প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল: স্বস্তিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এই চার্জ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মিটার ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল— মিটারের মূল্য পরিশোধের পরও কেন বছরের পর বছর এই অতিরিক্ত চার্জ বহাল রাখা হচ্ছে।এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক মহলে সমালোচনা ও দাবি জানানো হচ্ছিল।নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় কিছুটা কমবে এবং এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ভূমিকার জন্য সমালোচনার মধ্যেই কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্যালান্টির আয় হয়েছে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটি বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮.১৫ বিলিয়ন থেকে ৮.১৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বাণিজ্যিক গ্রাহক ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এই আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প বলেছেন, “এই প্রান্তিকটি ছিল অভূতপূর্ব। আমাদের মার্কিন বাণিজ্যিক আয় বছরে ১৪৯ শতাংশ এবং সামগ্রিক আয় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্বের চাহিদা এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।” শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে কার্প লিখেছেন, “আমাদের ব্যবসা এমন হারে ও পরিসরে বাড়ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।” মার্কিন সেনাবাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্যালান্টির বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। মার্কিন সরকারি ব্যবসা থেকে আয় বছরে ৯০ শতাংশ বেড়ে ৮০৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযানে কোম্পানিটির ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ রয়েছে। ২০০৩ সালে অ্যালেক্স কার্প ও পিটার থিয়েলসহ উদ্যোক্তারা প্যালান্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালে ইসরায়েলে প্রথম অফিস খোলে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ পর গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় প্যালান্টি। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধে কোম্পানির সম্পৃক্ততা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ওপেন ইন্টেলের তথ্য অনুযায়ী, প্যালান্টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের সফটওয়্যার যোগাযোগ, স্যাটেলাইট চিত্র ও অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য লক্ষ্য তালিকা তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩২৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৩ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার (এনএইচএস) সঙ্গে ৪৪৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে প্যালান্টি। এনএইচএস চুক্তিতে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্যালান্টির দর্শন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কার্প ও কোম্পানির কর্পোরেট বিষয়ক প্রধান নিকোলাস জামিস্কা সম্প্রতি ‘দ্য টেকনোলজিক্যাল রিপাবলিক’ বইয়ে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। সমালোচকরা এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিজম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে প্যালান্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী । বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচেতনা উদ্ভাবনী মনোভাব এবং গবেষণার আগ্রহ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।তিনি বলেন বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে যেমন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেড়েছে, তেমনি গুজব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। কুসংস্কার গুজব ও অযৌক্তিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত থেকে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য যাচাই করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি উন্নত আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান অতিথি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদেরকে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় যা ব্যক্তি ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। কৃষি,স্বাস্থ্য,পরিবেশ যোগাযোগ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষার্থীদের গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মতো আয়োজন তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বক্তব্যের শেষে তিনি শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিজ্ঞানী গবেষক ও উদ্ভাবক হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।
বিশ্বব্যাপী ফেসবুকে কারিগরি ত্রুটি, ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ হঠাৎ করেই কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ সমস্যার শুরু হয় বলে ব্যবহারকারীরা জানান। হঠাৎ করেই অনেকেই নিজেদের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। পাশাপাশি নতুন কোনো কনটেন্ট ছবি বা ভিডিও আপলোড করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন অনেকে।অন্যদিকে নিউজফিড রিফ্রেশ করতে গেলে ত্রুটির বার্তা দেখাচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার পুরোনো পোস্ট ও ছবি বারবার প্রদর্শিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কারিগরি সমস্যার কারণ সম্পর্কে Facebook কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।