বাহুবলে তিন যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, প্রশংসায় ওসি রুহুল আমিন
হবিগঞ্জের বাহুবলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান পর্যায়ের তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাহুবল মডেল থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি বাহুবল মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার যোগদানের পর তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা বাড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও দীর্ঘ সময় তারা গ্রেপ্তার হননি। এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সম্প্রতি তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তারা মিয়া বাহুবলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একসময় বাহুবল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। বিশেষ করে ওসি মো. রুহুল আমিন তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অভিযান ও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে তার নেতৃত্বাধীন থানা পুলিশের তৎপরতা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান—এমন বার্তা বাস্তবে কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। প্রভাবশালী হলেও কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কি না, তা বিবেচনা না করে মামলার এজাহার, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাহুবল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাহুবল মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও দৃঢ় করতে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষ্যে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১৬...
২৪ ঘণ্টার ১৬ ঘণ্টাই অন্ধকার: তীব্র লোডশেডিংয়ে গোপালপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের চরম দুর্দশাস্টাফ রিপোর্টার: এস কে শ...

