পরিচ্ছেদঃ ১/১. আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কীভাবে ওয়াহী শুরু হয়েছিল।
وَقَوْلُ اللهِ جَلَّ ذِكْرُهُ (إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ
এ মর্মে আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সেরূপ ওয়াহী প্রেরণ করেছি যেরূপ নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের (নবীদের) প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম।’’ (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/১৬৩)
১. ’আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়্যাত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।] (৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
শারী‘আহ্র মূল উৎস হচ্ছে ওয়াহী। ওয়াহী দু’ প্রকার। ওয়াহী মাতলু (আল-কুরআন) ও ওয়াহী গাইরে মাতলু (সুন্নাহ ও হাদীস)। এবং দ্বীনে ইলাহীর ভিত্তি শুধুমাত্র দু’টি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইজমা‘ ও কিয়াস কোন শার‘ঈ দলীল নয়। বরং যে কিয়াস এবং ইজমা‘ ওয়াহীর পক্ষে অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ মুতাবিক হবে তা গ্রহণযোগ্য এবং যেটা বিপক্ষে যাবে সেটা পরিত্যাজ্য ও অগ্রহণযোগ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً) (النساء:৫৯)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ) (محمد:৩৩)
কিন্তু বাতিল ফির্কার লোকেরা ইজমা‘ ও কিয়াসকে ওয়াহীর আসনে বসিয়েছে এবং বলে থাকেঃ শারী‘আহ্র ভিত্তি চারটি বিষয়ের উপর। কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা‘ ও কিয়াস। বড় আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সহাবায়ে কেরাম যাদের উপর আল্লাহ তা‘আলা তার সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন, তাদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে সকলেই একমত। অথচ তারা সহাবায়ে কেরামকে দু’ ভাগে ভাগ করেছেন। (১) ফকীহ (২) গাইরে ফকীহ। আর বলেছেন যে সকল সাহাবী ফকীহ ছিলেন তারা যদি কিয়াসের বিপরীতে হাদীস বর্ণনা করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য কিন্তু যে সকল সাহাবী গাইরে ফকীহ অর্থাৎ ফকীহ নন তাঁরা যদি কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করেন তাহলে তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
প্রকৃতপক্ষে এটা উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াহকে সিরাতে মুস্তাকীমের পথ হতে সরিয়ে দেয়ার একটা বড় অস্ত্র এবং পরিকল্পনা। কেননা তাঁরা কিয়াসকে মূল এবং হাদীসকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন। সকল সাহাবীর উপর আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট কিন্তু তারা খুশী নন। সকল সাহাবীর ব্যাপারে উম্মাতের ঐকমত্য রয়েছে। কিন্তু তাদের নিকট গাইরে ফকীহ সাহাবীগণ ‘আদিল নন।
ধোঁকাবাজীর কিছু নমুনাঃ তারা বলেন, ফকীহ সাহাবীগণ কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করলে তা গ্রহণীয় হবে। কিন্তু গাইরে ফকীহ সাহাবীগণ কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করলে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং কিয়াসের উপর ‘আমল করতে হবে।
বাই‘য়ি মুসারাহ এর হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত এবং তা কিয়াসের খেলাফ। এই জন্য তা বাতিল। এবং কিয়াসের উপর ‘আমলযোগ্য। অথচ এই হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতেও বর্ণিত হয়েছে।
(দেখুন সহীহ বুখারী ২৮৮ পৃষ্ঠা রশিদিয়া ছাপা)
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
তারিখ ২২/১২/২০২৫ইং রবিবার দিবাগত রাত ২ট১০মিনিটের সময় পাইকড়া দক্ষিন পাড়া চকের বাড়ি। কালিহাতী উপজেলা টাঙ্গাইল জেলার। মৃত্যু আঃ মোতালেব মিয়া মাষ্টার সাহেবর স্ত্রী বাধক্য জনিত কারনে এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাহার মৃত্যু কালে বয়স ছিল ৮৩বসর৫মাস৮দিন। তাহার ৯ছেলে ও ১মেয়েছিল। মৃত্যু কালে ৭ছেলেও১মেয়েরেখে গেছেন। তাহার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সকলের কাছে নিজগোনে খমা চেয়েছেন ছেলে। আজ সোমবার দুপুরে যোহরের নামাজ আদায় পড়ে জানাজা উনোঠিত হবে পাইকড়া ঈদগাহ মাঠে সকলে জানাজায় নামাজে সরিক হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করোন।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
কুরআন হলো ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ, যা বিশ্বমানবতার জন্য সর্বশেষ ও চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, যা জিবরাইল (আ.) ফেরেশতার মাধ্যমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আলোর দিশারী। কুরআনের সংজ্ঞা ও পরিচিতি কুরআন শব্দটি আরবি "قرأ" (ক্বারা'আ) মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "পড়া" বা "তিলাওয়াত করা"। এটি ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ, যা ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে রয়েছে ১১৪টি সূরা, ৬২৩৬টি আয়াত এবং অসংখ্য বিধিবিধান, নীতি ও দিকনির্দেশনা যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কুরআন অবতীর্ণের প্রক্রিয়া কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে: ১. লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ কুরআন অবতীর্ণের পূর্বেই আল্লাহ তাআলা এটি লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করেছিলেন। এটি এমন এক মহাগ্রন্থ, যা আল্লাহর জ্ঞানের অংশ এবং যা পূর্বনির্ধারিত ছিল। ২. বাইতুল ইজ্জতে স্থানান্তর পরবর্তী ধাপে কুরআনকে সম্পূর্ণরূপে প্রথম আসমানে অবস্থিত "বাইতুল ইজ্জত" নামক স্থানে প্রেরণ করা হয়। এটি ছিল লাইলাতুল কদরের রাতে একবারে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি।" (সূরা আল-কদর: ১) ৩. ২৩ বছরে পর্যায়ক্রমে অবতরণ বাইতুল ইজ্জত থেকে কুরআনের আয়াতসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। কুরআন প্রথমে মক্কায় ১৩ বছর এবং পরে মদিনায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়, পরিস্থিতি ও ঘটনার আলোকে নাজিল হয়। প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ আয়াত কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আল-আলাক: ১) এবং সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত ছিল: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আমার নেয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণযোগ্য করলাম।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩) কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য কুরআন কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো: তাওহিদের প্রচার: আল্লাহর একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা। সঠিক পথের দিশা: মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ: উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেওয়া। আইন ও বিধিবিধান: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন। কিয়ামতের প্রতি সতর্কতা: আখিরাত ও পরকাল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। উপসংহার কুরআন মানবজাতির জন্য এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কুরআনের শিক্ষাকে সঠিকভাবে অনুধাবন ও পালন করা আমাদের কর্তব্য। যদি আমরা কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারব।