মোস্তফা মাসুদ: লিডার্স-এর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) প্রকল্পের আওতায় মাল্টি- স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম (MSP) গঠন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আহম্মদ আলী শাহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান।বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ MSP কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্যা মোছাঃ সেলিনা ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ অধিকারী,লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শিমুল হোসেন,প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান ইমরান হোসেন, গৌরপদ মন্ডল, ইমাম শরিফুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, কাকলী মন্ডল, জশিলমা পারভীন, আব্দুর রহমান, শেখ হোসেন আলী, সাবিনুর রহমান, মোঃ আঃ লতিফ, আবু বক্কার সিদ্দিক, সোহাগ হোসেন, সজল কুমার রায়,রাহুল রায়, কাকলি মন্ডল, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোঃ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় MSP-এর মূলনীতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লিডার্স কল ফলো করবেন লিডারর্স কল প্রকল্পের এগ্রিকালচার ও নিউট্রেশন অফিসার মোঃ বুলবুল হোসাইন । বক্তব্যের শুরুতে উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি সাবিনুর রহমান পুষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষ করে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছের কোনো বিকল্প নেই।সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই MSP-এর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বিশেষ আলোচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সবজি, মাছ, তেলজাতীয় বীজ, বাদাম, আমিষ ও শর্করা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি MSP কমিটিকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আহম্মদ আলী শাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মোঃ মনিরুজ্জামান, লিডার্স প্রকল্প অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।
স্কুলছাত্রী সামিয়া হত্যা টাঙ্গাইলে এক নৃশংসতার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আসামি সাব্বির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত সামিয়ার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতামামলার বিবরণী থেকে জানা যায়ঘটনার দিন বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তার। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে নিকলা নয়াপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে সামিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তদন্তে উঠে আসে সামিয়াকে একা পেয়ে একই গ্রামের ওলান মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন প্রথমে তাকে পাশবিক নির্যাতন বা ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিজের পরিচয় ও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।আইনি তৎপরতা ও আসামির স্বীকারোক্তিহত্যাকাণ্ডের পর নিহত সামিয়ার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে সাব্বির বিচারকের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।দ্রুত বিচার ও আদালতের রায়মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা এবং আইনি তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আসামি সাব্বির হোসেনকে ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও জনআকাঙ্ক্ষারায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবেই দ্রুততার সাথে হওয়া উচিত।অন্যদিকে নিহত সামিয়ার পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার যদি এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতো তবে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হতো।
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে উপজেলা ও পৌর এলাকার ১৫টি অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকাস্থ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ওই চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করা হয়। সংগঠক ওয়াসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠক আব্দুল মুতাকিন, শাহ লায়েক, জামিল আহমদ, শিবলু মিয়া, দুলাল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানবতার কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে দাবী করে যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ও আসন্ন বিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেকটাই নিরবে এলাকার অসহায়-গরীব ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে কাজ করছি। সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেলে আমরা আমাদের কর্মপরিধি আরোও বৃদ্ধি করব।
অবশেষে নির্বাহী আদেশে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘‘কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীদর মালিকানাধীন জায়গায় ব্যাক্তিমালিকানাধীন সীমানা প্রাচীর সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার কার্যালয়, উৎরাইল বাজারের পরবর্তিঅংশ এবং পৌরশহরের অন্যান্য জায়গাতে চালানো হচ্ছে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ১৮৬ বছর পুর্বে ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। কালের বিবর্তনে একশ্রেণির লোক পাঠাগারের বেশকিছু জায়গা দখল করে নেয়। পরবর্তিতে সাবেক সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন তালুকদারের উদ্দ্যেগে ১৯৯৭ সনে ওই পাঠাগারের জায়গাতে নির্মান করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। পরবর্তিতে অন্যান্য আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যগণ দলীয় কার্যালয়ের নান্দনিক রুপ দিতে না পারলেও ২০১৯ সালে আ‘লীগের এমপি মানু মজুমদার পুরনো অফিসের পিছনে থাকা দুটি অসহায় পরিবারের ঘর জোরপুর্বক ভেঙ্গে ওখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করেন। পরে পাঠাগারের আরো জায়গা দখলে নিয়ে নির্মান করেন বিশাল দলীয় কার্যালয়। পরবর্তিতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ওইসময় স্থানীয় আদালত সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন করেন। পরবর্তিতে স্থানীয় সুশিলসমাজের প্রতিনিধি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ করেন মানববন্ধন। দলীয় প্রভাব থাকায় সকল আবেদনের ফাইল পরে ছিলো টেবিলে থাকা অন্য ফাইলের নীচে। ইতোমধ্যে পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে গত ০৮ জুন উপজেলা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে। পরবর্তিতে এই কাজে সহায়তা করতে এলাকাবাসী পরবর্তিতে আবেদন করেন স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মহোদয়ের কাছে। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঠাগার পরিদর্শনে আসেন তিনি। পাঠাগারকে নতুনরুপে সাজিয়ে তুলতে উদ্দ্যোগ নেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরেই নরে চড়ে বসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। পাঠাগারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। পরবর্তিতে আদালতের নোটিশ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয় অবৈধ সীমানা প্রাচীর ও উপজেলা আ‘লীগ কার্যালয়ের স্থাপনা সহ অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের কাজ। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি আবার সচল করতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করণসহ ডেপুটি স্পীকার মহোদয় যে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন, আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠাগারের নিজস্ব জায়গায় কোনরকম অবৈধ স্থাপনা থাকুক এটা আমরা চাইনা। ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারটি চালু হলে, স্থানীয় যুবসমাজ মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে, স্থানীয়ভাবে বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর উপজেলা তথা আশা-পাশের আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। লাইব্রেরীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, লাইব্রেরীর নামে ২৪শতক জায়গা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় কুমার দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর স্থাপনা ছাড়া অন্য কোন স্থাপনা থাকা সম্পুর্ন বে-আইনী বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লাইব্রেরীর সভাপতি আহমেদ সাদাত। লাইব্রেরী পরিদর্শনে এসে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠাগারের বিকাশ ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলে, সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার উদ্দ্যেগ নেয়া হবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
র্যাব-১৪ জানায়, ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে একটি সিএনজি তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা রাজশাহীর মো. রাব্বি ইসলাম (২১)-কে ৫০ বোতল ফায়ারডিল ও একটি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। এদিকে, ১৫ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে রাজশাহীর মোছা. আম্বিয়া বেগম (৪২) ও মো. নাজিমুদ্দীন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ভ্যানিটি ব্যাগে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১১৯ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক অভিযানে সদর উপজেলার বাসালিয়া এলাকা থেকে কালিহাতী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সখীপুর উপজেলার নলুয়া বাজার এলাকা থেকে চেক জালিয়াতির মামলায় (এনআই অ্যাক্ট ১৩৮) এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নুসরাত জাহান নুপুর (৩৮)-কে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িপটল গ্রামের প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, সড়কটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের কাবারিয়াবাড়ী-সুতারবাড়ী মোড় হয়ে বেঙ্গুলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেড়িপটল গ্রামটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ও সবজি চাষ। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।গ্রামবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অধিকাংশ অংশ কাদায় পরিণত হয়। কাদার কারণে কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে করে কাঁচা ও কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে পরে যানবাহনে তুলতে হয়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।এদিকে বেড়িপটল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এমন দুরবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থী এসে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
মোস্তফা মাসুদ: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব-এর ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আলোচনা সভা, কেক কাটা, প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন-২৬) বিকেল ৫টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইনকিলাবের কালিগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা এম. হাফিজুর রহমান শিমুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) মাইনুল ইসলাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, দৈনিক ইনকিলাবের সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. মমতাজ হোসেন মন্টু, অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম, সাংবাদিক আহম্মাদ উল্লাহ বাচ্চু, ইশারাত আলী,জাহাঙ্গীর আলম, ফজলুল হক, শিমুল হোসেন, তাপস কুমার ঘোষ, আলমগীর হোসেন, শাহাদত হোসেন, আবুল কালাম, শেখ আল নুর আহমেদ ঈমন, বৈশাখী পারভীন ও প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ।আলোচনা সভায় বক্তারা দৈনিক ইনকিলাব এর চার দশকের পথচলা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে পত্রিকাটির অবদান এবং দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইনকিলাব দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি একই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে ৪০তম বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সাংবাদিক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। সর্বশেষে খুলনা বেতার ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার গোড়াডুবা হাওরে ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাউয়া বাড়ির খালের বাঁধ পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। এই বাঁধ শুধু হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত জনসচেতন উদ্যোগ, যেখানে কৃষকরা নিজেদের পরিশ্রমে হাওরের ফসল রক্ষা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি কমানো যাচ্ছে। কৃষকদের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবং কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, কাজের বিভিন্ন সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং দ্রুততম সময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের ফসল রক্ষা করা শুধুমাত্র সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।” ডেপুটি স্পিকারের এই সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা আরও একযোগে কাজ করার তাগিদ পেয়েছেন এবং সম্মিলিত উদ্যোগের শক্তি আরও দৃঢ় হয়েছে। কৃষকরা জানান, তাঁর আগমন তাদের জন্য প্রেরণার উৎস এবং বাঁধের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার শক্তি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এই বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম শুধু হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নয়, বরং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একতা, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা দিচ্ছে। ডেপুটি স্পিকারের সরেজমিন উপস্থিতি এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।