থান দিয়েছে।এক শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সরকারি সা’দত কলেজ আজও শিক্ষা বিস্তার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
টাঙ্গাইলে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন শাহীন টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ-এর গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ হাছানুজ্জামানিল শাহীন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিসিয়াল আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে ২০২৬) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি-২০১৯ এর ৭নং ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কলেজের পূর্ববর্তী সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মনোনয়ন পরিবর্তন করে তাঁর স্থলে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মোঃ হাছানুজ্জামানিল শাহীনকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। জানা গেছে, নবনির্বাচিত সভাপতি আগামী ১ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর এ মনোনয়ন আগামী ২২ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী, মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ মনোনয়ন প্রত্যাহারের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ সংশ্লিষ্ট মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুরে টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত “নূরানী স্কলারশিপ–২০২৫” উপলক্ষে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৯ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মুহতামিম, আসাদুজ্জামান খান দারুল উলুম মাদরাসা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য (টাঙ্গাইল-২: গোপালপুর-ভূঞাপুর) ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাব্বির রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস, ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মহী উদ্দিন, কুঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং কৃষ্ণপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলাম, ইকরা তা’লীমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা হারুনুর রশিদ, জামালপুরের মুফতি সালেহ আহমেদসহ আরও অনেক বিশিষ্ট আলেম। অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ পর্বে শুরুতেই টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী প্রধান অতিথি এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। পরে টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাফিস আহমেদের হাতে প্রধান অতিথি একটি সাইকেল তুলে দেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ট্যালেন্টপুলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বৃত্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়, যা তাদের অর্জনকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, নূরানী শিক্ষার প্রসার এবং দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে নূরানী শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় কলরব, মদিনা, আবাবিলসহ বিভিন্ন ইসলামী শিল্পীগোষ্ঠী, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আনন্দ যোগ করে। প্রচণ্ড রৌদ্র উপেক্ষা করে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজক কমিটি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ মাহদী হাসান শিবলী বলেন, নূরানী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামী ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করেছে ভূঞাপুর দেওয়ানবাড়ী বাহাতুন্নিছা বাইতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় মাদ্রাসাটির মোট ৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখায়। এতে ১০ পারা গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান, ২০ পারা গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান এবং ৩০ পারা গ্রুপে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তারা। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিজয়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এতে মোট ৯টি পুরস্কারের মধ্যে ৮টিই অর্জন করে দেওয়ানবাড়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গৌরবজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদ্রাসাটির মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল্লাহ আন্দিপুরি এবং হিফজ শাখার প্রধান হাফেজ মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ এ সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও যেন শিক্ষার্থীরা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। স্থানীয়ভাবে এ সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকে মনে করছেন, এটি ভূঞাপুরে দ্বীনি শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাপ্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ ভিসি টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ প্রক্টরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২৬ সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রক্টরের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমে ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ ও পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে তারা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।এ সময় উপাচার্য (ভিসি) ভবনের ভেতরে অবস্থান করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাদিয়েছেন।এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য Barrister Kayser Kamal। তার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার রাজনৈতিক দলের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অর্থাৎ, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে তাকে আগে দলীয় পদ ত্যাগ করে নিরপেক্ষ অবস্থানে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে Kalmakanda Upazila ও Durgapur Upazila উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ দুই উপজেলায় বর্তমানে ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ছিল। শিক্ষাঙ্গনকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেপুটি স্পিকার চান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় এমন ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করুন, যারা অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং সর্বোপরি নিরপেক্ষ। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড় সমস্যা ছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি এবং একইসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। আমাদের নেতা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন—রাজনৈতিক পদে থেকে কেউ সভাপতি হতে পারবেন না। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চাই, তাই সভাপতির দায়িত্ব না নিলেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।” শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার Barrister Kayser Kamal বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তিনি রাজনীতি করবেন—কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে হলে তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের নীতি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ নেত্রকোনা জেলাকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং সারা দেশের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে
টাঙ্গাইলে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে উত্তেজনা, বহিষ্কারের দাবি টাঙ্গাইল শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, সম্প্রতিসামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে কলেজজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, কলেজটির অধ্যক্ষ ওই শিক্ষিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অধ্যক্ষের অবিলম্বে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এমন ঘটনা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে।শিক্ষকরা নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তোলে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এক মঞ্চে ১৪০ হাফেজ — হেমনগরে প্রথমবার বৃহৎ সংবর্ধনা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সেবামূলক ও অরাজনৈতিক সংগঠন আল মুহাসানাহ ছাত্র পরিষদ–এর উদ্যোগে আয়োজিত “হিফজ সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান–২০২৬” উপলক্ষে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত হেমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত নিবন্ধনের মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশ নেওয়া ১৪০ জন কৃতি হাফেজকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এক মঞ্চে এত সংখ্যক হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা এ অঞ্চলে এটিই প্রথম বলে স্থানীয়রা জানান।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের “মাশাআল্লাহ”, “জাযাকাল্লাহ” ও “মারহাবা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মাহদী হাসান শিবলী। তিনি বলেন, “এ ধরনের সুন্দর ও সময়োপযোগী আয়োজন আরও আগেই হওয়া প্রয়োজন ছিল। অনেক বড়রা যা করতে পারেননি, তা তরুণরা করে দেখিয়েছে। গোপালপুর কেন্দ্রিক আল মুহাসানাহ সংগঠনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং তাদের সব কার্যক্রমের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উস্তাজুল হুফফাজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (দা.বা.), গোহাটা গোপালপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব নাজীর সিদ্দিক, জামিয়া নিজামিয়া মজিদপুরের মুহাদ্দিস মাওলানা জয়নুল আবেদীনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।সংগঠনের সহ-সভাপতি নাঈম আহমেদ বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই তাদের পথচলার মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাসুদ পারভেজ ও সংগঠনের উপদেষ্টা মুফতি শরিফ বিন নূর সাজেদী। তারা তরুণদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বৃহত্তর পরিসরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার ভিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।আয়োজকদের ভাষ্য, কুরআনের হাফেজদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।