জাতীয়

সরিষাবাড়ীতে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, মাননীয় সংসদ সদস্য, জামালপুর-০৪ (সরিষাবাড়ী)। তিনি তার বক্তব্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আফরোজা আফসানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরিষাবাড়ী, জামালপুর। তিনি বলেন, ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে জনগণ এক ছাদের নিচে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। মেলাটির আয়োজন করে উপজেলা ভূমি প্রশাসন, সরিষাবাড়ী, জামালপুর এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন ভূমি সেবা ও বিভিন্ন পরামর্শমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মে ১৯, ২০২৬ 0
গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠনের ঘোষণা জুলাই-আগস্টের মধ্যে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠনের ঘোষণা জুলাই-আগস্টের মধ্যে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিক মালিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী—সকল পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে একটি যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন এবং একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।তিনি বলেনঅপসাংবাদিকতার মাধ্যমে যেসব সময়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বও এই কমিশন পালন করবে।আজ সকালে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ওয়েজবোর্ড ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রসঙ্গ সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মন্ত্রী বলেনসাংবাদিকদের যথাসময়ে বেতন প্রদান ও অপেশাদার আচরণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছেআগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যেই সকল পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা ও কমিশন গঠন সম্পন্ন হবে। অপসাংবাদিকতা ও আইনি কাঠামো মন্ত্রী আরও বলেন সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে মিথ্যা মামলা অপসাংবাদিকতা এবং এর মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। প্রচলিত আইনে এসব কর্মকাণ্ডকে আলাদাভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার স্পষ্ট ধারা না থাকায় অনেক সময় ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হয়।তিনি আশা প্রকাশ করেনপ্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পর এ ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর মধ্যে গণমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালিত হবে।পরিবেশবান্ধব বাস আমদানিতে নীতিগত সিদ্ধান্তমন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জানান পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে সরকার সর্বোচ্চ উৎসাহ দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব বাস আমদানি করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস চালু হলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে নাএতে যানজট ও পরিবেশ দূষণ উভয়ই কমবে।পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কত সিটের বাস শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যাবে সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে বা পাকিস্তানের পক্ষে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছিলসেই কর্মকাণ্ডকে কি আজ পর্যন্ত গণমাধ্যম আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন এসব বিষয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজন রয়েছে।তিনি আরও বলেন কমিশন গঠনের মাধ্যমে অতীত ও বর্তমানের অপসাংবাদিকতা ও অনিয়মকে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
কালিহাতীতে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

কালিহাতীতে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা’ গড়তে আধুনিক সেবার প্রতিশ্রুতি জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত ভূমি—সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা-২০২৬”। মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে শুরু হওয়া এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন ১৩৩-টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ সহজ ওপ্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে পারেন সে লক্ষ্যেই ভূমি সেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় নামজারি খতিয়ান ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা সম্পর্কে জনগণকে সরাসরি তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলমান এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাপ্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

মে ১৯, ২০২৬ 0
মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা টাঙ্গাইলের মধুপুরে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধনী পর্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা ভূমি অফিস চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, সাব-রেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিউজ্জামান মনি।বক্তারা বলেন, ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ভূমিসেবা মেলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মে ১৯, ২০২৬ 0
গোপালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে ভূমি দিবস উদযাপন

গোপালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে ভূমি দিবস উদযাপন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভূমি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মঙ্গলবার এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লাতুল হোসেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবাব আলী।বক্তারা বলেন জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক সহজ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মে ১৯, ২০২৬ 0
উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি: রেলসেবায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই

জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে রেলসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। ঈদকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে “জামালপুর এক্সপ্রেস” ট্রেনকে আগের রুটে ফিরিয়ে আনার দাবি। স্থানীয়দের মতে, ট্রেনটির রুট পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এটি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে “অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস” ও “যমুনা এক্সপ্রেস” ট্রেনের বর্তমান সময়সূচি ও রেক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান টাইম টেবিল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সময়মতো ট্রেন চলাচল না করা, পুরাতন কোচ এবং অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বাড়ছে। তাই আধুনিক ও পর্যাপ্ত রেক সংযোজন এবং যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা “ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস” পুনরায় চালুর দাবিও জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই ট্রেনটি ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম। ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সড়কপথে অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট ও অনিরাপদ যাত্রার কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সর্বসাধারণের প্রধান দাবিগুলো হলো— - জামালপুর এক্সপ্রেস পূর্বের রুটে পুনরায় চালু করতে হবে।উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি: রেলসেবায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে

মে ১৬, ২০২৬ 0
পুনাক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছে ডা. জুবাইদা রহমান

পুনাক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছে ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা ১১ মে ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) কর্তৃক গৃহীত সমাজসেবামূলক সুপরিকল্পনাগুলো একটি সুন্দর, সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। পুনাকের নারীরা নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।সোমবার (১১ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাকের বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যেন ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এগিয়ে যেতে হবে।সম্মানিত অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যঅনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিণী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদ স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণঅনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব প্রদর্শনকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।মেলায় জেলাভিত্তিক সাফল্যপুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলগুলোর মধ্যে শীর্ষ তিনটি জেলা পুরস্কৃত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা জেলা পুনাক, দ্বিতীয় হয় রাজশাহী জেলা পুনাক এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে লালমনিরহাট জেলা পুনাক। প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী ও বিজয়ী পুনাক স্টলগুলোর হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।পুরস্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কাড়ে।

মে ১২, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একই দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়। সোমবার (১১ মে ২০২৬) সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সরিষাবাড়ী ঔষধ প্রতিনিধি সংস্থা “ফারিয়া”। কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিভিন্ন সময় অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার একটি বড় সরকারি হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের “দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানি ও হেনস্থার ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ তাদের প্রতি এ ধরনের আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং অমানবিক। স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য অধিকার এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম খোকন, নির্বাহী সদস্য এস এম খুররম আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মে ১১, ২০২৬ 0
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান পালিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজন টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, রবীন্দ্রসংগীত আবৃত্তি, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির কর্মময় জীবন, সাহিত্যকীর্তি ও মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কবি নন তিনি বিশ্বমানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য গান ও দর্শন যুগে যুগে বাঙালির চেতনা সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে রবীন্দ্রচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেনপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে বই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সংগীত মানুষের হৃদয়ে সৌন্দর্যবোধ দেশপ্রেম ও মানবিকতা জাগ্রত করে। তাই তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ অংশগ্রহণ করেন শিল্পীরা পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য। প্রতিটি পরিবেশনায় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।এদিকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। পুরোআয়োজনজুড়ে ছিল বাঙালির ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধনঅনুষ্ঠানের শেষাংশে সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মে ৮, ২০২৬ 0
ভূমি অফিসে নামজারি ও খাজনা আদায়ে জনভোগান্তি: সহজীকরণের দাবি

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভূমি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা এখনও ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। ভূমি অফিসগুলোতে জমির নামজারি (মিউটেশন) ও খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির মুখে। জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর নামজারি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার পর ফাইল নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়। নানা অজুহাতে সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অনেক ফাইল আটকে থাকে, ফলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং বাধ্য হয়ে অনেক ক্ষেত্রে দালালের শরণাপন্ন হতে হয়, যেখানে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠছে। অনলাইনে খাজনা প্রদানের ব্যবস্থা চালু থাকলেও নতুন হোল্ডিং খোলার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের জটিলতা। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। কখনো ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য না থাকা, আবার কখনো প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা বলে সেবা বিলম্বিত করা হয়। এতে করে কৃষিজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভূমি সেবার ডিজিটালাইজেশনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, নামজারি ও খাজনা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা নিশ্চিত করা, দালাল নির্ভরতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে হোল্ডিং খোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ভূমি সেবাকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব করতে হলে মাঠ পর্যায়ের অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি বন্ধ করে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার কোনো বিকল্প নেই।

মে ৫, ২০২৬ 0
বগুড়া শেরপুর সীমাবাড়ী ইউ,পি গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপন।

আজ  মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের দিনকে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে । রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন করছে বাংলাদেশও। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।এই প্রতিপাদ্য  কে সামনে রেখে  মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেট বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীকালে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।এরই ধারাবাহিকতা  ১ লা মে রোজ শুক্রবার সকালে   বগুড়া শেরপুর সীমাবাড়ি ইউপি গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মহান মে দিবস উদযাপন হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‍্যলিটি  কার্যালয়   থেকে শুরু করে মহাসড়ক  ওভারব্রিজ হয়ে আবার কার্যালয় এসে শেষ হয়।  এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শেরপুর উপজেলা বিএনপি জনাব মোঃ গোলাম ফারুক অভি  উক্ত অনুষ্ঠানে স্বভাবতিত্ব করেন সভাপতি সিমাবাড়ি গৃহ  শ্রমিক ইউনিয়ন জনাব মোঃ আব্দুল মালেক সেখ এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ সরকার,সীমাবাড়ী  গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মুক্তার হোসেন শেখ   এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিমাবাড়ি ইউনিয়ন    যুবদলের আহ্বায়ক  জনাব মোঃ আশিকুর রহমান চান সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক  সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন রনি সহ সীমাবাড়ী ইউ,পি গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সকল সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

মে ১, ২০২৬ 0
গোপালপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত

গোপালপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত গোপালপুর, ১লা মে ২০২৬— মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-২০২৬ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।শুরু হয় থানা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি দিয়ে যা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালির সময় শ্রমিকদের উজ্জীবিত মিছিল হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ধরে তাদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবির জোরালো আহ্বান লক্ষ্য করা যায়।র‍্যালি শেষে থানা চত্বরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা জানিয়ে বলেন,শ্রমিকেরা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল স্তম্ভ। তাদের অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সকলের কর্তব্য।সভায় শ্রমিক নেতারা তাদের সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং সরকারের কাছে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদানের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি শ্রমিকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক ও প্রেরণাদায়ক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

মে ১, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ীতে মহান মে দিবস উদযাপন: প্রধান অতিথি এমপি শামীম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন কল্যাণ কেন্দ্রের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জামালপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তিনি তার বক্তব্যে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি বলেন, “মহান মে দিবস আমাদের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” আলোচনা সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং মহান মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করে।

মে ১, ২০২৬ 0
যাত্রী নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা: এসি বাসে ইমার্জেন্সি ডোর, নন-এসি বাসে রড অপসারণ
এসি বাসে ইমার্জেন্সি ডোর, নন-এসি বাসের রড অপসারণে বিআরটিএ'র নির্দেশ

গণপরিবহন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে এসি বাসে জরুরি বহির্গমন (ইমার্জেন্সি ডোর) নিশ্চিত করা এবং নন-এসি বাসের জানালায় স্থাপিত স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটি এর প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে বের হতে না পারাই হতাহতের অন্যতম প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রীদের নিরাপদে ও দ্রুত বের হওয়ার পথ নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সড়ক ও মহাসড়কে চলাচল, ফেরিঘাট পারাপার কিংবা রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় দুর্ঘটনায় পড়লে যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসের দরজা বা জানালা দিয়ে বের হওয়ার সময় যাত্রীরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এ প্রেক্ষিতে এসি বাসে দৃশ্যমান স্থানে ‘জরুরি বহির্গমন’ চিহ্ন প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি জানালার গ্লাস ভাঙার জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত সরঞ্জাম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা দ্রুত বের হতে পারেন। অন্যদিকে, নন-এসি বাসের জানালায় পর্দা লাগানোর জন্য ব্যবহৃত সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিআরটিএ। এসব রড থাকলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে এসব রড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, পুলিশ ও সাংবাদিক প্রশিক্ষণে জোর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ | পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দিবে ইউনেস্কো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, রোজ বুধবার জাতীয় সংসদে তাঁর কার্যালয়ে ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ফারহানা শাহনাজ এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রজেক্ট লিড শাকিল এম ফয়সাল। সাক্ষাৎকালে পুলিশ প্রশিক্ষণ ও সংস্কার, মিডিয়া-পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের একটি চলমান প্রকল্প রয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে আগামী জুনের মধ্যেই তা শুরু করা সম্ভব। এ প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মতি জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সুসান ভাইজ জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে এসপি ও ওসি পদমর্যাদার প্রায় ৭০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার করার পরামর্শ দেন এবং এতে পুলিশের মিডিয়া শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শনিবারে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরামর্শও দেন। এছাড়া ইউনেস্কো সাংবাদিকদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করছে বলেও জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪১ জামালপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার। তিনি তার বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরিষাবাড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব লিজা রিছিল। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ক্যাম্পেইন নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকবিরোধী বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
গোপালপুরে বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে বোরো ফসল হুমকিতে
গোপালপুরে বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে বোরো ফসল হুমকিতে

