সারা দেশ

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানসম্মত শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ

reporter-icon
আল আমিন হাওলাদার: নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ | 0
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় নিরলসভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ।শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ দুর্গাপুর অঞ্চলে একটি আদর্শ ও অনুকরণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচির গণ্ডিতে আবদ্ধ কোনো প্রক্রিয়া নয়,শিক্ষা হলো মানুষের মনন গঠন, নৈতিকতা বিকাশ এবং একটি আলোকিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। এই গভীর উপলব্ধিকে ধারণ করেই চলছে নিরন্তর পাঠদান। বুধবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সরেজমিন ঘুরে এমন উৎফুল্ল চিত্র দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শান্ত পরিবেশে অবস্থিত ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিরাপদ ও অনুকূল শিক্ষাঙ্গন পরিবেশ। সুবিন্যস্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সুবিশাল খেলার মাঠ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা।এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাবিদ, প্রশাসন ও অভিভাবকদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন,ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন,শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন,শিক্ষকদের পাঠদানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, শিক্ষার মান ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আধুনিক,বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কার্যক্রমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মি.রুমন রাংসা বলেন,বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।নেত্রকোণা জেলায় মাত্র একটি ইংরেজি ভার্সন স্কুল যেটি দুর্গাপুর উপজেলায় ডনবস্কো স্কুলে চলমান রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান,ডিজিটাল ক্লাসরুম, ক্লাব কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত বিতর্ক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত সমাবেশ, নৈতিক শিক্ষাক্লাস, মূল্যবোধভিত্তিক আলোচনা এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই সততা, সহনশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই,প্রতিষ্ঠানের মূল অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমি বিশ্বাস করি ভালো মানুষ গড়াই সেরা শিক্ষা। আমাদের লক্ষ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়,আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যারা জ্ঞান,নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন,শৃঙ্খলা,ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সেবা,সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মিখায়েল রেমা নামে এক অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তানকে শুধু ভালো ছাত্র নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সেখানে ভর্তি করেছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ সেই স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ দুর্গাপুর অঞ্চলে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ফলাফলই অর্জন করছে না; বরং মানবিকতা,নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক বলেন, আলোকিত সমাজ গঠনে ও সমাজের পিঁছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কাজ করে যাচ্ছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি আলোকিত, মানবিক ও সচেতন সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপুরে ২০১০ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রতিস্টা লাভ করে। ২০১৮ সালে ডনবস্কো কলেজ স্থাপিত হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনসারী বলেন,ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশ করলেই যে শৃঙ্খলাবোধ ও সুশাসনের পরিবেশ চোখে পড়ে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। শিক্ষার্থীদের আচরণ, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব এবং সার্বিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে পথ দেখাতে পারে। আমি প্রতিস্টানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন,এই প্রতিষ্ঠানে এসে বোঝা যায়,এখানে শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে প্রধান্য দেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা দান করা হচ্ছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উদাহরণ।
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা: চ্যাটজিপিটি বনাম ডিপসিক?

র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

সারা দেশ

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইল সদরের কাঁচাবাজারে অস্থিরতানিত্যপণ্যের মুল্য অধিক -তদারকির ঘাটতির অভিযোগ

টাঙ্গাইল সদরের কাঁচাবাজারে অস্থিরতা নিত্যপণ্যের মুল্য অধিক -তদারকির ঘাটতির অভিযোগ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদরের অধিকাংশ কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব পণ্য তুলনামূলক সহনীয় দামে পাওয়া যাচ্ছিল সেগুলোর দাম এখন হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম প্রতিদিনই যেন নতুন করে নির্ধারিত হচ্ছে। টমেটো বেগুন,কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ আলুসহ অধিকাংশ সবজির দাম বাড়তি। মাছ ও মাংসের বাজারেও একই চিত্র। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। একাধিক ভোক্তার ভাষ্য বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি দামের অজুহাতে ইচ্ছেমতো মূল্য নির্ধারণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। ফলে ভোক্তারা প্রকৃত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না।অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। তারা বলছেন জ্বালানি খরচ ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ের প্রভাবও বাজারদরে পড়ছে।সচেতন নাগরিকদের মতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন নগরবাসী।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0

