বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)এর সাবেক মহাপরিচালক, খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন)
আজ ১৫ রমজান (৭ এপ্রিল) শুক্রবার ইফতারের আগ মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চাঁনশিকারী বিওপিতে কর্মরত নায়েক মো. আমজাদ আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৯৯/৪-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ১ নম্বর ভোলাহাট ইউনিয়নের হাউজফুল গ্রামের বুদ্ধ সুবেদারের আমবাগানে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৮৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালপুরে রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাবৃত্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে। এ সময় তিনি রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারুফ তালুকদার রাহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার এক অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে খতমে নবুয়ত আন্দোলনের নেতা আব্বাসী কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, “বিএনপি হোক, জামায়াত হোক—যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয়ভাবে কুখ্যাত কাফের কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবে, শুধুমাত্র তাকেই আমরা নির্বাচিত করে ক্ষমতায় পাঠাবো।” আব্বাসী বলেন, খতমে নবুয়তের আকিদা ইসলামের মূল বিশ্বাস। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে কেউ নবুয়ত দাবি করলে সে ইসলামের বাইরে এবং যারা তাকে কাফের বলবে না, তারাও কাফের—এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো সেকুলার রাজনীতির অজুহাতে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে চায় না। তার বক্তব্যে প্রশ্ন ছিল, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি শুধু অমুসলিমদের অধিকার রক্ষার জন্য? দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মৌলিক দাবি আদায় না হলে সেই সংবিধান মানার মতো কিছু থাকে না।” আব্বাসী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কাদিয়ানীদের নতুন নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে তাদের পাহারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি তারা সংখ্যালঘু হয়, তবে তাদেরকে সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে সমস্যা কোথায়?” কাদিয়ানীদের তিনি “ইহুদিদের চেয়েও নিকৃষ্ট কাফের” ও “জিন্দিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, শরীয়তের আইনে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বাংলাদেশ যেহেতু সেকুলার রাষ্ট্র, তাই দাবি মাত্র একটি—রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইসলামী রাজনীতির দোহাই দেন, কিন্তু কেন আপনারা কর্মসূচিতে বলেন না যে সংসদে গেলে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবেন? পশ্চিমারা রাগ করবে বলে কি ভয়? ভারতের বা যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারী করে কেউ টিকতে পারবে না।” অবশেষে তিনি ঘোষণা দেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময় হলেও বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে—এই দাবি আদায় হবেই।” সভা শেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
রাজধানীর সোহরায়োর্দী উদ্যানে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত মহাসম্মেলন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। আয়োজন করেছে খতমে নবুয়ত সুরক্ষা পরিষদ। বক্তারা ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি—কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলিম পরিচয়ে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন নথিতে যে ‘মুসলিম’ স্ট্যাটাস ব্যবহার করে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ থেকে আলেম, উলামা ও ইসলামিক স্কলাররা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশ খতমে নবুয়ত আন্দোলনের আমির মাওলানা আব্দুল হাসমত। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আলেমরা বলেন, কাদিয়ানিরা ‘নবুয়ত সমাপ্তি’–সংক্রান্ত ইসলামী আকিদার বিরোধিতা করে এবং নিজেদের আলাদা বিশ্বাস অনুসরণ করে। তাই বাংলাদেশে তারা অনায়াসে থাকতে পারলেও মুসলিম পরিচয়ে থাকার অধিকার নেই বলে বক্তারা মত দেন। সোহরায়োর্দী উদ্যান ঘিরে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনতার ঢল নেমেছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকার যেন জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত দাবিটি পূরণ করে। সম্মেলনের মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন হযরত মাওলানা ফুলতলা রহমান, মুফতি আবুল কাসেমসহ আন্তর্জাতিক অতিথিরা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে মানুষের ভিড় আরও বাড়ছে। আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে।