বেনাপোল বন্দরে ইমিটেসন পণ্য সিন্ডিকেট কারসাজিতে রাজস্ব ফাঁকি
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ইমিটেশন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা, আন্ডার ইনভয়েসিং ও শুল্কায়নে কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু কাস্টমস কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সালমান এন্টারপ্রাইজের নামে ৭১৪ প্যাকেজ গ্লাসওয়্যার ও ইমিটেশন পণ্যের একটি চালান বেনাপোল বন্দরে আসে। প্যারেন্ট’স ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার নামের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান চালানটি বন্দরের ১২ নম্বর শেডে নামায়। গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির পর চালানটি লক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চালানটির মেনিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০২০০৫০৮৫৫ এবং বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) নম্বর ৫৬৮১৫, তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৬। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চালানটিতে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল না থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ঘোষণায় কম শুল্কের গ্লাস চুড়ি দেখিয়ে তুলনামূলক বেশি শুল্কযুক্ত গোল্ড প্লেটেড বা ইমিটেশন জুয়েলারি আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এলসির বিপরীতে ওই চালানে ৪৬ লাখ ৯ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে পণ্যের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। চালানটির ওজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩১ প্যাকেজ বেঙ্গল চুড়ির গ্রস ওজন ৪ হাজার ৪৬৩ কেজি এবং নেট ওজন ৩ হাজার ৪৭ কেজি দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ৫৭৫ প্যাকেজ ইমিটেশন জুয়েলারি ও বেজ মেটালের গ্রস ওজন ২৫ হাজার ৫২২ কেজি এবং নেট ওজন ১৬ হাজার ৯৯৪ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পণ্যের শুল্কায়ন ও ওজন নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, একই আমদানিকারকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা আরেকটি চালান তামান্না কর্পোরেশনের নামে ২৫ আগস্ট বেনাপোল বন্দরের ১২ নম্বর শেডে নামানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই চালানে ৬৬৯ প্যাকেজ পণ্য রয়েছে। এর মেনিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০১০০৫১৭৪৪।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইমিটেশন জুয়েলারির ক্ষেত্রে অন্যান্য স্থলবন্দরে যে হারে শুল্কায়ন করা হয়, বেনাপোলে কোনো কোনো চালানে তার চেয়ে ভিন্ন হারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে একাধিক চালানে ভিন্ন মূল্যায়ন হওয়ায় বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, কিছু চালানে পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে আন্ডার ইনভয়েসিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য বন্দরের শেডে লুকিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। একটি চালান শুল্কায়ন হওয়ার পর একই শেডে থাকা অতিরিক্ত পণ্য অন্যভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে বেনাপোল বন্দরের ৪২ নম্বর শেডে টিএল ট্রেডিংয়ের নামে আসা একটি ইমিটেশন পণ্যের চালানেও অতিরিক্ত পণ্য থাকার অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে ওই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
এছাড়া বেনাপোল কাস্টমসের শুল্কায়ন তথ্য পর্যালোচনা করে একই ধরনের পণ্যের বিভিন্ন চালানে মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব চালান পুনরায় যাচাই এবং প্রয়োজন হলে পণ্যের নমুনা নিরপেক্ষ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত পণ্যের ধরন ও শুল্কযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, আমদানিকারকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের জিএসটি বিল, পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করা হলে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে সন্দেহজনক চালানগুলো উচ্চতর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অডিট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্যারেন্ট’স ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টারের মালিক আজিজুর রহমান লিটুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার তওফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফায়জুর রহমান বলেন, ইমিটেশন পণ্যের চালানে অনিয়ম পাওয়া গেলে কাস্টমস আইনে মামলা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে অফিসে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন তিনি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সন্দেহজনক চালানগুলো পুনঃপরীক্ষা, পণ্যের নমুনা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার ওপর উচ্চপর্যায়ের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
Tags:
বেনাপোল
বন্দরে
ইমিটেসন
পণ্য
সিন্ডিকেট
কারসাজিতে
রাজস্ব
ফাঁকি
টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্সের পুকুরে বিভিন্...
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
দেলদুয়ারের ডুবাইল ইউনিয়নে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানাধীন ডুবাইল ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশ ও দেলদুয়ার থানা পুলি...
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

