গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামী ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করেছে ভূঞাপুর দেওয়ানবাড়ী বাহাতুন্নিছা বাইতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় মাদ্রাসাটির মোট ৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখায়। এতে ১০ পারা গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান, ২০ পারা গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান এবং ৩০ পারা গ্রুপে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তারা। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিজয়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এতে মোট ৯টি পুরস্কারের মধ্যে ৮টিই অর্জন করে দেওয়ানবাড়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গৌরবজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদ্রাসাটির মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল্লাহ আন্দিপুরি এবং হিফজ শাখার প্রধান হাফেজ মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ এ সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও যেন শিক্ষার্থীরা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। স্থানীয়ভাবে এ সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকে মনে করছেন, এটি ভূঞাপুরে দ্বীনি শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাপ্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ ভিসি টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ প্রক্টরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২৬ সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রক্টরের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমে ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ ও পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে তারা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।এ সময় উপাচার্য (ভিসি) ভবনের ভেতরে অবস্থান করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাদিয়েছেন।এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য Barrister Kayser Kamal। তার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার রাজনৈতিক দলের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অর্থাৎ, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে তাকে আগে দলীয় পদ ত্যাগ করে নিরপেক্ষ অবস্থানে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে Kalmakanda Upazila ও Durgapur Upazila উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ দুই উপজেলায় বর্তমানে ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ছিল। শিক্ষাঙ্গনকে দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেপুটি স্পিকার চান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় এমন ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করুন, যারা অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং সর্বোপরি নিরপেক্ষ। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড় সমস্যা ছিল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি এবং একইসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। আমাদের নেতা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন—রাজনৈতিক পদে থেকে কেউ সভাপতি হতে পারবেন না। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চাই, তাই সভাপতির দায়িত্ব না নিলেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।” শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার Barrister Kayser Kamal বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তিনি রাজনীতি করবেন—কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে হলে তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের নীতি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ নেত্রকোনা জেলাকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং সারা দেশের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে
টাঙ্গাইলে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে উত্তেজনা, বহিষ্কারের দাবি টাঙ্গাইল শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, সম্প্রতিসামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে কলেজজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, কলেজটির অধ্যক্ষ ওই শিক্ষিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অধ্যক্ষের অবিলম্বে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এমন ঘটনা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে।শিক্ষকরা নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তোলে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এক মঞ্চে ১৪০ হাফেজ — হেমনগরে প্রথমবার বৃহৎ সংবর্ধনা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সেবামূলক ও অরাজনৈতিক সংগঠন আল মুহাসানাহ ছাত্র পরিষদ–এর উদ্যোগে আয়োজিত “হিফজ সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান–২০২৬” উপলক্ষে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত হেমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত নিবন্ধনের মাধ্যমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশ নেওয়া ১৪০ জন কৃতি হাফেজকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এক মঞ্চে এত সংখ্যক হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা এ অঞ্চলে এটিই প্রথম বলে স্থানীয়রা জানান।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের “মাশাআল্লাহ”, “জাযাকাল্লাহ” ও “মারহাবা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা নূরানী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মাহদী হাসান শিবলী। তিনি বলেন, “এ ধরনের সুন্দর ও সময়োপযোগী আয়োজন আরও আগেই হওয়া প্রয়োজন ছিল। অনেক বড়রা যা করতে পারেননি, তা তরুণরা করে দেখিয়েছে। গোপালপুর কেন্দ্রিক আল মুহাসানাহ সংগঠনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং তাদের সব কার্যক্রমের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উস্তাজুল হুফফাজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (দা.বা.), গোহাটা গোপালপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব নাজীর সিদ্দিক, জামিয়া নিজামিয়া মজিদপুরের মুহাদ্দিস মাওলানা জয়নুল আবেদীনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।সংগঠনের সহ-সভাপতি নাঈম আহমেদ বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই তাদের পথচলার মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাসুদ পারভেজ ও সংগঠনের উপদেষ্টা মুফতি শরিফ বিন নূর সাজেদী। তারা তরুণদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বৃহত্তর পরিসরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার ভিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।আয়োজকদের ভাষ্য, কুরআনের হাফেজদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অটো পাসের দাবিতে টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ যান চলাচলে বিঘ্ন অটো পাসের দাবিতে টাঙ্গাইল শহরে সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এর শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করে। জানা যায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের নিয়ম অনুযায়ী ফরমফিলাপ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অটো পাসের দাবি জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তারা টাঙ্গাইল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরমফিলাপ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। নিয়মের বাইরে অটো পাস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তারা জানান।অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইলে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান টাঙ্গাইলে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুধু ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয় এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন “মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুধু ধর্মীয় শিক্ষার জায়গা নয় এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি মডেল হয়ে উঠুক—এটাই আমাদের কামনা। তিনি আরও বলেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের শিক্ষার আলোয় সম্পৃক্ত করতে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ভবিষ্যতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীফা হক জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পরে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বন্ধের মধ্যেই টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজ-এ এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ রোজার মধ্যেই এইচএসসি টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করে। সরেজমিনে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কলেজের একাধিক শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা চলতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষককে কিছুটা বিব্রত ও হতভম্ব হতে দেখা যায়। কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়। দ্বাদশ শ্রেণির মোট ১ হাজার ১০১ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ হলে ৪৯১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ইংরেজি, আইসিটি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে ফেল করে। পরবর্তীতে এসব শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ পুনঃপরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, “আমাদের প্রতি বিষয়ে ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকাগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, তিনি দুই বিষয়ে ফেল করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী ২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তার মতো আরও অনেকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। কলেজের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘মোটা অঙ্কের টাকা’ নেওয়ার বিনিময়েই পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান বলেন, “অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধে একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।” তবে রমজানে সরকারি বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, “রমজান উপলক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করবে।
মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কবর জিয়ারত ও ছাত্রদলের শুভেচ্ছা ।মাভাবিপ্রবি সংবাদদাতা ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি)। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁর সফর শুরু হয়। এসময় বিশ্বিবদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য দুটি ও মেয়েদের জন্য দুটি নতুন হল স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বিদ্যমান শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সংস্কারের আবেদন জানানো হয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভূঞারচক এলাকায় অবস্থিত মদিনাতুল উলুম নিযামিয়া মাদরাসার উদ্যোগে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান উপলক্ষে দোয়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার সভাপতি জনাব আবু মোঃ ঈসা মুনিম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাহবুল্লাহ কাসেমী আরো উপস্থিত ছিলেন ইকরা নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা হারুনুর রশিদ।প্রধান আলোচক বলেন, “পবিত্র কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য। যারা ছোটবেলা থেকে কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তারা নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। মাদরাসার এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রেজওয়ানুল হক রাহমানি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু হিফজ বা সবক প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদেরকে কুরআনের আলোকে আমলযোগ্য জীবন গঠনে প্রস্তুত করা। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায়ও আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি।” অনুষ্ঠানে এছাড়াও আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক শেখ মাহদী হাসান শিবলী, হাফেজ হযরত আলী। আরোও উপস্থিত ছিলেন, জনাব হাজী আ.মান্নান, জনাব তোতা মিয়া, প্রফেসর ফরহাদ মিয়া, ড. সাইদুর রহমান সুমন, জনাব হাবিবুল্লাহ সুজন, জনাব সিদ্দিকুর রহমান, জনাব মওদুদ আহমাদ লিমন, কাজি নাজমুল ইসলামসহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা বিস্তারে মাদরাসার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের আহ্বান জানান। শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মিজানুর রহমান।
শীতের রাতেও শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় প্রতিবাদ সেশন-২০২৩ বোর্ড চ্যালেঞ্জ রেজাল্ট বিনা শর্তে গ্রেস মার্ক দাবি করে অবস্থান কর্মসূচিটাঙ্গাইল — শীতের কাঁপুনি সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে রাস্তায় বসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন। সেশন-২০২৩ বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফলাফলে গ্রেস মার্ক দিয়ে বিনা শর্তে পাশ করার দাবি জানিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এই অবস্থান কর্মসূচি শুধুই একটি নম্বরের লড়াই নয়। এটি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের মর্যাদা এবং পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জড়িত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা শিক্ষার্থীরা সরকারের ন্যায্য এবং মানবিক মনোভাবের অপেক্ষায় রয়েছে।শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদের রক্ত-ঘাম-মেহনতকে মূল্যায়ন করতে হবে। যে শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছে তাদেরকে অবিচার করা চলবে না।স্থানীয় অভিভাবকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন,শিশুরা শীতের রাতে রাস্তায় বসে থাকে—এটা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা।পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নজরদারি করছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলবে এবং তারা সরকারী উচ্চ পর্যায় থেকে ন্যায্য সিদ্ধান্তের আশা করছেন।