ইরান জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শত্রুপক্ষের ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Alireza Elhami এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency (আইআরএনএ)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানি সেনারা “শত্রুর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন” মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত মানববিহীন উড়োজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোনের মধ্যে Hermes এবং Lucas ধরনের উন্নত মানববিহীন বিমানও রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলহামি বলেন, এই সাফল্য এসেছে নতুন কৌশল, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার ফল হিসেবে। তার মতে, এসব ব্যবস্থার কারণে শত্রুপক্ষ বিভ্রান্তিতে পড়েছে এবং তাদের অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, এই হামলা ইরানের নয়; বরং এর পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ মার্চ সংঘটিত ওই হামলার সঙ্গে “ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই”। তাদের দাবি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত বাস্তবতা বিবেচনায় এটি “নিশ্চিতভাবেই জায়নবাদী শক্তির দ্বারা পরিচালিত” একটি অভিযান। এদিকে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ যে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষতির কথা বললেও, প্রকৃতপক্ষে আগুনটি কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরজিসি ওই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা। সংস্থাটি আরও দাবি করে, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, “এই অঞ্চলে জায়নবাদী শাসনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা” সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানায়, “আমেরিকান-জায়নবাদী শক্তির অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে” প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে। তবে এই হামলার প্রকৃত দায়ী পক্ষ সম্পর্কে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিখোঁজ এক মার্কিন বিমানসেনার ভাগ্য নিয়ে বাজি ধরার ঘটনায় পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম Polymarket তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি Seth Moulton এ ঘটনাকে “অত্যন্ত জঘন্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ার পর নিখোঁজ ওই মার্কিন বিমানসেনার সন্ধানে বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “তাদের নিরাপত্তা এখনো অনিশ্চিত। তারা আপনার প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্য হতে পারে। অথচ তারা বাঁচবে কি না—এ নিয়ে মানুষ বাজি ধরছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।” এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে বাজি চালু করে সমালোচনায় থাকা Polymarket জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তারা সংশ্লিষ্ট সব বাজি “অবিলম্বে” বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, এমন বাজি চালু হওয়া উচিত ছিল না এবং কীভাবে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মানবিক সংবেদনশীলতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন আবারও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
ইরান–ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত এক সপ্তাহে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে যা এক সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম বড় রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে সংঘাতের কেন্দ্রস্থল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।জানা গেছে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর ইরাক-এর কয়েকটি তেলক্ষেত্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে একটি মার্কিন পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়েত-ও তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগসংক্রান্ত দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর দেশটির শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।