জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) বেলা ১২:০০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের ফেব্রুয়ারি/২০২৬ খ্রি. মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন। সভায় আলোচনা করা হয় পূর্ববর্তী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন, জেলার খাতভিত্তিক এবং থানা ভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যান, থানা ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক রুজুকৃত মামলা সংক্রান্ত অগ্রগতি, অপরাধ পরিসংখ্যান, মামলা নিষ্পত্তি, মুলতবী মামলার অবস্থা, অপমৃত্যু মামলার পরিসংখ্যান, মুলতবী গ্রেফতারী পরোয়ানা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম এবং জেলার গোয়েন্দা কার্যক্রম। এছাড়া স্পর্শকাতর মামলা ও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়।পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিকভাবে রক্ষা করার জন্য সকল কর্মকর্তাকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোরশেদা খাতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) মোঃ সাইফুল ইসলাম পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা। এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি, ডিআইও, তদন্ত কর্মকর্তা ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জবৃন্দ ট্রাফিক এবং কোর্ট ইন্সপেক্টররা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের জুলাই ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় টাঙ্গাইলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, স্পর্শকাতর মামলার অগ্রগতি, গোয়েন্দা কার্যক্রম, নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে সকল পুলিশ সদস্যকে দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অনলাইন জুয়া, কিশোর গ্যাং, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা দ্রুত তামিলের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন পুলিশ সুপার।সভায় জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), জনাব মোঃ আদিবুল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), জেলার সকল সার্কেল কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধনবাড়ীতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলাপরিস্থিতিরউন্নয়নজননিরাপত্তানিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস নুরজাহান আক্তার সাথী।সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় অপরাধ দমন মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এছাড়া সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ বিভাগের চলমান কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে সদস্যরা বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।সভায় উপজেলা প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জনস্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
টাঙ্গাইলে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির জুন ২০২৬ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল।সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, সরকারি দপ্তরসমূহের চলমান কার্যক্রম এবং জনসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য কৃষি স্থানীয় সরকার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম, অর্জন, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবান্ধব ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ সরকারি সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর সেবা প্রদান এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।