কালিহাতি ও এলেঙ্গায় তিন বেকারি ও মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে জরিমানা এলেঙ্গায় মারহাবা এ ওয়ান বেকারি, তাজমহল বেকারি এবং মামা ভাগ্নে মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে BSTI এর স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার,BSTI এর সার্টিফিকেটশন ব্যতীত নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন, ২০১৮ এর অধীন তিনটি পৃথক মামলায় ১০৫০০০/- (এক লক্ষ পাচঁ হাজার টাকা) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি),কালিহাতি,টাংগাইল। এসময় ফিল্ড অফিসার BSTI এবং কালিহাতি থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলা ও এলেঙ্গা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন। লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়াই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার এবং বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন ব্যতীত নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলায় মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে পরিচালিত এ অভিযানে কালিহাতি ও এলেঙ্গা এলাকার মারহাবা এ ওয়ান বেকারি, তাজমহল বেকারি এবং মামা ভাগ্নে মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ না করেই বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করছে এবং বিএসটিআই সার্টিফিকেশন ছাড়াই নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বাজারজাত করছে, যা স্পষ্টভাবে আইন লঙ্ঘনের শামিল।এ প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন।মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কালিহাতি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) টাঙ্গাইল। অভিযানে বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার এবং কালিহাতি থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন ও বিক্রি রোধ এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শাহবাগ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে চড় মারেন। এর আগে ১ আগস্ট এনডিবির কার্যালয়ে শান্তা ফারজানাকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই সংগঠন আলাদা কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শান্তা ফারজানাসহ কয়েকজন আ ন ম আয়াসকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে আয়াস মাটিতে পড়ে গেলে শান্তা ফারজানা একটি কালো লোহার পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়াসও পাল্টা আঘাত করছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রেসক্লাবে মারামারির পর আহত অবস্থায় উভয় পক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। সেখানে ‘মঞ্চ-২৪’ নামের আরেকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আয়াসের সমর্থক পরিচয় দিয়ে শান্তা ফারজানা ও এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সঙ্গে আরেক দফা মারামারিতে জড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শান্তা ফারজানার পক্ষের দাবি, মঞ্চ-২৪-এর নেতা-কর্মীরা তাদের হাসপাতালের ভেতরে কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুই পক্ষই প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়ায়। হাসপাতালে গিয়ে তারা আবার মারামারি করেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ আহতদের শারীরিক অবস্থা এবং হাসপাতালে তাদের বর্তমান চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হয়েছে কি না, কিংবা পুলিশ কাউকে আটক করেছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আ ন ম আয়াস, শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৭৫ পিস ইয়াবা টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক এবং পরোয়ানাভুক্ত মামলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্র জানায় সম্মানিত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সকল থানা ও ইউনিটের ইনচার্জদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ২৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে মাদক,সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশ সবাইকে অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রি মানিকগঞ্জে মোবাইল কোর্ট ৩ ফার্মেসিকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় ও ঘিওর উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির দায়ে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ১৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) ঔষধ প্রশাসন জেলা কার্যালয় মানিকগঞ্জ এবং জেলা প্রশাসন মানিকগঞ্জের সমন্বয়ে শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার মোট পাঁচটি ফার্মেসিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।অভিযান চলাকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় ঔষধ ও কসমেটিক আইন ২০২৩-এর ৪০(খ) ও ৪০(গ) ধারায় তিনটি ফার্মেসিকে সর্বমোট ১৯,০০০ (উনিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।