দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় সাত মাস আগে নিজ ইচ্ছায় ঘর ছেড়ে মাহাদি হাসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাদিয়া সুলতানা পুষ্প (১৮)। বিয়ের পর ঢাকা ছেড়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে ফিরে সংসার শুরু করেন তারা। কিন্ত বিধি বাম, পুষ্প‘র মায়ের করা অপহনের মামলায় বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিয়ে সময় পার করছেন পুষ্প‘র স্বামী ও তার পরিবার। তবে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবার নিজ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন সাদিয়া সুলতানা পুষ্প। এ ঘটনাটি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামে। পুষ্পর পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। এনিয়ে বুধবার (৬ মে) বিকেলে স্বামীর বাড়ি পুকুরিয়াকান্দায় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাদিয়া সুলতানা পুষ্প। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি নিজ পছন্দে ও স্বেচ্ছায় আমার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি এবং বর্তমানে সুখে সংসার করছি। আমার বয়স হয়েছে, সব বুঝে-শুনেই বিয়ে করেছি। আমি আমার বাবা-মাকে বহুবার মামলা তুলে নিতে বলেছি, কিন্তু তারা তা করছেন না। বরং আমার স্বামীর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন। আমার বাবা-মা যে অপহরণের মামলা করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি অপহরণ হইনি। আমি যদি নিজে না চাইতাম বা আমার মতের বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে হতো, তাহলে এটাকে অপহরণ বলা যায়। কিন্তু আমি প্রাপ্তবয়স্ক, নিজের সিদ্ধান্তেই মাহাদি হাসানকে বিয়ে করেছি। পুষ্প আরও বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ ও যতেœ রেখেছেন। আমি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার বাবা-মা বলছেন, সন্তান নষ্ট করে হলেও আমাকে নিয়ে যাবেন। তাদের মামলার কারণে আমার স্বামী-শ্বশুর মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পুষ্প বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। আমি নিজ ইচ্ছেয় পালিয়ে এসে বিয়ে করেছি এটা আমার অপরাধ, কিন্তু তাই বলে এভাবে আমার জীবন নষ্ট করে দিও না। আমি খুবই সুখে আছি, দয়া করে মামলাটি তুলে নাও, আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও। সংবাদ সম্মেলনে, পুষ্প‘র স্বামী মাহাদি হাসান, শ্বশুর হালিম খান ও শাশুড়ি মর্জিনা আক্তার সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে পুষ্প‘র বাবার মুঠোফোনে বারংবার যোগাযোগ করা হলে উনার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ স্মরণে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর এবং সুসংগঠিত পরিবেশে এক বিশাল বিজয় র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গোপালপুর উপজেলা শাখা ও শহর শাখার যৌথ উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো গোপালপুর পৌর শহর এক নতুন উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।বুধবার বিকেল ৪টায় গোপালপুর উপজেলা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বর্ণাঢ্য এই বিজয় র্যালিটি শুরু হয়। এতে কৃষক দল, বিএনপি এবং এর সকল সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। হাতে সুসজ্জিত ব্যানার, রঙ-বেরঙের ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। র্যালি চলাকালে নেতাকর্মীরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে লালন করে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও উৎসবমুখর স্লোগান দেন। বিশাল এই শোভাযাত্রাটি গোপালপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করে। র্যালি চলাকালীন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাত নেড়ে সংহতি প্রকাশ করেন।র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপজেলা ও শহর কৃষক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, "ছাত্র ও জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ এবং বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল, সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ কৃষক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে গোপালপুরের প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে দিনটির কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের দিকনির্দেশনায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। নদীভাঙনের কারণে যেসব পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় নদীভাঙন কবলিত মানুষের হাতে দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এমন কঠিন সময়ে সরকারি এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এদিকে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে নলসন্ধ্যা গ্রামের নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়িয়ে তোলে এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।
বাসাইল থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্বের নির্দেশনা টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানা পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।পরিদর্শনকালে বাসাইল থানা প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি চৌকস দল পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন।এ সময় পুলিশ সুপার থানায় কর্মরত সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা প্রয়োজনীয় চাহিদা ও সার্বিক বিষয় মনোযোগসহকারে শোনেন এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি থানার মালখানা হাজতখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম তদন্তের অগ্রগতি সেবার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেনপরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার (সখিপুর সার্কেল) জনাব এ. কে. এম. মামুনুর রশীদ, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং থানায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।