আইন-অপরাধ

সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঢাকায় গ্রেপ্তার আফছার

জহুরুল ইসলাম জুয়েল
জহুরুল ইসলাম জুয়েল জেলা প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঢাকায় গ্রেপ্তার আফছার
সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঢাকায় গ্রেপ্তার আফছার
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নির্জন এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের একদিনের মধ্যেই ঢাকার পল্লবী থেকে মো. আফছার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিয়ে নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম (বিপিএম-সেবা)। গ্রেপ্তার আফছার সাটুরিয়া উপজেলার মৈশলোহা গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট সকাল পৌনে ১১টার দিকে সাটুরিয়ার নাহার গার্ডেন সংলগ্ন একটি নির্জন স্থান থেকে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার মিরপুর মডেল থানার সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে জেলা ডিবি। তদন্তে লাইলী বেগমের সঙ্গে আফছারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে আফছার লাইলী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার সেনপাড়া পর্বতা থেকে সাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তার সঙ্গে একটি ধারালো চাকুও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্ধ্যার দিকে তারা সাটুরিয়ার নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে নাহার গার্ডেন সংলগ্ন নির্জন স্থানে যান। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। একপর্যায়ে আফছার লাইলী বেগমের গলায় তার পরিহিত কাপড়ের আঁচল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে গলায় পা দিয়ে চাপ দেন এবং সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর আফছার সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ৩১ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় আফছারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় ডিবি ও সাটুরিয়া থানা পুলিশের যৌথ দল। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে এসআই মো. হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আফছারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Tags: সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন ঢাকায় গ্রেপ্তার

আইন-অপরাধ

সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঢাকায় গ্রেপ্তার আফছার সাটুরিয়ায় নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঢাকায় গ্রেপ্তার আফছার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নির্জন এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্য...

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় 
আসামি হিটলুর মৃত্যুদণ্ড বহন রেখেছে হাইকোর্ট। মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটলুর মৃত্যুদণ্ড বহন রেখেছে হাইকোর্ট।

বহুআলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় প্রধান আসাম...

আগস্ট ৩১, ২০২৬

0 মন্তব্য