জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের ধারাবর্ষা পূর্ব দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে পায়খানা ও প্রস্রাবখানা (গণশৌচাগার) নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটিতে কোনো শৌচাগার ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লি ও স্থানীয় গ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের জন্য বিষয়টি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রামবাসীর এই যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে এগিয়ে আসেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ও কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উজ্জ্বল সরকার। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে গণশৌচাগার নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী উজ্জ্বল সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, মসজিদে একটি আধুনিক শৌচাগার নির্মিত হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং ধর্মীয় পরিবেশ আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তধ্বনি
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
"পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। রফিকুল ইসলাম দৈনিক মুক্তধ্বনি
ধনবাড়ীকে হারিয়ে শুভ সূচনা গোপালপুরের, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে গোপালপুরের সুতী ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সেলিম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী, গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান, সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার লেলিন এবং সদস্য সচিব বদিউজ্জামান রানা। এছাড়াও ধনবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক গোপালপুর উপজেলা একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ধনবাড়ী উপজেলা একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে। খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
টাঙ্গাইলে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, দেশের সব স্তরের মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী কাঠামোকেও তারা পরিবর্তন করতে সক্ষম। বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৩৬ দিনের এই দীর্ঘ মাসে জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসাধারণ শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। অধ্যাপক ইউনূস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সেই সব শহীদকে, যাঁরা এই অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের প্রতি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল। শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী—সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন। রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁদের কণ্ঠ ও সৃজনশীলতা দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাইয়ে নারীদের অসীম সাহসিকতা আগামী প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ভবিষ্যতের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, তা অব্যাহত রাখতে আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে।
আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন (রবিবার) সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। এ উপলক্ষে দেশের সব অভিভাবকের প্রতি ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের বয়স অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে,৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী কোনো শিশুই যেন এই কার্যক্রমের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখে নিকটস্থ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।