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচের পানির অভাবে বোরো ধানের জমিতে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। থোড় ও শীষ বের হওয়া ধান রোদে পুড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সিসি ক্যামেরা পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোপালপুর উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর এবং উফসী ৯ হাজার ৭৪০ হেক্টর। সেচের জন্য উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৩০১টি নলকূপ রয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৩৭৮টি বিদ্যুৎচালিত। উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা আক্তার জানান, বর্তমানে হাইব্রিড জাতের ধানে থোড় বা শীষ বের হয়েছে এবং উফসী ধানে দুধ আসার গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র খরা বিরাজ করছে, বৃষ্টিপাতও হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভালো ফলনের জন্য জমিতে অন্তত দুই ইঞ্চি পানি থাকা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৯০৫ জন কৃষককে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ডিজেল নিতে গিয়ে কৃষকদের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০১-এর গোপালপুর জোনাল ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোপালপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ মেগাওয়াট, অথচ ঘাটাইল পিডিবির গ্রিড সাবস্টেশন থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ দিয়ে পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে সরবরাহ করতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দীর্ঘ সময় অচল থাকছে। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুতের দাবিতে অফিসে এসে অভিযোগ করছেন। উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক হাতেম আলী বলেন, “বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ফসল পুড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।” এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় স্থাপিত ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা পরিচালনা বিঘ্নিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “এখানে ডিজেলের তেমন কোনো সংকট নেই, তবে বিদ্যুতের সংকট প্রকট। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ঘাটাইল পিডিবির গ্রিড সাবস্টেশন থেকে গোপালপুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পৃথক সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হলে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই নিরসন সম্ভব হবে।” বিদ্যুৎ ও সেচ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষি উৎপাদন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে — ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাস্তবমুখী করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। রবিবার সংসদ ভবনস্থ তাঁর কার্যালয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ইমাম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে এবং সকলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদ ভবন ও সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তারা সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করতে পারেন। ডেপুটি স্পীকার বলেন, “আমি আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং আপনাদের আস্থার কারণেই আজ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তাই আপনাদের প্রতি আমার গভীর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে।” উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজকে গতিশীল করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এসব

এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা দিল পলশা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাঠ প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মোঃ ফজলে রাব্বি রেনু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ আতাউল হক কমল, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, পলশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আবু বক্করসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, পলশা মহেষপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সার্বিক উন্নয়নে যা যা সহায়তা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে ব্যবস্থা করা হবে। তিনি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং শেষে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কতৃক বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সফলতা অর্জন।

জেলা পুলিশের কর্ম মূল্যায়ণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের সাফল্য অর্জন।  চলতি বছরের জানুয়ারী-মার্চ মাসে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আজ জেলা পুলিশ  লাইন্সে অনুষ্ঠিত কল্যান সভায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।  উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার টি,এম মোশারফ হোসেন। এছাড়াও উক্ত কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষগনও উপস্থিত। এতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, শ্রেষ্ঠ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ সার্কেল আ.ন.ম ইমরান খান। শ্রেষ্ঠ ওসি বেগমগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরুষ্কার প্রাপ্তরা হলেন, শ্রেষ্ঠ গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলকারী অফিসার এসআই(নিঃ) কুতুব উদ্দিন খান লিয়ন। শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধার এসআই(নিঃ) পাপেল রায় ও এসআই(নিঃ) মোঃ নুরুজ্জামান। শ্রেষ্ঠ গ্রেফতার পরোয়ানা তামিল কারী অফিসার এএসআই(নিঃ) মোঃ জালাল হোসেন ও এএসআই(নিঃ) মোঃ ইলিয়াছ হোসেন।

এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
তেল সংকট
দেশজুড়ে তেল সংকট: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে যানবাহন চালক, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।

এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির ঢাকা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ হলেন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি?

নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) - নিষ্পাপ চরিত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ

তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।

শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে?

মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

নারী সংস্কার কমিশন: বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে

[জুমার বয়ান : ২৬-১০-১৪৪৬ হি., ২৫-৪-২০২৫ ঈ.] [বয়ানটি আলোচকের নযরে সানী ও সম্পাদনার পর পাঠকের সামনে পেশ করা হল। প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এতে কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। –সম্পাদক] গত জুমায় হজ্ব সম্পর্কে কিছু কথা হয়েছিল। আজকের আলোচনাও হজ্বের প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসায় সেটি নিয়ে কিছু আলোচনা করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ। কুরআন কারীমে সূরা বাকারায় হজ্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, যখন তোমরা হজ্বের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকির করবে। হজ্ব পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে মিনা হয়ে আরাফায় যাবে। আরাফা থেকে মুযদালিফায় আসবে। মুযদালিফা থেকে আবার মিনায় গিয়ে ১১-১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত (দুই দিন বা ১৩ যিলহজ্বসহ তিন দিন) অবস্থান করবে। সেখানে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবে। এই পবিত্র স্থানগুলো দুআ কবুলের জায়গা। এসব স্থানে কী দুআ করবে– সেটিও আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। দুআটি আমাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا  فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ، وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ، اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তোমরা যখন হজ্বের কার্যাবলি শেষ করবে, তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে নিজেদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করে থাক; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে। কিছু লোক তো এমন আছে, যারা (দুআয় কেবল) বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় দান করুন। আখেরাতে কিন্তু তাদের কোনো অংশ নেই। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান করুন, দুনিয়ায়ও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এরা এমন লোক, যারা তাদের অর্জিত কর্মের অংশ (সওয়াবরূপে) লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। –সূরা বাকারা (০২) : ২০০-২০২ হজ্বের কাজগুলো সমাপ্ত করে মিনায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন তাকবীরে তাশরীক– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. এই সময় তাকবীরে তাশরীকের যিকিরসহ অন্যান্য যিকিরও করবে। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর যিকির কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর, তোমাদের বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণের মতো। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কার মুশরিকসহ অন্যান্য বেদ্বীনরাও হজ্ব করার জন্য মক্কা মুকাররমায় যেত। বলার অপেক্ষা রাখে না, তারা যেহেতু  তাওহীদের শিক্ষা হারিয়ে ফেলেছিল, সেহেতু তাদের হজ্ব তাওহীদের হজ্ব ছিল না; ছিল শিরকের হজ্ব। এমনকি হজ্বের মধ্যে তাওহীদের যে তালবিয়া– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. –সেটি পর্যন্ত তারা পরিবর্তন করে ফেলেছিল। ওই সময় তারা নিজেদের মতো করে হজ্ব সম্পন্ন করার পর নিজেদের পূর্ব পুরুষদের বাস্তব-অবাস্তব যাবতীয় গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাওহীদের হজ্ব শেখাচ্ছেন। সেখানে এ নির্দেশনাও দিচ্ছেন যে, হজ্ব সমাপ্ত করার পর কেবল আল্লাহর যিকির কর। আগে যেমন পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদার চর্চা করতে, অন্তত ততটুকু যিকির তো আল্লাহর জন্য করবে; বরং তার চেয়ে বেশি কর– اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. মুমিন ও কাফেরের প্রার্থনার পার্থক্য যিকিরের প্রধান ও প্রথম সারির প্রকারগুলোর মধ্যে দুআ অন্যতম। সেই দুআর ধরন কেমন হবে, তা-ও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। কিছু লোক আছে, যাদের চিন্তা, স্বপ্ন, প্রার্থনা সবকিছু কেবল দুনিয়া ও ইহজগতকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন– فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا. কিছু লোক তো বলে, মালিক, আমাদের কেবল দুনিয়া দান করুন! দুনিয়াতে সুখে রাখুন! ইহজগতের সকল সুখ দান করুন! ব্যস, আখেরাতের কোনো আলাপ নেই। আখেরাতের জন্য তাদের কোনো প্রার্থনা নেই। আল্লাহ বলছেন– وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ. ‘আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই।’ অর্থাৎ তার নিজেরই যেহেতু আখেরাত নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, তাই আখেরাতে তার কোনো অংশও নেই। পক্ষান্তরে তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিন বান্দাদের দুআ কেমন সেটাও আল্লাহ তাআলা বলেছেন– رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ. অর্থাৎ আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন! আখেরাতেও কল্যান দান করুন! দুনিয়াতেও যেন আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি! আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকতে পারি! আর আখেরাতেও যেন শান্তি ও নিরাপদে থাকতে পারি! এককথায় আমরা আপনার নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ কামনা করি এবং দোযখের আগুন থেকে পানাহ চাই! আল্লাহ তাআলা বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا  وَ اللهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ. তাদের আমল অনুযায়ী তাদের জন্য আখেরাতে বড় অংশ থাকবে। আর আল্লাহ অনেক দ্রুত হিসাব নিতে পারেন। কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কে আল্লাহর কাছে কেবল ইহজগতের কল্যাণ চেয়েছিল আর কে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতের কল্যাণ চেয়েছিল– সেই হিসাব নিতে আল্লাহর কোনো সময় লাগবে না। তিনি অনেক দ্রুত সমস্ত হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন। ভাইয়েরা আমার! আমরা মুমিন, মুসলিম। আমরা তো আল্লাহর নিকট দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই চাই। বরং আমাদের দুনিয়াও নিছক দুনিয়া নয়, মূলত তা আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাস ও উদাসীনতা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সূরা ইউনুসেও আল্লাহ তাআলা বলেন– اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ، اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ، دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ. নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও তাতেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন— নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের ঈমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানরাজিতে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আপনি পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। –সূরা ইউনুস (১০) : ৭-১০ এখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদের আমার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো আশা নেই বা বিশ্বাস নেই এবং তারা দুনিয়ার জীবনকেই সবকিছু মনে করে, মৃত্যুর পরে কবর থেকে যে জগৎ শুরু হয়, হাশর-নশর, আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তেমনিভাবে যাদের বিশ্বাস আছে, কিন্তু মনোযোগ ও গুরুত্ব নেই। অর্থাৎ আরেকটা জগতের বিষয়ে জানা আছে, কিন্তু সেই জগতের বিষয়ে কোনো তৎপরতা ও প্রস্তুতি নেই, ভাবখানা এমন, সবাই যেহেতু বলছে মৃত্যুর পরের জগতের কথা, কিছু একটা না থাকলে তো আর বলার কথা না! এভাবে একধরনের জানা আছে, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি ও তৎপরতা নেই। তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আয়াতের উপস্থাপনায় যারা পরকালকে বিশ্বাসই করে না এবং যারা মোটামুটি একধরনের বিশ্বাস হয়তো করে, কিন্তু আচরণে তার কোনো প্রকাশ নেই, উভয় শ্রেণির লোকদের কথাই এসে যায়। তারপর বলা হয়েছে– وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا. অর্থাৎ দুনিয়া নিয়েই তারা সন্তুষ্ট এবং মনটাও তার ওপর স্থির ও প্রশান্ত। অর্থাৎ দুনিয়া ঠিক তো সব ঠিক! