'Seen’ আর ‘Typing…’-এর ভিড়ে কাগজের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা আজ বড়ই দুর্লভ
চিঠি—শব্দটি যেন এক মায়াবী আয়না। তাতে ধরা পড়ে কালের গভীর থেকে ভেসে আসা স্মৃতির তরঙ্গ। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই দিন, যখন ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ ছিল প্রাণের স্পন্দন, খামের গন্ধ ছিল অপেক্ষার প্রলেপ। বইয়ের পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ভাঁজ করা চিঠি ছিল ভালোবাসার গোপন স্বাক্ষর।
চিঠি ছিল শুধু খবরের বাহক নয়; ছিল মনের অলিন্দে জমে থাকা আবেগের কোরক। একসময় চিঠি লেখা ছিল একধরনের সাধনা। কাঁপা হাতে লেখা প্রতিটি অক্ষরে মানুষ ঢেলে দিত ভালোবাসা, অভিমান, আকুলতা কিংবা নীরব কান্না। তারপর শুরু হতো অপেক্ষা—চিঠি পৌঁছাবে তো? আসবে তো উত্তর? সন্ধ্যার ম্লান আলোয় চিঠির ভাঁজ খোলার মুহূর্তে প্রতিটি অক্ষর হয়ে উঠত শিহরণ।
আজ সময় বদলেছে। মুহূর্তেই বার্তা পৌঁছে যায়—‘Seen’, ‘Typing…’—তারপর যেন সব শেষ। প্রযুক্তি মানুষকে কাছে এনেছে, কিন্তু অনুভূতির বুননে কোথাও যেন এনেছে শুষ্কতা। হারিয়ে গেছে অপেক্ষার মায়া, শব্দের যত্ন আর হাতে লেখা অনুভূতির উষ্ণতা।
তাই চিঠি দিবস শুধু একটি দিন নয়; এটি স্মৃতির আহ্বান, নির্বাসিত আবেগের জয়গান। ফিরুক কাগজের নরম ভাঁজ, কলমের আঁকাবাঁকা দাগ, অপেক্ষার নীরবতা। কারণ দ্রুত পৌঁছানো কথার চেয়ে, দেরিতে পৌঁছেও হৃদয়ে থেকে যাওয়া একটি চিঠির মূল্য আজও অনেক গভীর।
Tags:
-এর
ভিড়ে
কাগজের
ভাঁজে
লুকিয়ে
থাকা
ভালোবাসা
বড়ই
চিঠি—শব্দটি যেন এক মায়াবী আয়না। তাতে ধরা পড়ে কালের গভীর থেকে ভেসে আসা স্মৃতির তরঙ্গ। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই দিন, যখন ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ...
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

