মার্কিন দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ০২ মার্চ ২০২৬ ইং— চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ডিপ্লোমেটিক এরিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঢাকার United States Embassy in Dhaka-সহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকায় নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা সুসংহত করতে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি Border Guard Bangladesh (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।SPEAR ও ENV নিয়ে আলোচনা বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অবৈধ অভিবাসন রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে Special Programme for Embassy Augmentation and Response (SPEAR)” বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে SPEAR প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে, অন্যথায় বরাদ্দ তহবিল অন্যত্র চলে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।সন্ত্রাস দমন ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৈঠকে সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত জানান, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে ডিআইজি পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অবসর ও বদলিজনিত কারণে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সভা/কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দেন।অবৈধ অভিবাসন রোধে ENVরাষ্ট্রদূত আরও জানান অবৈধ অভিবাসন রোধে‘Electronic Nationality Verification (ENV) প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ‘গ্রিন জোন’-এ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ সময় রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল: জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে আগত গারো জাতিগোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। গ্রামপ্রধান ও পুরোহিতসহ ১১ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আমন্ত্রণে এ সফরে অংশ নেন। সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে তারা সরাসরি অধিবেশন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় প্রতিনিধিরা সংসদের কার্যপ্রণালী, ইতিহাস ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন, যা তাদের জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের গুরুত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক চর্চা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গারো প্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি’র সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সংসদ ভবনস্থ ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতকালে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। সংসদীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারতের লোকসভার সঙ্গে জাতীয় সংসদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ধারণা উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হলেও এর সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর করার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ডিজিটাল ও পেপারবিহীন ই-পার্লামেন্ট চালুকরণ, সংসদীয় কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং পারস্পরিক সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুসম্পর্ক বজায় রাখা, চিকিৎসা সেবা সহজীকরণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান প্রণয় ভার্মা এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বই ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গোপালপুরে তিন দশক পর গোয়ালবাড়ী খাল পুনঃখনন কাজ শুরু ১২ এপ্রিল ২০২৬ ইং টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের গোয়ালবাড়ী খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে তিন দশক পর। রবিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাখারিয়া আশ্রয়ন প্রকল্প মাঠে এক কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম রুবেল পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লেলিন এবং হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার।গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আরিফুল ইসলাম জানান খাল পুনঃখননের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরেরঅতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)এর মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খালপুনঃখননের পাশাপাশি খাল দু’পাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বৃক্ষরোপণ করা হবে যা স্থানীয় ৩৫০ জন অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায় খাল পুনঃখননের ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বাঁধের শাখারিয়া স্লুইসগেট কাজে লাগবে যা বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নদীর পানি খালে প্রবেশ এবং শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের বিল থেকে নদীতে পানি ফেরাতে সাহায্য করবে।হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার জানান খালটি ১৯৯৬ সালে একবার পুনঃখনন করা হয়েছিল কিন্তু যমুনার বালি পড়ে খালটি মজে গেছে। পুনঃখননের পর স্লুইসগেট কার্যকর হলে বর্ষার সময় নদীর পানি খালে প্রবেশ করবে যা এলাকার জলাশয় ও বিলঝিলে প্রাকৃতিকভাবে মৎস্যচাষে সহায়ক হবে।স্থানীয় বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন খাল সচল হলে বর্ষা মৌসুমে পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত হবে, যা কৃষি ও মৎস্যচাষে বিরাট সুবিধা দেবে।স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় ভূ-উপরস্থ সেচের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাড়তি রোপা আমন ও বোরো ফসল করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। খালের কিছু অংশ দখলমুক্ত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”