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, আখেরাতের কোনো ভাবনা নেই। وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ. আর তারা আল্লাহর দেওয়া কুরআনের আয়াত সম্পর্কে গাফেল। তাঁর স্থাপনকৃত কুদরত ও হেদায়েতের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন। তাদের ঠিকানা ও পরিণতির কথা আল্লাহ বলছেন– اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ. অর্থাৎ তাদের হাতের কামাই অনুযায়ী তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। কারণ আখেরাত বিষয়ে তাদের কোনো গুরুত্বই ছিল না। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে, এই ভাবনাই তাদের ছিল না; বরং দুনিয়া নিয়েই ছিল ব্যস্ত। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন– اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ  تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ. অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের ঈমানের বরকতে আল্লাহ তাআলা তাদের সঠিক পথ দেখাবেন। ফলে দুনিয়ায় থেকে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে গেলে জান্নাত পাবে। এখানে আল্লাহ তাআলা ভাগ করে দিয়েছেন। যার ভাবনা কেবল ইহজগৎ তার ঠিকানা ও পরিণতি কী। আর যার ভাবনা দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টা এবং সে দুনিয়ার কল্যাণও চায় আখেরাতের লক্ষ্যে, যেখানে দুনিয়া পেতে হলে আখেরাত ছাড়তে হয়– সে সেখানে কখনো দুনিয়ার দিকে ধাবিত হয় না; বরং আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়– তার ঠিকানা ও পরিণতি কী– তাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন : স্পষ্ট আল্লাহদ্রোহিতা ও শরীয়তদ্রোহিতা কুরআনের এই শিক্ষা এবং ইসলাম ও ইসলামী শরীয়তের এই মৌলিক আকীদা মাথায় রেখে একটু ভাবতে পারি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী? সবাই ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, আমাদের প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রতিবেদন জমা হয়েছে। যারা এই প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তারা একদিক থেকে তো ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত যে, তারা স্পষ্টভাষী। কারণ কোনো রাখঢাক করেননি তারা; বরং তাদের ভেতরে যা আছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। কোনো মুসলিম রাষ্ট্র কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? একটি দৃষ্টান্ত দেখুন। প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু রাষ্ট্র একটি ইহজাগতিক সত্তা, সেহেতু কোনো ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অনুচ্ছেদ ২ক বাতিল করা প্রয়োজন।’ তাদেরকে বলা হয়েছে, নারী বিষয়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা, মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার জন্য, তারা সেখানে দিয়ে বসল রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মূলনীতি সম্পর্কে প্রস্তাবনা! বলল, আমাদের রাষ্ট্র হল ইহজাগতিক! নাউযুবিল্লাহ! কোনো মুসলিম দেশ কি কেবল ইহজাগতিক হতে পারে? হওয়া সম্ভব? আমাদের দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং তা যুগ যুগ ধরেই আছে। যাদেরকে এদেশ থেকে সবাই মিলে বের করে দিয়েছে তারাও এটা বাদ দেয়নি বা দিতে পারেনি; কিন্তু এই কমিশন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এটা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এই রাষ্ট্র নাকি ইহজাগতিক, নাউযুবিল্লাহ! একথা একাধিক জায়গায়ই বলেছে। ২৪০নং পৃষ্ঠায় আছে, ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক!’ অর্থাৎ রাষ্ট্র হবে কেবল দুনিয়াকেন্দ্রিক, যেখানে আখেরাত সংক্রান্ত কিছুই থাকবে না। যাদের সবকিছু দুনিয়া কেন্দ্রিক, তাদের ঠিকানা কোথায় হবে– একটু আগেই আমরা কুরআনে দেখলাম। সুতরাং আমরা কি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য এমন কিছু চাই? চাইতে পারি? কখনোই না। আরও বলছে ‘মানবিক’! আরে, যেটা কেবল ইহজাগতিক হয়, সেটা মানবিক হওয়া কখনো সম্ভব নয়। মানবতা কোত্থেকে আসবে? আপনাকে ‘মানবিক’ হতে হলে তো আপনার মধ্যে সর্বপ্রথম আখেরাতমুখিতা ও পরকাল ভাবনা থাকতে হবে। আখেরাতের ফিকির যার নেই, সে কখনো মানবতা বাস্তবায়ন করতে পারে না এবং পারবেও না। এই যে দুই কথাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দিল যে ‘রাষ্ট্র হবে ইহজাগতিক এবং মানবিক’ এটা কি পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়? ইহজাগতিক হলে সেটি কখনোই মানবিক হতে পারে না; বরং সম্পূর্ণ অমানবিক। মানবিক বানাতে হলে সেটিকে অবশ্যই আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী বানাতে হবে। বলতে হবে– لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيكَ لَكَ. اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ. একজন মুমিনের ন্যায় বলতে হবে– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا. আল্লাহ, আমরা আপনার বিধান শুনেছি, তা গ্রহণ করেছি এবং মেনে নিয়েছি। আবারো বলছি, তারা কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের কাছে রাষ্ট্র হল সম্পূর্ণ ইহজাগতিক ও দুনিয়াকেন্দ্রিক! এর মধ্যে আখেরাত, ঈমান-আমল ও দ্বীন-শরীয়তের কিছু পাওয়া যাবে না। সুতরাং যার কাছে ঈমান-আমল ও আখেরাতের গুরুত্ব নেই, সে এটা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যার কাছে কুরআন-হাদীস, ঈমান-আমল, ইসলামী শরীয়ত ও আখেরাতের গুরুত্ব আছে, সে এটা কখনো গ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা : ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে নবীজীর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আপনাদের জানার কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরীতে জগনণের উদ্দেশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বাণী ও বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং (আল্লাহর) ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।’ আমি আমাদের সরকারকে অনুরোধ করব, যেহেতু নবীজীর এই সীরাতই হল সবকিছুর সমাধান, তাই নারী উন্নয়ন চান আর নারী অধিকার চান, সবই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে গ্রহণ করুন! কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করুন। তার জন্য আপনাকে আলাদা কোনো কমিশন বানাতে হবে না। ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, ফাউন্ডেশনকে বলুন। আপনাকে সর্বোচ্চ সুন্দর ও চমৎকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা পেশ করে দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ; বরং পেশ করা আছেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সীরাত বিষয়ক যেমন বই লেখা আছে, নারী বিষয়েও যাবতীয় বিধিবিধান বই আকারে ছাপা আছে। আর কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজীর সীরাত থেকে আপনাদেরকে যে কোনো সময়ই প্রস্তুত করে পেশ করা সম্ভব! সেটাকে বাস্তবায়ন করে দিন! দেখবেন, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে ও সম্মানে থাকবে আমাদের দেশের মা-বোনেরা! কিন্তু সরকার যাদেরকে এই কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা কি আসলে এসব সূত্র থেকে নারী উন্নয়নের নীতি খোঁজ করেছেন? এদেশের নারীরা আসলে কী চান? তারা কীভাবে থাকতে সম্মানবোধ করেন? তারা তাদের কোন্ অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান? সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন ও বঞ্চনা থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য কোন্ পন্থাটি আসলে সঠিকভাবে কার্যকর– এই কমিশনের সদস্যগণ কি সত্যিই সেটি অনুধাবন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেন? তাদের প্রতিবেদনটি দেখলে তো অন্তত তা বোঝা যায় না। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতি অশ্লীলতা ও আল্লাহবিমুখতার কারণে নয় পশ্চিমাদের দাপট দেখে অনেকে মনে করে, সেখান থেকে আমাদের সবকিছু নিতে হবে। অথচ বোঝে না যে, পশ্চিমাদের জাগতিক উন্নতি ও অগ্রগতি তাদের অশ্লীলতা ও খোদাবিমুখতার কারণে নয়। যে কারণে তাদের জাগতিক অগ্রগতি, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিষয়ে তাদের থেকে আমাদের নেওয়ার কিছু নেই; বরং আমাদের কাছেই আছে তাদের চেয়ে অনেক উন্নত পথ ও পন্থা। আসলে আমাদেরগুলোই তারা গ্রহণ করেছে; ফলে তারা জাগতিক উন্নতি করছে। কাজেই নিজের ঘরেরটাই বাস্তবায়ন করে দেখুন, জাগতিক উন্নতি কীভাবে সাধিত হতে থাকে! তাদের জাগতিক উন্নতি দেখে ভাববার কোনো প্রয়োজন নেই যে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার কারণে তারা উন্নতি করছে! বা তাদের জাহেলী সভ্যতার কারণে তারা উন্নতি করছে। আচ্ছা, তারা কি সুদের কারণে উন্নতি করছে? সেক্যুলারিজমের কারণে উন্নতি করছে? লিবারেলিজমের কারণে উন্নতি করেছে? সেক্যুলার শিক্ষা ও সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে অথবা নারী উন্নয়নের নামে যতসব বেহায়াপনা রয়েছে, সেগুলোর কারণে কিংবা লিবারেলিজমের অবাধ উশৃঙ্খল উন্মত্ত চাল-চলনের কারণে উন্নতি করছে তারা? কখনোই নয়। বরং বেহায়াপনা বিস্তার করে নিজেরা যেমন বরবাদ হয়েছে, অন্যদেরও বরবাদ করতে চাচ্ছে। পশ্চিমাদের পার্থিব উন্নতির মৌলিক দুটি কারণ আবারো বলছি, এগুলো পশ্চিমা বিশ্বের উন্নতির চালিকাশক্তি নয়! তাদের সামরিক শক্তি ও পার্থিব উন্নতির কারণ এসব নয়। বরং তার কারণ অন্য কিছু। মৌলিকভাবে দুটি : প্রথমত, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপকভাবে তাকওয়ার অভাব এবং শরীয়ত পালনে উদাসীনতা বেড়ে গেছে, যার কারণে আল্লাহ তাআলা এদের শক্তি তাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের নবীজীর সীরাতের মধ্যে যেসব শিক্ষা রয়েছে, যেমন দুর্নীতি না করা, ধোঁকা ও প্রতারণা না করা, সততা ও সত্যবাদিতা গ্রহণ করা ইত্যাদি; তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের বিশেষ কিছু গণ্ডিতে এই নীতিগুলোর চর্চা ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রম, উদ্যম, পরিকল্পনা মাফিক কাজ, টিমওয়ার্ক, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পারদর্শিতা, যা আমাদের খোলাফায়ে রাশেদীন ও খাইরুল কুরুনের যামানার বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তারা জাগতিক উন্নতি লাভ করছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্য নয় যে, তারা সকল অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাদের জাগতিক উন্নতি এজন্যও নয় যে, তারা খোদাবিমুখতা ও আখেরাত বিমুখতা প্রদর্শন করে। সেজন্য আমাদের অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে সেখান থেকে কোনো কিছু ধার নিতে না যাই! বরং আমাদের নবীজীর সীরাত ও শরীয়তের মধ্যেই সব আছে। সেখান থেকেই আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিবেদন জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি মনে রাখবেন, যদি এক্ষেত্রে আমরা ভুল করি এবং এই ধরনের অহেতুক ও পঁচা-গান্দা জিনিস এদেশে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হয়, এটা হবে সবচেয়ে বড় জুলুম! এটা হবে সবচেয়ে বড় বেঈমানী! সবচেয়ে বড় খেয়ানত! জুলাই-আগস্টের শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি! জুলাই-আগস্টের শহীদদের কথা বিশেষভাবে এজন্য বললাম, এই প্রতিবেদন পেশ করার সময় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেছেন, “জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মরণার্থে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে”। নাউযুবিল্লাহ! আরে, যে জিনিসের মধ্যে জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে, সেখানে বলছে, এটা নাকি তাদের স্মরণার্থে করা হয়েছে! এটা মুনাফেকী নয় কি? খবরদার, যে জিনিস শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি, সেটি তাদের স্মরণে করতে যাবেন না! বলেছেন ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।’ অথচ এই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেটা মানুষের জন্যও অকল্যাণকর, সমাজের জন্যও অকল্যাণকর। দেশের জন্যও অকল্যাণকর, সর্বোপরি এটি নারীদের জন্যও অকল্যাণকর। এর মধ্যে কল্যাণের কিছু নেই। সমতা নয়, চাই নারীর ন্যায্য অধিকার আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে এমন কোনো নারী এ প্রতিবেদন মেনে নিবে না;  মেনে নিতে পারে না। যদিও প্রতিবেদনে বারবার সমতা ও সমান অধিকারের জিগির তোলা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন পুরুষ-মহিলা সকলেই বোঝেন, যেখানে ভিন্নতা প্রযোজ্য ও ন্যায়সংগত সেখানে সমতার দাবি অন্যায়। বরং যে বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ন্যায়সংগত  তা হল ন্যায্য অধিকার। সেটা ক্ষেত্র বিশেষে দুই শ্রেণির জন্য সমানও হতে পারে, কম বেশিও হতে পারে। সব জায়গায় সমান করার দাবি যেমন অবাস্তব তেমনি অন্যায়। নারীর প্রতিও অন্যায়। যারই আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আছে, সেই বুঝতে সক্ষম– অধিকার তো যিনি খালেক, মালেক, রাব্বুল আলামীন, তিনিই নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই অধিকারের নাম ব্যবহার করে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। অথচ এ প্রতিবেদনে এ কাজটিই হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যেমন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী, তেমনি এটি বাস্তবতা বিরোধীও। এটি সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও সুস্থ রুচি বিরোধী। সর্বোপরি এটি হায়া-লজ্জা বিরোধী! মানুষের মধ্যে তো ন্যূনতম লজ্জাবোধ বলতে কিছু থাকে– সেই বিবেচনায়ও এই প্রতিবেদন প্রত্যাহারযোগ্য। এই প্রতিবেদনের দাবি হল, হায়া-শরম, লজ্জা জাতীয় শব্দগুলোই সমাজ থেকে বের করে দাও! নাউযুবিল্লাহ! এরা ‘শালীনতা’ ও ‘নৈতিকতা’ শব্দগুলোকেই বাদ দিতে চাচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৩৯।