শিক্ষাঙ্গন

এইচ এস সি টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা—টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাদিম তালুকদার
নাদিম তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার ( মুক্তধ্বনি )
মার্চ ২, ২০২৬
এইচ এস সি টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা—টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এইচ এস সি টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা—টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বন্ধের মধ্যেই টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজ-এ এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ রোজার মধ্যেই এইচএসসি টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করে। সরেজমিনে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কলেজের একাধিক শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা চলতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষককে কিছুটা বিব্রত ও হতভম্ব হতে দেখা যায়। কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়। দ্বাদশ শ্রেণির মোট ১ হাজার ১০১ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ হলে ৪৯১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ইংরেজি, আইসিটি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে ফেল করে। পরবর্তীতে এসব শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ পুনঃপরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, “আমাদের প্রতি বিষয়ে ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকাগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, তিনি দুই বিষয়ে ফেল করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী ২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তার মতো আরও অনেকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। কলেজের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘মোটা অঙ্কের টাকা’ নেওয়ার বিনিময়েই পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান বলেন, “অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধে একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।” তবে রমজানে সরকারি বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, “রমজান উপলক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করবে।

শিক্ষাঙ্গন

গোপালপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা গোপালপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

গোপালপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সুখী পল্লীমার উদ্যোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃ...

আগস্ট ২৯, ২০২৬
গোপালপুর সরকারি কলেজ ঐতিহ্য শিক্ষা ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ার দীর্ঘ পথচলা গোপালপুর সরকারি কলেজ ঐতিহ্য শিক্ষা ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ার দীর্ঘ পথচলা

গোপালপুর সরকারি কলেজ ঐতিহ্য শিক্ষা ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ার দীর্ঘ পথচলা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে গোপালপুর সরকারি কল...

আগস্ট ২৬, ২০২৬

0 মন্তব্য