আইন-অপরাধ

খুলনা শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সহ রাস্তা  যেন দখলবাজদের পৈতৃক সম্পত্তি। লোহার-আসবাবপত্রের ব্যবসায় সংকুচিত পথ, ভোগান্তিতে পথচারী; দেখার যেন কেউ নেই

মোঃ আল-মাহফুজ শাওন
মোঃ আল-মাহফুজ শাওন খুলনা জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
খুলনা শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সহ রাস্তা  যেন দখলবাজদের পৈতৃক সম্পত্তি। লোহার-আসবাবপত্রের ব্যবসায় সংকুচিত পথ, ভোগান্তিতে পথচারী; দেখার যেন কেউ নেই
খুলনা শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সহ রাস্তা  যেন দখলবাজদের পৈতৃক সম্পত্তি। লোহার-আসবাবপত্রের ব্যবসায় সংকুচিত পথ, ভোগান্তিতে পথচারী; দেখার যেন কেউ নেই
খুলনা নগরীর শেখপাড়া এলাকার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাস্তার পাশের ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে লোহা ও আসবাবপত্রের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ফুটপাতগুলো পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় সেগুলো পরিণত হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারিত অংশে। কোথাও লোহার সামগ্রী, কোথাও আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ফুটপাতের ওপর রাখা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সড়কে পথচারী ও যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক পথচারীকে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। ফুটপাত কি ব্যবসার জায়গা? নগরবাসীর প্রশ্ন—জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত যদি বছরের পর বছর দখল হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় চলাচল করবে? অভিযোগ রয়েছে, দখলদাররা এমনভাবে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা ব্যবহার করছেন যেন তা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে একই চিত্র চললেও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় দখলদারিত্ব আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয় না। অভিযান হলে কিছুদিন জায়গা ফাঁকা থাকে, পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।’ প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ ফুটপাত দখলের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি কোনো ব্যবসায়ী বছরের পর বছর জনসাধারণের জায়গা ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসে না কেন? কার অনুমতি বা প্রশ্রয়ে সরকারি/জনসাধারণের ব্যবহার্য জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এ প্রশ্নও উঠছে। জনসাধারণের মুক্তি কোথায়? শেখপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। দখলমুক্ত জায়গা যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাদের মতে, নগরীর সড়ক ও ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এগুলো নগরবাসীর চলাচল ও নাগরিক সুবিধার জন্য। তাই দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক, জনস্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত ও সড়কের জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে। অবৈধ দখল প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের জন্য জায়গাগুলো উন্মুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—দখলদারিত্বের এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে কবে? আর জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কে?
Tags: খুলনা শেখপাড়ার নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত রাস্তা  যেন দখলবাজদের

আইন-অপরাধ

খুলনা শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সহ রাস্তা  যেন দখলবাজদের পৈতৃক সম্পত্তি। লোহার-আসবাবপত্রের ব্যবসায় সংকুচিত পথ, ভোগান্তিতে পথচারী; দেখার যেন কেউ নেই খুলনা শেখপাড়ার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সহ রাস্তা  যেন দখলবাজদের পৈতৃক সম্পত্তি। লোহার-আসবাবপত্রের ব্যবসায় সংকুচিত পথ, ভোগান্তিতে পথচারী; দেখার যেন কেউ নেই

খুলনা নগরীর শেখপাড়া এলাকার ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের প...

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ, অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ, অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে চলমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি দস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্...

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

0 মন্তব্য