(২) অনুচ্ছেদে শালীনতা ও নৈতিকতার কথা আছে। তারা বলে কী– এই অনুচ্ছেদ থেকে শালীনতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথচ আমাদের সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন এজন্য যে, যদিও সেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, একথা লেখা আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কথাও আছে; সেজন্য এর সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু এরা এসে সংবিধান থেকে ইসলামই বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছে! শালীনতা আর নৈতিকতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেটাও বাদ দিতে চাচ্ছে! শালীনতা ও নৈতিকতা যারা বাদ দিতে চায়, তারা কি আসলে নারীর উন্নয়ন চায়? প্রতিবেদনের ৩৫নং পৃষ্ঠায় প্রস্তাব করেছে– ‘(সংবিধানে) শব্দ প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। ... ‘গণিকাবৃত্তি’, ... শালীনতা, নৈতিকতা–’ শব্দসমূহের ব্যবহার পরিহার করা।’ তারা আরও বলেছে, অস্পষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ১৬২নং পৃষ্ঠায় তারা অস্পষ্ট পরিভাষা পরিহার করতে বলেছে এবং টীকায় অস্পষ্ট পরিভাষার উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ‘অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন, ‘নৈতিক অবক্ষয়’, ‘সুস্থ বিনোদন’, ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘অশ্লীল’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’। ‘রাজনৈতিক অনুভূতি’। ‘শালীনতাপূর্ণ পোশাক’।’ তারা বলছে, এসব পরিভাষা বিলুপ্ত করে দিতে! এতদিন আমাদের অভিযোগ ছিল, আপনারা ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর শিক্ষা পরিপূর্ণ গ্রহণ করুন। এই ধরনের অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে কিছু মানবেন আর কিছু মানবেন না– এমনটা হয় না। কিন্তু এরা এসে প্রস্তাব করছে যে, এই শব্দগুলোই সংবিধান থেকে মুছে দাও! এই যে ‘নৈতিক অবক্ষয়’– এটা কত বড় আফসোসের বিষয়! এখন তারা শব্দটাই বাদ দিয়ে দিতে বলছে! ‘সুস্থ বিনোদন’ বলার দরকার কী? বরং যে কোনো বিনোদনের জন্য রাস্তা খুলে দাও! ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আবার কী জিনিস? মানুষের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ‘রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত’ শব্দগুলো আমাদের দেশে খুব প্রচলিত। এই ভাষাগুলোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমরা নৈতিকতা ও শালীনতার বার্তা পেতাম এবং বিভিন্ন অপরাধকে এসব শব্দের আওতায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও বা প্রতিবাদ করার একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন এরা এসে বলে, এগুলোই বাদ দিয়ে দাও! দেখুন, কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এরা! এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! এরা ‘শালীনতা’ আর ‘নৈতিকতা’কে বাদ দিতে বলে। অথচ এই হালকা হালকা শব্দগুলো দিয়ে কোনোরকমে একটু হলেও আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেই কথাগুলোকেই তারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে! এর মানে এরা শালীনতা ও নৈতিকতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে দিতে চায়! কতটা জঘন্য দেখুন! কতটা কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত এই প্রতিবেদন! এসবের পরেও পৃথকভাবে বলার প্রয়োজন আছে কি যে, এই প্রতিবেদনের কোন্ কোন্ অনুচ্ছেদ কুরআনবিরোধী, হাদীসবিরোধী? ইসলামী শরীয়তে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, দৃষ্টির হেফাজত,  সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার যত নির্দেশনা এবং বিবাহ ও তালাক বিষয়ক, মিরাস, নসব তথা বংশ বিষয়ক, হিযানাহ তথা সন্তান লালন-পালন বিষয়ক যত বিধান ইসলামী শরীয়তে রয়েছে, তাদের প্রস্তাব হল এ সবকিছু বাদ দিয়ে দাও! এর মানে, তারা মুসলিম উম্মতকে দ্বীন-শরীয়ত, ঈমান-আখলাক এবং তাকওয়া-তাহারাত সবকিছু থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে বলছে। আল্লাহর শরীয়তের পরিবর্তে আল্লাহদ্রোহী ও আখেরাত বিমুখ সমাজের কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করতে বলছে। ঈমানের পরিবর্তে কুফুর, পবিত্রতার পরিবর্তে কলুষতা, পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তে লাগামহীনতা, হায়া-লজ্জার পরিবর্তে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা এবং জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নাম খরিদ করতে বলছে। কাজেই যারা এই প্রতিবেদন সমর্থন করতে চায়, তাদের এর পরিণতি বুঝে-শুনে সমর্থন করা উচিত। মনে রাখতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ঈমান-আখলাক বরবাদকারী এমন প্রস্তাবনা কখনো বাস্তবায়ন হবে না ইনশাআল্লাহ! বরং যারা বাস্তবায়ন করতে যাবে, তারাই বরবাদ হয়ে যাবে! তাদের দাবি হল, কেবল ইসলাম ধর্মই নয়, অন্য যতসব ধর্ম রয়েছে, সকল ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে নতুন করে সবার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন বানাও! নাউযুবিল্লাহ! এদেরকে শরীয়ত পরিবর্তনের অধিকার কে দিল? প্রশ্ন হল, আপনাদেরকে শরীয়ত পরিবর্তন করে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি বানাবার দায়িত্ব কে দিয়েছে? ইসলামী শরীয়তে অন্য সকল বিষয়ের মতো এই বিষয়েও প্রয়োজনীয় হেদায়েত ও নির্দেশনা তো দেওয়াই আছে। শরীয়ত দেওয়ার মালিক তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কোনো মাখলুক অপর মাখলুকের জন্য শরীয়ত দিতে পারে না। আপনাকে শরীয়ত বানানোর দায়িত্ব তো দেওয়া হয়নি! আপনাকে একথা বলার জন্য তো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি যে, মুসলিমরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে। হিন্দুরা তাদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে, খ্রিস্টানরা নিজেদের পারিবারিক আইন বাদ দেবে! ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা যেটা করার কাজ সেটার খবর নেই, উল্টো পতিতাবৃত্তি, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনতা, এলজিবিটির কর্মকাণ্ড কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়– সেই ধান্দায় আছে তারা। যৌনকর্মীদের কি ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন, না তাদেরকে পাপাচারের ঘৃণ্য পথ থেকে সরিয়ে সঠিক পথে এনে সম্মানজনক স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনবেন? তাদের জন্য যেটা করণীয়, সেটা না বলে তারা বলছে, ওরা পতিতালয়ে আছে, সেখানেই তাদের রাখা হোক এবং সেভাবেই তাদেরকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হোক! বিষয়টা কি তাদের প্রতি ইনসাফ হল? বরং এটি তাদের প্রতিও না-ইনসাফী নয় কি? আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ ১৮।