টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইল জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার সকল থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় নিয়মিতভাবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অভিযান চলাকালে জেলা পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল প্রাইভেটকার ট্রাক সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ যানবাহন ও নিয়মভঙ্গকারী মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়।জেলা পুলিশের এই চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে, শীর্ষস্থান যশোরের দখলেপ্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার সবকটি বোর্ড মিলিয়ে সার্বিক পাসের হার ও পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা—উভয় সূচকেই অবনতি ঘটেছে।চলতি বছর সব বোর্ড মিলিয়ে গড়ে ৬২.২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা আগের বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট। ফলাফলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মেধা সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানেও গড় পাসের হার কমেছে। সাধারণ বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। ৯টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে ৬৮.১৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পাসের হার মাত্র ৫৯.৭৮ শতাংশ।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক পাসের হারযশোর: ৬৮.১৪% (শীর্ষ স্থান)রাজশাহী: ৬৬.৭৫%সিলেট: ৬৫.৯৫%চট্টগ্রাম: ৬৫.২৮%বরিশাল: ৬৪.৬৯%দিনাজপুর: ৬৪.৫০%ঢাকা: ৬৪.২২%ময়মনসিংহ: ৬১.৮৭%কুমিল্লা: ৫৯.৭৮%শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তরপত্রের মূল্যায়নে কঠোরতা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় এই প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডসমূহ দ্রুতই বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ স্মরণে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং সুসংগঠিত পরিবেশে এক বিশাল বিজয় র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গোপালপুর উপজেলা শাখা ও শহর শাখার যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো গোপালপুর পৌর শহর এক নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।বুধবার বিকেল ৪টায় গোপালপুর উপজেলা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বর্ণাঢ্য এই বিজয় র্যালিটি শুরু হয়। এতে কৃষক দল, বিএনপি এবং এর সকল সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। হাতে সুসজ্জিত ব্যানার, রঙ-বেরঙের ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। র্যালি চলাকালে নেতাকর্মীরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে লালন করে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও উৎসবমুখর স্লোগান দেন। বিশাল এই শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করে। র্যালি চলাকালীন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাত নেড়ে সংহতি প্রকাশ করেন।র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপজেলা ও শহর কৃষক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, "ছাত্র ও জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ এবং বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল, সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে গোপালপুরের প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে দিনটির কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের দিকনির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। নদীভাঙনের কারণে যেসব পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় নদীভাঙন কবলিত মানুষের হাতে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এমন কঠিন সময়ে সরকারি এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এদিকে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে নলসন্ধ্যা গ্রামের নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়িয়ে তোলে এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।