প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এক বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা কোডিংয়ের ক্ষেত্রে। একসময় যে কোডিংকে কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির একচেটিয়া ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের অত্যাধুনিক এআই টুলস সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। জেমিনি (Gemini) এবং ডুয়েট এআই (Duet AI)-এর মতো শক্তিশালী এআই মডেলগুলি কোড লেখা থেকে শুরু করে ডিবাগিং, কোড পর্যালোচনা এবং এমনকি জটিল সিস্টেম ডিজাইন পর্যন্ত সবকিছুতেই ডেভেলপারদের সহায়তা করছে। এই টুলসগুলি কেবল কোডিং প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও ত্রুটিমুক্ত করছে না, বরং কোডিংয়ের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিকে পরিচালিত করছে, যেখানে মানুষ ও এআইয়ের সহযোগিতা হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে এবং গ্রাহকদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে ডেভেলপারদের ওপর চাপ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কোড লেখা সময়সাপেক্ষ এবং এতে মানবীয় ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। গুগল, তার গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে, কোডিংয়ের এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের এআই টুলসগুলি বিশাল ডেটাসেট থেকে শিখে, প্যাটার্ন চিনতে পেরে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে ডেভেলভারদের কাজকে সহজ করে তুলছে। গুগল ডিপমাইন্ডের আলফাকোড (AlphaCode) এর মতো গবেষণা প্রকল্পগুলি দেখিয়েছে যে এআই এমনকি জটিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাতেও মানুষের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম, যা কোডিংয়ে এআইয়ের সম্ভাবনার এক ঝলক প্রদর্শন করে। গুগলের এআই টুলসের মধ্যে জেমিনি এবং ডুয়েট এআই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেমিনি, গুগলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মাল্টিমোডাল এআই মডেল হিসেবে, কেবল টেক্সট নয়, কোড, ছবি এবং ভিডিওর মতো বিভিন্ন তথ্য বুঝতে ও তৈরি করতে সক্ষম। কোডিংয়ের ক্ষেত্রে, জেমিনি ডেভেলপারদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি করতে পারে, বিদ্যমান কোডে ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে, কোডের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারে এবং এমনকি এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কোড অনুবাদও করতে পারে। অন্যদিকে, ডুয়েট এআই হল ওয়ার্কস্পেস (Workspace) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর জন্য তৈরি গুগলের এআই-চালিত সহযোগী। এটি বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টে (যেমন, VS Code, JetBrains IDEs) সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে কাজ করে। ডুয়েট এআই ডেভেলপারদের জন্য কোড সাজেশন, স্বয়ংক্রিয় কোড সম্পন্নকরণ, ডিবাগিং সহায়তা এবং কোড রিফ্যাক্টরিংয়ের মতো কাজগুলি করে। এর মাধ্যমে ডেভেলপাররা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি থেকে মুক্তি পেয়ে আরও সৃজনশীল এবং উচ্চ-স্তরের সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করতে পারেন। কোড জেনারেশন, কোড ব্যাখ্যা এবং কোড সংশোধনের মতো ক্ষমতাগুলি ডেভেলপারদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গুগলের এআই টুলস ডেভেলপারদের জন্য অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে: ১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: স্বয়ংক্রিয় কোড জেনারেশন এবং ত্রুটি শনাক্তকরণের মাধ্যমে ডেভেলপাররা অনেক দ্রুত কাজ সম্পন্ন সম্পন্ন করতে পারেন, যা তাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চাঁনশিকারী বিওপিতে কর্মরত নায়েক মো. আমজাদ আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৯৯/৪-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ১ নম্বর ভোলাহাট ইউনিয়নের হাউজফুল গ্রামের বুদ্ধ সুবেদারের আমবাগানে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ভূমিকার জন্য সমালোচনার মধ্যেই কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্যালান্টির আয় হয়েছে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটি বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৮.১৫ বিলিয়ন থেকে ৮.১৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বাণিজ্যিক গ্রাহক ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এই আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প বলেছেন, “এই প্রান্তিকটি ছিল অভূতপূর্ব। আমাদের মার্কিন বাণিজ্যিক আয় বছরে ১৪৯ শতাংশ এবং সামগ্রিক আয় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্বের চাহিদা এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।” শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে কার্প লিখেছেন, “আমাদের ব্যবসা এমন হারে ও পরিসরে বাড়ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।” মার্কিন সেনাবাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্যালান্টির বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। মার্কিন সরকারি ব্যবসা থেকে আয় বছরে ৯০ শতাংশ বেড়ে ৮০৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন দমন অভিযানে কোম্পানিটির ভূমিকার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ রয়েছে। ২০০৩ সালে অ্যালেক্স কার্প ও পিটার থিয়েলসহ উদ্যোক্তারা প্যালান্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালে ইসরায়েলে প্রথম অফিস খোলে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ পর গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় প্যালান্টি। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধে কোম্পানির সম্পৃক্ততা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ওপেন ইন্টেলের তথ্য অনুযায়ী, প্যালান্টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের সফটওয়্যার যোগাযোগ, স্যাটেলাইট চিত্র ও অন্যান্য ডেটা বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য লক্ষ্য তালিকা তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩২৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৩ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার (এনএইচএস) সঙ্গে ৪৪৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে প্যালান্টি। এনএইচএস চুক্তিতে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্যালান্টির দর্শন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কার্প ও কোম্পানির কর্পোরেট বিষয়ক প্রধান নিকোলাস জামিস্কা সম্প্রতি ‘দ্য টেকনোলজিক্যাল রিপাবলিক’ বইয়ে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। সমালোচকরা এই দর্শনকে ‘টেকনো-ফ্যাসিজম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে প্যালান্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী । বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচেতনা উদ্ভাবনী মনোভাব এবং গবেষণার আগ্রহ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সৃজনশীল মেধার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।তিনি বলেন বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে যেমন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেড়েছে, তেমনি গুজব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। কুসংস্কার গুজব ও অযৌক্তিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত থেকে যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য যাচাই করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি উন্নত আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান অতিথি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদেরকে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় যা ব্যক্তি ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। কৃষি,স্বাস্থ্য,পরিবেশ যোগাযোগ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষার্থীদের গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মতো আয়োজন তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বক্তব্যের শেষে তিনি শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিজ্ঞানী গবেষক ও উদ্ভাবক হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।
বিশ্বব্যাপী ফেসবুকে কারিগরি ত্রুটি, ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ হঠাৎ করেই কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ সমস্যার শুরু হয় বলে ব্যবহারকারীরা জানান। হঠাৎ করেই অনেকেই নিজেদের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। পাশাপাশি নতুন কোনো কনটেন্ট ছবি বা ভিডিও আপলোড করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন অনেকে।অন্যদিকে নিউজফিড রিফ্রেশ করতে গেলে ত্রুটির বার্তা দেখাচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার পুরোনো পোস্ট ও ছবি বারবার প্রদর্শিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কারিগরি সমস্যার কারণ সম্পর্কে Facebook কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।