কাবুল: ইসলামী আমিরাতের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আফগানিস্তানে নারীদের সম্পর্কিত পদক্ষেপগুলোকে “মূর্খতা” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মুজাহিদ বলেন, “আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনুপযুক্ত বক্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানকে তার কথার গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং বেপরোয়া ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।”
মুজাহিদ আরও উল্লেখ করেন যে, আফগানিস্তানে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রণীত সকল নীতি ও বিধিবিধান ইসলামী শরীয়াহ আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত।
তিনি বলেন, “যদি কারও শরীয়াহ সম্পর্কে জ্ঞান বা বোঝাপড়া না থাকে, তবে সেটি তাদের নিজস্ব ঘাটতি। ভিত্তিহীন অভিযোগ করার পরিবর্তে তাদের উচিত যথাযথভাবে শিক্ষা গ্রহণ করা।”
বিবৃতির শেষাংশে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক মহল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপমানজনক বা অজ্ঞতাপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকে।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কুরআনের আলো হিফজুল কুরআন, হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা’। স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ০৫ মার্চ থেকে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ৬ মার্চ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম চলছে। সকাল থেকে বিভিন্ন মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীরা হিফজুল কুরআন, হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। এতে প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলবে। গত বছর প্রথমবারের মতো উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো আরও বৃহৎ পরিসরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার জানান, তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এমন সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির চর্চা আরও বৃদ্ধি পাবে। দুর্গাপুরে বৃহৎ পরিসরে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ আয়োজনের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মজিবুর রহমান, মাওলানা জিয়াউর রহমান, মাওলানা মজিবুর রহমানসহ অন্যান্য উস্তাদগণ ও এন্তেজামিয়া কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুফতী হুমায়ুন কবীর, মুফতী এনায়েত উল্লাহ এবং মুফতী শিব্বীর আহমেদ আকন্দ।
বিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর ৮০ বার লঙ্ঘন; জাতিসংঘ প্রতিনিধি গাজা শহরের ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন গাজা সরকারী মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত ৮০ বার লঙ্ঘন করেছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই বিমান হামলাগুলো নাকি হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের গাজা অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ১৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ২০৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। জাতিসংঘের ত্রাণ সমন্বয়ক ইতিমধ্যে গাজা শহরের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন এবং মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে তালেবান সরকার। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানি সেনারা বুধবার ভোরে স্পিন বোলদাক সীমান্ত এলাকায় হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় ১২ জনেরও বেশি আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। মুজাহিদ আরও বলেন, তালেবান যোদ্ধারা পাল্টা জবাব দেয় এবং পাকিস্তানি বাহিনীর “অনেক সদস্যকে হত্যা” করার পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক চৌকি ও অবস্থান দখল করে নেয়। এছাড়া, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ট্যাংক দখল করে এবং তাদের কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করে বলে দাবি করেন তিনি। তালেবানের দাবি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, ইসলামাবাদ এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা নিহত-ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে নিশ্চিত করেনি। এর আগে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল, স্পিন বোলদাক-চামান সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের কারণে বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে এবং সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বাজার ও কাস্টমস অফিসেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: দ্য কাবুল ট্রিবিউন