এটি শুধু একটি রেজাল্টের প্রতিবাদ নয় এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ও শিক্ষার মর্যাদার প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৬ই ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্ক থেকে র্যালি শুরু হয়। সেটি বাতেন খাঁ মোড় হয়ে শান্তি মোড় ও শিবতলা মোড় হয়ে রেহাইচর মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ এ স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল। মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রশিবির দেশের ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলার সাবেক সভাপতি ও পৌর নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট মোঃ শফিক এনায়েতুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানী, ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আল গালিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি সা’দত কলেজ। টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও আশপাশের একাধিক জেলার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম ও আস্থা। এই কলেজে বর্তমানে টাঙ্গাইলসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে লোকাল বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এমন প্রেক্ষাপটে কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয়। বিশেষ করে বাসে শিক্ষার্থী ভাড়া সুবিধা গ্রহণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থী পরিচয় বহনের ক্ষেত্রে আইডি কার্ডের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আইডি কার্ড পাননি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বললে তিনি আইডি কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। তবে সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড প্রদান করা হলে নতুন করে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেসব আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত সাধারণ মানের কাগজে প্রিন্ট করা, যা সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আইডি কার্ডের ফিতায় কলেজের নাম, লোগো কিংবা কোনো পরিচয়চিহ্ন নেই, যা একটি সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এমন নিম্নমানের আইডি কার্ড পেয়ে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, একটি স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত, টেকসই ও পরিচয়বাহী আইডি কার্ড প্রদান করা কলেজ প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ০৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কলেজের একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পোস্ট দেন। পোস্টগুলোতে দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত মানের আইডি কার্ড সরবরাহের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ( ৩ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘটিকায় কলেজের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতীসন্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইউএসএ মাদারল্যান্ড চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ নুরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য ও মাদারল্যান্ড চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমডি আব্দুল হান্নান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান অর্জনের পাশাপাশি বিশেষ করে নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ ছাড়া শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তিনি নারী শিক্ষার উন্নয়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের পাশে মাদারল্যান্ড চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন সর্বদা থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ইমাম আলী বাইতুল কুরআন বালক বালিকা মাদ্রাসা (মাদারিয়া)-এর উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় মাদ্রাসার বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রীরা নিজ নিজ বিভাগ অনুযায়ী আলাদা আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নানা ধরনের খেলাধুলায় অংশ নেয়। পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা ও আনন্দ প্রকাশের সুযোগ করে দিতে “যেমন খুশি তেমন সাজ”সহ কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী ও আকর্ষণীয় আয়োজন রাখা হয়, যা উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিদের দৃষ্টি কাড়ে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি রবিউল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ মাহদী হাসান শিবলী, শিক্ষকবৃন্দ, সব বিভাগের অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ মাহদী হাসান শিবলী বলেন, কোরআনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, শৃঙ্খলা ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, মাদ্রাসায় ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক বিভাগে শিক্ষা ও সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং সে অনুযায়ী এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব ও আনন্দঘন আয়োজন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম আজাদ বলেন, শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তিনি এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের বক্তব্যে মাদ্রাসার সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের উন্নত মানসিক গঠনে কর্তৃপক্ষের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
নুরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ কর্তৃক মাদরাসার উস্তাদদের জন্য শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাদারিয়া এলাকায় অবস্থিত ইমাম আলী বাইতুল কুরআন বালক-বালিকা মাদরাসার হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুস সাত্তার কাসেমী। প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইমরান আহমেদ ও হাফেজ হোসাইন আহমেদ। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম, শেখ মাহদী হাসান শিবলী, মাওলানা সানোয়ার এবং মুফতি রবিউল ইসলাম। কর্মশালায় বিভিন্ন এলাকার ১৫টি মাদরাসা থেকে মোট ১২০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে নুরানী শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক ও কার্যকর পাঠদান কৌশল, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং মানসম্মত কুরআন শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শিক্ষকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে নুরানী শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গোপালপুরে সোনামুই দাওয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় জাঁকজমকপূর্ণ পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআনের আলোকে আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে কোরআনে হাফেজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক পবিত্র মিলনমেলায়। দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানই ছিল এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর একে একে ইসলামিক নসিহত কোরআন ও হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন কোরআনের হাফেজরা শুধু ব্যক্তি হিসেবে সম্মানিত নন তারা সমাজ ও জাতির জন্য এক অনন্য সম্পদ। কোরআন বুকে ধারণকারীরা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দা এবং তারা কিয়ামতের দিনও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হবেন। বক্তারা আরও বলেন বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোরআনি শিক্ষার বিকল্প নেই। হাফেজে কোরআনরা তাদের জীবনাচরণ ও চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে সততা ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কোরআনের শিক্ষা শুধু মুখস্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রতিফলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। হাফেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন কোরআনের আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে। একজন হাফেজ যেন আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এটাই হওয়া উচিত তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার মুহতামিম শিক্ষকবৃন্দ স্থানীয় আলেম-ওলামা মসজিদের খতিব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি অভিভাবকবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল হাফেজ শিক্ষার্থীদের মাথায় পাগড়ী পরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক পর্ব। এ সময় অভিভাবকদের চোখে আনন্দাশ্রু এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাদ্রাসার একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও আলেম। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য দেশের শান্তি ও তরুণ প্রজন্মের হেদায়েত কামনা করা হয়। আয়োজকরা জানান ভবিষ্যতেও দাওয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ ধরনের ধর্মীয় শিক্ষামূলক ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে কোরআনের আলোয় আলোকিত একটি আদর্শ ও নৈতিক সমাজ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
BRPOWA’র উদ্যোগে টাঙ্গাইলে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র বিতরণ বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি (BRPOWA)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় কৃতী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান ও মেধাবীদের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টাঙ্গাইল থেকে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত তিনজন শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি ও অভিনন্দন সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয় মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী–এম সহীদুল ইসলাম চৌধুরী এবং মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী–মরহুমা নুরজাহান বেগম এডুকেশনাল ফান্ড শিক্ষাবৃত্তি’র আওতায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করেন টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ নৈতিকতা মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তিনি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয় বরং নৈতিক মূল্যবোধ শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলিকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে।তিনি শিক্ষার্থীদের সততা অধ্যবসায় ও আত্মনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনসহ ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সর্বক্ষেত্রে সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত বক্তারা BRPOWA’র এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগকে প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি (BRPOWA) দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংস্থাটির এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মডেল স্কুলে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন নবীন বরণ অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা পরিচালক এ কে এম ইয়াহিয়া। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বক্তব্যকালে অতিথিরা বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাডভান্সড মডেল স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ অভি, অলিউল্লাহ, হাফিজ উদ্দিনসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং দৈনিক বর্তমান বাংলার দুর্গাপুর উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত দে। নবীন বরণ পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি ও সুরেলা সংগীত গোষ্ঠীর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সাইফুল হক শামীম উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুরে ৫৪তম জাতীয় স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। এই চেতনাকে সামনে রেখে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৪তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা শীতকালীন ক্রীড়া এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ডন বস্কো কলেজ মাঠে বিরিশিরিতে দিনব্যাপী ওই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার অনন্য আবহ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো মাঠ যেন পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আফরোজা আফসানা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলে। নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকে এবং ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।” অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনসারী। তিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এসময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মাসুল তালুকদার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান, ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল রোমন রাংসা, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ওয়ালী হাসান কলি, সাংবাদিক আল আমিন হাওলাদার, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রমূখ। এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মোট ৪৯টি ইভেন্টে স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্পসহ বিভিন্ন এ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। প্রতিটি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা। সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও সময়োপযোগী আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন।শেষপর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। করতালি আর আনন্দধ্বনির মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে একটি সুন্দর, শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক ক্রীড়া আয়োজনের।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫- লিখিত পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা নেওয়া হবে বিকেলে। রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সময়ের এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার পরিবর্তে বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ২ জানুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময় সকালে না রেখে বিকেলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এবারের নিয়োগে শূন্য পদের তুলনায় প্রার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। সেই হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী। পরীক্ষা বিকেলে অনুষ্ঠিত হলেও অধিদপ্তরের জারি করা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্দেশনাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না; মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত, সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল। তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা। যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য। ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।