মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজন সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সকালেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক প্রতিনিধি সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপপরিচালক স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইল জনাব সঞ্জয় কুমার মহন্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), টাঙ্গাইল জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবা।বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো শ্রমিক শ্রেণি। তাই তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ধনবাড়ীতে টনসিল অপারেশনের আগে চেতনানাশক ইনজেকশন, ৯ বছরের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের প্রস্তুতিকালে চেতনানাশক (অ্যানেস্থেসিয়া) ইনজেকশন দেওয়ার পর চাদনী (৯) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার 'আল মদিনা হাসপাতালে' এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু চাদনী দীর্ঘদিন ধরে টনসিলের সমস্যায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার তাকে ধনবাড়ী পৌর শহরের আল মদিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপারেশনের থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপারেশনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শিশুটির শরীরে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ পরও তার জ্ঞান না ফেরায় এবং কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অবস্থার বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। পরে স্বজনরা চাদনীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। চাদনীর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের গাফিলতি এবং ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণেই চাদনীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই আল মদিনা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
টাঙ্গাইলে ৪ ক্লিনিক-হাসপাতালে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান: দেড় লাখ টাকা জরিমানা, সিলগালা ১ মোঃরুবেল মিয়া মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি টাংগাইল। টাঙ্গাইল পৌর শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শহরের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অনিয়মের অভিযোগে চারটি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে মারাত্মক অনিয়মের দায়ে ‘পাইলট হাসপাতাল’-এর প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে বেশ কিছু ক্লিনিকে প্যাথলজিস্ট ছাড়াই অপেশাদার ব্যক্তিসদ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ না করা এবং এমনকি নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্ত সংরক্ষণের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। জনস্বার্থবিরোধী এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে: পাইলট হাসপাতাল: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা জনতা ক্লিনিক: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অ্যাপল হাসপাতাল: ২৫ হাজার টাকা জরিমানা সেনা কম্বাইন্ড হাসপাতাল: ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেকোনো ধরনের প্রতারণা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে ও স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গোপালপুরে মদিনা মডেল মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠত টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মদিনা মডেল মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দঘন ও তাযকিয়াপূর্ণ পরিবেশে রূপ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদিনা মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. আহমদ আলী আকন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিতি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল। এছাড়াও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা অটো রিকশা, অটো ও ভ্যান শ্রমিক সংগঠন (২৬০৬)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী ইউসুব। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ধর্মীয় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবকমণ্ডলী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। আয়োজনের মূল পর্বে হিফজ বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সবক প্রদান করা হয়। সবক প্রদান শেষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুশিক্ষা অর্জন এবং দ্বীনি শিক্ষা ও কুরআনের খেদমতে নিবেদিত হওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। আয়োজকবৃন্দ জানান, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, দোয়া ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে মোনাজাত করা হয়। দোয়ায় হিফজ বিভাগের সকল শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের প্রকৃত ধারক-বাহক হিসেবে কবুল করা, তাদের ইলম ও আমলে বরকত দান করা এবং মদিনা মডেল মাদ্রাসার দ্বীনি খিদমতকে কবুল করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়।
আলুর আড়ালে চলত ক্যানাবিস ব্যবসা গোপালপুরে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আলু পরিবহনের আড়ালে অভিনব কায়দায় বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের একটি চক্র ধরা পড়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই বস্তা ভর্তি আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৪। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা আলুভর্তি একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের খবর পেয়ে র্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক (এডি) শামসুল আলমের নেতৃত্বে একদল সদস্য অভিযান পরিচালনা করেন। গাড়িটি নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এর গতিপথ রোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে আলুর বস্তার নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মিলে আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজা। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে চালক, হেলপার ও স্থানীয় এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— গোপালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সামসুল হক (৩২) এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা পিকআপ চালক মোহাম্মদ জয় (৩০) ও তার হেলপার ইয়াসির আরাফাত (৩৩)। অভিযানে আটক চালক ও হেলপারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগী সামসুল হককে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা কুমিল্লা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানটি স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। অভিযান প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, র্যাব কর্তৃক মাদকসহ ৩ জনকে আটকের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযানের পর র্যাব সাধারণত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আটককৃতদের এবং জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে থাকে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আলু পরিবহনের আড়ালে অভিনব কায়দায় বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের একটি চক্র ধরা পড়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই বস্তা ভর্তি আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৪। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা আলুভর্তি একটি পিকআপে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের খবর পেয়ে র্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক (এডি) শামসুল আলমের নেতৃত্বে একদল সদস্য অভিযান পরিচালনা করেন। গাড়িটি নগদা শিমলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এর গতিপথ রোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে আলুর বস্তার নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মিলে আনুমানিক ৪০ কেজি গাঁজা। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে চালক, হেলপার ও স্থানীয় এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— গোপালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সামসুল হক (৩২) এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা পিকআপ চালক মোহাম্মদ জয় (৩০) ও তার হেলপার ইয়াসির আরাফাত (৩৩)। অভিযানে আটক চালক ও হেলপারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগী সামসুল হককে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা কুমিল্লা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানটি স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। অভিযান প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, র্যাব কর্তৃক মাদকসহ ৩ জনকে আটকের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযানের পর র্যাব সাধারণত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আটককৃতদের এবং জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে থাকে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।