টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 'মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬' উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।'World Drug Problem: Persisting Issues, New Challenges, Innovative Responses' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসন টাঙ্গাইল এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ অবৈধ পাচার প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
"পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। রফিকুল ইসলাম দৈনিক মুক্তধ্বনি
ধনবাড়ীকে হারিয়ে শুভ সূচনা গোপালপুরের, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে গোপালপুরের সুতী ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সেলিম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী, গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান, সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার লেলিন এবং সদস্য সচিব বদিউজ্জামান রানা। এছাড়াও ধনবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক গোপালপুর উপজেলা একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ধনবাড়ী উপজেলা একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে। খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে, শীর্ষস্থান যশোরের দখলেপ্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার সবকটি বোর্ড মিলিয়ে সার্বিক পাসের হার ও পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা—উভয় সূচকেই অবনতি ঘটেছে।চলতি বছর সব বোর্ড মিলিয়ে গড়ে ৬২.২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা আগের বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট। ফলাফলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মেধা সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানেও গড় পাসের হার কমেছে। সাধারণ বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। ৯টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে ৬৮.১৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার মাত্র ৫৯.৭৮ শতাংশ।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক পাসের হারযশোর: ৬৮.১৪% (শীর্ষ স্থান)রাজশাহী: ৬৬.৭৫%সিলেট: ৬৫.৯৫%চট্টগ্রাম: ৬৫.২৮%বরিশাল: ৬৪.৬৯%দিনাজপুর: ৬৪.৫০%ঢাকা: ৬৪.২২%ময়মনসিংহ: ৬১.৮৭%কুমিল্লা: ৫৯.৭৮%শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কঠোরতা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় এই প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহ দ্রুতই বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ স্মরণে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং সুসংগঠিত পরিবেশে এক বিশাল বিজয় র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গোপালপুর উপজেলা শাখা ও শহর শাখার যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো গোপালপুর পৌর শহর এক নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।বুধবার বিকেল ৪টায় গোপালপুর উপজেলা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বর্ণাঢ্য এই বিজয় র্যালিটি শুরু হয়। এতে কৃষক দল, বিএনপি এবং এর সকল সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। হাতে সুসজ্জিত ব্যানার, রঙ-বেরঙের ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। র্যালি চলাকালে নেতাকর্মীরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে লালন করে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও উৎসবমুখর স্লোগান দেন। বিশাল এই শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করে। র্যালি চলাকালীন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাত নেড়ে সংহতি প্রকাশ করেন।র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপজেলা ও শহর কৃষক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, "ছাত্র ও জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ এবং বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল, সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে গোপালপুরের প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে দিনটির কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের দিকনির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। নদীভাঙনের কারণে যেসব পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় নদীভাঙন কবলিত মানুষের হাতে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এমন কঠিন সময়ে সরকারি এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এদিকে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে নলসন্ধ্যা গ্রামের নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়িয়ে তোলে এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।