(২) -এ বলা আছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ এই কমিশন দাবি করেছে, এই অনুচ্ছেদের ‘গণিকাবৃত্তির বিষয়টি বাদ দিতে হবে। কারণ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার নামে যৌনকর্মীদের পেশাকে নিরোধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।’ আপনারা কী বলেন, যারা পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসাটা মানবাধিকার, নাকি তাদেরকে সেই ঘৃণ্য কাজে রেখে দেওয়াটা মানবাধিকার? তাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ ধারায় পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব, সমাজের দায়িত্ব। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন উল্টো পতিতাবৃত্তিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কোনো শব্দও যদি এর পথে অন্তরায় হয় সেই ‘শব্দ’কেও দেশছাড়া করতে চাচ্ছে। ‘শালীনতা’ ‘নৈতিকতা’র মতো শব্দকেও সংবিধান থেকে বাদ দিতে বলছে। আর এটাও লক্ষণীয় বিষয় যে, ‘যিনা-ব্যভিচার’, ‘গণিকাবৃত্তি’, ‘ব্যভিচারিণী’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘যৌনকর্ম’ ‘যৌনকর্মী’ শব্দ আমদানি করা হচ্ছে। যেন শব্দ থেকে এসমস্ত ঘৃণ্য কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি না হয়। এটাও এই ধরনের লোকদের একটি প্রতারণা। একদিকে এই নোংরা কাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, সেইসাথে শালীনতা, নৈতিকতা, হায়া-লজ্জাকে বাদ দিতে বলছে– এভাবে তারা এই সমাজকে কী পরিমাণ বরবাদ করতে চাচ্ছে– তা কি আর বোঝার বাকি থাকে? আরেকটি বিষয় দেখুন, প্রতিবেদনের দশম অধ্যায়ের শিরোনামটি লক্ষ করুন– ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ একথা কারা বলে, কী মতলবে বলে, সেটা যারা বোঝেন, তাদেরকে তো কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এরা শিক্ষা-পাঠ্যক্রমেও অশ্লীলতা ঢোকাতে চায় প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা ৭৪-এ বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা-পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে সম্মতি বিষয়ে ধারণা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কী... সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।’ হুবহু একই কথা পৃষ্ঠা ২০৬-এও বলা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন ইসলামের বিয়ের বিধান এবং যিনা-ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিধানের জায়গায় তারা পশ্চিমা কুফরী কালচার ঢুকাচ্ছে। শব্দের মারপ্যাঁচে ট্রান্সজেন্ডারের বৈধতার অপচেষ্টা আরও শুনুন, এর মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারের সবকিছু আছে; শব্দের মারপ্যাঁচে। আজকাল ট্রান্সজেন্ডারের যে ফেতনা চলছে, তার পুরোটাই এখানে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে; কেবল শব্দটা ব্যবহার করেনি। তদ্রূপ শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি, সমকামিতা বলতে যা আছে এবং যত প্রকারের আছে, সবকিছুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে বৈধতা দেওয়া, বরং প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটকথা, অশ্লীলতার কোনো কিছুই বাদ রাখেনি। এজন্যই তারা চাচ্ছে যে ‘অশ্লীলতা’ শব্দই বিলুপ্ত করে দেওয়া হোক! যেন আপনি অভিযোগ করতে না পারেন যে, ছি ছি, এমন অশ্লীল প্রস্তাব তারা কীভাবে দিল? যেন আমাদের অভিধান থেকেই শব্দগুলোকে বিদায় করে দিতে চাচ্ছে! অর্থাৎ পুরো ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে একটা জিনিস দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা মুসলিম উম্মতের ফয়সালা করার বিষয়। তারা কি ইসলামের শরীয়ত চায়? জান্নাত চায়? যদি চায়, তাহলে প্রস্তাবিত এই নীতিমালাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের চিন্তা হবে আত্মঘাতী! আর এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি মুসলিম দেশে তাওহীদের যমীনে আমাদেরকে দেখতে হল সংস্কারের নামে আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন-সুন্নাহ ও আল্লাহর দেওয়া শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি প্রতিবেদন এবং তা জাতির সামনে পেশও করা হল। আমাদের কাছে আফসোস প্রকাশেরও ভাষা নেই, নিন্দা জানানোরও ভাষা নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চিন্তা করা উচিত। যদিও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম কেবল ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেরাও তো তাদের ধর্ম পালন করে থাকে। তাদেরকেও বলা হচ্ছে, তোমাদের ধর্ম নয়, বরং এখানে যে  নীতিমালা প্রদান করা হবে, সেটাই মানবে! সুতরাং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা কী করবে, না করবে– সেটা তাদের বিষয়। যেসব ধর্মের কোনো গোড়া নেই এবং বাতিল ধর্ম, তারা তাদের ধর্মের বিষয়ে বিভিন্ন কম্প্রোমাইজ ও সমঝোতা করলে তা তাদের বিষয়; কিন্তু মুসলিম উম্মতের জন্য কম্প্রোমাইজ বা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কি একথা বলতে পারি যে, কুরআনের এই বিধানগুলো আমরা পশ্চিমাদের খাতিরে বাদ দিয়ে দিব? এটা কি সম্ভব? কখনো নয়। কাজেই ঠান্ডা মাথায় আমাদেরকে ভাবতে হবে, তাওহীদের এই যমীনে ইসলামী শরীয়ত বিরোধী এই ধরনের কোনো নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়! এটা দেশের জন্য হুমকি। আমরা দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের হাতকে শক্তিশালী করুন দেশ ও জাতির কল্যাণে! সমস্ত অকল্যাণ থেকে তাদেরকে হেফাজত করুন! এই ধরনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চিন্তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দূরে রাখুন! আর এটা অনুভব করার তাওফীক দান করুন যে, এটা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করতে গেলেই আত্মঘাতী হবে! এই কমিশনের আসল কাজ কিন্তু বাকিই রয়ে গেল আরেকটি কথা, এই কমিশনের আসল যে কাজ ছিল, তা কিন্তু বাকিই রয়ে গেল।  তারা যা করেছেন তা হল, আগাগোড়া অনধিকার চর্চা, আল্লাহদ্রোহিতা এবং আল্লাহর দেওয়া কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়তদ্রোহিতা।   যেটা দরকার ছিল তা হল, নারী বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অধিকার বঞ্চিত হয়, সেটার জন্য বাস্তবমুখী একটি প্রস্তাবনা পেশ করা, যাতে নারীরা আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান মেনে আল্লাহর নেক বান্দি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী নিজেদের সমস্ত অধিকার লাভ করতে পারে। এ কমিশনের সংস্কার করার মতো আরেকটি কাজ ছিল– ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে শরীয়তের স্পষ্ট বিরোধী অনেকগুলো ধারা রয়েছে। উলামায়ে কেরামের সহায়তা নিয়ে এই ধারাগুলোকে শরীয়তসম্মত করে দেওয়া। তা তো করেইনি, উল্টো আরও কুফরী মতবাদ এবং জাহেলী রীতি-নীতি অবলম্বনের প্রস্তাব করেছে। সরকার যদি আসলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী শরীয়ত ও নবীজীর সীরাত থেকে নারী বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা কর্তব্য।  ব্যস, ভাই! বলার আরও অনেক কিছুই আছে। এতটুকুতে আমি শেষ করলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।

শীর্ষ সপ্তাহ

জাতীয়

উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি: রেলসেবায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই

মুক্তধ্বনি ডেক্স মে ১৬, ২০২৬ 0

ভোট জরিপ

নির্বাচনের দিন গণভোট আপনি সমর্থন করেন ?