আধ্যাত্মিক সাধক ও ফকির দর্শনের প্রবর্তক মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস সরকারি স্বীকৃতির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলের কালিহাতীতেও গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির আবেশে পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী নানা আধ্যাত্মিক আয়োজনে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ দিবসটি পালন করে। ভোরের আলো ফোটার আগেই সংঘের প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে ভক্ত, বাউল ও সাধুসন্তদের পদচারণায়। চারদিকে ভেসে আসে একের পর এক লালনগীতির সুর। সুরের তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে মানবতার মর্মবাণী, প্রেম ও ঐক্যের বার্তা।
দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, আধ্যাত্মিক বক্তব্য, মধ্যাহ্নভোজ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কালিহাতী শাখার সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সভাপতি হরিমোহন পাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান লেলিন, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আলী, স্থানীয় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার সামসুল আলম ফকির, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, সাংবাদিক আতোয়ার রহমান, সাংবাদিক শুভ্র মজুমদারসহ স্থানীয় সমাজসেবক ও অসংখ্য বাউল–ভক্তবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, লালন সাঁইজি ছিলেন মানবতার মহান দার্শনিক, যিনি জাত, ধর্ম, বর্ণের ভেদরেখা মুছে মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সাম্য ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে আশপাশের অঞ্চল থেকে আগত সাধু, বাউল ও লালনভক্তদের মিলনে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়। আধ্যাত্মিক ভাব, সঙ্গীত ও মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত এ তিরোধান দিবসের সমাপ্তি ঘটে লালনের চিরন্তন বাণীতে 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।'
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চাঁনশিকারী বিওপিতে কর্মরত নায়েক মো. আমজাদ আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৯৯/৪-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ১ নম্বর ভোলাহাট ইউনিয়নের হাউজফুল গ্রামের বুদ্ধ সুবেদারের আমবাগানে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিকল্পিত পরিবার, সমৃদ্ধ আগামী"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সরিষাবাড়ী, জামালপুরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা সনদ বিতরণ করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সরিষাবাড়ীতে বিএনপির বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। "জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় সংসদের ১৪১ জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।র্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন বহন করে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় দিবসটির তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল আয়োজন কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজয় র্যালি ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যময় করে তোলে।প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাস্ট, সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা, জামালপুর।
টাঙ্গাইল শহর শাখার ৩ ও ৫ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমীর আহসান হাবীব মাসুদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি হাসান আল মামুন ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি ডা. আব্দুর রউফ ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহীন মিঞা, ৫ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মকবুল হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কাউন্সিলর মীর ওয়াজেদ আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঈদ পুনর্মিলনীর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংগঠনের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
কালিগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় জনগণের মধ্যে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক শামীমকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সাংবাদিক শামীম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করার জন্য তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুণীজন—কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, প্রভাষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিক মহলেও তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান রয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার সুসম্পর্ক বিদ্যমান। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, এমন একজন অভিজ্ঞ ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে কালিগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সাংবাদিক শামীম ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলে তিনি ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করবেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “আমরা এমন একজন মানুষকে নেতৃত্বে দেখতে চাই, যিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন। সাংবাদিক শামীম সেই যোগ্যতা রাখেন। তাকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক শামীমের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সমর্থকরা আশা করছেন, জনগণের এই প্রত্যাশাকে তিনি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।