আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পর্তুগাল বিএনপির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ তালুকদার। এ সময় দেশে অবস্থানরত পর্তুগাল বিএনপির সদস্য সচিব সায়েফ আহমেদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গিলমান চৌধুরীসহ দেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার এবং ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে আরও অংশ নেন এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ইসি ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গণে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দল-মতের প্রার্থীদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা করে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছেন। দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু পৌর প্রশাসনের নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়; বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্গাপুর পৌরসভায় এখন উন্নয়ন, সুশাসন, জবাবদিহিতা, নাগরিক সেবা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মূল্যায়নেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেবেন ভোটাররা। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির দুর্গাপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টারকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে তিনি সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। জামাল উদ্দিন মাস্টার এর আগে ২০১৫ ও ২০২২ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেন। স্থানীয় নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাকে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এছাড়া রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ড তিনি নিয়মিতভাবে করে আসছেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি নির্যাতন ভোগ করেছেন। কারাগারে দিনের পর দিন কেটেছে তার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে তাকে দমিয়ে দিয়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের সময় তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্থানীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, জামাল উদ্দিন মাস্টারের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত। তার বাবা আলহাজ্ব ইমাম হাসান আবুচান চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপুরের স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন একজনকে তারা আগামীর মেয়র হিসেবে দেখতে চান, যিনি সড়ক, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পৌর ব্যবস্থাপনা, আলোকিত নগর এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তাদের মতে, কর্মনিষ্ঠা, সততা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নের সুষ্ঠু পরিকল্পনাই হবে ভোটের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। দুর্গাপুর পৌরসভার নাগরিকদের চাওয়া, বিদ্যমান সকল অচলায়তন ভেঙে একটি নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে ভোটের লড়াইয়ে সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিই মেয়র হবেন, এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার বিষয়ে ছাত্রদল ও শিবির একে অপরকে দায়ী করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে গুপ্ত লেখা কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন সহ অনান্য নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ মিছিলটি সকাল ১১টা নাগাদ শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়। বনানী স্টার কাবাবের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১১ নম্বর সড়কে আরং-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।