কালিহাতি থানা বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার টাংগাইল

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

টাংগাইলে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী বিশেষ মহড়া

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানসম্মত শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় নিরলসভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ।শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ দুর্গাপুর অঞ্চলে একটি আদর্শ ও অনুকরণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচির গণ্ডিতে আবদ্ধ কোনো প্রক্রিয়া নয়,শিক্ষা হলো মানুষের মনন গঠন, নৈতিকতা বিকাশ এবং একটি আলোকিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। এই গভীর উপলব্ধিকে ধারণ করেই চলছে নিরন্তর পাঠদান। বুধবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সরেজমিন ঘুরে এমন উৎফুল্ল চিত্র দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা শান্ত পরিবেশে অবস্থিত ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিরাপদ ও অনুকূল শিক্ষাঙ্গন পরিবেশ। সুবিন্যস্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সুবিশাল খেলার মাঠ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা।এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাবিদ, প্রশাসন ও অভিভাবকদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন,ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন,শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন,শিক্ষকদের পাঠদানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, শিক্ষার মান ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আধুনিক,বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কার্যক্রমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মি.রুমন রাংসা বলেন,বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।নেত্রকোণা জেলায় মাত্র একটি ইংরেজি ভার্সন স্কুল যেটি দুর্গাপুর উপজেলায় ডনবস্কো স্কুলে চলমান রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান,ডিজিটাল ক্লাসরুম, ক্লাব কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত বিতর্ক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত সমাবেশ, নৈতিক শিক্ষাক্লাস, মূল্যবোধভিত্তিক আলোচনা এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।এতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই সততা, সহনশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই,প্রতিষ্ঠানের মূল অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমি বিশ্বাস করি ভালো মানুষ গড়াই সেরা শিক্ষা। আমাদের লক্ষ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়,আমরা নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যারা জ্ঞান,নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন,শৃঙ্খলা,ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সেবা,সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মিখায়েল রেমা নামে এক অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তানকে শুধু ভালো ছাত্র নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সেখানে ভর্তি করেছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ সেই স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ দুর্গাপুর অঞ্চলে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ফলাফলই অর্জন করছে না; বরং মানবিকতা,নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ডনবস্কো স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক বলেন, আলোকিত সমাজ গঠনে ও সমাজের পিঁছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কাজ করে যাচ্ছি। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ নতুন নতুন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে একটি আলোকিত, মানবিক ও সচেতন সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপুরে ২০১০ সালে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রতিস্টা লাভ করে। ২০১৮ সালে ডনবস্কো কলেজ স্থাপিত হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনসারী বলেন,ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশ করলেই যে শৃঙ্খলাবোধ ও সুশাসনের পরিবেশ চোখে পড়ে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। শিক্ষার্থীদের আচরণ, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব এবং সার্বিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে পথ দেখাতে পারে। আমি প্রতিস্টানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন,এই প্রতিষ্ঠানে এসে বোঝা যায়,এখানে শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে প্রধান্য দেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা দান করা হচ্ছে। ডন বস্কো স্কুল এন্ড কলেজ একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উদাহরণ।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৫ বছরেও শেষ হয়নি সল্লা সেতুর নির্মাণ কাজ : দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৫ বছরেও শেষ হয়নি সল্লা সেতুর নির্মাণ কাজ : দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নিবিড় বাজার তদারকি অভিযান

রমজানকে ঘিরে গোপালপুরে বাজার তদারকি জোরদার

রমজানকে ঘিরেগোপালপুরে বাজার তদারকি জোরদার পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর তদারকিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই তদারকি কার্যক্রমে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নবাব আলী। প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন বাজার, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য যাচাই করা হয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি না করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি মজুতদারি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রমজান মাসব্যাপী বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0

এলেঙ্গা বাজারে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে গোপালপুরে চারজন আটক

0 মন্তব্য