সারা দেশ

খুনিদের চা খাইয়ে নিজের মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান নিহত আল-আমিন

মোঃ মিলন
মোঃ মিলন উপজেলা প্রতিনিধি,শার্শা
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
খুনিদের চা খাইয়ে নিজের মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান নিহত আল-আমিন
খুনিদের চা খাইয়ে নিজের মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান নিহত আল-আমিন

যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী মালোপাড়া লিচুতলা এলাকায় আল-আমিন ওরফে পেরেক আল-আমিনকে খুন করার আগে ঘাতকদের চা খাইয়ে নিজের মোটরসাইকেলেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি নিজেই। আদালতের এ তথ্য স্বীকার করেছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সফিয়ার রহমান টুটুল (২৮)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আজ বুধবার সকালে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে । পরে তার স্বীকারোক্তিতে শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার কোল্ড স্টোরেজের পেছনের একটি বাড়ির জানালার বাইরের সানশেড থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, পেরেক আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নারীঘটিত দ্বন্দ্বের কথা প্রচার থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ স্বর্ণ বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে তিনি খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করার জন্য ইতোপূর্বে গ্রেফতার গোলাম রসুল ৫০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন গ্রেফতার সফিয়ার রহমান টুটুলকে। বুধবার গ্রেফতার সফিয়ার রহমান টুটুল শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার মোসলেম আলীর ছেলে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা চুড়ামনকাটি এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে পেরেক আল-আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত টুটুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে নাজির শংকরপুর এলাকার ফজের আলীর বাড়ির জানালার বাইরের সানশেডে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর টুটুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পেরেক আল-আমিনকে হত্যায় সহায়তা করতে ইতোপূর্বে গ্রেফতার গোলাম রসুল তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। তাকে বলা হয়, পেরেক আল-আমিনের কাছে স্বর্ণের বার রয়েছে; তাকে হত্যা করে বারগুলো ছিনিয়ে নিতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন গত ২০ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে পেরেক আল-আমিনকে তাঁর চৌরাস্তা মোড়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আসেন গোলাম রসুল ও টুটুল। পরে আল-আমিন নিজেই তাঁদের অম্বিকা বসুলেনের কাঁসারিপট্টির সুমনের দোকানে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে চা পান করান। চা খাওয়া শেষে নিজের মোটরসাইকেলেই ঘাতক দুজনকে চাপিয়ে তিনি পূর্ব বারান্দী মালোপাড়া লিচুতলার বাবুর মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই পেরেক আল-আমিনের চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করেন টুটুল। একই সঙ্গে কোমর থেকে চাকু বের করে আল-আমিনের শরীরে দুই দফা আঘাত করেন তিনি। পরে একই চাকু দিয়ে পেরেক আল-আমিনের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন গোলাম রসুল। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা টুটুলের বাড়িতে যান। বাড়িতে চাকু রেখে বাইরে যাওয়ার পর টুটুলকে চুক্তির ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা দেন গোলাম রসুল। টাকা দেওয়ার পর আবার দুই হাজার টাকা ফেরত নেন গোলাম রসুল। পরে গোপনে বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি নিয়ে গোলাম রসুলের অগোচরে নাজির শংকরপুরের ফজের আলীর বাড়ির জানালার বাইরের সানশেডে লুকিয়ে রাখেন টুটুল। পরবর্তীতে তাঁরা দুজনে ঝিকরগাছায় চলে যান। সেখানে দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর যে যাঁর মতো গা-ঢাকা দেন।

Tags: খুনিদের খাইয়ে নিজের মোটরসাইকেলে চড়িয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান

সারা দেশ

প্রথম স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু প্রথম স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) মালয়েশিয়ায...

সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
বেনাপোল চেকপোস্টে অসুস্থ হয়ে ভারতীয় যাত্রীর মৃত্যু বেনাপোল চেকপোস্টে অসুস্থ হয়ে ভারতীয় যাত্রীর মৃত্যু

বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ভারতে ফেরার পথে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে গৌতম মিস্ত্রি নামে এক ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি কলকাতার...

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

0 মন্তব্য