টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গোপালপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গোপালপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মতবিনিময়
গোপালপুর উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি, সড়ক ও অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গোপালপুর প্রেসক্লাবের সম্পাদক অটল শরিয়ত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং জাসাস গোপালপুর উপজেলা সভাপতি ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহানুর আহম্মেদ সোহাগের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার খামারবাড়ির প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. কে. এম. বদরুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার খামারবাড়ির ডিডি কৃষিবিদ ড. মো. শহিদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. এমদাদুল হক, ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র অফিসার কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হক, মানবিক বন্ধু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম, নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান এবং গোপালপুর উন্নয়ন পরিষদের মুখপাত্র মো. নুর-এ-আলম সিদ্দিকী (নুর)।
এ ছাড়া সভায় রনলা সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি আব্দুছ ছাত্তার পলাশী, সাধারণ সম্পাদক কবি মো. ইদ্রিছ আলী, বৈরাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বিএমজিটিএ সভাপতি ও রনলা সাহিত্য সংসদের যুগ্ম সম্পাদক কে. এম. শামীম, গ্রীন টিভির গোপালপুর উপজেলা প্রতিনিধি মাহফুজুর রেজা আশিক, কবি আব্দুল জলিলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের মতামত
সভায় বক্তারা বলেন, গোপালপুরের টেকসই ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এলাকার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্রীড়া, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
প্রধান অতিথি কৃষিবিদ ড. কে. এম. বদরুল হক বলেন, “গোপালপুরের সার্বিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং গোপালপুরবাসীকে অনুপ্রেরণা জোগাতে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আগামীতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, সাহিত্য, ক্রীড়া, চিকিৎসা, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সংগঠনের সংগঠকদের মধ্যে যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছেন তাদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
মো. শাহানুর আহম্মেদ সোহাগ বলেন, “গোপালপুরের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটাতে হবে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে গোপালপুর শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয়। কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। দ্রুত কমিটি গঠন, নিজস্ব ভবন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে হবে।”
গোপালপুর উন্নয়ন পরিষদের মুখপাত্র মো. নুর-এ-আলম সিদ্দিকী (নুর) বলেন, “প্রথমে গোপালপুর প্রেসক্লাব এবং পরবর্তীতে ঢাকায় গোপালপুরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভার মাধ্যমে গোপালপুরের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। আলোচিত বিষয়গুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজকে অবহিত করেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
সভায় গোপালপুরের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় কার্যকর নতুন ধারণা যুক্ত করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কালিহাতী উপজেলার সকল সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যাল...
মাদক ইভটিজিং অনলাইন জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা টাঙ্গাইলে মাদক, ইভটিজিং অনলাইন জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক আ...

