দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেল সরিষাবাড়ি উপজেলার কাবারিয়াবাড়িয়া ফুটবল মাঠ। গত ১৭ এপ্রিল মরহুম গাজী গোলাম মোস্তা ও মরহুম জুলহাস উদ্দিন জামালী স্মরণে আয়োজিত ১৩৮তম ঐতিহ্যবাহী ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল একাদশ ও হেমনগর ফুটবল একাদশ। খেলাটি উদ্বোধন করেন সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সদস্য লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম খান বাবু (জজ কোর্ট, ঢাকা), বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হবি স্যার (অবসরপ্রাপ্ত শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক ও সভাপতি, কাবারিয়াবাড়ি যুব উন্নয়ন সংস্থা) এবং সুরুজ উদ্দিন সুরুজ মেম্বার (সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৪ আওনা ইউনিয়নের সভাপতি)। খেলা শুরুর পর থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। মাঠের চারপাশে জড়ো হওয়া হাজারো ফুটবলপ্রেমী করতালিতে উৎসাহ দেন খেলোয়াড়দের। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে মাঠের লড়াই। তবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে হেমনগর ফুটবল একাদশ ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ ফুটবল একাদশ কোনো গোল করতে পারেনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন খেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এক সময় কাবারিয়াবাড়িয়া ফুটবল মাঠ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এখানে নিয়মিত বড় বড় খেলা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এলাকার তরুণরা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়েছিল। এখন আবার খেলা শুরু হওয়ায় তারা মাঠমুখী হবে এবং এসব আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এলাকার সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে বলে তারা মনে করছেন। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতা এলাকার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) ১৪১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের নির্বাচনী পথসভা সরিষাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরিষাবাড়ী ও আওনা ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পথসভা একপর্যায়ে বৃহৎ জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে শামীম তালুকদার বলেন, নির্বাচিত হলে ফ্যামেলী কার্ড, কৃষিকার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতাকর্মীরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক দিন, কমেন্ট করুন এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোজ ও দোয়া মাহফিল। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করা এই প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে দল-মত নির্বিশেষে আওনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়ায় শরিক হন। পুরো এলাকাজুড়ে ছিল নীরবতা ও শোকের আবহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সদস্য লাবিবউদ্দিন তালুকদার লিটন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আপসহীন নেত্রী। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ৪ নম্বর আওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের একজন সাহসী নারী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। গণভোজের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় আলেমদের মাধ্যমে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ধৈর্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে প্রয়াত নেত্রীর জন্য দোয়া করেন। সব মিলিয়ে আওনা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এই গণভোজ ও দোয়া মাহফিল ছিল এক শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক স্মরণানুষ্ঠান।