কওমী অঙ্গন

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করলে কাউকে ক্ষমতায় পাঠানো হবে না: আব্বাসীর হুঁশিয়ারি

reporter-icon
মুক্তধ্বনি নিউজ ডেক্স: রিপোর্টার
নভেম্বর ১৬, ২০২৫ | 0

ঢাকার এক অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে খতমে নবুয়ত আন্দোলনের নেতা আব্বাসী কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, “বিএনপি হোক, জামায়াত হোক—যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয়ভাবে কুখ্যাত কাফের কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবে, শুধুমাত্র তাকেই আমরা নির্বাচিত করে ক্ষমতায় পাঠাবো।”

আব্বাসী বলেন, খতমে নবুয়তের আকিদা ইসলামের মূল বিশ্বাস। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে কেউ নবুয়ত দাবি করলে সে ইসলামের বাইরে এবং যারা তাকে কাফের বলবে না, তারাও কাফের—এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো সেকুলার রাজনীতির অজুহাতে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে চায় না। তার বক্তব্যে প্রশ্ন ছিল, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি শুধু অমুসলিমদের অধিকার রক্ষার জন্য? দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মৌলিক দাবি আদায় না হলে সেই সংবিধান মানার মতো কিছু থাকে না।”

আব্বাসী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কাদিয়ানীদের নতুন নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে তাদের পাহারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি তারা সংখ্যালঘু হয়, তবে তাদেরকে সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে সমস্যা কোথায়?”

কাদিয়ানীদের তিনি “ইহুদিদের চেয়েও নিকৃষ্ট কাফের” ও “জিন্দিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, শরীয়তের আইনে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বাংলাদেশ যেহেতু সেকুলার রাষ্ট্র, তাই দাবি মাত্র একটি—রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন,
“ইসলামী রাজনীতির দোহাই দেন, কিন্তু কেন আপনারা কর্মসূচিতে বলেন না যে সংসদে গেলে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবেন? পশ্চিমারা রাগ করবে বলে কি ভয়? ভারতের বা যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারী করে কেউ টিকতে পারবে না।”

অবশেষে তিনি ঘোষণা দেন,
“এক সাগর রক্তের বিনিময় হলেও বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে—এই দাবি আদায় হবেই।”

সভা শেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সর্বাধিক পঠিত
ধনবাড়ীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে এবং ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী (চার বোনের মধ্যে তৃতীয়) দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী পৌরসভার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই সকালে ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে নেন মারুফ হোসেন শান্ত। এরপর সারাদিন তারা অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলের পরিবার স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রাতে মেয়েটিকে তার বড় বোনের জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরদিন ১২ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওই পরীক্ষার্থীকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে ঘটেছে নিশ্বংস ধর্ষনের ঘটনা

স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।

বিশ্বনাথে শাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ।

সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।

কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির মালিকানাধীন জমিতে অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্তে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মাদকসহ ২ কারবারি ও ২ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

কওমী অঙ্গন

আরও পড়ুন
গোপালপুরে রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

গোপালপুরে রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাবৃত্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে। এ সময় তিনি রাবেয়া বসরী নূরানী শিক্ষাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারুফ তালুকদার রাহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মে ১৭, ২০২৬ 0

উচ্চশিক্ষায় আলেমদের জন্য ‘কোটি টাকার’ স্কলারশিপ ঘোষণা সরকারের

টাঙ্গাইলে নূরানী স্কলারশিপ ২০২৫ পরীক্ষা শুরু

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণায় পাকিস্তানি আলেমদের জোর দাবি

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করলে কাউকে ক্ষমতায় পাঠানো হবে না: আব্বাসীর হুঁশিয়ারি

ঢাকার এক অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে খতমে নবুয়ত আন্দোলনের নেতা আব্বাসী কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, “বিএনপি হোক, জামায়াত হোক—যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয়ভাবে কুখ্যাত কাফের কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবে, শুধুমাত্র তাকেই আমরা নির্বাচিত করে ক্ষমতায় পাঠাবো।” আব্বাসী বলেন, খতমে নবুয়তের আকিদা ইসলামের মূল বিশ্বাস। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে কেউ নবুয়ত দাবি করলে সে ইসলামের বাইরে এবং যারা তাকে কাফের বলবে না, তারাও কাফের—এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো সেকুলার রাজনীতির অজুহাতে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে চায় না। তার বক্তব্যে প্রশ্ন ছিল, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি শুধু অমুসলিমদের অধিকার রক্ষার জন্য? দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মৌলিক দাবি আদায় না হলে সেই সংবিধান মানার মতো কিছু থাকে না।” আব্বাসী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কাদিয়ানীদের নতুন নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে তাদের পাহারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি তারা সংখ্যালঘু হয়, তবে তাদেরকে সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে সমস্যা কোথায়?” কাদিয়ানীদের তিনি “ইহুদিদের চেয়েও নিকৃষ্ট কাফের” ও “জিন্দিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, শরীয়তের আইনে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বাংলাদেশ যেহেতু সেকুলার রাষ্ট্র, তাই দাবি মাত্র একটি—রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইসলামী রাজনীতির দোহাই দেন, কিন্তু কেন আপনারা কর্মসূচিতে বলেন না যে সংসদে গেলে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবেন? পশ্চিমারা রাগ করবে বলে কি ভয়? ভারতের বা যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারী করে কেউ টিকতে পারবে না।” অবশেষে তিনি ঘোষণা দেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময় হলেও বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে—এই দাবি আদায় হবেই।” সভা শেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫ 0

বাংলাদেশে সোহরাওয়ার্দী গ্রাউন্ডে মাওলানা ফজলুর রহমানের শক্তিশালী ভাষণ

কাদিয়ানী পণ্য বর্জন ফরজ: জাতীয় খতিব আব্দুল মালেকের প্রকাশ্য ফতোয়া

সোহরাওয়ার্দীতে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন শেষ, ভরদুপুরেও ছিল উপচে পড়া ভিড়

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত মহাসম্মেলন

রাজধানীর সোহরায়োর্দী উদ্যানে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত মহাসম্মেলন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। আয়োজন করেছে খতমে নবুয়ত সুরক্ষা পরিষদ। বক্তারা ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি—কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলিম পরিচয়ে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন নথিতে যে ‘মুসলিম’ স্ট্যাটাস ব্যবহার করে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ থেকে আলেম, উলামা ও ইসলামিক স্কলাররা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশ খতমে নবুয়ত আন্দোলনের আমির মাওলানা আব্দুল হাসমত। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আলেমরা বলেন, কাদিয়ানিরা ‘নবুয়ত সমাপ্তি’–সংক্রান্ত ইসলামী আকিদার বিরোধিতা করে এবং নিজেদের আলাদা বিশ্বাস অনুসরণ করে। তাই বাংলাদেশে তারা অনায়াসে থাকতে পারলেও মুসলিম পরিচয়ে থাকার অধিকার নেই বলে বক্তারা মত দেন। সোহরায়োর্দী উদ্যান ঘিরে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনতার ঢল নেমেছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, সরকার যেন জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত দাবিটি পূরণ করে। সম্মেলনের মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন হযরত মাওলানা ফুলতলা রহমান, মুফতি আবুল কাসেমসহ আন্তর্জাতিক অতিথিরা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে মানুষের ভিড় আরও বাড়ছে। আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫ 0

কওমি ঘরানার পাঁচ দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায়, প্রার্থী বাছাই চলছে

ভুঞাপুরে হেফাজতে ইসলাম উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গফরগাঁওয়ে আব্দুর রহমান খান ছাত্র কাফেলার বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

0 মন্তব্য